কবিতা : রবিউল হুসাইন

কবিতা

রবিউল হুসাইন

স্বর্গাঙ্গার স্বরলিপি

এই কথা মনে থাকে যেন। বলে যয়ে বনফুল বারে বারে। নদীকূল বড়বড় মাছ মাথা তোলে ইতি উতি। চোখে চোখে চোখ রাখে। কেন তারা ডাক দেয় ওই পারে যেতে। সেইসব গাছে গাছে পাখি সব ওড়াউড়ি করে। পাতা ধরে ঝুলে পড়ে নিচে। দূরে গিয়ে কথা কয় হেসে হেসে শোনে। আর ঝরে ঝরে যেতে যেতে মনে হয় আর কোনদিন দেখা হবে কিবা নাও হতে পারে। তাই সব শেষে চলে যেতে হবে। তবে চোখ যদি ভালো থাকে দেখা হবে। তবে চলে যেতে হবে। সেটা করে বলা যায় কিন্তু তাকে দেখা দিতে হবে। কথামালা ডালা ভরে নাড়ুমুড়ি দিয়ে মেখে মেখে আদাজল নেড়ে নেড়ে। নুন ঝাল দিয়ে। মনে মনে কত কথা কিযে ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে তারা সব একে একে কাছে এসে বলে। কেন তবে কাছেপিঠে মুখ চেয়ে থাকে। বাঁকে বাঁকে খালেবিলে ছোট ছোট জল ঢেউ। কেন ওঠে নামে। কেন তারা হাতে হাতে ধরে। সব কিছু নিয়ে দূরে যেতে থাকে। যেতে যেতে কেন তারা বারে বারে আরও আরও দূরে যেতে চায়, তারা আর এই ভাবে দূরে যাবে। এত পথ পাড়ি দিলে পথহারা হবে। তা কি তারা জানে। দূরে গেলে কেন তারা কাছে কাছে যাবে। তার আসা হবে। তবে যারা কাছে আসে কেন তারা বারে বারে দূরে যেতে চায়। তারা আর কতদূর যাবে। এই ভাবে চলে যেতে যেতে। দূরে দূরে। মনে মনে। বারে বারে। ফিরে ফিরে। চেয়ে চেয়ে। সেই দিন কত দিন। সারা রাত জলে ভেজা। মেঘে মেঘে বেলা যায়। বারে বারে কাছে আসা। মনে হয় সেই ভালো। ভোর বেলা চলা ফেরা। বয়ে যায় সুখ দুখ। আর কেন ঘুরে ফিরে দূর থেকে কাছে আসা। বারবার কত আর কাছে থেকে দূরে দেখা দৃষ্টিহীন যাবতীয় যারা তার অন্ধ। বিছুই দেখে না। যাদের সতেজ দৃষ্টি। তারা দেখে সবকিছু। এটাই প্রকৃতি। কাছেই বজ্রপাতের ঠাঠা শব্দ। সব দেখা যায় দূরে দূরোকিত শোনা যায়, কোলাহল। হৈচৈ। আর কানে কানে কথা বলা।  অথচ আশেপাশে কেউ নেই কোনদিনও ছিল না। কোনদিন সমাগম হবেও না যদি যে কথাটা বলা যায় না। সামনে  দিনে হলেও হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে। এতে কারো কিছুই যায় আসে না। সবকিছুই অনির্ভাবনীয়। কখন যে ঘটবে বলা যায় না। আবার বলা যায়ও। তবে কী। কখন। কেন। কোথায়। কবে। এখন। কে জানে। এই যে  প্রশ্ন আর জিজ্ঞাসা। এটিই আসল। অন্য সব ধোঁয়াশা । এটিই সম্বল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares