বিশ্বসাহিত্য

বব ডিলানের অভিমান

শামীম আল আমিন

 

বব ডিলানের নাম আমি শুনেছি, একদম ছেলেবেলায়। প্রিয় প্রতিবেশি গায়ক অঞ্জন দত্তের গানে। গানটির একটি লাইনে ছিল জন লেননের সোচ্চার ভালোবাসা, বব ডিলানের অভিমান। প্রায়ই মনে হতো, বব ডিলান নামের মানুষটার বুঝি অনেক অভিমান! উপমহাদেশের আরেক প্রখ্যাত শিল্পী কবির সুমনের কারণে, পরে আরেকটু পরিচয় তাঁর সাথে। এই নাগরিক কবিয়াল বব ডিলানের ‘ব্লোয়িং ইন দ্যা উইন্ড’ গানটির ভাবানুবাদ করে গেয়েছিলেন। যা দুই বাংলায় বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। গানটি ছিল এমন কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়/কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়/কতটা পথ পেরোলে পাখি জিরোবে তার ডানা/কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়/ কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়/ প্রশ্নগুলো সহজ, আর উত্তরও জানা…। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বাংলায় জীবনমুখি গানের ধারায় কতটা প্রকট হয়ে আছেন বব ডিলান। অঞ্জন দত্ত এবং কবির সুমন কৃতজ্ঞতার সাথে সেকথা স্মরণ করেছেন বহুবার। পরে যখন জেনেছি, বব ডিলান তিনিই, যিনি মহাবিপদের দিনে, একটি জাতির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন চলছিল, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দিনটি, ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট। রোববার। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আয়োজন করেন বিটলস ব্যান্ড দলের অন্যতম পুরোধা জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশংকর। আর সেই কনসার্টে গান  গেয়েছিলেন, বাংলাদেশের বন্ধু ববডিলান। তিনি সেদিন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন এহার্ডরেইনস আ-গনাফল,  ব্লোইং ইন দ্য উইন্ড’, জাস্ট লাইক আওমেনসহ কয়েকটি গান গেয়ে। ফলে বব ডিলান আমার আত্মার আত্মীয়। এখন আমার বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ায়, সেই বন্ধন হয়েছে আরও জোরদার। ফলে কিংবদন্তির এই মানুষটির সাহিত্যে নোবেল বিজয়ের খবরে আমি ভীষণ আনন্দিত। অভিনন্দন বব ডিলান।

১৯৭১ সালের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। টাইম ম্যাগাজিন থেকে নেয়া। এরপর আসা যাক, উচিত-অনুচিত আর বিতর্ক প্রসঙ্গে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছুটা অবাক হলেও, রক গায়ক ও গীতিকার ডিলানের সাহিত্যে নোবেল পাওয়ায় একেবারে বিস্মিত হইনি। কেননা ব্যক্তি ডিলান সম্পর্কে ততদিনে বেশ কিছু তথ্য আমার জানা হয়ে গেছে। সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে, এই বিতর্ক চলতেই পারে, ডিলান কি গায়ক না কবি? তাকে কেন সাহিত্যে নোবেল দিতে হলো? যারা বিতর্ক করেছেন, তাদের প্রসঙ্গে একটু পরে আসি। আগে জেনে নিই কোন বিবেচনায় নোবেল কর্তৃপক্ষ ডিলানকে সাহিত্যে নোবেলের জন্যে মনোনীত করেছে। বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়ার পর বলা হচ্ছে, এই প্রথম কোনো গীতিকারকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারটি দেয়া হলো। যদিও কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের সাথে তুলনা করছেন। কেননা ১৯১৩ সালের রবীন্দ্রনাথ তার গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাদের যুক্তি গীতাঞ্জলি তো গানই। তবে আমি মনে করি রবীন্দ্রনাথ এবং বব ডিলানের অবস্থান একই রকম নয়। যদিও রবীন্দ্রনাথ অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা। এমন কি তার লেখা গান দুটি দেশের জাতীয় সংগীত। আপাতত সেই তুলনামূলক আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না। বরং ফিরি বব ডিলানের সাহিত্যে নোবেল পাওয়া প্রসঙ্গে। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের এই গায়ক-গীতিকারকে মার্কিন সংগীতের ধারায় ‘কাব্যের সংযোজন ঘটানোর’ কৃতিত্বের জন্য এই সম্মান দেয়া হয়েছে। বেশ কবছর ধরেই আলোচনা ছিল, বব ডিলান নোবেল পেতে পারেন। এর আগে শেষবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেউ সাহিত্যে নোবেল জিতেছিলেন ১৯৯৩ সালে, ঔপন্যাসিক টনি মরিসন। মাঝে ২৩ বছরের ব্যবধান। সাহিত্যের ১১৩তম নোবেল বিজয়ী হিসেবে যার নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেই বব ডিলান প্রথাগত সাহিত্যিক নন। আর তাই তার নোবেল প্রাপ্তির ঘোষণা স্বস্তিদায়ক হয়নি। কেন একজন রক গায়ককে সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হলো, তা নিয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আবার যারা বব ডিলানকে গায়কের চেয়েও বেশি কিছু মনে করেন, মনে করেন গীতিকবি, তারা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন। চলছে তুমুল আলোচনা।

পুরস্কার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন নরওয়ের সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব সারা দানিউস বলেন, তাদের এবারের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা হবে না বলেই তিনি আশা করছেন। অর্থাৎ সমালোচনার একটা ভয় নিয়েই, এবার ডিলানকে নোবেল পুরস্কারের জন্যে মনোনীত করা হয়েছে। অন্তত সারা দানিউসের কথায় সেটা স্পষ্ট। সারা অবশ্য ডিলানকে বর্ণনা করেন ইংরেজি বাচনরীতির এরকম হিসেবে। বলেন, নোবেল পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য। ডিলানের দ্য টাইমস দে আর আ-চেইঞ্জিং গানের কারণে দানিউস তুলনা করেছেন গ্রিক কবি হোমার আর শ্যাফোর সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, যদি ৫০০০ বছর পেছনে ফিরে যাই, আমরা হোমার আর শ্যাফোকে পাবো। তাদের গীতিকবিতা লেখাই হতো গেয়ে শোনানোর জন্য। বব ডিলান একই কাজ করেছেন। সুইডিশ অ্যাকাডেমির সংবাদ সম্মেলনে বলেন সারা দানিউস। তাহলে বিতর্কটা কারা করল?

বব ডিলানের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে লেখকদের মধ্যে রীতিমতো বিভক্তি  দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ, কোনো গান রচয়িতাকে এ যাবৎ নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়নি। এতদিন কবি আর ঔপন্যাসিকদের একচ্ছত্র দখলে ছিল সাহিত্যে নোবেল। ফলে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নোবেল কমিটির প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফরাসি ঔপন্যাসিক পিয়েরে অ্যাসোউলিন। তিনি বলেছেন, আগে কয়েকবার ডিলানের নাম এসেছিল। তবে তা কৌতুক মনে হয়েছিল। ফরাসি এই ঔপন্যাসিক আরও বলেন, নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্ত লেখকদের প্রতি অবমাননাকর। আমি ডিলানকে পছন্দ করি। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকর্ম কোথায়?

স্কটিশ ঔপন্যাসিক আরভিন ওয়েলস ও সমালোচকদের দলে। তবে ডিলানের  নোবেল জয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি উচ্ছ্বসিত। তিনি টুইটারে লিখেছেন, অসাধারণ বাছাই। সংগীত ও কাব্য ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কিত।

ষাটের দশকের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ম্যারিয়ান ফেইথফুল ভীষণ খুশি ডিলানের অর্জনে। তিনি বলেন, বন্ধু ডিলানের জন্য তিনি খুবই গর্বিত। আমি মনে করি, তিনি বিশ্বের অন্যতম মহান শিল্পী। তিনি তাঁর লেখনী ও কাব্যে আমাদের পুরো জীবন বদলে দিয়েছেন। সাহিত্যে ডিলানের নোবেল জয় নিয়ে যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তিতর্ক। যা অনেক ক্ষেত্রে এখনও চলছে। চলুন এবার একটু বিস্তারিত জেনে নিই বব ডিলান সম্পর্কে।

বব ডিলান মার্কিন কিংবদন্তির গায়ক-গীতিকার, মিউজিশিয়ান, চিত্রকর। অনেকেই তাঁকে কবি বলতে ভালোবাসেন। এমনকি ডিলান নিজেও তাই মনে করেন। গত পঞ্চাশ বছর ধরে জীবনমুখী গানের ধারার পথিকৃৎ হয়ে আছেন তিনি। তাঁর আসল নাম রবার্ট অ্যালেন জিমার ম্যান। সংগীতবিশ্ব যাকে চেনে বব ডিলান নামে।  ১৯৪১ সালের ২৪ মে মিনেসোটার ডুলুথে এক ইহুদি পরিবারে জন্মেছেন তিনি। অবশ্য পরে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। রবার্ট অ্যালেন জিমার নামে কিশোরের হাতে প্রথম গিটার আসে ১২ বছর বয়সে। দুইবছরের মাথায় তিনি স্কুলের ব্যান্ডে বাজাতে শুরু করেন। উডিগুথরির গান অল্প বয়সেই  সেই কিশোরকে  টেনে নিয়েছিল  লোকসংগীতের পথে। আর বব ডিলান নামটি তিনি নিয়েছেন ইংরেজ কবি ডিলন থমাসের নাম থেকে।

আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের দিনগুলিতে, বব ডিলান, সঙ্গে জোয়ানবায়েজ তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের সূচনা হয় ১৯৫৯ সালে মিনেসোটার এক কফি হাউজে। ঠিকানা বদলে ১৯৬১ সালে নিউইয়র্কে যাওয়ার পরের বছরই তার প্রথম অ্যালবাম বব ডিলান বাজারে আসে। তিনি খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছে যান ষাটের দশকে। হাতে গিটার আর গলায় হারমোনিকা হয়ে ওঠে তার ট্রেডমার্ক। সে-সময় তার ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড আর দ্য টাইমস দে আর আ-চেইঞ্জিং এর মতো গানগুলো পরিণত হয়েছিল যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের গণসংগীতে। ডিলনের গানের কথা মূলত রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্যিক প্রভাবের মিলিত প্রয়াস। একসময় এগুলো জনপ্রিয় ধারার কথিত নিয়মবহির্ভূত ছিল। নিজস্ব সংগীত ধারা প্রসারের পাশাপাশি তিনি আমেরিকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সংগীত নিয়ে কাজ করেছেন। ফোক-রকের কথা বললেই, বব ডিলানের নামটা চলে আসে। তিনি আমেরিকান লোকগীতি ও কান্ট্রি, ব্লুজ থেকে রক অ্যান্ডরোল, ইংরেজ, স্কটিশ, আইরিশ লোকগীতি, এমনকি জ্যাজ, ব্রডওয়ে, হার্ড রক এবং গসপেলও  গেয়েছেন। তার লেখা গানের কথামালা এমনভাবে মানুষকে আলোড়িত করে, আসলে তিনি একজন কবি হিসেবেই আলোচিত হতে পারেন। তিনি কেবল কবিতাগুলোকে গিটারের ঝংকারে তুলে ধরেছেন।

ষাটের দশকে যাদের গান আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনে প্রেরণা যুগিয়েছে, তাদের মধ্যে ববডিলান একজন। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তৃতার সময় ডিলান ছিলেন পিটসিগার, জোয়ানবায়েজদের সঙ্গে মিছিলের সামনের সারিতে। গান লেখা আর গাওয়া ছাড়াও ডিলান ছবি এঁকেছেন, অভিনয় করেছেন, চিত্রনাট্য লিখেছেন। ১৯৭১ সালে তার লেখা গদ্য আর পদ্য নিয়ে প্রকাশিতহয় ‘ট্যারেন্টুলা’। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘রাইটিংস অ্যান্ড ড্রইংস’, আর ২০০৪ সালে তার স্মৃতিকথা ‘ক্রনিকলস’।

ওয়ান্ডার্স বয়েজ চলচ্চিত্রে ডিলানের ‘থিংকস হ্যাভ চেইঞ্জড’ গানটি ২০০১ সালে অস্কার জিতে নেয়। ২০০৮ সালে পুলিৎজার পুরস্কারের জুরিবোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তাকে বিশেষ সম্মাননা জানায়। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১২ সালে ডিলানের গলায় পরিয়ে দেন ‘মেডাল অব ফ্রিডম’। সম্মানজনক বহু অর্জন রয়েছে তাঁর।

বব ডিলানের অ্যালবাম বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ডিলানকে উপরের এই অল্প কথায় ঠিক বোঝা যাবে না। এরপরও অন্তত এটুকু তো বোঝা গেল, তাকে এক ‘কবি কিংবা গীতিকবি’ বললে ভুল হবে না। অনেকটা আমাদের লালন ফকির কিংবা এ কালের শাহ আব্দুল করিমের মতো। জীবনকে যারা অনেক গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। গানে গানে ছড়িয়ে দিয়েছেন মানুষের মধ্যে। তাছাড়া গীতিকার কি সাহিত্যিক হতে পারেন না। নতুন এই স্বীকৃতিকে কেন সমালোচনার চোখে দেখতে হবে! অন্তত আমি সেটা বুঝি না।

পুরস্কার ঘোষণার পর বব ডিলানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও পুরস্কার ঘোষণার দিনই লাস ভেগাসে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিক্রিয়া তো দূরে থাক, খবর বেরিয়েছিল বব ডিলানের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগই করতে পারছে না নোবেল কর্তৃপক্ষ। পুরস্কার ঘোষণার পর, নোবেল পাওয়ার খবরটি যুক্ত করা হয়েছিল বব ডিলানের ওয়েবসাইটে। পরে সেটিও মুছে ফেলা হয়। আর এই দুইয়ে মিলিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল, তবে কি বব ডিলান পুরস্কার নিচ্ছেন না! আর এর পেছনে কি সেই বিতর্কই দায়ী।

এর আগেও সাহিত্য নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস রয়েছে। ফরাসি দার্শনিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সমালোচক জাঁপল সার্ত্রে নোবেল পেয়েও বর্জন করছিলেন। সার্ত্রে দাবি করেছিলেন, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিরোধী, তাই এই পুরস্কার নিতে অপারগ। সার্ত্রে যে-কারণেই নোবেল বর্জন করুন না কেন, ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল মানুষের হাজারো কথায়, প্রতিক্রিয়ায় বব ডিলানও কি সেই পথেই হাঁটছেন কিনা! অভিমান করে! তবে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন বব ডিলান। ভেঙেছেন, রহস্যময় দীর্ঘ নীরবতা। তিনি জানিয়েছেন, আসলে নোবেল পাওয়ার খবরে তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন। সে-কারণেই এই নীরবতা। তবে সমালোচনার জবাবে কিছুই বলেননি তিনি। এরপরও এটি কী নিশ্চিতভাবেই ভাবা যায় না, মনের ভেতরে কিছু না কিছু অভিমান জমা হয়েছিল, এই কিংবদন্তির। নোবেল ফাউন্ডেশন ২৯ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব সারা দানিউসকে টেলিফোন করে বব ডিলান বলেছেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ের খবর আমাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল। এতে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি।

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আগামী ১০ ডিসেম্বর এ উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠান হবে। সেই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট এই শিল্পী উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ডিলান যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, যদি সম্ভব হয়, তাহলে তিনি অবশ্যই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পত্রিকাটিকে এক সাক্ষাৎকারে ডিলান নোবেল পুরস্কার বিজয়কে বিস্ময়কর, অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেছেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান, কিংবা না যান; এটুকু নিশ্চিত নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করছেন বব ডিলান। আর এর মধ্য দিয়ে, সাহিত্যে ভিন্ন একটি মাত্রা যোগ হতে দেখবে গোটা বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares