ভ্রমণ

দাক্ষিণাত্যে কয়েকদিন

খান মাহবুব

 

দক্ষিণ ভারতের সোনার খোঁজে

মুঘলদের ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাপর্ব থেকে পথ চলতে ঝড়ঝাঞ্ঝা ছিল নিত্যসঙ্গী। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মুঘল আমলে সদা-সর্বদা শান্তির মৃদুমন্দ হাওয়া বইতো না। এর মধ্যে আবার দাক্ষিণাত্য ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত। বিদ্রোহের পর বিদ্রোহ মুঘলরাজদের নাস্তানাবুদ করে রাখত। আর দাক্ষিণাত্য ছিল এর শিরোমণি। প্রাকৃতিক পরিবেশের উত্তাপ রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত রাখত কিনা জানি না!

তবে শীতের ২৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা আর গরমের ৩৫-৪- ডিগ্রি সে. তাপমাত্রার দাক্ষিণাত্যের অংশ তামিলনাডু রাজ্যে গিয়ে গরমের প্রকারভেদ বুঝলাম। রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই বিমাল বন্দর থেকে ট্যাক্সিতে রওনা হলাম। পুরোটা রাস্তা মরুময়। ২.৩০ মিনিটের রাস্তায় গাছ-পালা যৎকিঞ্চিৎ চোখে পড়ল। রাস্তা, পতিত ভূমি, দূরের পাহাড় সব গরমে চৌচির। সব যেন মুঘল রাজকে না পেলেও প্রকৃতিরাজের সঙ্গে বিদ্রোহ করছে। সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম শুধু চেন্নাই হতে ১৪৮ কি.মি. দূরের ভেল্যুর জেলার স্বর্ণমন্দির দেখতে। ভেল্যুর জেলা সদর হতে কমবেশি ৮ কি.মি. দূরের মালাইকাদি এই মন্দিরের অবস্থান। চেন্নাই বিমানবন্দরে নেমেই প্রকৃতি ও পরিবেশ দেখে খুব উদ্বেগ হয়েছিল। বিশেষত বুনো কালো বর্ণের তামিলদের রুক্ষ চেহারা, উগ্র ব্যবহার-স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। কিন্তু লক্ষ্মী নারায়ণী দেবীর স্বর্ণমন্দির প্রাঙ্গণে এসে পাহাড় ও বন-বনানীর সান্নিধ্য পেলাম। এ স্বর্ণমন্দির বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব একটা চেনা-জানা না। বাংলাদেশের মানুষ ভারতবর্ষের স্বর্ণমন্দির বলতে অমৃতসরের শিখদের স্বর্ণ মন্দিরকেই জানে।

উঁচু পাহাড়ের পাদদেশে এই মন্দির। সর্বধর্মের জন্য উন্মুক্ত হলেও হিন্দুদের উপস্থিতি যৌক্তিক কারণেই বেশি। এখানে দেবীদর্শন ও দান গ্রহণের ব্যবস্থা আছে।

মন্দিরের প্রবেশাঙ্গনে দাঁড়িয়ে মন্দিরের অবস্থান সম্পর্কে কোনো আঁচ করতে পারলাম না। নিরাপত্তা নজিরবিহীন কড়াকড়ি। মোবাইল, ক্যামেরা ও ধাতব দ্রব্য ৩-৫ রুপি প্রদান করে জমা রাখা যায়। পায়ের জুতা পলিথিনে মুড়ে ২ রুপি দিয়ে জমা রাখতে হয়। আবার জুতা রাখার পলিথিন চড়াদামে বিক্রির জন্য লোকজনের অভাব নেই। প্রবেশের পূর্বে আনুষ্ঠানিকতা করে ছোট লোহার গেট পেরিয়ে চিড়িয়াখানার খাঁচার মতো লোহাঘেরা রাস্তা দিয়ে অন্যদের দেখাদেখি হাঁটতে শুরু করলাম। মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তাকর্মীরা সর্বাঙ্গ নেড়েচেড়ে পরীক্ষা করছে কোনো ধাতব পদার্থ আছে কিনা। প্রায় ১ কি.মি. লোহাঘেরা রাস্তা পেরিয়ে এবার প্রধান ফটকে এসে বুঝতে পারলাম এতোক্ষণ বহিরাঙ্গণে ছিলাম। এখন মূল মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করছি। মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর থেকে পুরো রাস্তা পাকা মার্বেল পাথর বিছানো। উপরে মোটা সুদৃশ্য টিনের ছাউনি। হাঁটার রাস্তা ১০/১২ ফুট প্রশস্ত। আবার হাঁটা। তবে এবার চারপাশটা উন্মুক্ত ও বাগানঘেরা। বাগানে গাছ-পালার সাথে নানা দেব-দেবীর মূর্তির সহবস্থান। সময়টা ছিল পড়ন্ত বিকেল। রোদ-ছায়ার মিশেলে হাঁটতে ভালো লাগছিলো। এই ভালোলাগা তুঙ্গে উঠল যখন মিনিট বিশেক হাঁটার পর স্বর্ণ মন্দিরের একাংশ চর্মচোখে দেখতে পেলাম। স্বর্ণকারের আগুনে গলানো কাঁচা সোনার রং। দেখে দৃষ্টি একদম থমকে গেল। রোদগলা বিকেলে যেমন প্রকৃতিতে গরমের দাপট কমে এসেছিল তার বিপরীতে স্বর্ণমন্দির পড়ন্ত বিকেলের সুনসান পরিবেশে আভা ছড়াচ্ছিল। দূর থেকে স্বর্ণমন্দির দেখে প্রাণ জুড়াচ্ছিল না। মন আনচান- কত দ্রুত কাছে যাওয়া যায়, কত দ্রুত স্বর্ণমন্দিরকে একটু ছুঁয়ে দেখা যায়। কমবেশি ১০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মন্দির কমপ্লেক্সটি ১.৮ কি.মি. দৈর্ঘ্য। আমরা যখন দূর থেকে মন্দিরকে দেখছিলাম তার কাছে যাওয়ার ভাবনায় ভুগছিলাম- সমস্যা দাঁড়াল রাস্তা। মন্দিরের মূলবেদিতে যাওয়ার রাস্তা এতটাই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যে পরিমাপক দণ্ডে ১ কি.মি. হবে। যাহোক এবার উল্কার গতিতে হাঁটা- অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, আমরা মন্দিরের মূল লবিতে উপস্থিত। সমভূমি হতে এই লবি ১২-১৫ ফুট উঁচু হবে। মন্দিরের চারপাশ ঘেরা লবি। এবার শুধু অপলক দৃষ্টিতে দেখা। থরে থরে সোনায় জড়ানো ঘর। ঘরের চাল, খাম, বেড়া সবই সোনারÑ ভাবা যায়! বিকেলের মিঠে কড়া রোদে সোনা আরো সোনালি হয়ে উঠেছিল। মন্দিরটা দৈর্ঘ্যে ৬০ ফুট প্রস্থে ২০-২২ ফুট হবে। মন্দিরের ভিতর বাসন্তি রঙয়ের গেরুয়া বসন পড়ে পুরোহিত বসে আছে আর ভক্তরা সারিবদ্ধ হয়ে ভক্তি জানাচ্ছে। সঙ্গে চলছে ঢোল-তবলা ও নানা বাদ্যযন্ত্রের সহযোগে ভক্তিমূলক গান।

মন্দিরের বহিরাংশ শুধু সোনা দিয়ে জড়িয়ে দেয়া হয়নি। অপূর্ব কারুকাজ। নিখুঁত ও নিপুণ। ইউকিপিডিয়াতে প্রাপ্ত তথ্যমতে মূল ভিতের উপর ৯/১০ স্তরের সোনায় এই মন্দির তৈরি করা এবং মন্দিরের মূল ডিজাইন হাতে তৈরি। কথিত আছে এই মন্দিরে ২৭টন সোনা আছে।

আমরা মন্দিরের সোনার ঘরের কাছাকাছি আসতেই লক্ষ্য করলাম সোনার দ্যুতি যেন বেড়ে যাচ্ছে আর আরও বাড়ছে নিরাপত্তা কর্মীদের পর্যবেক্ষণ। শেষ প্রান্তে ৩৫-৪০ ফুট ভূ-গর্ভস্ত রাস্তায় নেমে আবার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে মন্দিরে প্রবেশ করলাম। খুব ইচ্ছে ছিল মন্দিরের সোনার খামধরে একটা ছবি তোলার কিন্তু ছবি তো দূরের কথা খামের কাছেই যাওয়া বারণ। আর ছবি তুলব কেমনে কারণ ক্যামেরা বা মোবাইল নেওয়ার কোনো জো নেই। বেশিক্ষণ মন্দির ঘরে দাঁড়ানো যায় না, কারণ দর্শনার্থীরা পর্যায়ক্রমে একজনের পর আরেকজন চলতে থাকে। শত অনিচ্ছাকে জলাঞ্জলি দিয়ে মন্দির বেদি থেকে নেমে আবার অন্যরাস্তা দিয়ে মূল ফটকের দিকে রওনা হলাম। মন্দির থেকে নেমেই দেখলাম একটা বড় স্বর্ণপাত্রে তেলের মধ্যে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা। নানা রোগ শোকে আক্রান্ত মানুষ আরোগ্য লাভের আশায় ভক্তি জানাচ্ছে।

বিরাট এক ঘরে একটা গরু বেঁধে রাখা। বিশ্বাস ভরে গরুকে ছুইয়ে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। মন্দিরের বাইরে যাওয়ার রাস্তায় শাড়ি থেকে শুরু করে নানা স্যুভেনিয়রের দোকান। চলার পথে আছে অনুদান গ্রহণের কাউন্টার। কর্মীরা আপনাকে দেখলেই বলতে থাকবে ‘Donation’ ‘Donation’।

এই মন্দিরের ভিতর লক্ষক্ষ্মী নারায়ণকে স্থাপন করা আছে। আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শক্তি আম্মা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

গোধূলি বেলায় যখন নানাদিক থেকে কৃত্রিম সিগ্ধ আলো ফেলা হয় মন্দিরের গায়ে তখন মন্দির আরও অপরূপ হয়ে ওঠে। দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করে শতায়ু নিয়ে।

ভ্যেলুর দুর্গে নাম পরিবর্তনে জায়গার খোলস বদলায়- এমনটা সব সময় নয়। যেমনটা ঘটেছে ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের বেলায়। মাদ্রাজ নাম পাল্টিয়ে চেন্নাই নাম ধারণ করলেও শহরের অবয়বে তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবে বিমাল বন্দরের চকচকে চেহারা চোখে পড়ার মতো। চেন্নাই এক্সপ্রেস সিনেমার সেলুলয়েডের ফিতায় দেখা দৃষ্টিনন্দন চেন্নাই চোখে পড়ল না- বিমাল বন্দর থেকে রাজপথে নেমে। মধ্যরাতে শহর আমাদের ঢাকা থেকে অনেক ¤্রয়িমাণ দেখলাম। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির বেশি থাকে প্রায় সব সময়। তাই সারা বছর এখানকার গাছপালা, রাস্তা, এমনকি মানুষের চেহারায় আমাদের দেশের চৈত্রের বৈরী দশার রুক্ষতা সদা বিরাজমান। এখানে শিক্ষিতের হার ৮০.৩০% সত্যিই প্রশংসনীয়। ১৯৬৯ সালের ১৪ জানুয়ারি সৃষ্টি হওয়া তামিলনাডু রাজ্যের বর্তমান জনসংখ্যা ৭,২১,৩৮,৯৫৮ জন, আয়তন ১,৩০,০৫৮ বর্গ কি.মি। রাজ্যের ভাষা ‘তামিল’। ১৫০০-২০০০ বছর ধরে এই অঞ্চলের ধ্রুপদিভাষায় সাহিত্য সমৃদ্ধ হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যে তেলেগু, মালয়ালাম, কানাড়া, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ভাষার প্রচলন আছে। রাজ্য বিভাজনে ভারতের সর্বাধিক (১০.৫৬%) বাণিজ্যিক সংস্থান এ রাজ্যে।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ ভারতের কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখা। বিশেষত ভারতের স্বাধীনচেতা সুলতান নিজামূল মূলক খ্যাত টিপু সুলতানের স্মৃতিমাখা ভ্যেলুর দুর্গ দেখার।

চেন্নাই শহর থেকে ১৪০ কি.মি. দূরে ভ্যেলুর জেলা। গাড়ি ও ট্রেন দুটোই পর্যাপ্ত পাওয়া যায়। স্থানীয় জনগণ ট্রেনেই বেশি যাতায়াত করে। কারণ ভারতীয় সংস্কৃতির যাতায়াত ব্যবস্থা এখনও ট্রেন মূল মাধ্যম। এছাড়া ব্যয় কৃচ্ছতার প্রতি ভারতীয়দের নজর তো নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাঙালি হিসেবে আরাম ও ঝঞ্ঝাট এড়াতে আমাদের ট্যাক্সিতে ২০০০/- রুপি দর নির্ধারণ করে যাত্রা শুরু করি। চলার রাস্তা কখনও মসৃণ কখনও ভাঙাচোড়া। তবে ট্যাক্সির গতি দ্রুত। কারণ ড্রাইভারের তাড়াতাড়ি পৌঁছুনোর চোখে দৃষ্টিকাড়া কিছু পড়ল না। বরং দূরের পাথুরে পাহাড় গরমে বৃক্ষশূন্য- একেবারে খড়খড়া। রাস্তায় যাদের দেখলাম তারা বেশিরভাগ ভারতীয় তামিল। গরমে মানুষ ও গোয়ালের গরু পর্যন্ত মধ্য রাতের রাস্তায়। ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অবিরাম ট্যাক্সির চাকা ঘুরে ভ্যেলুর শহরে ট্যাক্সি স্থির হলো। কাতর-কান্ত শরীরে হোটেলের বিছানায় শরীরকে সমর্পিত করলাম। ভোরে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত খাবার দোসা নিয়ে প্রাতঃরাশ সেরে সোজা হোটেল লেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বের ভ্যেলুর দুর্গে।

চতুর্ভুজ আকৃতির এই দুর্গটি ভারতের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের দেশের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের মতো শুধু একটি সাইনবোর্ড দিয়েই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বের যবনিকাপাত করা হয়নি। ছোট অফিস করে প্রতিনিয়ত মনিটর করা হচ্ছে দুর্গের রক্ষণাবেক্ষণ। কারণ ভারতীয়রা জানে তাদের প্রত্নসম্পদ তাদের প্রাণ ভোমড়া। এ সম্পদ একবার লয় হলে পুনঃনির্মাণ বা পুনঃস্থাপন সম্ভব নয়। তাই সব প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা দিয়ে রক্ষা করায় উদ্যোগী সর্বক্ষণ। দুর্গের প্রবেশদ্বারে শ্বেত পাথরের খোদাই করা তথ্য থেকে জানা গেল-

১৫৫৬ সালে বিজয় নগরের রাজা ভ্যেলুর ফোর্ট নির্মাণ করেন। এই দুর্গ নির্মাণের পর আশপাশের বনজঙ্গল পরিষ্কার করে ভ্যেলুর শহরের গোড়াপত্তন করা হয়। ইতিহাসের পট পরিবর্তনে এই দুর্গ মহারাজ বামেনি কর্ণাটক নগর মুঘল ও সর্বশেষ ব্রিটিশদের দখলে আসে। মুঘলরা উত্তর থেকে সৈন্য বাহিনী দক্ষিণে প্রেরণ করলে মহারাজ বামেনি প্রবল প্রতিরোধ করেও ভ্যেলুর ফোর্ট রক্ষা করতে পারেনি। ১৭৬০ সালে এই দুর্গ ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৭৮০ সালে টিপু সুলতানের পিতা হায়দার আলী এই দুর্গে সমরাভিযান চালায়্ টিপু সুলতান তাঁর পিতার কাক্সিক্ষত ভ্যেলুর ফোর্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারেনি। টিপু সুলতানের মৃত্যুর পর ১৭৯৯ সাল থেকে ১৮০৬ সাল পর্যন্ত ভ্যেলুর ফোর্টে তাঁর মা, স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা বন্দি ছিলেন। ১৮০৬ সালের টিপু সুলতানের পুত্র ও কন্যাকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। টিপুর মা ও স্ত্রী ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত এই দুর্গের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি থেকে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সমাধি দুর্গের পশ্চিমপাশে এখনও বিদ্যমান। এই দুর্গে লংকার রাজা শ্রী বিক্রমাসিংহও বন্দি ছিলেন। সময় বিভাজনে এই দুর্গ ১৫৫৬-১৬৭৮ পর্যন্ত বিজয়নগর রাজা, ১৬৭৬-১৭০৭ পর্যন্ত মারাঠা, ১৭০৭-১৭৬০ মুঘল, ১৭৬০-১৯৪৭ ব্রিটিশদের দখলে ছিলো। এই দুর্গ ঘিরে ইতিহাসের নামা স্মারক নিকটস্থ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

দুর্গটিকে ভারতের তৎকালীন একটি সামরিক নিরাপত্তা স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলেও এ কথার প্রমাণ মেলে। দুর্গের চারপাশে গভীর ও প্রশস্ত ক্যানেল তৈরি করা হয়েছে। দুর্গের প্রধান প্রচীর প্রায় ৪০/৫০ ফুট উঁচু। খাঁজকাটা ও শক্ত গ্রানাইট পাথরে তৈরি। দূরের শত্রুদের অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাচীরের ফাঁকে ফাঁকে রক্ষীদের অবস্থান করার কৌশলী বেদি। আবার বহির্শত্রুর আক্রমণ থেকে দুর্গের রক্ষীদের রক্ষার জন্য রয়েছে তাদের অবস্থানের চারপাশে দেয়াল কিংবা লোহার বর্ম।

ভ্যেলুর দুর্গ নির্মাণে এত বেশি বিষয়কে বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল যা আজও বিস্ময়। তৎসময়ে যেহেতু আকাশপথে আক্রমণের কোনো সুযোগ ছিল না তাই স্থলভাগের কোনো মাধ্যমেই যেন বহির্শত্রু দুর্গের ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়টির প্রতি নজর ছিল বেশি। দুর্গের ভিতর বাইরের এক-তৃতীয়াংশ শক্তি নিয়ে আক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।

মূল প্রাচীর এতটাই পুরু যে তৎসময়ের কোনো সমরাস্ত্রের আঘাত প্রাচীরকে ভেদ করার সক্ষমতা ছিল না। দ্বিস্তর নিরাপত্তার জন্য প্রাচীরের উপরে প্রায় ২০ ফুট পাকা রাস্তাÑ যাতে দুর্গের রক্ষীরা দ্রুত সমরাস্ত্র নিয়ে চলাচল করতে পারে। অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য মূল প্রাচীরের ভিতর পাকা রাস্তার পাশে ৪/৫ ফুট উঁচু দেয়ালের আরেকটি বলয় তৈরি করে এর ভিতর আরেকটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সম্ভবত কোনো কারণে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা ভেঙে গেলে দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবস্থ্ াঅর্থাৎ কোনো আকস্মিক আক্রমণে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রক্ষা না হলেও কিছুটা সময় নিয়ে দুর্গের রক্ষীরা নিজেদের রক্ষায় দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় ব্যবহার করতে পারবে।

ভ্যেলুর  দুর্গে নির্মাতারা নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন নানা আঙ্গিকে। দুর্গের উপরে ওঠার সিঁড়ির খোঁজ বাইরের লোকদের হদিস পাওয়া দুষ্কর। হুট করে যে কেউ দুর্গের উপরে উঠতে পারবে না। দুর্গের বহিরাঙ্গন পর্যবেক্ষণের স্থানগুলোও খুব মাথা খাঁটিয়ে বানানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গের মূল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে পিছনে অথচ এই পর্যবেক্ষণ স্থান থেকে চারপাশ অনায়াসে অবলোকন করা যায়। কিন্তু যারা এই স্থান থেকে বাইরের সবাইকে দেখছে তাদের আক্রমণ তো দূরের কথা তাদের টিকির খোঁজ পাওয়াও দুরুহ। আজ থেকে সাত/আটশত বছর পূর্বে দুর্গ নির্মাণে এতটা দূরদর্শিতা এতটা আধুনিকতার ছাপ কমই লক্ষ্য করা যায়।

দুর্গের ভিতরেও সুপ্রশস্ত জায়গা থাকলেও নিরাপদে অবস্থানের জন্য রয়েছে ব্যবস্থা। যাতে দুর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হলে ভিতরে অবস্থান করা মানুষদের খোঁজ পাওয়া যাবে না।

বাইরের খোলা প্রান্তর, পরিখা খনন করে সুরক্ষা ভিতরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সবই দক্ষতার পরিচায়ক। সেই দক্ষতার পরিচয় এখনও প্রাসঙ্গিক। তাই এই দুর্গের সংলগ্ন স্থানে পুলিশ ট্রেনিং কেন্দ্র স্থাপন করে এখনো এই দুর্গ সম্পর্কে নিরাপত্তা রক্ষীদের জানানো হয়।

দুর্গ নির্মাতারা নিরাপত্তার ঘোরে নিবিষ্ট থাকলেও দুর্গের সৌন্দর্য সাধন করেছেন সমতালে। আধুনিক নির্মাণ কৌশলের সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে কীভাবে নির্মিত হলো এমন দুর্গ তা শুধু ভাবায় দুর্গের সামনে দাঁড়ালে। কোনো কুল-কিনারা মিলে না!

১৩ শতকের তৈরি দুর্গের পাথর ফেলা রাস্তা আজও, ঝড়, বৃষ্টি, বাদলে অক্ষত। কীভাবে গ্রানাইট পাথর কেটে সমান করে পরপর বসিয়ে সারি তৈরি করে জোড়া লাগানো হয়েছে! এ রকম শত শত প্রশ্ন ভিড় করে মাথায়। এসব প্রশ্নের জট হয়তো আজও খুলতে পারবে না আধুনিক স্থাপত্যবিদরা।

দুর্গের সামনে বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে খুঁজতে ছিলাম মহিশুরের শেষ নৃপতি টিপু সুলতানের ভাগ্যবিড়ম্বিত পরিবারের সদস্যদের। যাঁদের এখানে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছিল। দুর্গের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকলেও টিপু সুলতানের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা দেয়নি বেনিয়া ইংরেজরা। টিপু পরিবারের আর্তনাদ অনুভূত হয় এখনও দুর্গে দাঁড়িয়ে এর ইতিহাসের খেরোখাতার পাতা উল্টালো।

জালাকান্দেসরার মন্দিরে এক বিকেলে

ভারতের শত-সহ¯্র বছরের মন্দিরগুলো ভারতের ঐশ্বর্য। ভারতের গর্ব এসব মন্দির। তাই পশ্চিমের সোনালি চুল আর নীল চোখের মানুষগুলোও ভারতের মন্দিরগুলোর সৌকর্য্য দেখে অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকে।

বিশ্বমানবসভ্যতার পরস্পরার ইতিহাসের খেরোখাতার বিশ্লেষণ ভারত ব্যতীত সম্ভব নয়। সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে পুরাতন ভারতীয় মন্দিরগুলো দক্ষিণাত্যেই বেশি। দক্ষিণাত্যের মন্দিরগুলো আদি দ্রাবিড় সমাজের পরিচয়কে তুলে ধরে। দক্ষিণ ভারতের মানুষ আদি দ্রাবিড় বলে পরিচিত। মন্দিরময় তামিলনাড়–কে অনেকে মন্দিরময় দক্ষিণীদেশ বলে অভিহিত করেন।

খ্রিষ্টের জন্মের কয়েকশ’ বছর আগেই তামিলনাডু অঞ্চলে মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। মৌর্য স¤্রাট অশোক দাক্ষিণাত্যের কিছু অঞ্চল জয় করেন। সেই সময় থেকে এ অঞ্চলের লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়। ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় চানক্য, পল্লব, রাষ্ট্রকুট, চের, চোলসহ অনেক রাজবংশ এখানে শাসন বিস্তার করেন। মুঘলদের সময় দক্ষিণাত্যের বিজয়নগর সামাজ্য মুঘলদের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে যখন ইউরোপিয় শক্তিগুলো এই অঞ্চলে আসতে শুরু করে তখন নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রামের ক্ষমতা দক্ষিণের রাজন্যবর্গের আর ছিল না। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারত ব্রিটিশদের অধীনে চলে যায়। ১৯৪৭ এ ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলে ভাষার বিভাজনে দক্ষিণ ভারত তামিলনাডু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা রাজ্যে বিভক্ত হয়।

এই রাজ্যের মানুষের মধ্যে ভক্তিপ্রবণতা অধিক। দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য, ভাস্কর্য এবং চিত্রশিল্পের সম্ভার। প্রাচীন রাজেন্দ্রবর্গÑশিল্পী, ভাস্করদের উচ্চ সম্মান দিতেন। তাই দক্ষিণ ভারতে মন্দিরকেন্দ্রিক দেব-দেবীর ভক্তিবাদের চর্চা বেশি।

আমাদের ভ্রমণ দল তামিলনাডু রাজ্যের জালাকান্দেসরা মন্দিরের সামনে বিলম্বিত দুপুরে হাজির হলো। মন্দিরের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা কিছুক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলাম। কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া পাঁচ-ছয়শত বছর পূর্বে এমন দশতলা উঁচু সমান ফটক তেরি করা হয়েছে! শুধু উচ্চতার কথা বলব কেন, কেমনে অত উঁচুতে নিখুঁত ও সূক্ষ্ম কারুকাজে দেব-দেবির মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে! ভাবনার তল যেন অতলে হারিয়ে যায়।

মন্দিরের প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের ফুল ছুইয়ে আর আগুনের উত্তাপে পবিত্র করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। আমিও অন্যদের অনুকরণে ফুল-আগুনকে স্পর্শ করে পায়ের জুতা রেখে প্রবেশ করলাম। সিঁড়ি বেয়ে মূল ফটকে যে নিরাপত্তা গেট দেখলাম তা একেবারে দুর্গ সদৃশ। এরপর অন্য দর্শনার্থীদের পিছনে ভিতরে প্রবেশের জন্য ধীরলয়ে এগোতে থাকলাম। যতই সামনে যাচ্ছি ততই ধূপের গন্ধ আচ্ছন্ন করছিল। এবার মূল মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে দেখলাম প্রাঙ্গণটা অনেক বড়। ভিতরের চারপাশে নানা দেব-দেবির মূর্তিতে ভরপুর। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার।

জালাকান্দের মন্দির সম্পর্কে মিথ আছে যে- এক বিশাল পিঁপড়ার পাহাড়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। বৃষ্টির পানি দ্বারা এই পিঁপড়ার পাহাড় বেষ্টিত ছিল। এই পানির মধ্যে মন্দিরের শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ১৫৫০ শতকে ‘নায়কা’ নামক একজন সাধক এই মন্দির স্থাপন করেন। তামিল ভাষায় ‘জালাম’ বলতে শিবলিঙ্গকে বোঝায়। এজন্যেই নাম হয়েছে জালাকান্দেসর মন্দির। জালাকান্দেসর তামিল ভাষায় অর্থ এখানে প্রভু শিব বাস করেন। বিজয়নগরের রাজা সদাশিবদেব মহারাজার সময়ে এই মন্দির স্থাপিত হয়েছিল। বর্তমানে মন্দিরের সাজ-সজ্জায় আদি প্রচলিত মিথের তেমন কোন উপকরণ নেই। তবে ভিতরে একটা মধ্যম আয়তনের জলাধার আছে। আর শিবলিঙ্গটি মন্দিরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণায় একটা ঘরে স্থাপন করা আছে। শিব মন্দির ঘিরে কয়েকজন পুরোহিত বসে আছে। এদের গড় ওজন ১৫০-২০০ কেজি হবে। পুরোহিতদের ওজনের কারণে ঘাড় নাড়ানোই দায়। শুধু দর্শনার্থীদের দিকে চেয়ে থাকে। কখনও অতিকষ্টে হাত উঁচু করে। মন্দিরে শিবলিঙ্গ ছাড়াও নানা দেব-দেবী স্থাপন করা আছে। পূজারীরা নিজেদের পছন্দমতো ভক্তি জানাচ্ছে দেব-দেবীকে। মন্দিরের প্রসাদ সবার জন্য উন্মুক্ত। শুধু একটু নিয়মের মান্যতা করে লাইনে দাঁড়াতে হয়।

জালাকান্দেসর মন্দিরের বিভিন্ন দেওয়াল ও খামের কারুকাজ মানুষের শৈল্পিক সৃষ্টির এক বিস্ময় আখ্যান। শুধুই কী মানুষ এসব করেছে নাকি দেব-দেবীরাও এসব সৃষ্টিতে হাত লাগিয়েছিল সে প্রশ্ন সাধারণ দর্শনার্থীদের মনে জাগতেই পারে। মন্দিরের প্রতিটি দেব-দেবী নিশ্চুপ ধ্যানে বসে আছে। যেন বড় বড় ডেবডেবা চোখ দিয়ে আপনাকেই পর্যবেক্ষণ করছে।

জালাকান্দেসর মন্দিরসহ ৮টি স্থাপত্য তামিলনাডু রাজ্যের ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে।

ভারতবর্ষ নানা সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বহির্শক্তির আক্রমণে আক্রান্ত হলেও শত্রুরা ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য ধ্বংসে মত্ত হয়নি। তাই আজও দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়–র জালাকান্দাসর মন্দিরের মতো অনেক মন্দিরসহ নানা স্থাপনা বিশ্বঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই তামিলনাডু রাজধানী চেন্নাইÑ এ প্রথম পর্তুগিজরা ১৫২২ সালে ভিত্তিস্থাপন করে। ১৬২২ সালে ডাচদের নিয়ন্ত্রণে আসে এই স্থান। ১৬৩৯ এ তৎকালীন মাদ্রাজ বর্তমানে চেন্নাই তটের ছোট গ্রাম করমা-লে তরী ভেড়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির। তামিলনাডুর রাজধানী চেন্নাই এ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আসে ১৭৪৯ সালে। ইংরেজরা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি স্থাপন করে এই অঞ্চলে ইংরেজ শাসনকে সুসংহত করে। বিভিন্ন দেশের ফিরিঙ্গি বেনিয়ারা ভারতবর্ষকে শাসন ও শোষণের তাপদাহে দগ্ধ করেছে কিন্তু ভারতের প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসের দিকে তাদের নজর পড়েনি বলে রক্ষে। তাই আমরা জালাকান্দেসর মন্দিরকে চোখের আলোয় দেখতে পেলাম।

বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের সময়ে এখনও মানুষ বিশ্বাস ও ভক্তি ভরে জালাকান্দেসর মন্দিরের মাটির প্রদীপে হাত রাখে প্রার্থনা মঞ্জুরের নিমিত্তে। জানি না এতে কী… আছে কিন্তু মানব মনের বিশ্বাসের শক্তির প্রাবল্য দেখে অভিভূত হবেন আপনিও।

একটি বিষয় বড়ই পীড়া দিয়েছে। মন্দিরের ভিতর দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুভেনিয়রের দাম অত্যধিক। মন্দির কর্তৃপক্ষের বিষয়টি নজর রাখা উচিত।

ভারত সরকার সর্বশেষ ১৯৮১ সালে জালাকান্দেসর মন্দির সংস্কার করেন। বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। এই মন্দির পূজার জন্য সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত।

জালাকান্দেসর মন্দির ছাড়াও কাপালিশ্বরের মন্দির, পার্থসারথী মন্দির, কাঞ্চিপুরন, কামাক্ষাদেবীর মন্দিরসহ অসংখ্য মন্দির আছে তামিলনাডুতে। এছাড়া শৈলশহর, সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন ধর্মের তীর্থস্থান রয়েছে তামিলনাডু রাজ্যে।

ভ্যেলুর দুর্গের আঙ্গিনায় স্থাপিত জালাকান্দেসর মন্দিরকে বেশ অপরূপ দেখায় গোধুলি বেলায় পাশের দুর্গের উঁচু স্থান থেকে দেখতে। দূর থেকে মন্দিরের উঁচু দেয়ালে স্থাপিত দেব-দেবতারা সন্ধ্যা-আলোয় যেন পাহারা দেয় মন্দিরকে। মন্দিরের ধূপ আগরবাতির গন্ধ সন্ধ্যার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতার আভা ছড়ায় সারা শহরে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares