পাহারাদার : রশীদ হায়দার

গল্প

পাহারাদার

রশীদ হায়দার

 

লক্ষ্যটা সেই সময়কার। ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠব। ধোয়ানো ইস্ত্রি করা প্যান্ট শার্ট পরা মোজা ছাড়া অক্সফোর্ড সু পায়ে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি, বড়বোন চিবুক ধরে পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে দিয়ে গম্ভীর হয়ে হুকুম দিলো,

যা, আব্বা মাকে সালাম করে আয়।

কেন? সালাম করতে হবে কেন?

পরীক্ষা না হলে কপালে দুই একটা চড়-থাপ্পড় জুটত নিশ্চিত। আমার বোনের চোখের সাইজ গোল গোল, তেমন বড়ও না, কিন্তু রেগে বড় চোখে তাকালে মনে হয় চোখটা মার্বেল হয়ে গেছে। ছোট চোখ কি করে মার্বেলের গুলির মতো হয়ে যায় এ আমার মাথায় ঢোকে না। কিন্তু দৃশ্যটি ঢুকেছিল ছোট চাচার। তিনিই সবার সামনে বোনকে মার্বেল বলে ডাকতে শুরু করেন। ছোট চাচা বিরাশি বছরে মারা যাবার আগে পর্যন্ত মার্বেল ডেকে গেছেন। বোনটিও স্বাভাবিকভাবে হাসিমুখেই জবাব দিয়েছে। যেন ওটাই ওর আসল নাম।

বাড়ির সবাই ওর বিশেষ নামটা জানে কিন্তু কেউ ও-নামে ডাকে না, ডাকার অধিকার নেই। ছোট চাচা মারা যাবার পর বোন চাচার লাশের ওপর মাথা রেখে কেঁদে কেঁদে বলছিল, আজ থেকে কেউ আমাকে মার্বল বলে ডাকবে না।

বাড়ি ভরা লোকের মন খারাপ, চোখে পানি, শুকানো মুখের মধ্যেও আমার হাসি পায়। কাছে পেয়ে বোনকে বলি,

আমি তোমাকে মার্বেলাপু বলে ডাকব।

যদি বলি সেই ব্যথাটা এখনও আছে, তাহলে আছে। বোন আমার প্রস্তাব শুনে ঘুরেই কোনো কথা নয়, ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। ডান গালের থাপ্পড় শেষে বাম গালে আরেকটা পড়ার আগেই আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠে বাড়ির সদর দরজা ছেড়ে বাইরে গিয়ে দেখি বোনও পেছন পেছন সদর দরজা পর্যন্ত এলেও শেষ পর্যন্ত ওটা আর পেরোয়নি। মনে আছে কবরে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রায় সারারাস্তা আমি খাটিয়ার প্রায় গা ঘেঁষেই হেঁটেছি।

সেই কিশোর কালেই মার্বেল ও চড়থাপ্পড় নিয়ে এই সেদিনই দুই ভাইবোন স্মৃতিচারণের নামে হাসাহাসি করতে করতে একসময় বললাম,

বুঝলে মার্বেলাপু, সেই কত বছর আগে সেভেনে ওঠার পরীক্ষায় একটা বাংলা রচনা কি বিষয় এসেছিল?

তোর পরীক্ষা আমি কি করে জানব?

তিন চারটে বিষয়ের মধ্যে একটা ছিল, ‘তোমার জীবনের লক্ষ্য।’

মানে?

মানে ‘এইম অব লাইফ।’

ও! তা তুই কি এটাই লিখেছিলি?

হ্যাঁ।

তা তোর কি লক্ষ্য ছিল?

আমার ছিল সিনেমা হলের গেট কীপার হবো।

আঁতকে ওঠে বোন। ওই ছোটবেলার কুতকুতে চোখ দুটি আবার গোল্লা গোল্লা মার্বেল হয়ে উঠে বলে,

কী? কি বললি?

বললাম তো সিনেমা হলের গেট কীপার হবো।

বোন হেসে ফেলে।

তুই হাতের কাছাকছি থাকলে সত্যি চড় খেতি।

হাসি আমিও। কারণ ছোটবেলায় আমি ছিলাম পাকা চোর অতিশয়। কিশোরকাল থেকেই সংসার জীবনের একটা বড় কর্ম করতে সিদ্ধহস্ত ছিলাম। সেই বয়সে বাসায় ফ্রিজ থাকা তো দূর, নামই শুনিনি। প্রতিদিন বাজারে যেতে হতো। কাঁচাবাজার। আমার বড়ভাই থাকলেও মাছ তরকারি যে কেন আমাকেই কিনতে যেতে হবে, তা আমার মাথায় ঢুকতো না। আমি নাকি বড় ভাইয়ের চাইতেও ভালো বাজার করি, আত্মীয়কুলে আমার এই সুনামটাও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম প্রথম আমার বাজারে যাবার ব্যাপারে আপত্তি অনাগ্রহ থাকলেও আমিই বেশি উৎসাহী হয়ে উঠি। প্রতিদিন বাজারের বরাদ্দ এক টাকা, দুই টাকার বাজার হলে আমার বয়সে একায় কুলাতো না, সাথে কেউ কুলিটুলি গোছের সাহায্যকারী। এখানেই গোপন কথাটা বলে রাখি। আমার নিজের সঙ্গেই শর্ত ছিল একটাকার বাজার থেকে একআনা সরাবোই, ওটা আমার কমিশন বলি আর এটা-ওটা কিনে খাওয়ার ইচ্ছে, তা মেটানোর অধিকার আমার আপনিই জন্মে যায়।

এরপরের খবর তো আরও চমকানোর মতো। সেই ছেলেবেলাতেই পড়ালেখায় হাতে খড়ির মতো নেশায় মুখেবিড়ি শুরু হয়েছিল আমার থেকে সামান্য বড় মামাতো ভাই মোগলের কাছে। খুব যতœ করে শিখিয়েছিল কিভাবে টান দিতে হয়, কি রকম করে নাক দিয়ে ধোঁয়া বাতাসে ছড়াতে হয়, এমনকি ধোঁয়ার রিং বানানোর শিক্ষাও এই মোগলের কাছেই। চোখ মারা শিখেছি স্কুলের সহপাঠী সন্তোষ পোদ্দারের কাছে, আর শিষ দিয়ে গান তোলা তো ডালভাত। আমার বাপ মা তো  জানেই না তাদের বাজারপটু ছোট ছেলেটি ইতোমধ্যে কী পাকাটা পেকেছে, টিপ দিলেই টসটস করে রস পড়বে।

যে খবরটা জানানোর জন্যে আমার গুণপনার এত খবর পেশ করলাম, সেটাই এবারে বলি। সেই গুণের নাম বাজার থেকে পয়সা সরিয়ে সিনেমা দেখার মতো পয়সা জমলেই আমাকে আর পায় কে? সোজা শহরের দুই সিনেমা হলের একটিতে। এই কৃিতত্বপূর্ণ কাজের মধ্যেই আমার প্রেম মিশে হয়ে যায় নার্গিস, মধুবালা, সুরাইয়া, মীনাকুমারি, সুচিত্রা সেনদের সাথে, নিজেকেই মিশিয়ে ফেলি দিলীপকুমার, রাজকুমার, দেবানন্দ, উত্তমকুমারের সঙ্গে। এই সব নায়িকা-নায়কদের সুবাদেই আমার সিনেমার প্রতি গভীর প্রেম, এবং এদের কল্যাণেই সিনেমার মধ্যে জীবন কাটানো আমার প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

আর একটা, মাত্র আর একটা সাধ আহ্লাদের কথা দয়া করে বলতে দিন। বেশ কয়েকটা আশঙ্কার মধ্যে যেটি বাদ পড়েছে, সেটি হচ্ছে আমার খুব আগ্রহ ছিল বাস কন্ডাকটর হব। বাসে চড়ে দেশের এ-মাথা ও-মাথা চষে বেড়াব, দেখব, নয়ন জুড়িয়ে নিজের দেশের আদর গায়ে মাখব, এই সুযোগ কন্ডাকটর বা রেলওয়ের টিকেট চেকার না হলে কিভাবে মেটানো সম্ভব আমার মাথায় ঢোকে না। তক্কে তক্কে থাকি, সুযোগ পেলেই পালিয়ে  সূর্যের কাছে যেতে না পারি চাঁদের কাছে তো যাবই।

চাঁদে যে যাব সে ব্যাপারে চাঁদের সাথে কথাও হয় আমার। একবার নয়। তিন বার। তিন বারই আমার কথা হয় আমার তিন ছেলেকে কোলে নিয়ে, চাঁদের সাথে কথা হয়। বলি,

চাঁদ মামা, তুমি আসবে না আমরা যাব?

চাঁদ হেসে বলে,

এতদূরের পথ, তোমরা কি করে আসবে? আমিই বরং দেড় দুই মিনিটের মধ্যে তোমার কাছে পৌঁছে যাব।

আমি জানি। চাঁদ আমার কাছে ঘণ্টা দুই আড়াইয়ের নিচে আসতে পারবে না। কারণ, আমার সবচেয়ে প্রিয় পূর্ণিমার চাঁদ, সেই চাঁদ বড় হয়ে দেখেছি পুব আকাশের গোড়া থেকে কেমন আভা ছড়িয়ে ছড়িয়ে আলো সারা আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই আলোর সঙ্গী মেঘ যদি না থাকে তাহলে গাছপালা দিগদিগন্ত প্রকৃতির স্তর কেমন ভাসিয়ে নিয়ে যায়, আমি কেমন করে যেন তার সাথে ভেসে যেতে থাকি। এই ভেসে যাওয়ার গল্প আমি তিন সন্তানকেই গল্প করে শুনেয়েছি, তিনজন একই প্রশ্ন করতো তারপর?

তারপর কোনও ফাঁকে চাঁদের আলোর মধ্যে রাক্ষস খোক্কস জিন পরীরা চলে আসত জানিনে, শুধু জানি ওরা না এলে গল্পের হাতপাগুলো খসে খসে খুলে যবে। আমি জানিনে আমার তিন পুত্র কখন ঘুমিয়ে যায়, কখন আমি আর চোখ খোলা রাখতে পারিনে।

আমার তিন পুত্র প্রত্যেকেই দেড় বছরের ছোট বড়। আমি বুঝতেই পারলাম না ওরা একে আরেক মাথা ছড়িয়ে লম্বা হলো, হৃষ্টপুষ্ট হলো, সবচেয়ে বড় মজার ব্যাপার হচ্ছে একসময় দেখা যায় তিনজনই সমান উচ্চতার, কণ্ঠস্বরও একই রকম। তিন ভাই যখন একসাথে হাঁটে তখন লোকে বলে ওই দ্যাখ দ্যাখ, তিনভাই এক ভাই হয়ে যায়। আমি বাপ, আমিও চোখ ফেরাতে পারিনে। এত সুন্দর ওরা? আর সে জন্যেই কি তিনভাই একই স্থানে, একই প্রহরে, একই সঙ্গে জীবন দিলো? আমি বিশ্বাস করতে পারিনে একাত্তরে মাধপুরের যুদ্ধে দলের সাতান্নজন মুক্তিবাহিনীর মধ্যে চুয়ান্নজনই বেঁচে রইলো, আর দেশের মাটিকে আঁকড়ে ধরে আমারই তিনপুত্র একসঙ্গে পড়ে গেল, আর উঠল না? খবরটা যখন আমার কানে আসে, তখন আমি অপ্রকৃতিস্থ বা স্বাভাবিক মানুষ বলতে পারব না, তবে খবরের সত্যতা যাচাই করার জন্যে তীরের বেগে ছুটতে মাধপুর গিয়ে দেখি, হ্যাঁ, খবর সত্য, আমার তিনপুত্র একদেহ হয়ে প্রকৃতি দেখতে দেখতে ঘুমাচ্ছে, ঘুমের মধ্যেই যেন একজন আরেকজনকে বলছে, দ্যাখ দ্যাখ, বাবা এসেছে।

বড় ছেলে শুধু জানতে চায়,

বাবা তুমি এত হাঁপাচ্ছ কেন?

দেখতে এলাম, খবর সত্যি কিনা।

খবর একশো’ভাগ সত্যি। বাবা, আমরা যে নেই, মা জানে?

হ্যাঁ।

মা কি খুব কান্নাকাটি করছে?

না।

মনে হলো তিনভাই-ই একসঙ্গে অবাক হলো। মেজো ছেলে শান্ত গলায় শুধু জানতে চায়,

মা কি গর্বিত?

আমি অবাক মানি। বলি,

তোর মা শুধু হাত তুলে বলল ওরা দেশের মাটিতেই মিশে থাকবে।

কথা শুনে আমার চমকানোর কথা থাকলেও কোনো প্রতিক্রিয়াই আমি দেখাইনি। দেখালে ছেলেদের কি প্রতিক্রিয়া হয় না হয় বুঝে উঠতে প্রহরের পর প্রহর চলে যায়, আমি স্বাভাবিকভাবেই তিন ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার ছেলেরা এত সুন্দর? এত সুপুরুষ এরা? বেঁচে থাকলে আমার ছেলে তিনটির পেছনে কত মেয়েই ঘুরঘুর করত, দেখা পাওয়ার অপেক্ষা করত, একটু সঙ্গ পাওয়ার জন্যে আকুলিবিকুলি করত। কিন্তু কিছুই পেলো না ওরা। না পাক, স্বাধীনতা যে পেয়েছে এটাই বড় প্রাপ্তি।

আমার তিন ছিলে একসঙ্গে দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছে এই খবর শুধু আমার শহরেই নয়, গ্রাম-গ্রামান্তর ছাড়িয়ে আকাশবাণী বিবিসি ভোয়া’র মাধ্যমে যখন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে তখন আমি ওদের সামনে বসেই দেখতে পাই আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে, শুনতে পাই পাখিরা নেচে নেচে উড়ছে, গাছের পাতারা দুলে দুলে নৃত্য করছে, মেঘেরা ক্ষণে ক্ষণে রং বদলে মহাশূন্যকে বৈচিত্র্যময় করে তুলছে। শুধু অবিকৃত এই দেশের বেতার কেন্দ্র থেকেই বলছে তিনজন দুর্ধর্ষ দুষ্কৃতিকারী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। একদিকে বলছে দুর্ধর্ষ, অপরদিকে বলছে দেশপ্রেমিক শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারিনে।

এই অবস্থায় ছোট ছেলেটা বলে,

বাবা আমরা মার কাছে যাবো। যাবি নিশ্চয়ই যাবি। তোর মা তো তোদের অপেক্ষাতেই পথ চেয়ে আছে। চল।

চল বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনজন এক হয়ে আমার হাতে উঠে পাশাপাশি শুয়ে ঘুমিয়ে গেল। আমি মাধপুর থেকে বাড়িপর্যন্ত সারারাস্তা ওদের আদর করে চুমু খেতে খেতে বাড়ি এনে বৌকে আনন্দে চিৎকার করে ডেকে বলি,

দ্যাখো দ্যাখো কাদের এনেছি।

বৌয়ের ছুটে আসা দেখে মনে হয় সে যেন এইরকম একটা সংবাদের জন্যেই অপেক্ষা করছিল। আমি তিন পুত্রকে ঘুমন্ত অবস্থায়ই তার হাতে তুলে দিলে সে পাগলের মতো তাদের চুমু খেতে খেতে, আদর করতে করতে মেঝের মাদুরের ওপরেই শুইয়ে দিয়ে বলে,

ওরা মেঝেতে মাদুরে এভাবে ঘুমাতেই ভালোবাসত না?

আমি মাথা নেড়ে সায় দিলে, ওদের মা আবার বলে,

কতদিন ওরা এভাবে শুয়ে থাকবে? ওদের পিঠ ব্যথা হয়ে যাবে না?

মুহূর্তেই আমার মাথায় চিন্তাটা খেলে যায়। কথা তো সত্যি। ওরা মেঝেতে মাদুরে ঘুমিয়েছে শখে, আলস্যে, অল্প সময়ের জন্যে।

আমি বলি,

তাহলে কিভাবে শেয়াবে?

মাটির বিছানায়। কেন মনে নেই ওরা ছোটবেলায় মাটিতে কি রকম গড়াগড়ি করত, পিছল খেয়ে পড়ে হাসত?

আমি চোখ বুঁজেই ওদের শিশুবেলা, ছোট কালটা দেখতে পাই। কী দুরন্ত, কী খলবলে, কী ছোটাছুটি, মনে হতো বাড়ি মাথায় তুলে এখনই রাস্তায় ফেলে দেবে না হয় সব তছনছ করে ফেলবে। আমার বৌ তো এই দস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে বলে,

আমি মরলে তবে আমার হাড়মাস জুড়োয়।

আমিও হেসে বলি,

শুধু তো বলোই। কাজটা করে দেখাও না কেন?

বৌ তখন আরও রাগে।

তুমি তো তাই চাও। আমি না থাকলেই তুমি আরেকটা আনতে পারো।

বালাই ষাট। আমি তো আনব তোমার সেবা করার জন্যে।

এই নির্দোষ রসিকতাও মাঝে মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে গেলেই আমি আত্মসমর্থন করি।

এগুলো নাকি সংসারেরই নিয়ম। ঘরসংসার সহায়-সম্পদ বেদনা নিয়ে থাকতে থাকতে আমাদের জীবনের সব আনন্দই হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়, আমার তিন ছেলেই পাশাপাশি শুয়ে এক গলায় বলে।

বাবা, আমরা তো মারা যাইনি।

বৌ ও আমি দুজনেই হেসে বলি,

সে তো জানিই।

জানাটা এক সময় সত্যিই সত্যি হয়ে যায়। দেখি  একদল লোক চেন দিয়ে জামি মাপতে মাপতে আমার বসত বাড়ির সীমানাও পার হলো, আমাদের তিন ছেলের চিরকালের বসতবাড়ি পার হয়ে আরও হাত দশেক সামনে এসে থামে। বলে,

এই পর্যন্ত জমি আজমত আলী সাহেবের।

মানে?

দলিল তাই বলে।

চিৎকার করে বলি,

আমার বাপের দাদার আমল থেকে এই জমি আমাদের। আমার বাপ, তার বাপ, তার বাপ, সব এখানে শুয়ে। এখন বললেই হলো?

আমাদের কাছে কাগজ আছে। অমন দেশপ্রেমিকের জমি তোমরা দখল করে রয়েছো।

ঠিক তখনই তিন ছেলে বিশাল কবরস্থান কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলে,

বাবা ওরা ওই কাগজ করেছে একাত্তরে। আমরা দেখেছি। বাবা, তুমি শুধু একটা লাঠি এনে পাহারায় থাকো। আমরা উঠছি।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares