ভোর বেলার ঘুম : শারমিন শামস্

গল্প

ভোর বেলার ঘুম

শারমিন শামস্

গা বেয়ে বেয়ে রোদ নামছে। উফ রোদ। বারান্দা ভাসিয়ে দিয়েছে একেবারে। গা-ভর্তি রোদ মেখে দাঁড়িয়ে আছে সুতপা। সুতপা নাসরিন। কবিরের বউ। কবির অফিসে গেছে। সুতপা ¯œান সেরে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে খোলাচুলে আর রোদ দেখছে। চিতল মাছের ঝোল, করল্লাভাজি আর এঁড়োর চিংড়ি রেঁধে রেখেছে। এরপর অখ- অবসর।

এর মধ্যে বারতিনেক ফোন করেছে কবির।

বউটা কী করে?

¯œান?

দেখি দেখি।

অসভ্যতা করো না।

আমি না করলে কে করবে? পাশের বাসার মিঠুর বাবা?

সুতপা রেলিংয়ে ভর দিয়ে সামনের মাঠটা দেখে। সুতপা বিছানায় গড়ায়। বইটই পড়ে। সুতপা আজ কাজে যায়নি। রেস্ট নিচ্ছে। শরীর ভালো নেই।

সুতপার নিজের একটা ব্যবসা আছে লেদার গুডসের। চামড়ার ডিজাইনার ব্যাগ জুতা আরও নানা জিনিস তৈরি করিয়ে লোকাল মার্কেটে সেল করে। আস্তে আস্তে পরিধিটা বাড়াচ্ছে ব্যবসার। স্বপ্নটা ওর অনেক বড়। তবে আজ ছুটি, একটু বিশ্রাম চাই।

বিকেলে একটু ঝিম ধরে আসে। তখুনি ফোনটা বাজে। শাশুড়ির কলিং।

বাড়িত আছো?

আছি আম্মা।

থাকো তাইলে। আসতাছি

সুতপা বিছানা ছাড়ে। নাস্তা বানায়। পাস্তা আর আলুর পরাটা। চায়ের জল চড়িয়ে রাখে চুলায়। টেবিলটুবিল সাজায়। পরনের সালোয়ার কামিজটা ছাড়ে। একটু কাজল পরে চোখে। এইসব সে নিত্য করে। ছোটকালের অভ্যাস। মা বলত, বিকেলে একটু ফিটফাট হওয়া দরকার সব মেয়ের। সুতপা ফিটফাট হয়।

সন্ধ্যার আগে আগে কবির আসে।

খুব খিদে পেয়েছে।

আম্মা আসবে।

হুম, আমি গাড়ি পাঠাইছি, আসতেছে।

ওহ। নাস্তা কি দেবো তাইলে? নাকি আম্মা এলে খাবা?

না দাও। আম্মার আসতে দেরি হবে। আলুর পরাটা আর চা নিয়ে বসে দুইজনে। এটাসেটা কথা হয়।

সামনের বাড়িটা ভাঙতেছে। মাঠটার উপর বালু এনে জমা করছে। নতুন কন্সট্রাকশনের কাজ শুরু হবে।

আজ দোকানে গেলা না! মিতুল সব সামলাতে পারবে?

পারবে। আমি ফোনে কথা বলছি তো। সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে দেবে।

শরীর ভালো লাগছে রেস্ট নিয়ে?

প্রশ্নটা করে সুতপার গালে হাত বুলায় কবির।

অনেকটা।

লাজুক হাসে সুতপা।

তোমাকে আরেক কাপ চা দেব?

দাও।

চায়ে চিনি মেশায়। আরেকটু পাস্তা বেড়ে দেয় প্লেটে। সস ঢালে। গোলমরিচের শিশিটা এগিয়ে দেয়।

এরপর টিভিতে ইএসপিএন ছেড়ে দেয় কবির। সুতপা ওর আলমারির ডালা খুলে বসে। শাড়িগুলো গুছানো দরকার। কাজের চাপে হয় না কিছুই।

সাড়ে আটটায় শাশুড়ি আসেন। রাজ্যের রান্না করে এনেছেন ছেলের জন্য। মুরগি, খাসির মাংস, একটু পোলাও। কবির আল্লাদি ভঙ্গিতে দেখে।

এত কিছু কেন আম্মা?

খাস একটু। কিছুই তো খেতে পাস না। কি রান্ধে না রান্ধে!

সুতপা সরে আসে ও ঘর থেকে। মা ছেলের কথা চলতে থাকে। এ ঘর থেকে টুকটাক কানে আসে।

আজ রাতটা থেকে যাও না মা।

কেউ তো আর থাকতে বলে না।

বলবে না কেন? তুমি আসবা দেখে সুতপা ও ঘরটা গুছিয়ে রেখেছে। সুতপা ফিরে আসে।

আম্মা থাকেন না কয়েকদিন। ঘর গুছায়ে রাখছি। আপনার জায়নামাজ তসবি সব আছে। একটা ম্যাক্সি দিই?

দাও।

মুরগি খাসি পোলাও গুছায়ে রেখে সুতপা বারান্দায় আসে। আজ আকাশে তারা নাই কোনো। ফালগুনের শেষ হাওয়া দিচ্ছে। বেশ লাগে। হু হু করা মনটাও শান্তি পায়। ড্রইংরুমে ইএসপিএন চলছে ফের। শাশুড়ি জায়নামাজে। নিজের ঘরে ফিরে আসে সুতপা। শাড়ি গোছায়। মনিপুরী, সিরাজগঞ্জের তাঁত, ইন্ডিয়ান কাঞ্জিভরম, জামদানি, রাজশাহী সিল্ক।

এত শাড়ি পরো কুন সময়?

পরি আম্মা। রোজ তো বেরোতে হয়

এত বেড়াইয়া করবা কি?

কাজের জন্য যাই।

এত কাজে হবে কি? বাচ্চাকাচ্চা না থাকলে কুনো কাজই কাজ না। বাটারফ্লাই সিল্কের ভাঁজ ভেঙে ফের ভাঁজ দেয় সুতপা। ঘন সবুজ কটকিটা টেনে নেয় কাছে। দুই একটা ন্যাপথলিন ছড়িয়ে দেয়া উচিত। রান্নাঘরের কাবার্ড থেকে নিয়ে আসবে নাকি?

কালও কি কাজ তুমার?

জি কাল একটা মিটিং আছে।

কাল বাদ দ্যাও। তোমারে নিয়া বুলুর বাড়িত যাব।

আম্মা কাল পারব না। জরুরি মিটিং এটা।

বুলুরে কয়ে রাখছিলাম। কী কী জানি ডাক্তারের নাম বলছিল। তুমি ওর সাথে যোগাযোগ করবা বইলা আর করো নাই।

বুলু খালার ডাক্তার লাগবে না। আমি অনেক বড় একজন ডাক্তার দেখাচ্ছি। উনার কথামতোই চলছি।

তাতে তো ফায়দা কিছুই দেখি না। বয়স তো বাড়তাছেই

বয়স বাড়লে কিছু হয় না আম্মা।

নতুন নতুন নিয়ম শিখাও। আমাদের সময় তোমার বয়সে বাচ্চারে কলেজে পাঠাইছি।

সময় তো পাল্টাইছে।

মুখে মুখে কথা কওয়াও আমরা জানতাম না। সুতপা বেডরুম ছেড়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। ড্রইংরুমের সোফায় চিৎ হয়ে শুয়ে কবির। হাতে রিমোট। কী দেখছে বোঝা যায় না। দেখছে না ঝিমুচ্ছে, সেটাও না। রান্নাঘরের কাবার্ড খোলে সুতপা। ন্যাপথলিনের একটা ছোট প্যাকেট নিয়ে ফিরে আসে ঘরে। শাশুড়ি তার বিছানায় আধশোয়া হয়েছেন। হাতে তসবি।

টুকটুক করে গোছগাছ সারে সুতপা। আপাতত নীরবতা। ড্রইংরুমে হঠাৎ হঠাৎ আওয়াজ বাড়ে।

কবিররে একটু হালুয়া দ্যাও।

এখন কি খাবে? ডিনারের পর দিই।

ডিনারে খাবে বইলা কি এখন খাবে না?

আপনার ছেলে ডিনারের আগে মিষ্টি জিনিস খেতে চায় না

ওহ! আমার ছেলের অভ্যাস তোমার কাছ থিকা জানতেছি

আলমারির দরোজা বন্ধ করে চাবি ঘুরিয়ে লাগিয়ে দেয় সুতপা। ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে সেখান থেকেই জোরে ডাক দেয় কবিরকে।

শুনছো? হালুয়া খাবা?

এখন কিসের হালুয়া?

আম্মা আনছেন। খাবা?

না

সুতপা এবার ড্রয়ার টেনে ল্যাপটপ বের করে আনে। আড়চোখে একবার শাশুড়িকে দেখে। তিনি সুতপাকে দেখছেন। চোখ মুখ থমথমে।

খাবার লাগাব টেবিলে? আপনি কখন খাবেন?

খাওনের আগে আমার ওষুধ আছে।

ওষুধ আনছেন? পানি এনে দেব?

দ্যাও

ওষুধ পানি পর্ব শেষ হলে শাশুড়ি তার ঘরে যান। বিছানায় পা মেলে বসে ল্যাপটপ অন করে সুতপা। কালকের কাজগুলো গুছিয়ে নিতে হবে। জরুরি ফাইল খুলে মন দেবার চেষ্টা চলে। বুকের ভিতরটা গুম হয়ে আছে। হিসাবপত্র মাথায় ঢোকে না। ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে। এরপর মুরগির ঝোলে, এঁচোড়ে, মোচায়, গরম ভাতে, কালোজিরা ভর্তায়, চিতল মাছের পেটিতে, সাংসারিক আলাপে ডিনার টেবিল চনমনে হয়ে ওঠে মাতা পুত্রের। ছেলের অফিস, দেশ গ্রামের বিষয় স¤পত্তি, আত্মীয়দের বিশ্বাসঘাতকতা ইত্যাদি মুখরোচক বিষয় নিয়ে টুকটুক কথা বলেন শাশুড়ি। মাতা-পুত্র আলাপে সুতপার জায়গা নাই। সুতপা ডালের বোল, খাসি ভোনার বাটি এগিয়ে দেয়। খেতে খেতেই উঠে গিয়ে একবার কাঁচামরিচ বের করে। দু’দলা মুখে দেবার পর কবিরের কড়া ঠান্ডা পানির ইচ্ছে জাগে। ফের ওঠে সুতপা। আবার একবার শসার সালাদের সাথে একটু টমেটোর ইচ্ছেপূরণে সুতপাকে উঠে এবার রান্নাঘরে যেতে হয়।

খাওয়া ভালো ছিল আজ। এত পদ।

আম্মা তুমি এত কিছু রানছো!

শাশুড়ির চোখ চকচক করে।

কাল তোমার মিটিং বাদ দ্যাও।

সম্ভব না আম্মা। দুইমাস আগে থেকে এই মিটিং ফিক্সড করা।

তোমাদের বাড়িত এইজন্য আসতে চাই না। তুমরা আমারে সম্মান দ্যাও না।

কোনো কথা না বলে এঁটোকাটা থালাবাসন নিয়ে রান্নাঘরে চলে যায় সুতপা। একটা শিরশিরে অনুভূতি মেরুদণ্ড বেয়ে ওঠে আর নামে। বাসন মাজায় মন দিতে চায়। হাত থেকে পড়ে যায় ম্যালামাইনের বাটি, দু’তিনটে স্টিলের চামচ। কবির এসে ঢোকে।

এত মেজাজ দেখাচ্ছ ক্যান?

আমি মেজাজ দেখাচ্ছি কই?

ধাম ধাম করে বাসন ফেলতাছো। বুঝা যায় না নাকি?

দু’এক মুহূর্ত কবিরের চোখের দিকে তাকায় সুতপা। তারপর সব বাসন ফেলে ছড়িয়ে বেডরুমে চলে আসে। ঘর অন্ধকার করে শুয়ে পড়ে গায়ে কাঁথা জড়িয়ে। কবির আসে না।

এভাবে কতক্ষণ শুয়েছিল টের পায় না। ঝিম ধরে আসতে আসতে ঘুমই নেমে এসেছিল কি?

ক্যাচক্যাচ শব্দে বেডরুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে কবির। প্যাসেজের লাইট টাইট অফ করে এসেছে। ওপাশে গাঢ় অন্ধকার।

এই উঠ।

ক্যানো?

আম্মারে তুমি অপমান কর ক্যান?

আমি কই অপমান করলাম?

তোমার এত মুখে মুখে কথা বলার কী? এত বেয়াদপ কেন তুমি? আমার পরিবারের কোনো লোক তোমার কাছে সম্মান পাইল না।

সম্মান পাইতে হইলে সম্মানের আচরণ করতে হয়।

কী? কী বললা? আমার কাছে আমার মারে নিয়া তুমি যা তা বল?

কেন বলব না? উনি কি আমারে ছেড়ে কথা কন? তুমি শুনতে পাও না?

তো আমি কী করব? মারে অপমান করব? তাই চাও?

মা অন্যায় করলে তার প্রতিবাদ করবা না?

কী অন্যায় করছে আমার মা?

কিছুই করে নাই?

না করে নাই। পাইছ একটা ভালো শ্বশুরবাড়ি। তাই মাথায় উঠছ। দুই বেলা লাত্থি মারে এমুন একটা পাইতা, তাইলে বুঝতা কত ধানে কত চাল!

তাই নাকি? লাত্থি মারাটা ঠিক আছে বলতেছো?

ওই… ওই কথা ঘুরাবি না। তুই খালি আমার মারে অপমান করিস।

তুই তোকারি করবা না।

একশবার করব- খানকি।

কবির, গালি দিবা না।

খানকি কোথাকার।

তুই শুয়োরের বাচ্চা।

কী? কী বললি? এত বড় সাহস?

এরপর দুমদুম পিঠে বুকে হাতে উরুতে মাথায় ঠাসঠাস চড় লাথি কিল ও ঘুষি। এই সময়টায় প্রবল এক শক্তিহীনতা পেয়ে বসে। এই সময়টা অন্ধ। এই সময়টা বোবা, স্তব্ধ, নিথর ও লুলা!

ঘরের ভেতরের টিমটিমে রাত নিজের শরীরের ভেতরে পা গুটিয়ে দূরে বসে দেখে দুজনকে। ঘরের দরজা খুলে দুমদুম করে বেরিয়ে যায় কবির। আলমারির কোণঘেঁষে বহুক্ষণ মেঝেতে বসে থাকে সুতপা। কত রাত বাড়ে, ঘড়িতে কটা বাজেÑ সব কেমন এলোমেলো জট পাকিয়ে একটি জায়গায় স্থির হয়ে থাকে মাথায়। কত কত অন্ধকারের ঢেউ একের পর এক গাঁয়ের ওপরে আছড়ে পড়ে নৃত্য করে, সেই হুঁশও থাকে না।

তারপর তারও একটা ক্লান্তি আসে। বসে থাকার ক্লান্তি। বুকে পিঠে গালে হাতে উরুতে তীব্র ব্যথার ক্লান্তি। সেই ক্লান্তিতে ভর দিয়ে নিজেকে টেনে তোলে। দরজা খুলে প্যাসেজে আসে। ওপাশে শাশুড়ির ঘরের দরজা বন্ধ, দরজার তল থেকে ভেসে আসছে অন্ধকার। প্যাসেজ ধরে এগিয়ে গিয়ে ড্রইং রুমে উঁকি দেয়। যা ভেবেছিল তাই। কবির শুয়ে আছে সোফায়। ঘুমুচ্ছে। অর্থাৎ ঘুমিয়েছে।

পা টেনে ফিরে আসে ঘরে। বিছানাটা গোছায় একটু। কাঁথাটা ঝেড়ে গুছিয়ে নেয়। আলমারি খুলে রাতের পোশাক বের করে একখানা। বাকি রাতটা একটু ঘুমুতে হবে ওকেও। সকালের মিটিংটায় ঠান্ডা মাথায় যেতে হবে। বাথরুমে ঢুকে পরনের কামিজ সালোয়ার খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। চোখ দুটো কেমন বেমক্কা রকম ঢুকে গেছে এক গভীর গর্তেÑ যেন একটা ব্ল্যাকহোল মহাশূন্যের। হাত দিয়ে ডান দিকের গালটা ¯পর্শ করে। আঙুলের দাগ বসে গেছে চারটা। ¯পর্শমাত্র ব্যথায় টনটনিয়ে ওঠে জায়গাটা। একবার গলাটাও টিপে ধরেছিল কি?

মনে পড়ছে না। কিন্তু কণ্ঠনালীর আশপাশে ব্যথা টের পাওয়া যায়। অবাক হয়ে আয়নায় নিজেকে দেখে সুতপা। চোখ দিয়ে অনর্গল জল ঝরছে। অথচ ও কিন্তু কাঁদতে চায়নি। কিন্তু জলটার কোনো বাঁধ নাই। ঝরছে।

কতক্ষণ ঝরে, কে জানে! অন্তত ও জানে না। সকালে মিটিংটার কথা মনে পড়তেই জেগে ওঠে। চোখ মোছে। একটা ঘুম চাই। শান্তির ঘুম। শান্তিময় ঘুম। কীভাবে আসবে? হাত বাড়িয়ে ফেসওয়াশটা নেয়, মুখ ধোয়। দাঁত ব্রাশ করে। সেনসোডাইন টুথপেস্ট। সাদা সিরামিকের মগে রাখা পাশাপাশি দুটো ব্রাশ। নীল আর গোলাপি। গোলাপিটা ওর। নীলটা কবিরের।

হাত বাড়িয়ে নীল ব্রাশটা নেয়। তারপর কমোডের পানিতে ঠেসে ধরে ওটার মাথা। মনে হয় কবিরের কোকড়াচুলো মাথাটাই যেন চেপে ধরে আছে ওই পানিতে। ব্রাশটা নিয়ে কমোডের গায়ে ভিতরে বাইরে একটা দুটো ঘষাও দেয়। তারপর শান্ত স্থির হাতে ফের সাজিয়ে রেখে দেয় সাদা মগে।

বাইরে একটা দুটো পাখি ডাকছে নাকি? ভোর হয়ে এলো?

হোক। এখন দু’ঘণ্টা ভালো করে ঘুমোনো যাবে। ভোরের ঘুম নাকি রাতের ঘুমের চেয়ে বেশি আরামের- এ কথা সকলেই বলে।

লেখক : গল্পকার

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares