সম্পাদকীয় : শব্দঘর সপ্তম বর্ষশুরু সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০

কথাসাহিত্যের অতুলনীয় রূপকার

সপ্তম বর্ষে যাত্রাশুরু করল শব্দঘর।

শব্দঘর-পরিবারের আজ আনন্দদিন। সপ্তম বর্ষশুরু সংখ্যাটি আমরা উৎসর্গ করেছি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে। প্রচ্ছদে সেলিনা হোসেনের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। তাঁকে এ আসনে বসিয়ে মূলত আমরা নিজেরা সম্মানিত হয়েছি। সাহিত্য-সাধনায় মগ্ন থাকার প্রেরণা পাচ্ছি। শব্দঘর পঞ্চম বর্ষশুরু সংখ্যাটি আমরা উৎসর্গ করেছিলাম বাংলাদেশের শিক্ষক আনিসুজ্জামানকে। ষষ্ঠ বর্ষশুরু সংখ্যা গল্পের জাদুকর হাসান আজিজুল হককে। দুটি সংখ্যা করে আমরা ঋদ্ধ হয়েছি। প্রায় সকল কবি-সাহিত্যিকদের প্রশংসা পেয়েছি।

কেন ‘সেলিনা হোসেন নামের মুকুট’টা এবার মাথায় তুলে নিল শব্দঘর?

তিনি সাহিত্যবান্ধব। তরুণদের উৎসাহদাতা। নিরলস কলমসৈনিক। এ কেবল আমাদের উপলব্ধি নয়। উপমহাদেশের বিদ্বজ্জনদেরও ভাষ্য।

আনিসুজ্জামানের বিশ্লেষণ : ‘সেলিনা হোসেন আমাদের এক সেরা কথাসাহিত্যিক। তাঁর উপন্যাসের উপকরণ গৃহীত হয়েছে দূর ও নিকটের ইতিহাস থেকে, পুরোনো বাংলা সাহিত্য থেকে, মুক্তিযুদ্ধ থেকে, সমকালীন সমাজ থেকে। আর এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই সে সফল হয়েছে উপকরণে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতে।’

পবিত্র সরকারের কথায় : ‘তাঁর বিপুল ও গভীর জীবন-অভিজ্ঞতা, তাঁর মানুষ আর দেশের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর দরদভরা কথনশৈলী তাঁকে আমাদের সময়ের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক এবং মনস্বিনী করে তুলেছে।’

বিশ্বজিৎ ঘোষের বয়ানে : ‘বাংলা উপন্যাস-সাহিত্যের ধারায় তিনি ত্রয়ী (নীল ময়ূরের যৌবন, চাঁদবেনে, কালকেতু ও ফুল্লরা) উপন্যাসের মাধ্যমে সন্ধান দিলেন স্বতন্ত্র এক সাহিত্যিক প্রত্যয়ের, নির্মাণ করলেন জীবন-বীক্ষণের প্রাতিস্বিক এক প্রান্তর।’

বীথি চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায় : ‘তাঁর লেখা গ্রন্থগুলো বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। তাঁর লেখায় আমরা দেখার সুযোগ পাই একই সঙ্গে বারুদের গন্ধ, ক্ষুধাতুর মানুষের হাহাকার এবং পূর্ণচন্দ্রের সৌন্দর্য। সুন্দর ও হাহাকারের এমন মেলবন্ধন বিশ্বসাহিত্যে খুব বেশি আমি পড়িনি।’

তাঁর কর্মমুখর ও সুস্থ দীর্ঘজীবন কামনা করছি।

 সম্মানিত লেখক-পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমরা জানাই ২০২০-নববর্ষের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares