প্রবন্ধ : রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা : প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ : নাসরীন জেবিন

প্রবন্ধ

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা : প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ

নাসরীন জেবিন

স্বাধীনতা-উত্তরকালে নবীন প্রজন্মের যেসব কবি বাংলাদেশের কবিতার ধারায় নতুন মাত্রা সংযোজন করেছেন, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) তাঁদের অন্যতম। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন সমাজসচেতন স্বাপ্নিক কবি। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর তিনি জীবিত ছিলেন; কিন্তু এই স্বল্প সময়ের জীবনেই বাংলা কবিতায় তিনি রেখে গেছেন নিজস্বতার ছাপ। বাংলার লোকজীবন রুদ্রের কবিতায় নতুন ব্যঞ্জনায় শিল্পরূপ লাভ করেছে। বিষয়ের পাশাপাশি কবিতার আঙ্গিক-প্রসাধনেও তিনি ছিলেন সমান সতর্ক। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন নিজস্ব একটি কবিভাষা।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নানা প্রেক্ষাপটে বিচার করা যায়, বিশ্লেষণ করা যায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণে। তবে বর্তমান আলোচনায় আমরা কেবল একটি বিষয়ের প্রতিই আমাদের মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখব। এখানে আমরা দেখতে চাইব বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনা রুদ্রের কবিতায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, সে-প্রসঙ্গ। এ কথা সতর্ক পাঠক মাত্রই স্বীকার করবেন যে, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতার একটি বড় জায়গা নিয়ে উপস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বস্তুত, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই রুদ্র মুহম্মহ শহিদুল্লাহর কবি-প্রতিভার অন্তহীন শক্তি-উৎস।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের কবি। তাঁর কালের সহকবিরা যখন বিষাদ ও ব্যর্থতার কবিতা লিখছেন, রুদ্র তখন লিখেছেন সংগ্রামের কবিতা, ভালোবাসার কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা। তাই সামগ্রিক হতাশা ও ব্যর্থতার মাঝেও তিনি উপলব্ধি করেন মানুষের সঙ্ঘশক্তির জোয়ার, মানুষকে তিনি আহ্বান করেন আসন্ন বৃহৎ মুক্তিযুদ্ধে। দেশের মাটিকে, উপদ্রুত উপকূলের লোকজীবনকে পরম মমতায় রুদ্র আঁকড়ে ধরেছেন। তাই তিনি লিখতে পেরেছেন এইসব অসামান্য পঙ্্ক্তিগুচ্ছ :

ক.    আমি কবি নই-শব্দ শ্রমিক।

                ….. …..  ……

                ভাষাসৈনিক আমি জানি শুধু যুদ্ধ,

                আমার সমুখে আলোর দরোজা রুদ্ধ-

                তাই বারুদে সাজাই কোমল বর্ণমালা,

                ধূর্জটি-জটা পেতে রোধ করি অবক্ষয়ের সংশয়,

                আমার এ-হাতে শব্দ-কাস্তে ঝলকায়।

                                                   (‘শব্দ-শ্রমিক’)

খ.           প্রাণের মন্দিরা আজ বাজাতে বাজাতে যাবো মাটির নিকটে,

                যে-মাটি উদোম গায়ে শুয়ে আছে অজন্মা-আঁধার,

                যে-মাটি তামাটে তনু, ইতিহাস লেখে তার বুকের কাগজে,

                একাকী উড়ায় ধুলো, বিশাল বিক্ষোভে জ্বালে বেদনার শিখা-

                …. …. ….

                ভালোবেসে প্রিয় সেই মাটির সিথানে যদি রেখেছি হৃদয়

                তবে আজ বৃষ্টি হোক, অবিরল বৃষ্টি হোক ঊষর জীবনে,

                ধুয়ে যাক জমাট রক্তের দাগ, পরাজয়, গ্লানির পৃথিবী।

                   (‘বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা’)

উপরের দুটি উদ্ধৃতাংশেই রুদ্রের মানবমিতালি, মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং প্রাকৃত জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা সুপ্রকাশিত।

পূর্বেই ব্যক্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই রুদ্রের কবিতার প্রধান শিল্পপ্রেরণা। তাঁর চিত্তলোকে সর্বদা ক্রিয়াশীল ছিল বাংলাদেশের কবিতা। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা দিয়েই বাংলা কবিতায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর সাহসী আবির্ভাব। স্বাধীনতার পরেও যখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপতৎপরতায় লিপ্ত, রুদ্র সে-প্রেক্ষাপটেই লিখেছেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’। আলোচ্য কবিতায় কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ নির্মাণ করেছেন এই অসামান্য পঙক্তিগুচ্ছ :

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,

আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,

ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-

এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?

(‘বাতাসে লাশের গন্ধ’)

প্রায় তিন দশক পূর্বে রচিত রুদ্রের এই চরণগুচ্ছ বর্তমান বাংলাদেশের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক। জাতির পতাকা খামচে ধরা শকুনেরা কবিকে বিক্ষুব্ধ করেছে, সেই বিক্ষোভ থেকেই রচিত হয়েছে এই শব্দস্রোত-‘এ চোখে ঘুম আসে না। সারারাত আমার ঘুম আসে না-/তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার/নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ,/মুণ্ডুহীন বালিকার কুকুরের খাওয়া বীভৎস শরীর/ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে-/আমি ঘুমুতে পারি না, আমি ঘুমুতে পারি না… (‘বাতাসে লাশের গন্ধ’)। এই বেদনা এই যন্ত্রণায়ময় স্মৃতি থেকেই কবির চেতনায় এক সময় রোপিত হয় স্বাধীনতা-বৃক্ষের বীজ। তাঁর চেতনায় ওড়ে স্বাধীনতার গর্বিত পতাকা- ‘রক্তের কাফনে মোড়া- কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে,/সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা/… স্বাধীনতা-সে প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল/ধর্ষিতা বোনের শাড়ি ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা’ (‘বাতাসে লাশের গন্ধ’)।

মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলারা ছিল বাঙালি জাতির পরম আশার উৎস। গেরিলাদের অগ্রযাত্রা বাঙালিকে কঠিন বিপদের মুখেও সাহসী হতে প্রেরণা দিত। গেরিলা বাহিনীর সংগ্রামের ছবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর একাধিক কবিতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। যেমন, ‘হাড়েরও ঘরখানি-৩’ কবিতায় পাওয়া যায় গেরিলাদের এই ছবিÑ ঝোপে জঙ্গলে আসে দঙ্গলে আসে গেরিলার দল, হাতিয়ার হাতে চম্কায়। হাতে ঝলসায় রোষ প্রতিশোধ। শোধ রক্তের নেবে তখতের নেবে অধিকার। নামে ঝন্ঝায়-যদি জান্ যায় যাক্ ক্ষতি নেই; ওঠে গর্জন, করে অর্জন মহাক্ষমতায়, দিন আসবেই, দিন আসবেই, দিন সমতার। (‘হাড়েরও ঘরখানি-৩)

এখানে কেবল মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলা বাহিনীর গৌরবদীপ্ত ভূমিকার কথাই উচ্চারিত হয়নি, বরং প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অনন্য স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ লিখেছেন কয়েকটি উজ্জ্বল কবিতা। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণে তাঁর ভূমিকা রুদ্রের কবিতায় উঠে এসেছে চমৎকার ব্যঞ্জনায়। এসব কবিতায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রাজনীতিকে করে তুলেছেন শিল্প। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে রুদ্র খুঁজে পেয়েছেন জাতির সামগ্রিক আকাক্সক্ষার প্রতিফলন- ‘মনে কি পড়ে না ঘন বটমূল, রমনার উদ্যান/একটি কণ্ঠে বেজে উঠেছিলো জাতির কণ্ঠস্বর?/শত বছরের কারাগার থেকে শত পরাধীন ভাষা/ একটি প্রতীক কণ্ঠে সেদিন বেজেছিলো স্বাধীনতা’ (‘হাড়েরও ঘরখানি’)।

তবে স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে ক্ষমা করা আর অস্ত্র জমাদানের ঘটনা কবিতা ভিন্ন এক ভাবনায় চালিত করেছে, বঙ্গবন্ধুকে তিনি দেখতে চেয়েছেন ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। রুদ্র তাই শব্দ সাজান এভাবে :

বঙ্গ-বন্ধু, এ-বাংলার মাটি যাকে নির্মাণ করেছে,

বাংলার কৃষক, জেলে, সর্বহারা, শোষিত শ্রমিক,

যার কণ্ঠে কথা বলে ভুখানাঙ্গা পীড়িত মানুষ,

যার হাত ভেঙ্গে দিলো বনেদি বাড়ির মাতবরি,

সে বলেছে অস্ত্র জমা দিয়ে যার যার কাজে যাও!

বিশ্বাস হয় না! এর মধ্যে আছে অন্য ষড়যন্ত্র,

অন্য চাতুরতা আছে সুগোপনে, আছে অন্য চাল।

যুদ্ধের পুরোটা নয় মাস পাকিস্তানি কারাগারে

বন্দি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা। যুদ্ধ মাঠে

অন্য মাথা চালনা করেছে সেই উত্তাল প্লাবন

নায়ের হালের বৈঠা ছিলো অন্য এক হাতে।

(‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’)

একাত্তর-উত্তরকালে সর্বব্যাপী হতাশায় ভরে ওঠে বাংলাদেশ। পরাজিত শক্তির উল্লাসে কেঁপে ওঠে আমাদের স্বাধীনতা। ভূলুণ্ঠিত হতে থাকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী সব চেতনা। রাষ্ট্রক্ষমতায় ক্রমে আসতে থাকে তারা, যাদের পাঠক্রমে ছিল না মুক্তিযুদ্ধের কোনো পাঠ। রুদ্র লিখেছেন: ‘তোমাদের পাঠক্রমে ছিলো না মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস/তোমাদের হয়নি শুনতে দেয়া দশ লক্ষ মানুষের সমবেত কণ্ঠধ্বনি,/তোমাদের হয়নি দেখতে দেয়া বাঙালির শ্রেষ্ঠ মানুষটিকেই।/কেবলি কুচক্রে আর মিথ্যাচারে, কেবলি প্রতারণায়/ঢেকে আছে সুদীর্ঘ সময়,/ভুল নায়কের মিথ্যে উজ্জ্বলতা, উৎকীর্ণ ফলক স্মৃতি,/ভুল ইতিহাসে লেপন করেছে কালি জাতির ললাটে’ (‘মিছিলে নোতুন মুখ’)। স্বদেশের এই দুরবস্থা ও বিপন্নতা রুদ্রের কবিচৈতন্যকে করে রক্তাক্ত- তাঁকে করে তোলে ক্ষুব্ধ। রক্তাক্ত এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ‘গহিন গাঙের জল’ শীর্ষক কবিতা :

চরের মাটিতে স্বজনের হাড়ে

দূরের বাতাস কাঁদে

জনপদে জলে শোকের মলিন চিন্তা,

সারা রাত্রির নির্ঘুম শকুনেরা

সকালে লাল সূর্যকে ছেঁড়ে বেদনার বাঁকা ঠোঁটে।

অধিকারহীন পরাধীন ভোর উঠোনে ঝিমোয় পড়ে,

দরিয়ার জল তবুও ধোয়ায় দুঃস্বপ্নের ক্ষত।

(‘গহিন গাঙের জল’)

মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার এই বিপথগামিতায় কবিচিত্তের রক্তাক্ত হতাশা এবার বিশ্লেষণের দিকে যেতে চায়। কবি বিশ্লেষণ করতে বসেন কেন এমন হলো? কেন এত অল্প সময়েই পথ হারালো এত বড় এক অর্জন? এইসব জিজ্ঞাসাই যেন রচনা করলো তাঁর ‘ইশতেহার’ কবিতা। সামূহিক বিপন্নতাকে কবি দেখেছেন এই ভাবে ‘যে তরুণ উনসত্তুরের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।/যে-তরুণ অস্ত্র হাতে স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছে।/ যে-তরুণের বিশ্বাস, স্বপ্ন, সাধ,/স্বাধীনতা উত্তরকালে ভেঙে খান খান হয়েছে।/অন্তরে রক্তাক্ত সে-তরুণ নিরুপায় দেখেছে নৈরাজ্য/প্রতারণা আর নির্মমতাকে।/দুর্ভিক্ষ আর দুঃশাসন যার নিভৃত বাসনাগুলো/দুমড়ে মুচড়ে তছনছ করেছে’ (‘ইশতেহার’)।

রুদ্রের মুক্তিযুদ্ধের কবিতায় কখনও কখনও লেগেছে আন্তর্জাতিকতাবাদের স্পর্শ। এ কারণে একাত্তরের হত্যা, লুণ্ঠন, নারী-নির্যাতন, শিশুহত্যাকে তিনি দক্ষিণ ভিয়েতনামের ‘মাইলাই’ নামক গ্রামে মার্কিন বাহিনীর গণহত্যার সাথে তুলনা করেছেন। স্মরণীয় রুদ্রের পঙ্ক্তিমালাÑ ‘মাইলাই থেকে একাত্তরের ধূসর বাংলাদেশে/সহস্র মৃত্যুর শোভাযাত্রায় সেদিনও আমি/একটি প্রশ্নের ব্যানার টাঙিয়েছিলাম/আমার শতাব্দীর বুভুক্ষু চোখে’ (‘ক্রুশবিদ্ধ যীশু আমার বুকে’)।

কেবল বিষয়ে নয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতার আঙ্গিক-প্রসাধনেও এনেছে বিশিষ্ট মাত্রা। কবিতার ভাষা, অলঙ্কার কিংবা চিত্রকল্প নির্মাণেও রুদ্র মুক্তিযুদ্ধের প্রান্তর থেকে অনেক সময় চয়ন করেছেন প্রয়োজনীয় শিল্প-উপাদান। অনুধাবনযোগ্য নিচের উদাহরণসমূহ :

ক.          উপমা

                স্বজনের শুভ্র হাড় চারিপাশে ফুটে আছে

                ফুলের মতোন।

                           (‘স্বজনের শুভ্র হাড়’)

খ.           উৎপেক্ষা

                স্বাধীনতা-সে আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল

                ধর্ষিতা বোনের শাড়ি এই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

                (‘বাতাসে লাশের গন্ধ’)

গ.           চিত্রকল্প

                সেই রাতে সমুদ্রের ফেনার মতো একখানা হাত

                মৃত্যুর গভীর থেকে তুলে এনেছিলো এক শসার্দ্র জন্ম,

                সেই রাতে, সেই রাতে-সূর্যহীন জ্যোৎস্নাহীন সেই অন্ধকারে

                আমাদের প্রতিজ্ঞরা মেঘের মুখোশ ছিঁড়ে নক্ষত্রের দিকে

                উঠে গিয়েছিলো এক ফেনিল প্রত্যাশায়।

                                                    (‘নক্ষত্রের ধুলো’)

উপরের তিনটি উদ্ধৃতিতেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা বিজড়িত। কখনও কখনও কবিতার ভাষাতেও পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের উত্তাপ :

আমরা একাত্তুরের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে এসেছি

কাঁধে স্টেন, কোমরে কার্তুজ, হাতে উন্মত্ত গ্রেনেড-

আমরা এসেছি।

                              (‘আশ্রয়’)

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ জীবনকে দেখেছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ তাঁর সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকেই করে তুলেছে আরও শানিত, আরও দীপ্র। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কবিতাবলিতে তাঁর সেই শানিত দীপ্র জীবন-চেতনাই প্রতিভাত।

নাসরীন জেবিন : কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares