আমাদের লোকসাহিত্যে বঙ্গবন্ধু

সপ্তম বর্ষ   তৃতীয় সংখ্যা   মার্চ ২০২০

হাজার বছর ধরে রৌদ্রকরোজ্জ্বল ধানের দেশ গানের দেশ বাংলাদেশ মাতৃভাষার অধিকার ও স্বাধিকার আন্দোলন করে এসেছে। আন্দোলন ও জনচেতনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্বাধীন-রাষ্ট্রের তিলক পরেছে ১৯৭১ সালে। এই বিজয়ের অবিস্মরণীয় মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের কবিরাও মূলত স্বাধীনতার সূত্রধর। তিতুমীরের সংগ্রাম, ক্ষুদিরাম-সূর্য সেনের আত্মবলিদান, স্বদেশী আন্দোলন, বায়ান্ন-র ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৬ দফা ও স্বাধীনতাকামী গণমানুষের মরণপণ লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে কবি ও কবিয়ালেরাও লড়াকু চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাঁদের একতারা-দোতারা-সারেঙ্গির সুরে ছন্দিত হয়ে বাঙালি হৃদয়ে বেজে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের দামামা। বাংলা কবিতার আধুনিক যুগের উষালগ্নে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিলেন :

স্বাধীনতাহীনতায়               কে বাঁচিতে চায় হে,

                কে বাঁচিতে চায়?

দাসত্ব-শৃঙ্খল বল        কে পরিবে পায় হে,

               কে পরিবে পায় ॥

                  …       …

অতএব রণভূমে                 চলো ত্বরা যাই হে,

                   চলা ত্বরা যাই।

এই সঙ্গে আবহমানকাল থেকে আমাদের গ্রামজনপদের লোককবি, পালাকার, লোকগান ও ভাট কবিতার রচয়িতাগণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে তাঁদের অসংখ্য কবিতা-ছড়া, যাত্রা-পালা, লোকগাথা ও ভাবসঙ্গীত-বাউল-ভাটিয়ালি নানা আঙ্গিকে প্রকাশ করে জনচেতনা গঠন করেছেন। এই কবিরা আমাদের জন-আকাক্সক্ষা ধারণ করে আন্দোলনরত নেতাদের উদ্দেশেও তাঁদের গানের বাণী রচনা করেছেন। তার প্রামাণ্য নজির মেলে ১৯৫৪ সালে সাধক কবি শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্জের জনসভায় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একটি সঙ্গীত রচনা ও পরিবেশন করেন :

পূর্ণচন্দ্রে উজ্জ্বল ধরা

চৌদিকে নক্ষত্রঘেরা

জনগণের নয়নতারা

শেখ মুজিবুর রহমান

জাগ রে জাগ রে কৃষাণ

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৬৯ সালে জন-আকাঙক্ষা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রতিদানে রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতা তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন ও জাতীয় নেতা হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করে। অচিরকালের মধ্যেই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা হিসেবে আবির্ভূত হন। এই মুজিব বর্ষের শুরুতে মহান নেতাকে নিয়ে সাহিত্য সংস্কৃতির পত্রিকা হিসেবে শব্দঘর লোকসাহিত্যের এই অধ্যায় পাঠকদের সমুখে তুলে ধরছে। আমরা গবেষকদের কাছে এ বিষয়ে আরও আরও উপস্থাপনা প্রত্যাশা করি।

এ সংখ্যা থেকে শুরু হলো ইমদাদুল হক মিলনের ধারাবাহিক জীবনকথা ‘যে জীবন আমার ছিল’। আশা করি একটি অনবদ্য জীবন-সংগ্রাম ও সাহিত্যসত্তার আলো দেখার সুযোগ পাবেন পাঠক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares