পরি বৃত্তান্ত : মিলটন রহমান

তখন ঝুলে ঝুলে অন্ধকার নেমে যেত। একেবারে থিকথিকে কাদার মতো থোক থোক অন্ধকার। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারাবাতির মতো লহরে লহরে পুকুরের পূর্ব পাড়ে আনারস বনে বসে যেত জোনাকিমেলা। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে হেঁসেলের পাশে দাঁড়ানো নিম গাছে হুতুম পেঁচাদের একটানা চিঁ চিঁ কলরব। আরও একটু পরে কুইক্কাচড়ি ডাকতে শুরু করলে অন্ধকার ভারী হয়ে পুরো বাড়ির বুকে পাথর চেপে দিত। ভারী বাতাসের সাথে নিমের গন্ধ ঘরময় লেপ্টে যেত। সবার চোখে-মুখে কিছু একটা শোনার-বোঝার উৎকণ্ঠা ভেসে থাকত। নিশ্চয় কোনো দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে! তা না হলে এমন বিলাপ করে কুইক্কাচড়ি ডাকবে কেন? আমার দাদি দোয়াইউনুস পড়ে একটা ঢিল ছুড়ে দিত নিম গাছের দিকে। সবাইকে বলত মনে মনে দোয়া পড়তে। সে সময় আমার আর ঘর থেকে বাইরে পা রাখার সাহস হতো না। মনে হতো বাইরে গেলেই অন্ধকারে হজম হয়ে যাবো। এই ভারী অন্ধকার ফুঁড়ে কিছুক্ষণ পর পর ঢাকা আর সিলেটমুখি রেল চলে যায় দ্রুত। তবে মালগাড়ি পোয়াতি মায়ের মতো রয়ে-সয়ে চলে। সে সময় দীর্ঘ ডডগ ডগ ডগ ডগ, ডডগ ডগ ডগ ডগ শব্দ আমি কান খাড়া করে শুনতাম। সেই শব্দ থামার পরেই কুয়াশা ছিঁড়ে একটানা হুয়াক্কা হুয়া ডাকতে শুরু করে শিয়াল। তারা পাহাড় থেকে নেমে আসার সময় যেন ঠেলে ঠেলে সাথে নিয়ে এসেছে একটিলা বিলাপ। সব থেমে গেলে এমন সংক্ষুব্ধ রাতে রেল লাইন থেকে তিরের মতো কানে এসে বিঁধে যায় মুরলী কান্না! কে যে প্রতিদিন একই সময়ে বাঁশিতে দম দিয়ে কান্না শুরু করে কে জানে। বাঁশি শুনতে শুনতে মনে হয় রেল লাইনের পাথরগুলো নাচছে। থাও গাছের ফুলগুলো নিজের দুধেল শরীরে ঘষে মেজে রাত পরিষ্কার করছে। তখন আমার আর কোনো ভয় লাগত না। মনে হতো না কোথাও কোনো অন্ধকার আছে। জানালা খুলে রেল লাইনের দিকে অপলক তাকিয়ে কান পেতে বাঁশির বিলাপ শুনতাম। বিলাপ যে কখনও কখনও সুখের হয় তখন টের পেলাম। বিলাপ কেবল অন্ধকার ভারী করে না, তা যে কাচের মতো ঝন ঝন করে ভেঙে দিতে পারে তাও টের পেলাম। একদিন লেদুবু’র কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কে এই বাঁশিওয়ালা? বললেন, ওই বাঁশিওয়ালার নাম ভাষানি। কেন তার নাম ভাষানি হলো তা কে জানে। তবে শুনেছি তার দাদা-বাবাও বংশীবাদক ছিলেন। তারা বাঁশির সুরে নাকি পরি নামিয়ে নাচাতেন। পরি হয়রান হওয়ার আগে যদি বাঁশি-বাদকের দম ফুরিয়ে যেত তাহলেই বিপদ। পরিরা বাঁশি ঠেলে নাকি কণ্ঠনালিতে চালান করে দেয়। তাতে মৃত্যু নিশ্চিত। এমন সংকটে পড়ে এই বংশীবাদকেরা বহুবার মরতে মরতে বেঁচেছিল। আবার বংশীবাদক বিরতিহীন বাঁশি বাজাতে থাকলে পরিরা হয়রান হয়ে নাকি পায়ে ধরে ক্ষমা চাইত। বলত, ‘আজকে ছেড়ে দাও’। ভাষানির দাদা’র এক ঘটনা তো আমাদের গ্রামে মুখে মুখে কেচ্চার মতো ফিরে। একবার নাকি গভীর রাতে আন্ধারমানিক টিলার ধারে বসে ভাষানির দাদা আব্দুল বাঁশি বাজাচ্ছিলেন। পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল বাঁশির সুর। বাঁশি বেজেই চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তখন নাকি বাঁশি বাজতে শুরু করলে কেউ ঘর থেকে বের হতো না। বিশেষ করে মেয়েরা। কথিত আছে আব্দুল বাঁশি বাজিয়ে ঘর থেকে কোনো এক মেয়েকে বের করে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনার পর আব্দুলকে গ্রামছাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু বাঁশিপ্রেমীদের দাবির মুখে তাকে আবার গ্রামে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন গ্রাম সর্দার। সেই ঘটনার পর বাঁশি বাজতে শুরু করলেই সবাই সতর্ক। দরজা-জানালায় খিল এঁটে অন্ধকার ঘরে বসে থাকা। এবারও ঠিক তাই। সবাই বাঁশি শুনেই যাচ্ছে। হঠাৎ বাঁশিপ্রেমীদের একজন, রেজন মিয়া, ঘর থেকে বেরিয়ে পাহাড়মুখি দৌড়াতে থাকে। আন্ধারমানিক এর কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। দেখে আব্দুলের মুখ থেকে রক্ত বেরুচ্ছে আর চতুর্দিকে তাকে ঘিরে নাচছে পরিরা। রেজন কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। হঠাৎ একটা চিৎকার দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে পাশের চরায়। অমনি থেমে যায় বাঁশি, শোনা যায় না পরিদের নাচের শব্দ। রেজন ধীরে ধীরে আব্দুলের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। তখনও গরগর করে আব্দুলের মুখ বেয়ে রক্ত গড়াচ্ছিল আর পানি পানি বলে কাঁদছিল। রেজন দৌড়ে কানি চরা থেকে চালতা পাতায় ভরে পানি এনে মুখে দিলেই আব্দুল উঠে বসে। এই গল্প শুনে শুনে আমাদের শৈশব কেটেছে। ফলে বাঁশির প্রতি এবং ভাষানির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল কিছু মাত্রায় বেশি। গল্প শুনে আমার বাস্তবে জানার ইচ্ছে প্রবল হতে শুরু করে। কখনও কখনও ভাষানির সাথে আমার দেখা হয়। তখন এই যে সেই বাঁশিওয়ালা, তা আমার বিশ্বাস হয় না। কত সহজ একজন মানুষ। একবার বিড়িতে টান দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর গল্প বলতে শুরু করেছিলেন। বলেন, ‘একবার আঁই হণঘুন্টি (পণঘুঁড়ি) উড়াইবারলাই দইন বিলত গেলাম। বাতাস আর বাতাস। দিলাম উড়াই ঘুন্টি। হুতা ছাড়িয়ের তো ছাড়িয়ের। যন আঁর বান্ডিলের হুতা শেষ অইগেলগৈ হনগা বই রইলাম। কিন্তুক একটু হরে দেখি কি আঁর ঘুন্টি দেখা যায় না। ছোট্ট মাছির মতো দেখা যার। কি তাইজ্জব। এত হুতাতো আর আছিল না। ঘুন্টি এত উরফে গেল কেমনে। কতক্ষণ হরে গোঁত্তা খাইতে খাইতে আঁর হাঁচআত লম্বা ঘুন্টি যাই আটকি গেল তাল গাছর মাথাত। আঁই বউত চেষ্টা কইরলাম নামাইবেরলাই। কিন্তুক হাইরলাম না। গাছ বাই উঠমু হেই সুময় কন ইকগা ডাক দি কইলো, অই উডিস না। লাথি মারি হালাই দিমু। এমুই-হেমুই চাইলাম, কন কিয়ারে দেইখলাম না।

ভাষানি এটুকু ঘটনা বর্ণনা করার পর আর কোন কথা বললেন না। উঠে সটান দাঁড়িয়ে যান। চোখে-মুখে তার তীক্ষè আলো মিশ্রিত শঙ্কা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কোনো কথা না বলে পাহাড়ের দিকে হাঁটতে শুরু করে। আমার সাথে গল্প শুনতে থাকা সেকান্দর বলল, তাকে কোনোভাবেই অনুসরণ করা যাবে না। বিপদ হতে পারে। আমি এসবের কিছুই বুঝতে পারি না, কিন্তু তাকে অনুসরণও করি না। তীব্র বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে থাকি। কোথায় যাচ্ছে ভাষানি, কেনইবা চুপ করে গেল।       

ভাষানিকে যখনই দেখি বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি। খুঁজতে চেষ্টা করতাম এই কি সেই বংশীবাদক, যে রাতে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলে অন্ধকার! আমি তার কাছে কত কিছু যে জানতে চাইতাম, পরিরা দেখতে কেমন? কতক্ষণ পরিরা তার সাথে থাকে? কি করে? পরিরা কোথায় থাকে? আরও কত কি। ভাষানি কেবল হাসি দিয়ে ঠেলে মাটি চাপা দিয়ে দিত আমার প্রশ্ন। যেন আমার প্রশ্ন সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। তবে প্রায় প্রতি বছর একবার পাগল হয়ে যেত ভাষানি। তখন তাঁকে বেঁধে রাখা হতো। যদি বাড়ি ছেড়ে কোথাও চলে যায় সেজন্য। গ্রামের হুজুর গজ গজ করে বলতেন, ‘নাফরমান, বাঁশি বাজানো মহাগোনা। তার উরফে আবার পরি আনি নাচাস! এই পরিরাই তোর উরফে আসর কইরছে। পরি হেগুন তোরে লইডাইবোগৈ নিজেরগ দেশে। ‘এসব কথা শুনে ভাষানি আরও রেগে  যেত। গাব ফলের মতো গোল গোল তীব্র লাল চোখে বলত, ‘আঁরে ছাড়ি দে, নইলে তোরে মারি লামু। অন সময় আছে আঁরে যাইতে দে।’ সে সময় মনে হতো ভাষানি সব ভেঙে চুড়মাড় করে চলে যাবে কোথাও। হুজুর তার মুখে দুই চারটা থাপ্পড় দিয়ে বলত, ‘রাখ তোরে দেখাইয়ের মজা।’ প্রতিবার কোথা থেকে এক বৈদ্য এসে ভাষানীকে জিজ্ঞেস করত, জুতা নিয়ে যাবে নাকি, ঝাটা নিয়ে? ভাষানি বলতো জুতা। তখন একটা সেন্ডেল ভাষানির মুখে দিয়ে বলত যা চলে যা। ভাষানি দৌড়াতে দৌড়াতে দক্ষিণের বিলের আলে গিয়ে কাত হয়ে পড়ে যেত। মুখ থেকে বুর বুর করে ফেনা বেরুত। অনেক্ষণ পর ভাষানি ধীরে ধীরে চোখ মেলে সবাইকে চিনতে পারত। এসবের যে রহস্য তার কোনো কূল-কিনারা নাগাল পাই না।     

এতেও ভাষানির বাঁশি থামেনি। আমি প্রতিরাতে বাঁশি শুনি। আমার মনে হতো বাঁশির সুর যতদূর যায় ততদূর অন্ধকার সরে আলো জেগে ওঠে। আমাদের পুকুর পাড় থেকে জোনাকি পোকার দল উড়ে উড়ে চলে যায় রেল লাইনের দিকে। বারইয়া পুকুর পাড়ের চিতা থেকে উল্কাপিণ্ডের মতো কি যেন বংশীবাদকের দিকে উড়ে যায়। খুব ইচ্ছে হতো রাতে বংশীবাদককে দেখতে যাওয়ার। কিন্তু লেদুবু বলেছেন, কোনো মতেই সেখানে যাওয়া যাবে না। তাহলে পরিরা নিয়ে চলে যাবে। মেরে ফেলে যাবে ওই চিতায়। আমাদের অঞ্চলের বেশ কয়েকজন রাতে বংশীবাদকের কাছে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কারও কখনওই আর হদিস মেলেনি। আরও কারও বা মৃতদেহ পাওয়া গেছে চিতার পাশে ধানক্ষেতে। এমন কয়েকটি হত্যার পর ভাষানি বাঁশি বাজানো বন্ধ করে দিয়েছিল। এলাকার হুজুররাও ফতোয়া দিতে শুরু করে। বাঁশি বাজানো হারাম। যে মুখে ও ঠোঁটে বাঁশি বাজানো হয় মৃত্যুর পর সেখানে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে। তবে হুজুরদের ফতোয়া নাকি অন্য কোনো কারণে বংশীবাদক বাঁশি বিসর্জন দিয়েছিলেন তা জানা যায় না। হঠাৎ পূর্ণিমার এক রাতে চাঁদের আলোয় উপচে ওঠে বাঁশি। ভাষানি আবার বাঁশিতে জেগে ওঠেন। তার ফিরে আসায় অন্যদের চিন্তায় কি ঠাঁই নিয়েছিল আমার জানা নেই। তবে আমি তার ফিরে আসায় একটি নতুন পথের সন্ধান পাই। প্রতি রাতে আমি বাঁশি শুনি। কখনও কখনও জানালার পাশে কান পেতে শুনি পরীরা ঘুঙুর পায়ে হেঁট যায়, নেচে যায়।  এর মাঝেও মধ্যরাতে অন্ধকার ভারী হয়ে ওঠে। পায়ের শব্দরা কখনও কখনও আমার পরিচিত মনে হয়। মনে হয় এমন পায়ের শব্দ আমি আগে শুনেছি। কিন্তু ঘুঙুরের শব্দ, তা তো পরিচিত নয়। এই ঘুঙুরের শব্দ কিছুটা ব্যতিক্রম। সাধারণত মেয়েরা পায়ে ঘুঙুর পরলে যে শব্দ শুনতে পাই, তার সাথে এর অনেক অমিল। পরিদের ঘুঙুর মানুষের চেয়ে ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক। এই ঘুঙুরের শব্দ অনেকটাই জেলের কয়েদির পায়ের শেকলের মতো। শুধু পায়ে বেজে ক্ষান্ত নয়। যেন মাটিতে ভারী কিছু সজোরে আঘাত করতে করতে এগুচ্ছে।

কয়েকদিন ধরে দিনের বেলায় আর ভাষানিকে দেখা যায় না। অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেছি কেউ হদিস দিতে পারে না। সবার একই কথা ভাষানী এখন আর দিনে বের হয় না। পরিরা নাকি তার খাবার-দাবার সব ঘরেই দিয়ে যায়। বাংলা মদ, বিড়ি সবই ভাষানি এখন ঘরে বসেই পায়। এসব কথার কোনো দিব্য সাক্ষী নেই। লোকমুখে শোনা। ভাষানি এখন নাকি আর বাড়িতেও থাকে না। পাহাড়ে এক টং ঘরে নাকি থাকে।

একদিন গভীর রাতে ভাষানির বাঁশি বেজে উঠল, আর পুলিশের গাড়ির সাইরেন বাজতে শুরু করে। ধপ ধপ বুটের শব্দে কিছু মানুষ রেল লাইনের দিকে অন্ধকার ফুঁড়ে দৌড়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বাঁশি থেমে গেল। ‘আঁই খালি বাঁশি বাজাই, আঁর কিয়ার ক্ষতি করিয়েন না। আঁরে কনডে লইজান? ভাষানির এই কথাগুলো আমি পরিষ্কার শুনতে পেলাম, কিন্তু কারও হেঁটে যাওয়ার বা কথার কোনো আলাপ পেলাম না। রাতের অন্ধকার যেন হঠাৎ করে লিক্যুইডের মতো গলে গলে বসে যাচ্ছিল। আমি কান পেতে অন্ধকারের শব্দ শুনি। নীরবতা।

ভোর হওয়ার পর কারও মধ্যে এ নিয়ে কোনো কথা শুনতে পেলাম না। একটু রাস্তায় গিয়ে দেখি কেউ কিছু বলে কিনা, না কেউ কিছু বলছে না। সব স্বাভাবিক। ভাষানিকে কারা ধরে নিয়ে গেল? পুলিশ হবে হয়তো। এরপর আর বাঁশি শুনি না। প্রতিরাতে অপেক্ষা করি বাঁশি বেজে উঠবে। কিন্তু না কান পেতে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ প্রায় এক মাস পর জমে থাকা সব অন্ধকার ছুড়ে বেজে ওঠে বাঁশি। আমি আত্মহারা হয়ে উঠি। কান পেতে আবার বাঁশি শুনি। যথারীতি আমার প্রতিটি রাত বাঁশির সুরে জেগে ওঠে। এরমধ্যে গ্রামে একটা কথা রটেছে ভাষানিকে নিয়ে। ওই রাতে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ তার নামিয়ে আনা কিছু জ্বিন-পরি পুরো এলাকায় নাকি ত্রাস সৃষ্টি করেছে। মানুষের মাঠের ফসল থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি নাকি তারা লুটপাট করতে শুরু করেছে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলেই নাকি ভাষানির নাম বলতে বলতে কোথায় মিলিয়ে যায়। ভাষানী আবার বাঁশি বাজাতে শুরু করলে এই আতঙ্কে পুরো গ্রাম অস্থির হয়ে থাকে। ভাষানি প্রতি রাতে বাঁশি বাজায়। আমাকে কোন আতঙ্ক গ্রাস করেনি। আমি আরও বেশি বেশি বাঁশি শুনতে চাই। একদিন হঠাৎ বাঁশি বাজাতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই থেমে যায়। কিছুক্ষণ পর দূর থেকে মৃদু চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। সেই চিৎকার অন্ধকারের গলাটিপে ধরেছে। রাতে আমার আর ঘুম হয়নি। সকালে পাহাড়মুখি কাঠুরিয়াদের কেউ কেউ ফিরে আসছে বাড়িতে। সবার আলোচনায় ভাষানিকে খুন করল কে! আমি থির হয়ে তাদের কথা শুনি। বেরিয়ে পাহাড়ের দিকে হাঁটতে থাকি। আন্ধারমানিকের ধারে গিয়ে দেখি রক্ত মেখে চোখ পাকিয়ে শুয়ে আছে ভাষানি। মানুষ ঘিরে ধরেছে তাকে। ভাষানির প্রাণ চোখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এমন কথাই বলছে সবাই। তাকে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এক বৃদ্ধ বলছেন, আইজ্জা রাইতে এত গজব অইলো কেমনে। আট-দশগা বাড়িত ডাকাতি অইছে। এক ডাকাইত ধরা হইচ্ছে। ভাষানি হুলিশেরে আগে খবর দি আইছে হুনি ডাকাইতঅগল হেতেরে খুন কইচ্ছে।

সচিত্রকরণ : ধ্রুব এষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares