আলোছায়ার ঘূর্ণি : নাসরীন জাহান

গল্প

আলোছায়ার ঘূর্ণি

নাসরীন জাহান

 

মোচরানো কাগজের মতো বিছানায় পড়ে থাকি। মহাচিক্কন এক লম্বা কাচের শলাকায় আটকে গেছে আমার অস্তিত্ব।

বাতাস নেই, স্বচ্ছতা নেই। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরতে মরতে আমার অবয়ব শেষ, একটা তুমুল টানে ওখান থেকে বেরিয়ে ক্ষীণকায় মুখ দিয়ে মাথাটা বের করে একফালি বাতাসেই মুখের মধ্যে তাগিয়ে গেল।

অত ব্যাখ্যা করে না বললে একটু সরল ভাবে বলতে যা বোঝায় তা হলো, চোখের সামনে ঝিম আবার ছিটিয়ে  রোড এক্সিডেন্টে আমার বাঁ হাতটা ভেঙে দেহের সাথে ঝুলি ঝুলি অবস্থা হয়েছিল। কোমড়ের একটা হাড়ও ভেঙেছিল। ভেঙেছে বলতে… দুটো হাড় দুদিকে সরে গেছিল।

বাঁ হাতটাও ডাক্তার খালি বুকের সাথে যেন আমি রোবট স্কচটেপ দিয়ে এঁটে এঁটে আমার হাতের মাথার কব্জিতে কুকুরের গলায় দেওয়ার মতো একটা রশি টাইপের কিছু আটকে দিয়েছিল।

একজন নার্স কাকাতুয়া ঝুঁটি সফেদ আমার দেখাশোনা করে সর্বক্ষণ।

সে চলাফেরা করলে একটা মধুর টুং টাং শব্দ হয়। যখন ব্যথা আমার সর্ব অস্তিত্বকে খুবলে খেতে থাকে, আমি দাঁতে দাঁত চেপে বলতে থাকি, এসব মিথের শব্দ ইবলিস ঢাক বাজাচ্ছে, বন্ধ করো বন্ধ করো। এরপর ইনজেকশান দিয়ে খুবই অল্প সময়ের জন্য আরাম হয়। তখন ফের নার্সকে বলি, তুমি ওই বাজনগুলো আবার শুনাও তো!

নার্স লজ্জায় হাসে, সেদিন যখন ব্যথা বাড়লো, আপনি আমার পায়ের মলের… শব্দ শুনে চিৎকার করে এসব ফেলে দিতে বললেন, আর এখন কখন তাকে যে কি বলেন আপনি। চক্ষু বিস্তার করি।

ছায়া ছায়া বুদবুদ নার্সের ফর্সা মুখটার মধ্যে লম্বা নাকটা তার অবয়বে কাঠিন্য এনে দিয়েছে।

ডাক্তারের নির্দেশ অমান্য করে সে প্রায়ই আমার তীব্র আকুতির কাছে নতজানু হয়ে ব্যথা কমানোর ইজেকশনটা দেয়।

যেভাবে বনের জীবন্ত হরিণকে ছুটে এসে একটা বাঘ কামড়ে ধরে তাকে খেতে থাকে, আমার দেহটাকে তেমনই এক বাঘ ঘনঘন পাকরাও করে তেমনি খেতে থাকলে অসহ্য বোধে আমি চিৎকারহীন। তেমনই হরিণের মতো দাঁতে দাঁত চেপে আকুল পাথরে ডুবে নার্সকে আঁকড়ে ধরি- প্লিজ সিস্টার ইনজেকশন প্লিজ।

তখন ইনজেকশনের প্রভাবে আমার অবুঝ দেহটা শান্তিতে আছে। আমি নার্সকে বলি, রাতে আমার ঘুমের কাছে শয়তান আসে। এটা হয় আমার ব্যথা কম থাকলে। আত্মাটার মধ্যে বিভীষিকাময় ভয় তৈরি হয়। সে বলে, কি করে তোমার ঘুম আসে দেখি। এই করে করে আমি প্রবল ঘুম নেতিয়ে পড়তে থাকলেও সেই শয়তান বলে, এই ঘুমের সীমান্তে চলে গেছো তুমি, এবার ঘুমোও দেখি।

ছিলাটানে ঘুম সরে যায়। এরপর থেমে একগ্লাস পানি খাই। ধীর কানে নার্সকে বলিÑ কাল ঘুমের সময় আমার আত্মা যেখানে থাকে, সেই বুকটা হাসছিল…

নার্স মৃদু হাসে,

আমি ছিটকে নিই কথাটা, হ্যাঁ সিস্টার কাল রেজওয়ান এসেছিল, শুধু এসেছিল তা নয়, তুমি রুম থেকে বেরোলে সে এমন ভাবে আমাকে আদর করেছে, চুমু খেয়েছে আমার ব্যথার জায়গায়, মনেই হয়নি ওর জীবনে দ্বিতীয় কেউ আছে।

সত্যিই।

যখন বুকটা হাসছিল, আমার চক্ষু মহাপ্রান্তবের পাপড়ি মেলে দিয়েছিল।

তখন দক্ষিণ দিক থেকে যুবতী বাতাস এসে আমার চুল বিনুনি করতে চাইলো। সিংহ দরজা খুলে গেল তাজ্জব হুল্লোড়ে। খুলে গেল বিনুনির কপট বাবার কা-। যখন আমি এমন মিষ্টি দোলনায় দোল খাচ্ছি, আচমকা যেন বল্লমের কোপ পড়লো আমার কোমড় আর বাঁ হাতে। চিৎকারের জন্য হা হয়ে গোঙাই। খুলে যায় নরক দরজা।

আয়নার সামনে পারতপক্ষে দাঁড়াই না। আজীবন আয়না আমার দুশমন। ওখানে গেলেই আমার কালো মুখটার মধ্যে থেরে থ্যাবড়ানো মুখটা ধেয়ে সামনে আসে। তক্ষণ অভিমান সরে গিয়ে রেজওয়ানকে সাত খুন মাফ করি।

সে যে আমকে বিয়ে করেছিল। সে-ই অনেক। দেখতে মোটামুটি সুপুরুষ রেজওয়ান আমার বাবার দেয়া যৌতুকের কারণে আমাকে বিয়ে করেছিল। তখন সে লজিং থাকতো আমাদের বাড়িতে।

যৌতুকের অর্থ আর গহনা দিয়েই ব্যবসা করে আজ সে মহাকোটিপতি।

আমি অসুখে পড়ার পর সে আমার একমাত্র ছেলেকে মালোশিয়া ভর্তি করেছে।

ওরে আমার মানিকসোনা আমি ঘুণাক্ষরেও যা স্মরণ করতে চাই না। আমার সন্তানের সেই অবয়ব নাখ আমার কপালে চুমু খায়। কখনও সে সমস্ত ঘরে নানা বয়সের রূপ ধরে উড়তে থাকে। ফের চক্কর খাই হু হু তেপান্তরের নারকীয় অন্ধকারে। যেখানে উড়তে থাকে আঁধার তপ্ত বালিকণাগুলো হিস হিস শঙ্খচুর সুয়োরানি দুয়োরানি বেশে ছড়াতে চাইলো রূপ কথার কুয়াসা হিম হিম।

আমার পুরো অস্তিত্বের গিঁটে গিঁটে বেঁধে গেল দড়ির বাঁধন। নেমে এল সুন্দর আসমানের পেট থেকে রঙধনুর সাত কালারের শীতল বায়ু। তাজ্জব লেগে গেল চরাচরে।

সুয়োরানির  আবুঝ ক্রন্দনের ওপর ঠিক বিষ পা ফেলে নিঃসীমে চলে যায় দুয়োরানি।

স্তব্ধ কাকাতুয়ারা হিম উড়ালে মাথার ওপর দিয়ে কোথায় যে যায়।

জুজুবুড়ি আঁধার নামে। এশোভোন অন্ধকার, জড়াজড়ি করে উড়ে যাই নবকের বিভীষিকাময় অকূল পাথরে।

স্যাম… নার্সের কণ্ঠস্বরের শিরশিরে বাতাসে ঢেউ খেয়ে আমার কানে আসে।

আহা। এই ডাকটা এত মিষ্ট লাগে। ও এভাবে ডাকল মুহূর্তে আমি নিজের চেহারা আকৃতি সব ভুলে যাই। নিজেকে আমার ডাকটায় রাজকন্যা মনে হয়। ম্যাম চুপ করে আছেন, কিছু খাবেন?

বিষ আনতে পারো বিষ?

এমন আবার বললে আমি কিন্তু আপনার ডিউটি করবো না।

কেন করবে না? হাঁপাতে হাঁপাতে বলি, ফের একটা নেকড়ে হাতে কামড় দিয়েছে আর একটা কুমির কামড়ে…

ইনজেকশন দাও…

না। কড়া শোনায় নার্সের কণ্ঠ। স্যার আমাকে পই পই করে বারণ করেছে। আমাদের সিনিয়র ডাক্তারদের সাথে স্যারের অনেক বন্ধুত্ব। স্যার আমার সাথে উনাদের কমপ্লিন করবেন বলেছেন। শেষ যখন এলেন স্যার, টের পেয়েছেন, আমি আপনাকে এটা দিই।

নার্স সরে গেছে কোথাও।

আজ মনটা এত নিকটে কেন? ওকি? সিলিংটার গায়ে কী গুটি বসন্ত উঠছে? সিলিংসহ?

আমার বুকের মধ্যে চেপে সে আমার শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলবে না তো?

সেও এক ভালো হয়, আয় ছাদ আয়।

আমার বাবা মায়ের দশা আগের মতো নেই। আর্থিক অবস্থা পড়ে গেছে। ভাইবোন যে-যার দিকে।

মাঝেমধ্যে আসে, অসুস্থ মা কেঁদে কেঁদে বলে, জামাই তোরে দেশের বাইরে চিকিৎসা করায় না ক্যান?

কিভাবে বলি, জামাইয়ে ব্যস্ত। আমাক কে নিয়ে যাবে, কে দেখাবে ওখানে? এছাড়াÑ

এছাড়া কি?

ভেতর প্রাণে ফিশফাস হয়, যে রাজকন্যাকে বিয়ে করেছে সে… রীতিমতো আমার অনুমতি আদায় করে তাকে বিয়ে করেছে। আমার তুমুল চাপে একদিন দূর থকে বাজকন্যাকে দেখিয়েছিল আমাকে, জুড়িয়ে গেল চোখ আমার, পুড়িয়ে গেল চেখে! এত সুন্দরের পাশাপাশি থেকে রেজওয়ান যে আমাকে কদাচিৎ হলেও দেখতে যে আসে, সেই অনেক। এছাড়া নার্স রেখেছে। ডাক্তার এসে দেখে যায়। সমস্ত খরচ  তো অকৃপণ হাতেই করছে।

শুনলাম দুদিন পর কোমরে আমার স্টেম্প সেল অপারেশন হবে। আমার পেট থেকে চর্বি নিয়ে কোমরে সেট  করবে। তাহলে আমার অনেকটা মুক্তি মিলবে।

গতরাতে স্বপ্ন দেখেছিÑ একটা হু হু চরাচর, তার ওপারের  পাহাড় থেকে নিলাভ ঝরনার ধারা। কিছু স্বপ্ন কুড়ানো ডানাওয়ালা পরী পরী শিশু মিল বর্ণচোরা ফল কুড়োছিল। দিক চিহ্নহীন হাঁটতে গিয়ে টের পেলাম মহাসমুদ্রের মধ্যে পড়ে গেছি। ডুবতেই বহুবর্ণ পৃথিবী। আমি  যখন তলাচ্ছি আচমকা আমার দুটো কানকো হারিয়ে গেল। জল ধেয়ে ধেয়ে নানা রঙ মাছ প্রাণীদের সাথে গা লেগে লেগে ওপর দিয়ে ওঠছি, আচমকা এক বীভৎস হাঙর আমার হাত আর কোমর একসাথে কামড়ে ধরলো। কাঁপতে কাঁপতে ঘুম ভেঙে গেল। কাজের মেয়েটার নাম ধরে ডাকতে চাই… কিন্তু গলা শুকিয়ে গেছে।

কাছেই ঘুমাবি। কিন্তু দেহের তুমুল ব্যথা এমন চিলিক দিচ্ছে। আমার কণ্ঠ দিয়ে রা বেরোয় না।

ছেড়ে দিয়েছিলাম দুঃসহ যন্ত্রণার হাতে নিজেকে। আশ্চর্য এই দাহটা যেন অধিক শোকে পাথর বানিয়েছে আমাকে। আমি কাঁদতে পারি না।

ডাক্তার বলছিলেন আর দুটো দিন। এরপর মুক্তি মিলবে অনেকটা।

এ দেশে কত ডাক্তার দেখিয়েছি কত যে ব্লাড টেস্ট, ইউরিন টেস্ট। আলট্রাসনো। কেউ এক্সিডেন্টের পর আমার দেহের রোগটা কোন দিকে টার্ন নিয়েছে, শনাক্ত করতে পারে না।

ফলে ডাক্তারের অভয়ে, এই দুদিন, আমি কোনো ভরসা না পাই।

স্কুল জীবন থেকেই কবিতা লিখতাম, পাগল প্রেমে পড়েছিলাম রেজওয়ানের। কোনোদিন কল্পনা করিনি (আমার রূপের যা দশা) সে আমার হাজব্যাড হবে। ফলে সে যখন জীবনে একটা পর্যায়ে রূপসী একজনের প্রেমে পড়ে, ভয়ে ভয়ে আমার অনুমতি চাইছিল, ঈর্ষায় আমার অমূল সত্তা জ্বলে গেলেও, চেহারায় তার কণামাত্র প্রকাশ হতে দিইনি। আমি জানতাম, এই দিনটা আসবে। ভয়ে ভয়ে বলতে চাইলাম, প্লিজ আমাকে ডিভোর্স দিও না। আমি ছিন্নপাতার মতোন ভেসে যাবো।

অনার্স দিয়েছিলাম বিয়ের পরে। তখন প্রচুর বই পড়তাম নানারকম একাডেমির বাইরে উচ্ছ্বাস বেড়ে গেছিল। আমার সমস্তটার মধ্যের কাব্যচর্চার এই দিকটাকে রেজওয়ান অত্যন্ত সমীহের চোখে দেখত।

তারপরও আমি কলজে পোড়া দহন নিয়ে কাতর চোখে তাকিয়েছিলাম তার দিকে।

সে ধীরে ধীরে বলল, আমার তোমার প্রতি এমন একটা আলাদা মায়া আছে যে, কিছুর বিনিময়ে তোমাকে আমি ছাড়তে পারবো না। অনেক ছোটবেলা থেকে তোমাকে দেখেছি আমার সন্তানের মা তুমি। প্রমিজ করো তাকে এ বিষয়ে কিছু বলবো না। বড় হয়ে জানলে দেখা যাবে।

ধীরে ধীরে সব শব্দেরা ডুবে যায় সমস্ত কুয়াশারা ভেতর। হিম হিম কাঁপি আমি অথবা আমাকে খামচাচ্ছে হাওয়া। জীবনের জেব্রাক্রসিং মাথায় নিয়ে ছুটতে থাকে মানুষেরা, ফলে এক্সিডেন্ট… রক্তপাত… আসমান ধেয়ে নেমে আসে আঁধার দেবতাগণ। সমস্ত চরাঞ্চল ভরে যায় অনেক দেবতাতে।

স্বপ্ন ঘুরছুটে যায়। আমার কাছ থেকে সবরকম মত আদায় করে হনহন হেঁটে চলে যায় রেজওয়ান। তখন আমি একদম সুস্থ একজন ছিলাম। কিন্তু রেজওয়ান এই কা- করার পর মনে হতো আমার পায়ের চাকা খুলে নিয়েছে কেউ।

এর ফলেই ধাঁধা সূর্য মাথায় নিয়ে জেব্রাক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছিলাম। একটা ব্রেকফেল করা গাড়ি আমাকে এমন ধাক্কা দিলো… মহাশূন্যে থেকে মাটিতে পতিত হলাম।

এদিকে ওদিকে ফিসফাস তখন, যখন সুস্থ ছিলাম, বরের প্রশংসা করতাম, বলতো অনেকেই রূপের সাথে সাথে নিজের ব্যক্তিত্বটাও হারিয়ে বসে আছে। দিব্যি অনার্স পাশ। এমএ করে দাঁড়াও না নিজের পায়ে। এখনকার দিনে শহরের কোনও শিক্ষিত কী অশিক্ষিতরাও সতীনের ঘর করে না।

আমি কি ঘর করি?

ওই তো হলো হলেও হলো। ওই মাথা নিয়ে কিভাবে যে এত ভালো কবিতা লেখো। নিজেই লেখ না ওসব অন্য কেউ লিখে দেয়?

 

দুই

ইস্কুল ছুটি হলে বেরিয়ে আসমান দেখি। অনেকগুলো পাখির উচ্ছ্বাস। অরেঞ্জ রোদ পাখা বিস্তার করেছে মস্ত নক চারপাশকে শীতলু আরাম দিয়ে। দেহ থেকে অনেকটা ব্যথাই স্ট্র দিয়ে নিয়ে গেছে ডাক্তার। আমার পায়ের তলার কব্জিতে এত জোর, কই আগে তো জানতাম না।

কবি হিসাবে অনেকটা পরিচিত হওয়ায় সেই মহলে কেউ আমার রূপ দিয়ে আমাকে বিচার করে না। রেজওয়ান আরেকটা বিয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে দ্বিধাহীন বলতে পেরেছিল আমার রূপের জন্যই তো। ফের চারপাশে তাকাই। যেন ক্ষণে ক্ষণে ঋতু রঙ বদলাচ্ছে।

আমি সশব্দ ভঙ্গিতে নিঃশব্দে পা বাড়াই।

ধুমল কুয়াশা ফুঁড়ে কে যেন সামনে দাঁড়ায়।

আমি চোখে বিস্তার করি।

ধীরে ধীরে প্রকট হয়, রেজওয়ান বলে, প্লিজ আজ আর না বলো না। মালোশিয়া থেকে ছুটিতে আলভী আসছে জানাই তো সে কিছু জানে না… প্লিজ।

এতো কাতর ভঙ্গিতে রেজওয়ান আমাকে বলছে? এর আগেও এই একই আনুরোধ করেছে, তার আজকের মতো এতটা পড়ি পড়ি ভঙ্গিতে না।

ছেলের সাথে আমার কথা হয়েছে। ওর প্রাণ আমি। আকুল হয়ে আছে আমার কাছে আসতে, আর কি চাই আমার।

না দেখা শিশির শুষে নিতে থাকে মিহি রোদের সিলভার তরঙ্গ। এই শেষবার প্লিজ, বলল সে। সে আমার চিকিৎসা, পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিল, কিন্তু সে যে বেশ বড় অংকের ক্যাশ গাড়ি ভর্তি যৌতুক নিয়েছিল, শুধু একটা দেখতে অসুন্দর মেয়ের জন্য, সেই অর্থকেই পাহাড় বানিয়েছে। কাটাকাটি এত আকুতি তার ছেলেটাকে পাওয়ার জন্য। একটা ছেলে সন্তানের জন্য উন্মাদপ্রায় মানুষটি যখন জানল ছেলেই হচ্ছে, সীমাহীন ডিগবাজি খেয়ে সে-কি কা-, আমাকে ধরে ঘূর্ণি নাচ নাচছিল।

সেই ছেলে আসছে। ওর সামনে দেখাতে হবে, আমরা দুজন ঠিক আছি, ও দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। যা হোক, প্রথম দিকে আমার চাকরি হোস্টেলে আলাদা থাকা দেখে বিস্ময়ে চোখ গোল গোল হতো রেজওয়ানের। গলায় বেমক্কা রেস টেনে বলতো, কবি বন্ধুদের উৎসাহের খুব তো দেখাচ্ছে, দুদিন পর  সুরসুর করে মাথা থেকে নামিয়েÑ আমি শুনতে চাইনি।

আজ গলায় মোম মেখে এসেছে।

এখন গড্ডায় পড়ে হেল্প নিতে এসেছ। একটা বাতাস ওঠে সাপের মতো রাস্তাটাতে। ধুলোকণা হিসহিস করে ওঠে। আমার সমস্ত অস্থির তাজ্জব এক লোহা আছে আজ। ওর আকুতিতে একবিন্দু এদিক ওদিক কণামাত্রও হেলে না।

পথ ছাড়- বলে ওর দিকে বরফদৃষ্টি দিয়ে এক টানে লম্বা এক পথ ধরে ধীরে ধীরে মিশে যাই অনেক মানুষের হুজ্জুতের মাঝে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares