পাঠ-প্রতিক্রিয়া

অমরত্বের সোনার মুকুট কি মাথায় ধারণ করোনি, কবি?

মাসুদ আল ফারুক

 

১৯.১০.২০১৬

প্রিয় সম্পাদক

শব্দঘর

২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা ১২০৫

সাহিত্য সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা শব্দঘরÑএর আমি একজন নিয়মিত পাঠক। পত্রিকাটি অন্যান্য পত্রিকার মতো নয়। এই পত্রিকাটি গভীর মনোযোগ সহকারে খুঁটিয়ে খঁটিয়ে দেখি এবং নিবিষ্টচিত্তে পাঠ করে আনন্দ লাভ করি। নিজে কখনও লিখি না। তবে সাহিত্যপাঠের প্রতি আমার একটা তীব্র আকর্ষণ আছে।

আপনার সম্পাদিত শব্দঘর-এর অক্টোবর ২০১৬ সংখ্যাটি পাঠ করে দারুণ খুশি হয়েছি। সৈয়দ শামসুল হক সংখ্যা শব্দঘর চুম্বকের মতো আমাকে টেনেছে। আপনার সম্পাদকীয় কলাম থেকে শব্দঘরের শেষপাতা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। খুব ভালো লেগেছে আপনার মন্তব্যটি-‘অমরত্বের সোনার মুকুট কি মাথায় ধারণ করোনি, কবি?’

কবির প্রতি এই শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

ভালো  লেগেছে  কবিকে নিয়ে লেখা নিবন্ধ ও কবিতাসমূহ। আরও ভালো লাগতো কবির জীবনকাহিনি নিয়ে কেউ যদি লিখতেন। কার সঙ্গে কবির কি রকম পরিচয় ছিলÑএটা কোনো জানার বিষয় নয়। কবি সারাজীবন যে সাধনা করেছেন সেই বিষয়সমূহ একরকম আড়ালে থেকে গেল।

মানুষ সৈয়দ হক মানে শিল্প সাহিত্যের সৈয়দ হক। তিনি বলেছেন : ‘আমার জন্ম নদীর তীরে একটি মাটির ঘরে।’ মাটির ঘর থেকে উঠে আসা সৈয়দ হকের সাধনা, জীবন-যাপন, কষ্ট-ক্লান্তি, দুঃখ-যন্ত্রণা, আশা-আকাক্সক্ষা, সিদ্ধি-এ-সব নিয়ে কেউ যদি লিখতেন,- আমার মতো পাঠকেরা অনেক  অনেক কিছু জানতে পারতো। প্রবন্ধের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে-‘রোমান মহাকবি লুক্রেৎসউস : তার মহৎ কাব্য বস্তুসমূহের প্রকৃতি।’ গল্পগুলোর মধ্যে বেশি ভালো লেগেছে রাজকুমার সিংহের -‘গুপ্তধন’। অন্যান্য গল্পগুলো গতানুগতিক। চলনসই। সবচেয়ে খারাপ গল্প -‘মানুষ পাখিরা’। এটা কোনো গল্প নয়- শব্দের পর শব্দ সাজানো।

গল্প সাহিত্যের মূলবস্তু-রূপ ও রস। এই গল্পে রূপও নেই, রসও নেই। এক কথায় বলা যায়-এটা কোনোভাবেই গল্পের সংজ্ঞায় পড়ে না। রবি ঠাকুর বলেছেন :

‘মানুষের আপনাকে দেখার কাজে আছে সাহিত্য; তার সত্যতা মানুষের আপন উপলব্ধিতে বিষয়ের যাথার্থ্যে নয়। সেটা অদ্ভুত হোক, অতথ্য হোক, কিছুই আসে-যায় না। এমন কি সেই অদ্ভুতের, সেই অতথ্যের উপলব্ধি যদি নিবিড় হয়, তবে সাহিত্য তাকেই সত্য বলে স্বীকার করে নেবে।

মানুষ শিশুকাল থেকেই নানাভাবে আপন উপলব্ধির ক্ষুধায় ক্ষুধিত, রূপকথার উদ্ভব তারই থেকে। কল্পনার জগতে চায় সে হতে নানাখানা- রামও হয়, হনুমানও হয়। ঠিকমতো হতে পারলেই খুশি। ত্ার মন গাছের সঙ্গে গাছ হয়, নদীর সঙ্গে নদী। মন চায় মিলতে, মিলে হয় খুশি। মানুষের আপনাকে নিয়ে এই বৈচিত্র্যের লীলা সাহিত্যের কাজ।’

‘মানুষ পাখিরা’ গল্পে নির্মিতি নেই। কোনো কল্পনা নেই। গল্পের রসও নেই। রূপও নেই।

পত্রিকাটি এগিয়ে যাক। আমাদের সাহিত্যভা-ার সমৃদ্ধ করুক- লেখক নয় লেখার মানকে গুরুত্ব দিক- এটাই চাওয়া। একজন পাঠক হিসেবে আমার নিবিড় উপলব্ধি অকপটে জানালাম।

ভবদীয়

আপনার একজন শুভাকাঙক্ষী

মাসুদ আল ফারুক

কবি জসীমউদদীন রোড, কমলাপুর, ঢাকা- ১০০০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares