কবিতা

রুবী রহমান

বজ্রকণ্ঠে তোমার ভাষণ

বজ্রকণ্ঠে দিয়েছো ভাষণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর

তোমার বাঙালি যুদ্ধে তো গেছে, জয়ও এসেছে শুনে সে ভাষণ।

বিশ^সভায় লড়াকু বাঙালি পেয়েছে আজকে যোগ্য আসন

হৃদয়ের মণি কুঠুরিতে আছে তোমার বার্তা অবিনশ^র!

 

মুক্তিযুদ্ধে ভেঙেছে রাস্তা ব্রিজ কারখানা নদী-বন্দর

রক্তে ভেসেছে হাজারো মানুষ। ভেঙে খান খান হয়েছে হৃদয়।

রাস্তাঘাটের ফিরেছে চেহারা, আজকে দেশের সবখানে জয়;

ভাঙা মনগুলো লাগেনিতো জোড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর!

 

এই ভাঙা মনে শুশ্রƒষা দেবে, তোমার মতন স্নেহে ভাস্বর

কে রয়েছে আজ? তরুণ মনকে ফেরাবে আবার বইয়ের পাতায়।

অস্ত্রের মোহ ভুলে চাষি হয়ে প্রাণভরে সে যে মাটির মায়ায়।

তরুণ হৃদয়ে কে দেখাবে পথ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর!

 

তোমার গভীর ক্ষমা ভালোবাসা স্নেহ-মমতার গাঢ় স্বাক্ষর

সম্বল করে, তরুণ দলকে ধাপ্পা না দিয়ে, বুকে টেনে নিয়ে

তরুণের হাতে দেশমাতৃকা তুলে দিতে হবে স্বপ্ন শানিয়ে।

তোমার ভাষণ মনপ্রাণ দিয়ে বুঝে নিতে হবে শেখ মুজিবর!

 

মাকিদ হায়দার

অনুতাপের বিষয়

[কবি মোশাররফ হোসেন ভুঞা প্রীতিভাজেনেষু]

 

অনুতাপের বিষয় হইলো তিনি আমাকে বলিয়াছিলেন

ভেবো না, পিতামাতা আমার

কথা রাখবেন

অনুতাপের বিষয় হইলো তাহার পিতামাতা

ভীষণ চালাক

এবং চতুর।

তাহারা উভয়েই তাহাদের মেয়েটিকে সারাদিনই

রাখিতেন চোখে চোখে

কেননা মেয়েটি

কবি হইবার জন্য যত্রতত্র দৌড়দৌড়ি করিয়া বেড়াইতেন

এ-পাড়ায় সে-পড়ায়।

যদি কখনও শুনিতে পাইতেন

কবি আসিয়াছে

ফরিদপুরে অথবা আরিচাঘাটে

তখুনি তিনি

তাহার হাতের বইখাতা ফেলিয়া দিয়া

ছুটিয়া যাইতেন

পাবনায়, বগুড়ায়।

মেয়েটির ইচ্ছা হইয়াছিলো তিনি একদিন

পৃথিবী বিখ্যাত

কবি হইবেন,

যেন এক নামে সকলেই চেনেন তাহাকে

ময়না বেগম

নামকরা কবি।

অনুতাপের বিষয় হইলো তাহার পিতা

একসময় গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন

কর্তাব্যক্তি হইবার সুবাদে, তাহার

নিজ কন্যাটির মুখের দিকে চাহিলেই

তিনি বুঝিতে পারিতেন তাহার

আদরিণী

‘প্রেম নামক’ এক গর্তে পড়িয়া

হাবুডুবু খাইতেছে।

নিজ কন্যাটিকে সেই প্রেম নামক

গর্ত হইতে উদ্ধার করিবার জন্য

পিতামাতা

একদিন মধ্যরাত্রে

যাবতীয় শলা-পরামর্শ শেষ করিয়া

পিতা নাকি রোষে, ক্ষোভে, বলিয়াছিলেন,

বিশ^স্তসূত্রে জানতে পেরেছি অনেক গোপন

খবরাখবর,

মেয়েটিকে যতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে পারি

ততটাই আমাদের মঙ্গল।

দেরি করা মোটেও সমীচীন নয়, এদিকে

ময়নার বয়স এখন

সাতাশ, আটাশ।

তাহার পিতামাতা আরও নাকি শুনিয়াছিলেন

ময়না বেগম

আজকাল কোনো এক বদমাইশ কবির ইশারায়

প্রেম-গর্তে

নিমজ্জিত হইতে চলিয়াছে, তাহা যেন কখনওই

হইতে না পারে, সেই লক্ষ্যে কন্যাটিকে পাত্রস্থ

করিতে হইবে অচিরেই।

শেষমেশ করিলেন তাহা

আমার অনুতাপের বিষয় হইল,

ময়নার

পিতামাতা,

বহুপূর্বেই

এ¯্রাজ বাদক

ইকবাল মতিন নামক এক হারামজাদাকে

তাহাদের বাড়ির জামাই বানাইবেন বলিয়া

স্থির করিয়া রাখিয়াছিলেন

এমনকি গোপনে গোপনে

ময়না বেগমের জন্য সিরাজ জুয়েলার্স হইতে

নিরানব্বই ভরির সীতাহার,

উনিশ ভরির কানপাশা

তেরো ভরির হাতের একজোড়া বালা

এবং কপালের টিকলিসহ,

দুই পায়ের, গোড়ালিতে সাঁঝের বেলা

পরিধান করিবার জন্য

এক জোড়া

নূপুর বানাইয়া আলমারিতে গোপনে

লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন

বহুদিন, বহুকাল আগে।

তাহাদের একমাত্র আদরের দুলালির জন্য।

অনুতাপের বিষয় হইলো, ময়না বিবি

সবকিছু জানিয়াও

এমনকি,

আমাকে লইয়া দিবাস্বপ্ন দেখিলেও

রাত্রির স্বপ্ন দেখিতেন

এ¯্রাজ বাদক সেই যুবকের।

সেদিন দুপুরে হঠাৎ জানিতে পারিলাম,

ময়না বিবি জানাইলেন, তাহার

গায়ে হলুদ আগামী শনিবার

শেষে বলিলেন,

পারলে, এসে দেখে যেও আমাকে

পারলে একটি

এ¯্রাজ উপহার দিও

আমার বিয়েতে।

সুযোগ পেলে আমি

এ¯্রাজ বাজানো শিখে নেবো,

শিখে নিয়ে একদিন

শোনাবো তোমাকে।

যদি, মতিন শেখায় কোনোদিন।

আমার পরিতাপের বিষয় হইলো

সেইদিন

এখনও ফিরিয়া আসে নাই।

 

মাহবুব বারী

হৃদয়ের এপার ওপার

১.            মাটির নিচে অন্ধকারে কেমন করে কাটবে দিন, বলো তো,

তোমার গলার পুঁতির মালা ছিঁড়ত যদি আমার গোরে

তাই কুড়িয়ে দিন ফুরিয়ে যেতাম যদি রোজহাশরে,

মাথার ওপর আকাশ নিয়ে মালা গেঁথে সেই বিপদে

দিতাম তুলে তোমার গলে, স্বর্গ যদি আমার হতো।

 

২.            তোমাকে দেখে স্বর্গের হুরিদের কথা মনে হল

বলছি, তুমি কি তাদের মতো, নাকি তুমি তাই,

যা-ই হও স্বর্গ কিংবা মর্ত্যরে, মানবী আমার

ফুল ঝরে যাবে, আমরাও যাব, বেলা বেশি নাই।

 

৩.           দুধের মধ্যে ননী, জলের মধ্যে বিন্দু

ঢেউয়ের মধ্যে পানি, তোমাতে-আমাতে বন্ধু

কত জানাজানি।

 

৪.            তোমার লজ্জা আর আমার সজ্জা

গোপন কথাটি করেছে প্রকাশ

লোকে দোষ দেয়Ñ প্রেমিক-প্রেমিকা

এইভাবে সমস্ত রহস্য ফাঁস।

 

৫.            এ ভূলোক স্বর্গের মতো

ফোটে যদি জুঁই, ফুটলে কামিনী

কিন্তু এসবে কী লাভ, বন্ধু আমার

যদি সকালের ফুল বিকালে শুকায়।

 

৬.           বাতাসে চুলগুলো উড়িয়ে দিয়ে মুখটি ঘোরাও তুমি,

দুনিয়া হায় হায় করে উঠুক আর বলুক কী সুখ!

আর তোমার গালের ওপর টোল ফেলে একটু হাসো

এইবার তাই দেখে সকল পুরুষ নামাজে বসুক।

 

মাহমুদ কামাল

শরীরী ভাষা

 

আবৃত্তি কি শুধু কবিতার?

শরীরী ভাষার চেয়ে অন্য কোনও ভাষা

মধুময় নয়

এ ভাষার সাধারণ অনুবাদ নেই

এ ভাষা স্রোতের মতো ধ্বনিময় প্রাণের স্পন্দন

কখনো বা উতল বাতাস কখনো রোদ্দুর

এ ভাষা বোঝে শুধু প্রকৃতি-প্রেমিক।

 

আবৃত্তি কি শুধু কবিতার?

শরীরী ভাষাকে আমি পাঠ করি

চোখের নন্দনে।

 

রাজা হাসান

আজও সেই দূরে

আর ছিলো লোভাতুর রাত্রির কর্কশতা। আমাদের স্বপ্নগুলো জ্বলতেই থাকতো।

সেই পোড়া স্বপ্নের ছাই মদের সঙ্গে মিশে নেশাকে নিয়ে যেতো তুঙ্গে।

সমুদ্র প্রসঙ্গে আমরা নীলকে আলাদা করে চিহ্নিত করতাম।

নৌকার গোটানো পালের কোনাকুনি যে বাতাস বয়ে যেতো,

তা ছিল দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি। বর্জনের দীর্ঘ ইস্তেহার

আমাদের ধার্মিক হওয়া থেকে মুক্তি দিয়েছিলো।

আমাদের কোলাহল ও নিভৃতির অস্তিত্বে মিশেছিলো

পাহাড়ের ওপরে ঘোলাটে চাঁদের সম্মোহন। গান নিঃসঙ্গতার রূপান্তর।

এখনও সাইকেল চাকা ঘুরতে ঘুরতে জন্ম-মফস্বলের কতদূর চলে যায়।

মাঠ পেরিয়ে ঝমঝম শব্দের পেছনে বৃষ্টি আসছে,

দীর্ঘ  নীরবতায় কাউকে আলাদা করে কিছুই বলা হলো না।

যেখানে শহরতলির মন্থরতায়-

দুপুরব্যাপী ঝরে পড়ছে আকুল কৃষ্ণচূড়া……

 

ঝর্না রহমান

সাদাখেকো আঁধারগুলো ধেয়ে আসছে

 

ছেলেটি ছিলো বোকাসোকা। আপনজনেরা আদর করে বলতো সহজ সরল

ওর ভেতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই।

ওর মুখশ্রীতে বর্ষার পানিতে তরতর করে বেড় ওঠা ধানখেতের  মতো শ্যামল আভা

কোমল তরুণ উজ্জ্বলতা। নাক আর থুতনির নকশাও বেশ টিকোলো, ধারালো

মসজিদের হুজুর বলেছিলেন, দাড়িতে খুর লাগাইস না, তাইলে জান্নাতে ইসুপ জোলেখার বিয়া খাইতে পারবি

ছেলেটির খুব জান্নাতি বিবাহ বাসরে উপস্থিত থাকার ইচ্ছে হয়

তার উজ্জ্বল গালে শিরশির করে ওঠে কোমল নীলাভ শ্মশ্রুÑ তাতে ওর মুখশ্রী আরও সুন্দর হয়ে ওঠে

আপনজনেরা বলে ওর চেহারায় নুরানি জেল্লা, আর সমবয়সীরা বলে সুন্দর গাধা

দুপক্ষের কথা শুনেই ছেলেটি হাসেÑ বস্তুত সব কথায়ই নিঃশব্দে হেসে ওঠে ছেলেটি

এমন কি তিরস্কার বা বদনামেও

হাসলে ওর চেহারায় ফেরেশতাদের সাদা আলখাল্লা উড়তে থাকে

অলৌকিক বাগানের মতো ঝলমল করে ওঠে সারা মুখ

সমবয়সীরা বলে, এই গাধা সারাক্ষণ হাসিস কেন? এই সুন্দর গাধা! তাতেও ও হাসে

ওর সাদা দাঁতের সারি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর বেরিয়ে আসে

সাদা পায়রার দল ওর মুখের চারপাশ ঘিরে ডিগবাজি খায়

আশ্চর্য! কীভাবে যেন ছেলেটির বাড়ির উঠোনে সত্যিই উড়ে আসতে থাকে কবুতর

নানা রঙের কবুতর

সাদা বাদামি লালচে আর মিশ্র রঙের

জানালার গরাদের ফাঁক দিয়ে একদিন একটি পড়ার টেবিলে

ও কবুতরটিকে আন্তঃজাল দিয়ে দিব্যি ধরে ফেলে

সেখানে আরও কত কবুতর! কত নাম! কত রং! কত তার আকারসাকার!

পড়ালেখায় তেমন ভালো ছিল না ছেলেটি, যদিও বেশিরভাগ সময় পড়ার টেবিলে বসে থাকতো

কম্পিউটারের ছোট্ট ইঁদুর বড় বাধ্য ছিল তার হাতের মুঠোয়

কুট কুট করে কেটে দিতে লাগলো গুগুলের গোলা

সেখানে ঢুকে ছেলেটি মুঠো ভরে নিয়ে আসতে লাগলো নানারকম শস্য

সোনালি রুপোলি সাদা সবুজাভ ধানÑ

এমন কি টকটকে আগুনের মতো লাল আর গোখুরের বিষের মতো নীল শস্যও

নীল কৃষি ওকে কোপাতে থাকে

নীল কৃষি ওর দেহে খাঁজকাটা মই চালিয়ে দেয়

নীল কৃষি ছেলেটির জমিনে দিনরাত ফলন মলন

অচিরেই ছেলেটির মুখ নীল হয়ে যায়

এত নীল যে ওর শ্যামল আভা কালিমায় ছেয়ে যায়

ওর হাসি থেকে সরলতা আর দীপ্তি হারিয়ে যায়

ঘন কালো হয়ে ওঠে ওর শ্মশ্রুগুচ্ছ

ঘন কালো হয়ে ওঠে ওর চাহনি

ঘন কালো অন্ধকারের মতো কিছু অচেনা পাখি আসতে থাকে ওর কাছে

একটি ঘন কালো অচেনা জোব্বার ভেতরে ঢাকা পড়ে যায় ছেলেটি

ছেলেটি একটি অচেনা জামা হয়ে ওঠে

ছেলেটি একটি অচেনা মন্থর দিন হয়ে ওঠে

একটি অচেনা গোঁয়ার রাত্রি হয়ে ওঠে

ঝাঁঝালো ঝাল ব্যঞ্জনের তপ্ত স্বাদে ভরা জিভ হয়ে ওঠে

নিষিদ্ধ আগুনের জটিল পাঠ রপ্ত করে ছেলেটি একদিন অচেনা কৃষ্ণবিবরের ভেতর হারিয়ে যায়।

 

তাহমিনা কোরাইশী

জল নির্যাস

 

জলদ দেহে বায়ু বাষ্পিত মন

আন্দোলিত শিহরন অনুক্ষণ

জল বোধি জল স্থিতি আত্মার নিরীক্ষণ

জল আকুতি ব্যাকুল চৌহদ্দি এবং গৃহকোণ

জল মাতম খরায় চৌচির দুর্মর পীড়ন

জলহীন প্রখর দাহে মন উচাটন

জল তপস্যায় মত্ত তপোবন

পাঁজরের ভাঁজে ভাঁজ উন্মত্ত প্লাবন।

চোখের অতলান্তে কম্পিত আচরণ

ত্রাহি ত্রাহি রবে হাজার পাঁচালির ব্যঞ্জন

এ কেমন জল নির্যাস অহর্নিশিক্ষণ!

 

মতিয়ার রহমান

তোমার জন্য

 

বেড়াতে এসে দেখেছিলাম তোমায় তখন বসন্তকাল,

নত চোখে তুমি দাঁড়িয়েছিলে লজ্জায় মুখটি লাল।

অপরূপ সুন্দর চোখদুটি তোমার দৃষ্টি ফেরানো দায়,

অকৃপণ হাতে পৃথিবীর যত রূপ ঢেলেছে যেন বিধাতায়।

উত্তাল উন্মত্ত দেহখানিতে যেন খেলে সাগরের ঢেউ,

দেখেছি শুধু আমি দুচোখ ভরে এরূপ পৃথিবীতে দেখেনি আর বুঝি কেউ।

সরু পথখানি আগলিয়ে রেখে রূপসুধা করি পান,

পালাতে পারনি সামনেও পিছনে ছটফট করিতেছিল তো প্রাণ।

লজ্জারাঙা মুখটিতে যেন পৃথিবীর যত রূপ ভরে,

কোনো শিল্পী সে এঁকেছে মুখখানি এত যতœ করে।

লজ্জারাঙা হাসিতে তোমার যেন মুক্তা ঝরে পড়ে,

এ কোন যাদুর মোহে আটকে গেছি দিয়েছ পাগল করে।

গোলাপ গাঁদার রূপে মন ভরে ওঠে ফুটে আছে বাগান ভরে,

জানি না এরূপ পেল কোথায় তারা ফুটেছে তোমার রূপ চুরি করে।

হাত বুলাতে ইচ্ছা করে এ ফুলে রেখে দুটি হাতে হাত,

বালিতে পারিনি মুখ ফুটে তোমায় চল প্রিয়া মোর সাথ।

কাচের পুতুল যেন ছোঁয়া দিলে যদি ভেঙে হয় খান খান,

দূর থেকে দেখে তাই সান্ত¡না দিই মনে ফেটে যেতে চায় মোর প্রাণ।

কতকাল এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম মনে পড়ে না তাহা আর,

সম্বিত ফিরে পাই তোমার মায়ের ডাকে এসো করিতে হবে আহার।

ছুটে পালাই আমি যেন অপরাধী ধরা পড়ে গেছি তবে,

যেতে পারিনি খেতে লজ্জায় আমি ভেবেছিলাম এখন কি হবে।

পালিয়ে এসেছিলাম সেদিন বিকালে হয়নি তব সাথে আর দেখা,

সে সব কথা মনে পড়ে বারবার জানি না আজ তুমি কোথায় সখা।

কতবার ভেবেছি বলব সব পারিনি তাহা বলিতে,

বুক ফেটে যায় সেই স্মৃতি মনে করে পারি না আর সহিতে।

ঘুমাতে পারিনি কত রাত আমি কাটিয়েছি শুধু জেগে,

চোখ বুজে পড়ে থেকেছি মিথ্যা স্বপ্নের আবেগে।

বলিতে পারিনি কাউকে সে কথা শুধু ফেলেছি চোখের পানি,

বুক ভিজে গেছে চোখের পানিতে সে কথা আমি শুধু একা জানি।

কিশোর কালের সেই স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছি আজও আমি,

এই দোয়া করি যেথা আছ প্রিয়া সুখে থাক যেন তুমি।

 

গোলাম কিবরিয়া পিনু

প্রিয়ংকর

 

কোন্ তারযন্ত্রে কোন্ শব্দ উৎপন্ন হবে

Ñতা তুমিও জানো!

ছুটন্ত ঘোড়ার পায়ের আওয়াজও বোঝ

তারপরওÑ

চিরহরিৎ উদ্ভিদের জন্য নড়ো

যেন সারাবছর থোকায় থোকায় ফুল ফোটে

পাপড়িমুক্ত হয় সহজে!

শুধুই মুদ্রার লোভে

চটপটে হয়ে

উঁচু কোনো মাচা তৈরি করোনি

ধনুকের জ্যা টেনে ধরোনি

পলান্নের জন্য পলায়নবাদী হওনি

সে-কারণে তুমি প্রিয়ংকর হয়ে

ঝড়ো হাওয়ায়Ñ

বজ্রপাতের সময়েও উদ্ভিদের কাছাকাছি!

 

 

 

সচিত্রকরণ : নাজিব তারেক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares