মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস : গোরখোদক : ইমদাদুল হক মিলন

মু ক্তি যু দ্ধ ভি ত্তি ক  ধা রা বা হি ক  উ প ন্যা স

গোরখোদক

ইমদাদুল হক মিলন

[ এ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৭১। দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এক যোদ্ধা এসেছেন তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে দেখেন সেদিনই তাঁদের বাড়ি আক্রমণ করেছে পাকিস্তানিরা। তাঁর স্ত্রীকে বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করা হয়েছে। স্ত্রী এবং তাঁর গর্ভের সন্তানের লাশ পড়ে আছে বাড়ির উঠোনে। উঠোনে স্ত্রী এবং অপরিণত সন্তানের লাশ দাফনের জন্য কবর খুঁড়ছেন সেই মুক্তিযোদ্ধা। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে স্ত্রীর সঙ্গে ফেলে আশা জীবনের কথা বলছেন। দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়ানো জীবনের সব স্বপ্নের কথা বলছেন। ধীরে ধীরে ভোর হচ্ছে… ]

 

[স্ত্রী কিংবা প্রেমিকার সঙ্গে]

কতদিন পর তোমাকে এভাবে পাঁজাকোলে নিলাম, মায়া? কতদিন পর?

‘পাঁজাকোল’ শব্দটা বিক্রমপুর অঞ্চলে হচ্ছে ‘পাথালিকোল’। শেষ কবে আমি তোমাকে পাথালিকোলে নিয়েছিলাম, আমার কিন্তু মনে আছে।

তোমার মনে আছে?

যাহ্, তোমাকে আর সেকথা জিজ্ঞেস করে কী লাভ! তুমি কি আর আমার প্রশ্নর উত্তর দিতে পারবে! তুমি তো এখন সবকিছুর ঊর্ধ্বে! প্রশ্ন উত্তর, রাগ অভিমান, ভালোবাসা ভালো লাগা, এখন তুমি সবকিছুর ঊর্ধ্বে, মায়া। আমার সন্তান গর্ভে নিয়ে, আমার ছেলে গর্ভে নিয়ে তুমি, তুমি চলে গেছ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। মানুষের মতো দেখতে কিন্তু মানুষ না, পাকিস্তানি… গুলো তোমাকে আর তোমার গর্ভে থাকা আমার ছেলেটিকে…

আচ্ছা, ওরা যখন তোমাকে বেয়নেট চার্য করছিল, তার আগে আমার বাবা মাকে মেরে ফেলেছে নিশ্চয়। বকুল আর তোমার ঘরে বোধহয় একই সময়ে ঢুকেছিল, না? বকুল ঘুমিয়ে ছিল। আহা, আমার বোনটি। ঘুমন্ত অবস্থায়ই তার ওপর চালিয়েছিল…

গুলি আর বুটের শব্দে তুমি ছুটে বেরিয়েছিলে! বুঝে গিয়েছিলে কী হচ্ছে বাড়িতে। বকুলের চিৎকার আর্তনাদও তোমার কানে গিয়েছিল। নিজেকে বাঁচাতে, আমার ছেলেকে বাঁচাতে তুমি বাড়ির পেছন দিকটায় ছুটেছিলে। ওদিককার উঠানেই ওরা তোমাকে…

মায়া, আমি তোমাকে বুঝি। বহু বছর ধরে বুঝি। প্রথমে তুমি আমার খালাতো বোন, তারপর প্রেমিকা, তারপর স্ত্রী। তিনভাবে তোমাকে আমি দেখেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। অনেকখানি বুঝেছিও। গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে তুমি বিভোর হয়েছিলে তার স্বপ্নে। ছেলের স্বপ্ন দেখতে তুমি। আমার বাবার মতো, আমার মতো যেন হয় তোমার ছেলে, এই ছিল তোমার স্বপ্ন। আমি তোমার পাশে নেই, আমি তো গেছি মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে, আমি তো মেলাঘরে, আমি কাছে থাকলে আমার সঙ্গে ছেলে নিয়ে কথা বলতে তুমি। তোমার স্বপ্ন ভাগ করতে আমার সঙ্গে। আমি তোমার পেটে হাত বুলিয়ে দিতাম। তোমাকে না, সেই স্পর্শ পৌঁছে দিতাম আমার ছেলের শরীরে। মনে মনে বলতাম, আমার ছেলে, কেমন আছো তুমি?

বাবা বলে ডাকতাম, সোনা মানিক বলে ডাকতাম।

কখনও হয়তো তোমার পেটে কান চেপে ধরতাম। শোনার চেষ্টা করতাম, আমার পুত্রের হƒদয়ের শব্দ। হার্টবিট। যখন এসব হয়নি, আমি মুক্তিযুদ্ধে, তুমি স্বর্ণগ্রামে, আমাদের বাড়িতে, মা বাবা বকুল, বারেকের মা, পারুল কদম সবাই বাড়িতে, তারপরও তুমি একাকী বোধ করতে। আমি তোমাকে চিনি, আমাকে ছাড়া তুমি অবশ্যই একাকী বোধ করতে। আর এ রকম সময়ে, মেয়েদের মা হওয়ার সময়টায়, তারা চায় স্বামী পাশে থাকুক সব সময়। স্বামী যদি প্রেমিক হয়, তাহলে আরও বেশি করে চায় তার স্বামী কিংবা প্রেমিক সারাক্ষণ থাকুক তার সঙ্গে।

আমি নেই।

আমি তোমার কাছে নেই।

সবার মধ্যে থেকেও তুমি ছিলে একা।

একলা একা সময় তোমার কেমন করে কাটে, মায়া! রবীন্দ্রনাথের গান শুনে! বইপড়ে! আমার কথা ভেবে! বর্ষার সকাল দেখে! বৃষ্টি আর গাছের পাতা দেখে! জলে ভেসে যাওয়া মাঠ, মাঠ ভরে থাকা সবুজ ধান দেখে তোমার সময় কাটে! পাখির ডাক আর প্রজাপতির ওড়াউড়ি, বর্ষার ফুল, তুমুল বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া বাগানের দিকে তাকিয়ে তোমার সময় কাটে! বাঁশঝাড়ের দিকটায় তুমি তাকাও!

জানি, এসবই তুমি করতে। কিন্তু সবচাইতে বেশি করতে যে কাজ, তা হচ্ছে আমার কথা ভাবা। তোমাকে ছেড়ে কোথায় কোন সুদূরে পড়ে আছি আমি! খাচ্ছি কিনা, ঘুমাচ্ছি কিনা এই ভাবনায় ডুবে থাকতে। আমার ভাবনা ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তে একসময় হাত বুলাতে তোমার পেটে। তোমার ছেলের  সঙ্গে, আমার ছেলের সঙ্গে মনে মনে কথা বলতে। আমার ভালোবাসার কথা। স্বাধীন বাংলাদেশ হবে, সেই স্বপ্নের কথা…

তোমাকে ছুটে বেরোতে দেখে ছুটে এসেছিল বুট পরা, হাতে উদ্যত রাইফেল, রাইফেলের মুখের পাশে বেয়নেট ওই… দল। সঙ্গে ছিল আমাদের দেশীয়… গুলো।

পেছন দিককার ওই আঙিনায় ওরা যখন তোমাকে বেয়নেট চার্য করছে, মায়া, আমি জানি, তখন তুমি আর তোমার কথা ভাবোনি। তখন তুমি আর তোমাকে বাঁচাতে চাওনি। চেয়েছিলে আমার ছেলেকে বাঁচাতে। দুহাতে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলে গর্ভ। গর্ভের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা আমার ছেলে, তাকে তুমি বাঁচাতে চেয়েছিলে। নিজে মরে গিয়েও চেয়েছিলে বেঁচে থাকুক তোমার গর্ভের সন্তান। পৃথিবীর সব মা তাই চান। কিন্তু, কিন্তু মা না বাঁচলে তার গর্ভের সন্তান যে বাঁচে না, মায়া! বাঁচলেও কতক্ষণ বাঁচে! আর ওরকম বেয়নেট চার্য, রক্ত, ল-ভ- শরীর…

মা না বাঁচলে ওই অবস্থায় তার গর্ভের সন্তান বাঁচে কেমন করে!

এই বাড়িতে ঢোকার পর থেকে, বাবা মাকে দেখে, বকুলকে দেখে, তোমাকে আর আমার পুষ্ট হয়ে আসা ছেলেকে দেখে আমি সম্পূর্ণ পাগল হয়ে গেছি, নাকি আধাপাগল, নাকি দিশাহারা, নাকি মানুষের মতো দেখতে পাথর, না যন্ত্র, না কি, আমি কিছুই জানি না। মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বেঁধেছি, উঠানে খুঁড়ে যাচ্ছি একের পর এক কবর। প্রথমে বাবা তারপর মা তারপর বকুল, তিনজনকে কবর দিয়ে ফেলেছি, নিয়ম মতোই করেছি সব। এখন পাঁজাকোলে করে, পাথালিকোলে করে তোমার আর আমার পুত্রের ল-ভ- শরীর নিয়ে যাচ্ছি সামনের উঠানে।

না না এক কবরে তোমাদের দুজনকে আমি কবর দেব না। পুত্রের জন্য খুঁড়ব ছোট্ট কবর। সে তো পূর্ণ হাতে শুরু করেছিল! তার নিজস্ব কবর হতেই হবে বাংলাদেশে। আমাদের এই বাড়ি, এই উঠান আসলে একখ- স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এক টুকরো জমি। স্বাধীন জমিতে তোমাদের আমি কবর দিচ্ছি। যে বাড়ির ছেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে সেই বাড়ি স্বাধীন বাড়ি। স্বাধীন বাংলাদেশের বাড়ি। স্বাধীন মাটি, স্বাধীন ভূমি।

এতদিন পর বিকেলবেলা বাড়ি ফিরে যে দৃশ্য আমি দেখলাম, উঠানে বাবার লাশ, বসার ঘরে পড়ে আছেন মা, বকুল তার বিছানায় ছিন্নভিন্ন। বিছানার চাদরে আমি তাকে ঢেকে দিয়েছিলাম। তারপর গেছি তোমার ঘরে, মানে আমাদের ঘরে। ঘরে তুমি নেই। ছুটে গেছি পেছন দিককার উঠানে। সেখানে পড়ে আছ তুমি। সকালবেলা ঘটেছে এই নারকীয় কা-। রক্ত-মাংসে ল-ভ- শরীর। তোমার গর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছে আমার প্রায় তৈরি হয়ে আসা পুত্রের শরীর। সেও ল-ভ-। বেয়নেটের পর বেয়নেট চার্য। ওই অবস্থায় ওইটুকু দেহ কি আর দেহ থাকে।

তবে…

তবে আমার সন্তানটির মুখটা অক্ষত। ফোলা ফোলা চোখ দুটো বন্ধ। যেন এখনও তার ঘুমই ভাঙেনি। বিকেলবেলার শেষ আলোয় কী অপূর্ব দেখাচ্ছিল তার ছোট্ট মুখখানি।

আর তুমি?

তুমি!

আমার মায়া।

তোমার মুখটাও আগের মতোই। মুখে কোনো আঘাত লাগেনি তোমার। সব গেছে তোমার গর্ভের ওপর দিয়ে। … গুলোর সব আক্রোশ যেন ছিল তোমার গর্ভে থাকা আমার সন্তানের ওপর। বেয়নেটের পর বেয়নেট চার্য।

চার্য!

চার্য!

তুমি তখন চিৎকার করেছো।

দুহাতে পেট চেপে সন্তান বাঁচাতে চেয়েছো।

নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছো!

আল্লাহর দোহাই দিয়েছো।

নিজেকে মেরে ফেলার কথা বলেছো, বাঁচিয়ে রাখতে বলেছো তোমার আমার সন্তানকে!

কী বোকা মেয়ে! ওই অবস্থায় মাকে মেরে ফেললে তার গর্ভের সন্তান কি বাঁচে!

তোমার কাকুতি মিনতি, অসহায় কান্না আর্তনাদে ওদের কী যায় আসে, বলো! ওরা তো মানুষ না। জন্তু, জন্তু। ওদের কোনো মানবিক বোধ নেই। হিংস্র জন্তুদের আবার মানবিক বোধ কি!

এক দেড়মাস পর যে মা প্রসব করবে তার প্রথম সন্তান, ওই অবস্থায় যে মাকে বেয়নেট চার্য করে তার গর্ভের সন্তান ল-ভ- করে, যার গর্ভ চিড়ে বের করে মাটিতে ফেলে রাখা হয় ওই ছোট্ট দেহের সবখানি, মায়ের লাশের পাশে, তার কোলের কাছে পড়ে থাকে অপুষ্ট সন্তান, রক্ত মাংসের গন্ধে যেখানে ছুটে আসে বুনোমাছি…

আমি যখন প্রথম তোমাকে দেখি, আমার পুত্রের মুখখানি দেখি, কোত্থেকে, কোন গাছপালার ফাঁক-ফোকড় দিয়ে সেই সময় তোমার আর আমার পুত্রের মুখের ওপর এসে পড়েছিল এক টুকুরো মোহন আলো! এই নৃশংস হত্যাকা-ের পরও, এই নারকীয় কিংবা পৈশাচিক কা-ের পরও সাত আসমানের ওপর বসে সেই চিরমহান সৃষ্টিকর্তা তার পবিত্র একটুখানি আলো পাঠিয়েছিলেন তোমাদের উদ্দেশে।

তোমার, মায়া, তোমার মিষ্টি মুখখানিতে পড়েছিল সেই আলো। আমার পুত্রের মুখখানিতে পড়েছিল।

কী যে পবিত্র লাগছিল তোমার মুখ।

কী যে পবিত্র লাগছিল আমার, কেন বারবার আমার আমার বলছি, আমাদের, তোমার আমার, আমাদের পুত্রের মুখ। চোখ দুটো ফোলা ফোলা। মুখ যেন একটুখানি হাসি হাসি। শেষ বিকেলের নরম আলোয় মাখা মুখখানি। আহা আমার ছেলে!

বজ্জাত মাছিগুলো কোত্থেকে এসে ওড়াউড়ি করছিল!

রক্তের গন্ধে মাতোয়ারা মাছি।

মাংসের গন্ধে মাতোয়ারা।

আমি হাত নেড়ে নেড়ে মাছি তাড়াচ্ছিলাম, মায়া, আমি হাত নেড়ে নেড়ে মাছি তাড়াচ্ছিলাম!

আমি তখন মানুষের মধ্যে নেই।

আমি তখন নিজের মধ্যে নেই।

যে মানুষের প্রতিটি প্রিয় মানুষের এই অবস্থা, সে মানুষ থাকে কী করে?

সে তো পাগল হয়ে যায়!

উন্মাদ!

উন্মাদ হয়ে যায়।

আমিও তাই হয়েছিলাম, আমিও তাই হয়ে আছি। নয়তো এই অবস্থায় কী করে একজন মানুষ বাড়ির উঠানে কবর খুঁড়তে শুরু করে? একে একে বাবা মা, বোনের লাশ রাখে কবরে!

আর এখন?

এখন?

এখন এই যে তোমাকে আর আমার, আমার, ওই দেখো, আবার বলছি আমার।

আমাদের।

তোমার আমার।

আমাদের। আমাদের পুত্রটিকে তোমার পরনের শাড়িতে জড়িয়ে প্যাঁচিয়ে পিছনের উঠান থেকে পাঁজাকোলে করে, পাথালিকোলে করে সামনের উঠানে নিয়ে এলাম। তিনটি কবর দেওয়ার কাজ শেষ। এখন তোমার কবর খুঁড়বো, তারপর পুত্রের কবর। আমার কাজ শেষ হবে। এই চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া রাত শেষ হওয়ার আগেই তোমাদের কবর দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। তারপর ফিরে যাব আমি। ফিরে যাব। যুদ্ধের ময়দানে ফিরে যাব।

আমি তো একরাতের জন্যই এসেছিলাম। কমান্ডারকে বলে, বাবা মাকে দেখতে, বোনটিকে দেখতে। তোমাকে দেখতে।

এ কেমন দেখা, মায়া?

এ কেমন দেখা?

আচ্ছা, খানিক আগে আমি যে বলছিলাম, সাত আসমানের ওপর বসা চিরমহান সৃষ্টিকর্তার কথা, তোমাদের মুখে যিনি পাঠিয়েছিলেন তাঁর একটুখানি পবিত্র আলো…

সৃষ্টিকর্তা তো এই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের সৃষ্টির মালিক। প্রতিটি  প্রাণ  তিনি সৃষ্টি করেছেন।  পাকিস্তানের ওই … গুলোকেও কি তিনিই সৃষ্টি করেছেন।

ওরা তো মানুষের মতোই দেখতে।

কাক কি অন্য কোনো কাককে এইভাবে মারে?

ইঁদুর কি মারে অন্য ইঁদুরকে? এ রকম নৃশংসভাবে?

বাঘ সিংহ, হাতি তিমি?

গ-ার, হাঙর?

কেউ কি তার মতো দেখতে কাউকে এভাবে হত্যা করে?

প্রাণীজগতের মধ্যে মানুষকেই তিনি শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। বোধবুদ্ধি ভালোবাসা, মানবিক গুণাবলি দিয়ে পাঠিয়েছেন। লোভ লালসা দিয়ে পাঠিয়েছেন। হিংসা ঈর্ষা দিয়ে পাঠিয়েছেন। মানুষ, তোমার ভেতরে সব আছে। আলো আছে, অন্ধকার আছে। তুমি কোনদিকে যাবে, এ তোমার বিবেচনা।

তুমি কি অন্ধকারের দিকে যাবে?

নাকি তুমি আলোর দিকে যাবে?

মানুষ হয়ে তুমি কি মানুষের কল্যাণ করবে?

নাকি হত্যা করবে মানুষ?

নাকি তুমি পশু হয়ে যাবে?

এ তোমার বিবেচনা।

তবে…

তবে…

বিচারদিন রয়ে গেছে!

হাসরের দিন রয়ে গেছে।

আমার কাছে তোমাদের ফিরতে হবে। আমার কাছে তোমাদের প্রতিটি কাজের আমলনামা হাজির করা হবে। আমলনামা ধরে ধরে আমি তোমাদের প্রতিটি কর্মের হিসাব নেবো। পাপকর্মের জন্য তোমাদের জন্য আমি তৈরি রেখেছি জাহান্নামের আগুন। মানুষ হয়ে যেমন করে তুমি আমার মানুষকে হত্যা করেছ, তার চেয়ে হাজার লক্ষ কোটিগুণ যন্ত্রণা দিয়ে জাহান্নামের আগুনে তোমাকে আমি পোড়াতে থাকব, পোড়াতে থাকব, পোড়াতে থাকব…

পাকিস্তানি… গুলো কি মহান আল্লাহপাকের কথা কখনও ভেবেছে!

যদি ভাবত তাহলে কি এইভাবে মানুষ হত্যা করতে পারত?

ওরা যখন এক গর্ভবতী অসহায় মায়ের গর্ভে বেয়োনেট চার্য করছিল, তখন নিশ্চয় আল্লাহর আরশ কেঁপে কেঁপে উঠছিল। ওরা একবার চার্য করে, আল্লাহপাকের আরশে কাঁপন লাগে। ওরা আবার চার্য করে, আবার কাঁপন লাগে মহান আল্লাহতায়ালার আরশে! আবার, আবার…

তোমাকে একটা ঘটনার কথা বলি।

২৫শে মার্চ  ছিল বৃহস্পতিবার। জগন্নাথ হলের ছাত্র দারোয়ান সুইপার অন্যান্য লোকজন যাকে পেয়েছে তাকেই ওরা মেরেছে। সরাসরি গুলি। লাইন করিয়ে গুলি। জগন্নাথ হলের বিশাল মাঠ ঢাকা ছিল সাদা কাপড়ে। সেই কাপড়ের তলায় শুধু লাশ আর লাশ। লুকিয়েচুরিয়ে যে দুচারজন জীবন বাঁচাতে পেরেছিল, পরদিন ভোরবেলা, আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে খুঁজে খুঁঁজে বের করা হলো। হলের দোতলা তিনতলায় যেসব ছড়ানো ছিটানো লাশ ছিল জীবিতদের দিয়ে সেইসব লাশ টানানো হলো। লাশ জড়ো করা হলো মাঠে। তারপর লাশ যারা টানাছিল তাদের সার ধরে দাঁড় করানো হলো। তাদের মধ্যে একটি ছেলে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র না। সে পড়ত জগন্নাথ কলেজে। বাড়ি কিশোরগঞ্জে। আগের দিন আরেক বন্ধুকে নিয়ে জগন্নাথ হলে এসে বন্ধুর রুমে উঠেছিল। মুসলমান ছেলে। লাশ টেনে টেনে ক্লান্ত বিপর্যস্ত ছেলেটিকে যখন অন্যদের সঙ্গে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে, সে বেশ জোরে জোরে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করছিল। আয়াতুল কুরসি পড়ছিল।

আল্লাহ-হু-লা-ইলা-হা-ইল্লা-হুওয়াল হাইয়্যূল

কাইয়ূ্যূম লা-তা’ খুযুহূ সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম…

সেই ছেলেটিকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করল ওরা। লাশের স্তূপে পড়ল আরেকটি লাশ।

মায়া, তোমাকে আমি শেষ কবে পাঁজাকোলে নিয়েছিলাম, মনে আছে?

আমার মনে আছে।

আমার পরিষ্কার মনে আছে।

এই তো এ বছরই। জানুয়ারি মাস।

না না, এই বাড়িতে না। স্বর্ণগ্রামের বাড়িতে না। আমি তোমাকে কোলে নিলাম ঢাকায়। গে-ারিয়ার দীননাথ সেন রোডের বাড়িতে। মানে তোমাদের বাড়িতে।

‘তোমাদের বাড়ি’ কথাটা শুনলে খালা, মানে আমার শাশুড়ি সব সময় বলে, আমাদের বাড়ি বলছিস কেন? এ তো তোদেরও বাড়ি! তোর মাও তো এই বাড়ির অর্ধেকের মালিক!

কিন্তু আমরা তা মনে করতাম না। মা তাঁর অংশ তাঁর বোনকে দিয়ে দিয়েছেন। বাড়িটা তোমাদের।

আমার হয়েছে কি জানো, মায়া। মাথাটা ঠিক নেই তো। এককথা থেকে চলে যাচ্ছি আরেক কথায়। এক প্রসঙ্গে শেষ না হতেই চলে যাচ্ছি আরেক প্রসঙ্গে। এক ঘটনার ভিতর ঢুকে যাচ্ছে আরেক ঘটনা।

এলোমেলো।

সব এলোমেলো।

এই যে এতবার পাঁজাকোলে নেওয়ার কথা বলছি, বলতে বলতে মনে পড়ল এক ভয়ংকর ঘটনা। ৩৩৮ জন মানুষের মৃত্যুর কথা। সে এক ভয়াবহ গণহত্যা। হত্যাকা-টা ঘটল ট্রেনের ভিতর। ট্রেনের কামরায়। রেল কামরায়।

এপ্রিল মাসের কথা।

না না ভুল হলো। জুন মাসের কথা। ১৩ জুন। স্থান, সৈয়দপুর রেল স্টেশান।

সব খবর আমরা পাই, বুঝলে। মেলাঘরে বসে প্রতিদিন দেশের কোথায় কী ঘটছে আমরা সে খবর পেয়ে যাই। প্রতিটি হত্যাকা-ের কথা, পাকিস্তানি… দের নৃশংসতার প্রতিটি খবর আমাদের কানে আসে। আর আমরা তৈরি হই, আমাদের রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে। ইচ্ছে করে এক্ষুনি গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি… গুলোর ওপর। একটা একটা করে খতম করি…দের। সঙ্গে যে এদেশের চাকর-বাকরগুলো আছে, পাকিস্তানি…দের পা চাটা ওই জিনিসগুলো আছে, রাজাকার আলবদর ইত্যাদি ইত্যাদি, ওগুলোও ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করি।

কিন্তু আমাদের প্ল্যান অন্যরকম। সামনাসামনি যুদ্ধও আমরা করব ওগুলোর সঙ্গে। কিন্তু মূলযুদ্ধ হবে গেরিলা কায়দায়। আমরা নানান ছদ্মবেশে দেশে ঢুকছি। প্রতিদিনই ঢুকছি। ঢাকায় তো ঢুকছিই, দেশের প্রতিটি শহরে ঢুকছি, প্রতিটি অঞ্চলে ঢুকছি। যেখানে যেখানে ওরা আছে সেখানে সেখানেই ঢুকছি। আমাদের মাথায় পরিকল্পনাগুলো নিখুঁতভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফ। যুদ্ধ শেখাচ্ছেন মেজর হায়দার। আমরা একেকজন গেরিলা যোদ্ধা চে গুয়েভারা হয়ে দেশে ঢুকছি। একটা করে সাকসেসফুল অপারেসান। একটা করে পাকিস্তানি খতম। ধীরে ধীরে কোণঠাসা করছি ওদের। খতম করছি।

জয় বাংলা।

জয় বাংলা।

চাঁদ দেখো মায়া। চাঁদ দেখো। এ রকম দুঃখ বেদনা আর দিশাহারা রাতেও চাঁদ ঠিক তার নিয়মে আকাশ থেকে আকাশে যাচ্ছে। পুব আকাশ থেকে শুরু করে হাঁটি হাঁটি পা পা, এক আকাশ থেকে চাঁদ যাচ্ছে আরেক আকাশে। এখন মধ্য আকাশ ছাড়িয়ে ধীর পায়ে চলেছে পশ্চিমে। পশ্চিম আকাশে যাত্রা করেছে চাঁদ। প্রখর আলো একটুও ম্লান হয়নি। আগস্ট মাসের আকাশ, বর্ষাকাল, ভরা বর্ষা, তবু আজ মেঘ নেই আকাশে। এক টুকরো মেঘ নেই। কী স্বচ্ছ নির্মল আকাশ। নীল সাদায় মেশানো আকাশ। সেই আকাশে ধীর ভ্রমণে নেমেছে চাঁদ। ভরা চাঁদ। পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের আলোয়, মধ্যরাত শেষ হয়ে আসা জ্যোৎস্নায় এক বাঙালি যোদ্ধা বাড়ির উঠানে খুঁড়ছে স্ত্রী কিংবা প্রেমিকার কবর। তাকে শোয়াবে কবরে। তারপর খুঁড়বে পৃথিবীর আলো হাওয়া না দেখা সন্তানের কবর। তাকে কবরে শুইয়ে দেওয়ার পর শেষ হবে তার কাজ। বাবা-মা বোনের কবর তো আগেই খোঁড়া হয়ে গেছে। তাদের লাশ নামানো হয়েছে কবরে। তিনজনের কাজ শেষ।

এ কি কাজ, না যুুদ্ধ?

যুদ্ধও তো কাজই।

দেশ স্বাধীন করার কাজ।

দেশ শত্রুমুক্ত করার কাজ।

মায়া, যেভাবে তোমাদেরকে ওরা হত্যা করেছে ঠিক সেইভাবে ওদের প্রতিটিকে আমরা হত্যা করব। ওদের প্রতিটির কবর খুঁড়ব।

না না, বাংলার পবিত্র মাটিতে ওদের কবর হবে না। ওদের মেরে শেয়াল কুকুর দিয়ে খাওয়াব।

জয় বাংলা।

জয় বাংলা।

মায়া, দেখো কী রকম এলোমেলো আমি! কী রকম দিশাহারা! প্রবল ক্লান্তিও কি কাজ করছে আমার ভিতর!

করার কথা।

কত কষ্ট করে শেষ বিকেলে বাড়িতে এসে ঢুকেছিলাম। জেলে নৌকায় ফতুল্লার ওদিক থেকে আমাদের এলাকায়। এলাকার এক গৃহস্থলোক তার নৌকায় করে গ্রামের কাছাকাছি নামিয়ে দিয়েছে। তারপর বর্ষার পানি ভেঙে, ক্লান্ত বিপর্যস্ত শরীরে বাড়ির ওই তেঁতুলতলার ওদিক দিয়ে যখন উঠেছি তখন শরীর আর চলছিল না। চিৎ হয়ে, মরার মতো পড়েছিলাম ঝোঁপঝাড়ের তলায়।

তারপর…

তারপর এলাম উঠানে।

তারপর একে একে দেখা হলো বাবা-মাকে, বকুলকে তোমাকে। কোন প্রলয় ঘটে গেছে বাড়িতে…।

আমি পাগল হয়ে গেলাম।

পাগল!

বদ্ধ পাগল।

বদ্ধ উন্মাদ।

এ রকম দৃশ্য সইতে পারে কোন মানুষ!

এও তো এক ২৫শে মার্চ। এও তো এক কালোরাত্রি!

না না, কালোদিন।

কালোদিন।

না না, কালোরাত।

কালোরাত।

আমি যখন বাড়ি ঢুকেছি তখন ফুরিয়ে এসেছিল দিনের আলো। সন্ধ্যা নামছে। বর্ষাকালের সন্ধ্যা। পূর্ণিমা সন্ধ্যা বলে দিনের মতো স্পষ্ট চারদিক। তোমাদের দেখতে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না।

২৫ শে মার্চের রাতও ভোর হয়েছিল।

এই রাতও ভোর হবে।

এই তো আর দুতিন ঘণ্টা পরই ভোর হবে। আমার কাজও ততক্ষণে শেষ হয়ে আসবে…

কিন্তু মায়া, আমি আর পারছি না।

আমার শরীর আর চলছে না।

একে এ রকম ঘটনা, পুরো পরিবার ধ্বংস, সেই শোকতাপ, মাথা তালগোল পাকিয়ে যাওয়া অবস্থা, আরেকদিকে যোদ্ধার দায়িত্ব, আমি কোনদিকে যাই, মায়া!

বাবার লাশ দেখে আমি কাঁদতে পারি না।

মায়ের লাশ দেখে কাঁদতে পারি না।

বোনের শরীরের ওপর দিয়ে ওরকম ঘটনা ঘটে যাওয়া, তার করুণ কাতর মৃতমুখ…

আমি কাঁদতে পারি না, মায়া। আমি কাঁদতে পারি না। আমি কাঁদতে ভুলে গেছি। শোক করতে ভুলে গেছি।

তারপর তুমি!

তারপর আমার সন্তান।

আমি কাঁদতে পারি না, মায়া।

আমার চোখে পানি নেই।

যোদ্ধার চোখে পানি আসতে নেই।

কিন্তু যোদ্ধাও তো মানুষ! যোদ্ধাই আসলে পরিপূর্ণ মানুষ। এ কথা শিখিয়েছিলেন বাবা।

আমি তারপর যোদ্ধা হয়ে গেলাম। সব হারাবার পরও যোদ্ধার দায়িত্ব নিলাম। গোয়ালঘরের ওদিক থেকে খুঁজে আনলাম কোদাল। উঠানে খুঁড়তে শুরু করলাম কবর।

বাবার কবর।

মায়ের কবর।

বোনের কবর।

এখন স্ত্রীর কবর।

তারপর…

আমি আর পারি না, মায়া। আমার শরীর চলে না। আমার ইচ্ছে করে এই যে তোমার আর আমার পুত্রের লাশ এনে রাখলাম উঠানে, তোমাদের পাশে আমি একটু বসি। আমি একটু জিরিয়ে নিই। আমি একটু তোমার সঙ্গে কথা বলি। আমি একটু তোমার কোলে মাথা রাখি।

কোলে মাথা রাখলে তুমি যেভাবে আমার বুকে হাত বুলাতে, মাথায় হাত বুলাতে, মায়া, তুমি আমাকে একটু সেই ভাবে আদর করো। তোমার আদরে স্পর্শে, ভালোবাসার নরম আঙুলে কাটিয়ে দাও আমার সব ক্লান্তি। আমাকে আবার সবল করো, সতেজ করো। খানিকপর তাহলে আমি আবার শুরু করতে পারি আমার যুদ্ধ।

কবর খোঁড়ার যুদ্ধ।

গোড়খোদকের কাজ।

ওদের বুট আর গুলির শব্দে স্তব্ধ হয়েছিল প্রকৃতি। সব পাখি উড়ে গিয়েছিল অচিন গাঁয়ে, নিরাপদ গাঁয়ে। ডাকতে ভুলে গিয়েছিল পাখিরা। বাড়ি এসে আমি কোনো পাখির ডাক শুনিনি।

আমি কি পোকামাকড় ঝিঁঝিদের ডাক শুনেছিলাম?

শুনিনি।

তারাও স্তব্ধ হয়েছিল।

তারাও থেমে গিয়েছিল ঘাসবন বা ঝোঁপের অন্ধকারে।

নৈঃশব্দ্য।

চরম নৈঃশব্দ্য।

চূড়ান্ত নৈঃশব্দ্য।

বল্টুটা কোথায় গেল? বল্টু বিড়ালটা?

বাড়ি পাহারা দেওয়া এতদিনকার কুকুরটা?

কদম, বারেকের মা, পারুল?

গরুগুলো তো নিশ্চয় এই দেশীয়…গুলো নিয়ে গেছে। বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি হয়ে গেছে মৃত্যুপুরি। কবরখানা।

মায়া, এই যে দেখো আমি ঠিকই তোমার পাশে বসেছি। আমার পুত্রের পাশে বসেছি। আমার ডানপাশে তিনটি কবর। বাঁ পাশে তোমার কবর এখনও পুরোপুরি খোঁড়া হয়নি। কিছুটা হয়েছে। এসো কাজের ফাঁকে গল্প করি আমরা। একটু ভালোবাসার কথা বলি। একটুখানি প্রেম করি তোমার সঙ্গে।

সকালবেলা ঘটে যাওয়া ঘটনা, মায়া। প্রখর রোদের দিন ছিল। তোমাদের শরীর পচতে শুরু করেছে। কিন্তু কী আশ্চর্য আমি কোনো গন্ধ পাচ্ছি না। রক্ত-মাংসের গন্ধ আমি পাচ্ছি না। আমি পাচ্ছি সুবাস। সুঘ্রাণ। প্রেমিকার দেহের ঘ্রাণ, স্ত্রীর দেহের সুগন্ধ। পুত্রের কোমল মায়াবী শিশুগন্ধ।

আহ, এরচে’ পবিত্র গন্ধ আর কী হতে পারে!

ভালোবাসার গন্ধই তো পবিত্রতম গন্ধ।

এখন ডাকছে ঝিঁঝিরা। ঝোঁপঝাড়ের আড়ালে গলা খুলেছে কীটপতঙ্গ। চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে খোলা উঠান। বাঁশঝাড় আর গাছপালায় মৃদু একটু হাওয়া আছে। সেই হাওয়ায় নড়াচড়া করছে তলার ছায়া।

অদ্ভুত এক নীরবতা!

অদ্ভুত!

বাড়ির চারপাশে বর্ষার জল। কত মাছ শ্বাস ফেলতে ওঠে। কত মাছ ঘাই দিয়ে যায়। শেষ বিকেল থেকে এই এতটা রাত পর্যন্ত একটা মাছও বুঝি শ্বাস ফেলতে ওঠেনি! একটা মাছও ঘাই দেয়নি। ওদের নিষ্ঠুরতায় পানির তলার মাছও বুঝি স্তব্ধ হয়ে গেছে। দমবন্ধ করে পড়ে আছে পানির তলায়।

আমাদের কবুতরগুলো কোথায় গেল?

গ্রাম-পাখিদের সঙ্গে ওরাও কি চলে গেছে অচিন নিরাপদ গাঁয়ে!

মায়া, এই যে দেখো আমি তোমার গালে হাত বুলাচ্ছি। একহাত তোমার গালে আরেক হাত আমার পুত্রের গালে!

আহ, কী যে ভালো লাগছে!

কী যে ভালো!

ও যেকথা বলতে চাইলাম। তোমাকে পাথালিকোলে মানে পাঁজাকোলে নেওয়ার কথা। জানুয়ারি মাস…

না তার আগে সেই নৃশংস ঘটনার কথা বলি। ১৩ জুন। সৈয়দপুর রেল স্টেশান। ১৩ সংখ্যাটা কি সত্যি অশুভ? নয়তো ওই তারিখেই কেন ঘটেছিল পৃথিবীর নৃশংসতম এই ঘটনা?

[চলবে]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares