প্রচ্ছদ রচনা : ছোটকাগজ ও বড়কাগজের নিরিখে শব্দঘর : মোজাফ্ফর হোসেন

প্রচ্ছদ রচনা

ছোটকাগজ ও বড়কাগজের নিরিখে শব্দঘর

মোজাফ্ফর হোসেন

 

বাংলাদেশে সাহিত্যচর্চার প্রধান ক্ষেত্র হলো ছোটকাগজ বা লিটল ম্যাগাজিন। সাহিত্যচর্চার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো সাহিত্যপত্রিকা বা লিটারারি ম্যাগাজিন। ছোটকাগজের সঙ্গে সাহিত্যপত্রিকার বিষয়বস্তুভিত্তিক এবং গঠনগত পার্থক্য আছে। আকৃতির বিচারে সাধারণত ছোটকাগজ রেগুল্যার বুকসাইজের (৯/৫.৫) হয়, সাহিত্যপত্রিকাগুলো হয় লাইফস্ট্যাইল বা বিনোদন ম্যাগাজিন (১১/৮) সাইজের। ভিন্নতা আছে লেখার বিন্যাস ও মেকআপেও। ছোটকাগজে মেকআপের ধরন ক্ল্যাসিক। ইনার সাদা-কালো, ছবি বা ফটো সাধারণত ব্যবহৃত হয় না। সাহিত্যকাগজে দৃষ্টিনন্দন মেকআপ দেওয়া হয়। ছাপাও হয় আর্ট বা গ্লসি পেপারে, ফোর কালার। গল্পে ও কবিতা বিষয় অনুযায়ী ইলাস্ট্রেশন ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য লেখাতেও প্রাসঙ্গিক ছবি বা ফটো ছাপা হয়। লাইফস্ট্যাইল ম্যাগাজিনের মতো সাহিত্যের এই পরিপাটি পরিবেশনা মুগ্ধ করে পাঠককে।

সাহিত্যপত্রিকা বিষয়বস্তুতে থাকে বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা। গল্প-কবিতা- অনুবাদ-প্রবন্ধের পাশাপাশি ভ্রমণবিষয়ক গদ্য, স্মৃতিগদ্য, ধারাবাহিক উপন্যাস, সাহিত্যখবর, সাক্ষাৎকার, চলচ্চিত্র- সংগীত- থিয়েটার-চিত্রকলাসহ শিল্প- সাহিত্যবিষয়ক নানাধরনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ছোটকাগজে সাহিত্য- পত্রিকার মতো বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য না থাকলেও বাঁধাধরা কোনো নিয়মও নেই। বিষয়বস্তুতে গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ-অনুবাদ প্রধান হলেও যা ইচ্ছে ছাপার মেজাজ ছোটকাগজে থাকে। তবে ছোটকাগজ ও সাহিত্যপত্রিকার বড় পার্থক্য হলো বাণিজ্য ও বিপণন দিকটাতে। সাহিত্যপত্রিকা সম্পূর্ণ বাণিজ্য-সর্বস্ব না হলেও বিজ্ঞাপন এখানে থাকা চাই। বিপণনে সাধারণত হকারদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। মাসিক গ্রাহক হওয়ার সিস্টেম চালু থাকে। বিপরীতে ছোটকাগজের বাণিজ্যিক কোনো দিক নেই। বিপণনও হয় ব্যক্তি-উদ্যোগে। এখানে বিক্রির চেয়ে সৌজন্য সংখ্যা যায় বেশি। সাহিত্যপত্রিকায় লেখক সম্মানী দেওয়ার প্রথা থাকলে ছোটকাগজে সে প্রশ্ন আসে না। অনেক সময় সহযোগিতার মানসিকতা থেকে লেখকই কয়েক কপি অতিরিক্ত সংখ্যা ক্রয় করেন।

সাহিত্যপত্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যের সম্পর্ক থাকার কারণে আমাদের দেশের অধিকাংশ সাহিত্যপত্রিকা রাজধানী থেকে প্রকাশিত। বেশিরভাগই কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত। কিন্তু ছোটকাগজ একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে দেশের সবগুলো মফস্বল শহর থেকে প্রকাশিত হয়। ছোটকাগজের মূল কমিটমেন্টও থাকে আঞ্চলিক পর্যায়ে লেখক তৈরিতে। মফস্বল থেকে এবং ব্যক্তিপ্রচেষ্টায় বের হয় বলে প্রতিষ্ঠানবিরোধী, প্রথাবিরোধী ও নিরীক্ষাধর্মী মেজাজ এর সহযাত বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। শিল্পচর্চার পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক কমিটমেন্ট এখানে মুখ্য থাকে।

প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহিত্যপত্রিকাগুলো সাধারণত মাসিক, পাক্ষিক কিংবা সাপ্তাহিক হয়। তবে বাংলাদেশে মাসিক সাহিত্যপত্রিকার সংখ্যাই বেশি। আর বেশিরভাগ ছোটকাগজ দীর্ঘসময় পরপর বের হয়। ত্রৈমাসিক, ষাণ¥াসিক ও বাৎসরিক ছোটকাগজের পাশাপাশি অনেকগুলো ছোটকাগজ অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। বেশিরভাগই প্রকাশিত হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে সামনে রেখে। লক্ষ্য করার বিষয়Ñ বইমেলাতে মুখোমুখি স্টল হলেও পৃথকভাবে বরাদ্দ ও সাজানো হয় সাহিত্যপত্রিকা ও ছোটকাগজের স্টলগুলো।

ছোটকাগজ ও সাহিত্যপত্রিকার বাইরে সাহিত্যচর্চার উল্লেখযোগ্য একটি ক্ষেত্র সাহিত্য-সাময়িকী। দেশের প্রায় সবগুলো প্রথমসারির জাতীয় দৈনিকের সাহিত্যপাতা হিসেবে শুক্রবার বা সপ্তায় একটি নির্দিষ্ট দিনে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বের হয়। এই আয়োজন দেশের সমসাময়িক সাহিত্যে নিশ্চিত করেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু এটা কখনই সাহিত্যচর্চার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সাহিত্যকে এখানে মার্কেট হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এটা দোষের নয়, সাহিত্যের অবশ্যই বাণিজ্যিক ভ্যালু আছে এবং থাকাটাই ইতিবাচক। বড়কাগজের লেখক সম্পর্কে পশ্চিমবাংলার কথাসাহিত্যিক দেবেশ রায় বলছেন, ‘লেখককে সেখানে শুধু একবারমাত্র মৌলিক হবার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মৌলিকতায় যদি সে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে তাহলে তার ঐ মৌলিকতাতেই শেষদিন পর্যন্ত লিখে যেতে হবে (বিবিধ আখ্যান ও টেকনোলজি)।’ লেখকের এই মৌলিকতার প্রশ্নটি ছোটকাগজে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। এখানে লেখককে বারবার নতুন করে গড়ে ওঠার ইন্ধন যোগানো হয়। যেকারণে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ ছোটকাগজের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলছেন, ‘লিট্ল ম্যাগাজিন বলতে বুঝি যেটা সাহিত্যের নতুন পালাবদলকে ধারণ করে। যে কাগজের ভেতর দিয়ে সাহিত্য নতুন পথের দিকে পা দেয়Ñএটাকে বলে লিট্ল ম্যাগাজিন।’

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছোটকাগজ এবং সাহিত্যপত্রিকাতে খুব বেশি বিভেদ নেই। কারণ আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাসাহিত্যে ছোটকাগজ এবং সাহিত্যপত্রিকার উৎসমূল অভিন্ন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র (১৯১৪), কল্লোল গোষ্ঠীর কল্লোল (১৯২৩), নজরুলের ধুমকেতু, কালি ও কলম (১৯২৬), বুদ্ধদেব বসু ও অজিত কুমারের প্রগতি (১৯২৭), সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় (১৯৩১), বুদ্ধদেব বসুর কবিতা (১৯৩৫), চতুরঙ্গ (১৯৩৮) এগুলো থেকেই এই দুই ধরনের পত্রিকার জন্ম হয়েছে।

 

শব্দঘর ছোটকাগজ না সাহিত্যপত্রিকা?

শব্দঘর-এর চতুর্থ বষপূর্তি সংখ্যায় পত্রিকাটি নিয়ে লিখতে গিয়ে ছোটকাগজ, সাহিত্যপত্রিকা ও সাহিত্যসাময়িকীর প্রসঙ্গ দিয়ে আলাপ শুরু করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শব্দঘরের চরিত্র ও মেজাজকে তুলনা ও প্রতিতুলনার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করা। শব্দঘর সঙ্গত কারণেই সাহিত্যসাময়িকী বা বড়কাগজ নয়। এখন প্রশ্ন হলÑ ছোটকাগজ না সাহিত্যপত্রিকা? ছোটকাগজ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকা মানুষ মাত্রই শব্দঘর হাতে তুলে নিয়েই বলে দিতে পারবেনÑ এটি লিটলম্যাগ বা ছোটকাগজ নয়। তাহলে নিশ্চয় সাহিত্যপত্রিকা? এখানে এসে আমি ছোট্ট করে একটা ‘কিন্তু’ যোগ করতে চাই। আপাতদৃষ্টিতে শব্দঘর নিশ্চয় সাহিত্যপত্রিকা। এটির আকার, মেকআপ, গেটআপ, মুদ্রণ মান, বিজ্ঞাপন, বিপণনের ধরন সবকিছুই সাহিত্যপত্রিকাসুলভÑ কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যে কারণে আমি ‘কিন্তু’টা যোগ করছি, তা হলো, এটা কোনো প্রতিষ্ঠানের পত্রিকা নয়। প্রথাবিরোধী ও নিরীক্ষাধর্মী মেজাজ এর আছে। শব্দঘরের একজন লেখক হিসেবে আমি বলতে পারি, এখানে লেখকের মৌলিকতা নির্দিষ্ট বেঁধে দেওয়া হয় না। লেখক তাঁর মতো করে লিখে যাওয়ার স্বাধীনতা পান। লেখাকে কোনো শব্দসীমা দিয়েও বেঁধে দেওয়া হয় না। পাঠক হিসেবে বলতে পারি, শব্দঘর লেখক তৈরির প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় আছে। প্রতিনিয়ত তরুণ উদীয়মান লেখকের লেখা এখানে মুদ্রিত হয়। তাই দৃশ্যত সাহিত্যপত্রিকার বৈশিষ্ট্য ধারণ করলেও ভেতরে ছোটকাগজের তারুণ্যনির্ভর সৃজনীপ্রয়াস পুষে রেখেছে শব্দঘর। এই অর্থে আমি শব্দঘরকে ছোটকাগজ ও সাহিত্যকাগজের একটা আদর্শ কম্বিনেশন হিসেবে দেখতে চাই।

 

শব্দঘরের মেকআপ, গেটআপ ও

অনন্য পরিবেশনা

শব্দঘরের প্রচ্ছদ করা হয় বিষয়ভিত্তিক পেইন্টিং দিয়ে, এটা ভালো এই কারণে যে প্রচ্ছদ দেখেই বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটা আপাত ধারণা তৈরি হয়ে যায়। তবে প্রচ্ছদে আমি শব্দঘরের লোগো থেকে শুরু করে প্রচ্ছদ-টেক্সট আরেকটু ছোট ফ্রন্টে মুদ্রণের পক্ষপাতী। এতে চোখের কিছুটা আরাম হবে। সূচিপত্রের বিন্যাসে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ আছে। সূচিতে লেখকের ছবির ব্যবহার নিয়ে তর্ক হতে পারে। আমি এটা ইতিবাচকভাবে দেখি। যেহেতু এটা সাহিত্য-ম্যাগাজিন, তাই এখানে লেখকের পরিপাটি করে তোলা ছবি ব্যবহৃত হতে পারে। বিনোদন, খেলাধুলা, লাইফস্টাইল বা স্বাস্থ্যবিষয়ক পত্রিকা ফটোনির্ভর হয়; নিশ্চিত করেই সাহিত্যপত্রিকার ফটোনির্ভর হওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহার করে একে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তোলা যেতে পারে। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পত্রিকাগুলোতে সাকিব আল হাসান কিংবা শাকিব খানের ছবি ছাপা হলে হাসান আজিজুল হক বা সেলিনা হোসেন নয় কেন? তবে এক্ষেত্রে ছবির বিন্যাস যাতে একঘেয়ে না হয়ে যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ছবির কোয়ালিটিও ঠিক রাখতে হবে। খুব ভালো হয়, পত্রিকার জন্যে খ-কালীন ভিত্তিতে একজন আলোকচিত্রী রাখতে পারলে। তাহলে কিছু মৌলিক ছবি পত্রিকার স্বকীয় চেহারা তুলে ধরবে। সংবাদপত্রে প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত ছবি এসব পত্রিকায় বড্ড বেমানান। এক্ষেত্রে একই ছবি বারবার ব্যবহারের চেয়ে ছবি ব্যবহার না করার পক্ষে আমি। শব্দঘরে অধিকাংশ ছবিতে ক্যাপশন থাকলেও কিছু কিছু ছবিতে থাকে না। ইনারে ব্যবহৃত সবধরনের ছবিতে ক্যাপশন থাকা উচিত। সূচিতে পৃষ্ঠানম্বরসহ সম্পাদকীয়র বিষয়টি না আনলেও চলে। ইংরেজি অংশের জন্য সূচিপত্রের অংশটা আলাদা করে ইংরেজিতেই থাকা উচিত। ধরেই নিতে পারি, বাংলা সাহিত্যের ইংরেজি অংশটার টার্গেট রিডার অবাঙালিরা। এক্ষেত্রে তারা বিষয়-সূচি দেখে ভেতরের ইংরেজি লেখা খুঁজে পাবেন না। ব্যাকপেজে ইংরেজিতে লেখকের যে সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত থাকে, তার সঙ্গে কোথাও ইনারের পৃষ্ঠানম্বর উল্লেখ রাখা সম্ভব হলে পাঠকের এই অংশটির সঙ্গে পত্রিকার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না।

 

শব্দঘরের বিষয়বস্তু ও

কতক প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনা

মোটাদাগে শব্দঘরের প্রবন্ধ, গল্প এবং কবিতার জায়গাটা বেশ স্ট্রং। তুলনামূলকভাবে অনুবাদ ও বই-আলোচনার অংশটি আরেকটু সমৃদ্ধ হতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বসাহিত্য-বিভাগে আরো চিন্তাভাবনা করে বিশ্বসাহিত্য-বিষয়ক মৌলিক প্রবন্ধ ও অনুবাদ নির্বাচন করা যেতে পারে। ভালো হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এঁটে লেখক ও অনুবাদকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারলে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন লেখক ও প্রসঙ্গ নিয়ে শব্দঘরের বিশেষ আয়োজন আমাদের প্রায়ই মুগ্ধ করে। এর পাশাপাশি বিদেশি কোনো লেখক বা সাহিত্যের আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ থেকেও মাঝে মাঝে ক্রোড়পত্র হতে পারে। বুকরিভিউ বিভাগটা পাঠকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে গ-গোল থাকলে পাঠকের মিসলিডিং হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পত্রিকার রুচিও এতে প্রকাশ পায়। তাই আরও সুনির্বাচিত বইয়ের বস্তুনিষ্ঠ রিভিউ প্রত্যাশা করি শব্দঘরের কাছ থেকে। বই-আলোচনা অংশে মাঝেমধ্যে আড়ালে চলে যাওয়া খুব প্রয়োজনীয় বইয়ের রিভিউ থাকতে পারে। বিশ্বসাহিত্যে বছরজুড়ে সর্বাধিক আলোচিত একটি দুটি বইয়ের রিভিউও যেতে পারে। শব্দঘরে সংগীত নিয়ে অতীতে বেশ কিছু ভালো গদ্য আমরা পড়েছি; একইভাবে চলচ্চিত্র, চিত্রকলা ও থিয়েটার নিয়ে শব্দঘরের নিয়মিত বা নিয়মিত বিরতি দিয়ে কোনো আয়োজন থাকলে মন্দ হয় না। পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দর্শন বিষয়ক লেখাপত্র আরও পড়তে চাই।

শব্দঘরের প্রশংসিত একটা অংশ হলো বাংলা সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদ অংশটি। প্রথম থেকেই এই অংশটি আছে। থাকুক এটা পাঠক হিসেবে আমার সবসময়ের প্রত্যাশা। শব্দঘর নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের কোনো মাস্টারপিস সাহিত্যকর্মকে ইংরেজিতে অনুবাদ করিয়ে ধারাবাহিক প্রকাশের ব্যবস্থা করবে বলে প্রত্যাশা করি।

সবশেষে সার্থকভাবে নিয়মিত প্রকাশনার ভেতর দিয়ে তিন বছর পেরিয়ে চতুর্থ বছরে পা রাখলো শব্দঘর। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই শব্দঘর পরিবারকে। সম্পাদক নিজেও একজন সুসাহিত্যিক বলে শব্দঘরের কাছে বরাবরই পাঠক-লেখক সকলেরই বাড়তি কিছু প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ করে প্রত্যাশার বহরকে আরো দীর্ঘ করে তুলেছে শব্দঘর নিজেই। আমরা প্রত্যাশা করি, শব্দঘর দীর্ঘজীবন বেঁচে থাকুক। বাংলা সাহিত্যের একটা সমসাময়িক দলিল হয়ে স্থান করে নিক সাহিত্যচর্চার আগামী ইতিহাসে। লেখক তৈরির ভেতর দিয়ে, পাঠক সৃষ্টির মধ্য দিয়ে, মানসম্মত লেখা মুদ্রণের মাধ্যমে শব্দঘর  একটু একটু করে অতিক্রম করে যাক নিজের সীমাবদ্ধতাকেÑ নিজের শ্রেষ্ঠত্বকেও। জয়তু শব্দঘর।

লেখক : সম্পাদক, শাশ্বতিকী (লিটলম্যাগ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares