প্রবন্ধ : পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য

প্রবন্ধ

রাধারমণের লোকগীতিতে প্রেম ও আধ্যাত্মিকতা

পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য

বৈষ্ণব সাধন ঘরানার প্রতিনিধি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ জন্মগ্রহণ করেন ১২৪০ বঙ্গাব্দে বা  ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামে। তিনি নিজ জন্মস্থান কেশবপুরে ১৩২২ বঙ্গাব্দের ২৬ কার্তিক (১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে) শুক্রবার  শুক্লপক্ষে পরলোকগমন করেন। মৃত্যুর পর কেশবপুরে তাঁর মরদেহ দাহ করা হয়। সেখানে ‘রাধারমণ সমাধি মন্দির’ তৈরি হয়েছে। এ স্বল্পপরিসরের লেখায়  রাধারমণের  গুণের পরিচয় পুরোপুরিভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তারপরেও যতোটুকু সম্ভব তুলে ধরা হলো। সেগুলো হলো- বৈষ্ণব কবি, প্রেমের কবি, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, লোকসাহিত্যের দিকপাল, লোকসংগীতের রসরাজ, সাধক কবি, মরমি কবি, জীবনের কবি, যৌবনের কবি, সৌন্দর্যের কবি, লোককবি, বাউল প্রভৃতি। রাধারমণের লোকগীতিতে যেমনি করে ফুটে উঠেছে মানবপ্রেম তেমনি প্রস্ফুটিত হয়েছে আধ্যাত্মিকতা। তাঁর প্রতিটি মানুষের প্রতি ছিল মমত্ববোধ।

সুনামগঞ্জ জেলা এক সময় সিলেটের মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালে সুনামগঞ্জ জেলায় পরিণত হয়। এ জেলাটি  ভাটিবাংলা ও ফোকলোরের ভা-ার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। সুনামগঞ্জের ভালো লাগার দুটো বিষয় হলো- নদী ও হাওর। প্রধান নদী সুরমা। তাছাড়া রয়েছে কালনি, নলজুর, বৌলাই, রক্তি, জাদুকাটা, মহাশিং, পিয়াইন, কুশিয়ারা, বিবিয়ানা সহ ২৫টি নদী। ছোট বড় মিলে প্রায় ১০০০ হাওর রয়েছে। যেমন- মাটিয়ান (আঞ্চলিক ভাষায় মাটিয়ার) হাওর, দেখার হাওর, কাংলার হাওর, শনির হাওর, সমসা হাওর, চুনখোলা হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর প্রভৃতি। সবচেয়ে বড় হাওর হলো টাঙ্গুয়ার হাওর। এই হাওরের প্রাকৃতিক শোভা মনোমুগ্ধকর। এক অপরূপ জনপদ হলো সুনামগঞ্জ। এই জেলায় অনেকেই গান লেখেন ও গান গাইতে ভালোবাসেন। ২০০ জনের বেশি কবির নাম পাওয়া যায়, যাঁরা গান রচনা করেছেন। তাঁরা হলেন- হাসন রাজা, বাউল সম্রাট শাহ্ আবদুল করিম, দুর্বিন শাহ্, সৈয়দ শাহ্নুর, আছিম শাহ্, কালা শাহ্, কামালউদ্দীন, একলিমুর রাজা চৌধুরী, গণিউর রাজা চৌধুরী, দীননাথ বাউল, গিয়াসউদ্দীন আহমদ, মকদ্দস আলম উদাসী প্রমুখ। তাঁরা মরমি কবি হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ বলেন বাউল কবি বা লোককবি। সুনামগঞ্জে সাধক কবি, মরমি কবি, মরমি শিল্পী ও বাউল সম্রাট জন্ম নেয়ার পাশাপাশি অনেক অলি, আউলিয়া, পির দরবেশ ও সাধু-সন্ন্যাসী জন্মেছেন। সুনামগঞ্জ হলো মরমি ভাবপ্রবণতার ধন্য ক্ষেত্র। ফলে সেই ভাটিঅঞ্চলের জনগণের মনমানসিকতা জলকেন্দ্রিক। যে-জল গতিশীলতার চেয়েও বেশি থিত হয়। যোজন যোজনব্যাপী ভাবুকতার লেশময়তায় বিছিয়ে থাকে। দুটো চোখ যখন অবারিত হয়ে প্রকৃতির এই লীলাময়তায় চাখতে থাকে তখন তার মধ্যে  অবধারিত ভাবেই জেগে ওঠে এক মরমি ভাবাবেশ।

‘সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৪৪ কিলোমিটার সড়কপথে জগন্নাথপুর উপজেলায় যাওয়া যায়। এছাড়া সিলেট শহর থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা হয়ে জগন্নাথপুর যাওয়ারও সড়ক রয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার ‘কেশবপুর’ কবি রাধারমণের  জন্মভূমি। এটি বর্তমানে জগন্নাথপুর পৌরসভার অধীন। জগন্নাথপুর শহর থেকে কেশবপুর- রসুলগঞ্জ সড়কের কেশবপুর বাজার হতে প্রায় ১ কিলোমিটার গ্রামের ভিতরে গেলে দেখা যাবে কবির সমাধিমন্দির। জগন্নাথপুর শহর থেকে সড়কপথে পায়ে হেঁটে বা যেকোনো যানবাহনে কবির সমাধিস্থলে যাওয়া যায়। ‘মরমি কবি রাধারমণের সমাধি’ নামে একটি নামফলক কেশবপুর বাজারের মোড়ে দিক-নির্দেশ করে দেয়া আছে। জগন্নাথপুর শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে নলজুর নদী। এখন সরু হয়ে গেলেও কবির জীবিতকালে এই নদীতে খুব স্রোত ছিল। এছাড়া একসময় বিবিয়ানা, কুশিয়ারা নদী এই এলাকায় বেগবান ছিল, যা এখন নেই। নদী ছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত মাটিয়ান হাওর, সমসা হাওর, চুনখোলা হাওরসহ বেশ কয়েকটি হাওর। এই নদী, এই হাওর আর জলজ আবহাওয়ায় কবি রাধারমণের শৈশব, কৈশোর ভালোভাবেই কেটেছে। এই সুন্দর প্রকৃতি যেন কবিকে আরও ভাবপ্রবণ করে তুলেছিল।’

(সূত্র : মোহাম্মদ আলী খান : মরমি কবি রাধারমণ দত্ত, পৃষ্ঠা-১০)।’

রাধারমণের জীবনী উল্লেখ করলে দেখা যায় তাঁদের পূর্বপুরুষের জন্মস্থ্ান ভারতের বীরভূম জেলায় সপ্তগ্রামে। তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কেউ অবিভক্ত ভারতে ও ছোট ছোট খ- রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাধারমণ রাজবৈদ্য চক্রপাণি দত্তের বংশোদ্ভূত। রাজবৈদ্য চক্রপাণি দত্ত গুণীজন ছিলেন। তিনি দুটো টীকাভাষ্য রচনা করেন। সে দুটোÑ‘আয়ুর্বেদ দীপিকা’ ও ‘ভানুমতী’, ‘শব্দচন্দ্রিকা ’, ‘দ্রব্যগুণ সংগ্রহ’ ও ‘চিকিৎসা সংগ্রহ’।’

(সূত্র : মুকিদ চৌধুরী : রাধারমণ দত্ত : প্রেম-বিরহ ও আধ্যাত্মিকতার রূপকার, নবপর্যায়ে ৬১তম সংখ্যা, মাসিক উত্তরাধিকার,পৃষ্ঠা-২১)

রাজবৈদ্য চক্রপাণি দত্তের ঠাকুরদাদা নরহরি দত্ত ছিলেন বঙ্গ-মগধের  মহারাজাধিকার মহীপাল দেবের রাজবৈদ্য। তাঁর বাবা নারায়ণ দত্ত ছিলেন বঙ্গ-মগধের মহারাজাধিকার জয়পাল দেবের ‘রসবত্যধিকারী ’। ‘শ্রীহট্টের ’ (অধুনা সিলেট) রাজা প্রথম গোবিন্দকেশব দেবের চিকিৎসা করার জন্যে চক্রপাণি দত্ত প্রথম শ্রীহট্টে এসেছিলেন ১০৪৯ খ্রিস্টাব্দে। সে সময়ে গোবিন্দকেশব দেব অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভ করলে তাঁকে প্রীত হয়ে একটি অঞ্চল (ভূসম্পত্তি) দান করেন। সপ্তগ্রামের নামানুসারে সে স্থানটির নাম করা হয় ‘সাতগাঁও’। কিন্তু কিছুদিন পরে রাজবৈদ্য চক্রপাণি দত্ত সপ্তগ্রামে ফিরে যান। তাঁর ৩ পুত্রের মধ্যে মেজো পুত্র মহীপতি ও কনিষ্ঠ পুত্র মুকুন্দ দত্ত ‘সাতগাঁও’ এ আবাসস্থল গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে তাঁদের বংশধর শ্রীহট্টে বিস্তার লাভ করে।

রাধারমণের পরিবারের ঐতিহ্য ছিলো আলোকিত। তাঁর ৩ জন পূর্ব পুরুষের নামে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩টি গ্রামের নামকরণ করা হয়। গ্রামগুলো হলোÑ জগন্নাথপুর, প্রভাকরপুর ও কেশবপুর। রাধারমণের বাবা খুব গুণী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর বাবার নাম রাধামাধব দত্ত পুরকায়স্থ। তিনি জগন্নাথপুরের কেশবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। রাধারমণের মায়ের নাম শ্রীমতী সুবর্ণা দেবী। বৈষ্ণব-সহজিয়া দর্শনে দীক্ষিত তাঁর বাবা ছিলেন বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় সুপ-িত।  তাঁর বাবার সহজিয় গান অত্যন্ত চমৎকার ছিল। রাধারমণের বাবা বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ছিলেন কবি ও অনুবাদকও। মহাকবি  জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের স্বছন্দ টীকাভাষ্য রচনা করেন। ‘কৃষ্ণলীলার গীতিকাব্য’, ‘পদ্মপুরাণ’, ‘সূর্যব্রত পাঁচালী’, ‘গোবিন্দ ভোগের গান’ প্রভৃতি বই তাঁর লেখা। তাছাড়াও রাধারমণের বাবা সংস্কৃত ভাষায় কয়েকটি বই রচনা করেছেন। যেমন : ‘ভারত সাবিত্রী’ ও ‘ভ্রমরগীতিকা’ উল্লেখযোগ্য। রাধারমণের পিতার সঙ্গীত ও সাহিত্য সাধনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। রাধারমণ দত্তরা ছিলেন ৩ ভাই। তাঁর ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। রাধারমণ শৈশবকালে অর্থাৎ ১০ বছর বয়সে তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। ১২৫০ বঙ্গাব্দে রাধারমণের বাবা পরলোকগমন করেন। তাঁর মা সুবর্ণা দেবীর আদর ও যত্নে তিনি বেড়ে ওঠেন।

১২৭৫ বঙ্গাব্দে রাধারমণের শুভ পরিণয় হয়, মৌলভিবাজার জেলার সদর উপজেলার আদিপাশা গ্রামের শ্রীচৈতন্যদেবের অন্যতম পার্ষদ সেন শিবানন্দ বংশীয় নন্দকুমার সেন অধিকারীর কন্যা গুণময়ী দেবীর সাথে। রাধারমণ-গুণময়ী দেবীর ৪ পুত্র সন্তান ছিলেন। তাঁর সন্তানেরা হলেন- রাজবিহারী দত্ত, নদীয়াবিহারী দত্ত, রসিকবিহারী দত্ত ও বিপিনবিহারী দত্ত। বিপিনবিহারী দত্ত ব্যতীত স্ত্রী এবং তিন সন্তান অকাল প্রয়াত হয়। বিপিনবিহারী দত্ত পরে তাঁর মামার বাড়ি মৌলভীবাজারের ভূজবলে গিয়ে থেকে যান। তিনিও রাধারমণের জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন। রাধরমণের  সংসারে স্ত্রী ও তিন পুত্রসন্তানের প্রয়াণের পরে, সংসারে জনশূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় তাঁকে এ যন্ত্রণা সংসারজীবনে উদাস করে তোলে। রাধারমণ ১২৯০ বঙ্গাব্দে মৌলভিবাজার জেলার ঢেউপাশা গ্রামে, সাধক রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের আশ্রমে চলে আসেন। সে আশ্রমে  এসে রঘুনাথ বাবুর কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেন। তারপর শুরু হয় তাঁর বৈরাগ্য জীবন। শুরু করেন সাধন-ভজন। সে-সময় জীবনজিজ্ঞাসা তাঁকে গৃহত্যাগ করার মাধ্যমে জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তর্গত নলুয়ার হাওরের পাশে একটি আশ্রম তৈরি করতে অনুপ্রেরণা জোগায়। রাধারমণের পরম প্রিয়কে পাওয়ার দুরন্ত বাসনাই তাঁকে গৃহ ছাড়তে বাধ্য করে। তাঁর আশ্রমে চলে সাধন-ভজন। কবি নিজেই গেয়েছেন :

‘শ্যামের বাঁশিরে ঘরের বাহির করলে আমারে

যে যন্ত্রণা বনে যাওয়া গৃহে থাকা না লয় মনে ’ ॥

 

রাধারমণের গানে জীবনতত্ত্ব ও জীবন-কর্মের এক গভীর একত্ববোধ, তাঁর মনন ও মনুষ্যত্ব বোধ গঠনের ভিত্তি ফুটে ওঠে। তিনি বাঙালি জীবনচর্চিত সকল দর্শনকেই অধ্যয়ন করেন। যেমন : শাক্ত, শৈব, সহজিয়া ও বৈষ্ণব বিভিন্ন মতবাদ। তাঁর কঠোর অনুশীলন জীবনদৃষ্টিভঙ্গিতে একত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়, যা তাঁর  গীতসম্ভারও সুরে প্রতিফলিত হয়েছে। রাধারমণ হলেন ধামাইল গানের প্রবক্তা। আজ সারা বিশ্বে রাধারমণের  ধামাইল গান ব্যাপক জনপ্রিয়।  ধামাইল শব্দের অর্থ হলো রাধারমণের ধামালি গান। অল্প সংখ্যক ধামাইল গান অন্যেরা রচনা করেছেন। বর্তমানে গান রচনা করার অনেক মাধ্যম রয়েছে। তারমধ্যে কাগজ-কলম,ল্যাপটপ,কম্পিউটার,নোটবুক, মোবাইল প্রভৃতি।  রাধারমণের যুগে কাগজ কলমের পাশাপশি বট-পাকুর ও অশ্বত্থের পাতা প্রভৃতি ছিল। অথচ  রাধারমণ সাধানায় মগ্ন থেকে গান বেঁধেছেন, সুর করেছেন এবং গান গেয়েছেন। তাঁর ভক্তবৃন্দ শুনে শুনে গান মনে রাখতেন এবং লিখে রাখতেন। তিনি প্রায় ৩ হাজার গান বেঁধেছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ভোমর কইও গিয়া / শ্রীকৃষ্ণ বিচ্ছেদে রাধার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া ’ , ‘আমি রব না রব না গৃহে/ বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’, ‘সোনার ময়না ঘরে তইয়া বাইরে তালা লাগাইছে/ কোন রসিকে পিঞ্জিরা বানাইছে।’  ‘আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই গো/আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই।’, ‘আমি ডাকছি কাতারে/উদয় হওরে দীনবন্ধু হৃদয় মন্দিরে।’ ‘দয়াল বিনে বন্ধু কেহ নাই রে এ সংসারে/দয়াল বন্ধু কৃপাসিন্ধু বিপদভঞ্জন মূলাধার ’ প্রভৃতি। রাধরমণের গান রচনায় সুমধুর ধারাবাহিকতা রয়েছে। তাঁর গান রচনায় গতি যেভাবে এগিয়ে যায় তা তুলে ধরা হলো। তা হলো-বন্দনা, আহ্বান বা আসরস্তুতি, উদয়, বাঁশি, জলভরা, শ্যামরূপ, গৌররূপ, আক্ষেপ, বিচ্ছেদ, কুঞ্জ, মানভঞ্জন, মিলন, সাক্ষাৎ ও বিদায়  সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

রাধারমণের ধামাইল গান হলো লোকসংগীতভিত্তিক অঙ্গভঙ্গি করে একধরনের নাচ-গান। রাধারমণ ভাটিবাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ধামাইল লোকনৃত্যকে করেন উজ্জীবিত ও সঞ্জীবিত। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ এ সব কিছু পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তিনি রাধা কৃষ্ণের প্রেমকে উপজীব্য করে অনেক গান রচনা করেছেন। যেমন :

‘হরি গুণাগুণ কৃষ্ণ গুণাগুণ রাধা গুণাগুণ গাও হে

সদায় আনন্দ রাখিও মনে ’ ॥

বাউল কবি বা লোক-কবিদের গানের একটি সুন্দর দিক লক্ষ্য করা যায়। তা হলো যে, ভণিতাযুক্ত পঙ্ক্তি। ভণিতা মানে যিনি গান রচনা করেন, তাঁর নাম সাধারণত সংক্ষেপে গানের শেষাংশে দেয়া থাকে। ফলে গানের মধ্যেই পাওয়া যায় গান রচয়িতার নাম। যেমন :

‘নিতি নিতি ফুলের মালা জলেতে ভাসাই

আইল না পরানের বন্ধু কার গলে পরাই।

ভাইবে রাধারমণ বলে শোন গো ধনি রাই

পাইলে শ্যাম ধরব গলে ছাড়াছাড়ি নাই’ ॥

 

‘ভাইবে’ অর্থাৎ ভাবিয়া বা ভেবে। রাধারমণের গান যেমনি অনেক তেমনি তাঁর গানের বিষয়ও অনেক। তিনি অনেক ভক্তিমূলক গানও রচনা করেছেন। ‘ধামাইল গান ছাড়াও তিনি কীর্তন, গৌরপদ, গোষ্ঠ, অভিসার, মালসী, প্রার্থনা প্রভৃতি গান রচনা করেন।’

(সূত্র : বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান, পৃষ্ঠা-৪৮৩)

গ্রাম-বাংলার মাটি ও মানুষের সাধারণ জীবনগাথা, প্রেম-বিরহ, অনুরাগ প্রভৃতি তাঁর রচনায় সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। তাঁর শিশুকাল থেকেই মনের মধ্যে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল গ্রামীণ পরিবেশ, ধানক্ষেত, গাছপালা, ভাটিবাংলার দখিনা হাওয়া প্রভৃতি। রাধরমণের শৈশোব-কৈশোর কেটেছে নদী, হাওড় আর জলজ আবহাওয়ার মধ্যে। পারিবারিক পরিবেশে তাঁর ছোটবেলা কেটেছে আনন্দে। পরিবারের ভেতর এবং স্থানীয় পাঠশালায় শৈশব ও কৈশরে জ্ঞান অর্জনে তাঁকে সহায়তা সৃষ্টি করে। তিনি একটি শিক্ষিত পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর গানের ভাব, ভাষা, সুর অত্যন্ত মধুর যা যুগ যুগ ধরে টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে। যেমন :

‘কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া

অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া ’ ॥

 

রাধারমণের গানে  বাঁশি একটি আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে আছে। যেমন :

‘প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বাঁশি বাজায় কে।

বাঁশি বাজায় কে রে সখি, বাঁশি বাজায় কে ’ ॥

রাধারমণকে তাঁর গ্রামের সহজ-সরল জীবন, শান্ত, কোলাহলমুক্ত সমাজ আর পূজা-পার্বণে নানাবিধ অনুষ্ঠান খুব বেশি আলোড়িত করেছে। তবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ,উৎসব, ফুল-লতা, নদী, হাওড়, জলাভূমি, বিয়ের প্রসঙ্গ তাঁর গানে সুন্দরভাবে চিত্রিত হয়েছে। পূজা ও অন্নপ্রাশন উপলক্ষে রাধারমণের অনেক গান রয়েছে। তাঁর গানে নারী সমাজই সত্যিকার অর্থে প্রাণশক্তি। ধামাইল গান মেয়েলি অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বেশি গাওয়া হয়। কৃষিজীবী পরিবারে, দীর্ঘ অবসরে, লোকপার্বণে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে ধামাইল গান জমে ওঠে। এ গানের জন্যে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। আমাদের গ্রাম-বাংলার মেয়েরা গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগে রাধারমণের ধামাইল গান গেয়ে চলেছেন যুগ যুগ ধরে। রাধারমণের গান শিল্পীরা অনেক সময় গোল হয়ে নৃত্যের তালে তালে পরিবেশন করে থাকে। তাঁর ধামাইল গানে যেমনি রয়েছে বিষয়ের বৈচিত্র্য, তেমনি রয়েছে সুর ও ছন্দের মাধুর্য। তবে ধামাইল গানের একটি নিজস্ব গায়নরীতি রয়েছে। এ রীতি আঞ্চলিক জীবনধারা থেকে নেয়া হয়েছে। শিল্পীরা তালে তালে করতালি দিয়ে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে এ গান পেিবশন করেন। তাঁদের মুখে থাকে গানের কলি আর ছন্দে ছন্দে ফেলেন পা। হাতের মধ্যেও থাকে তাল, গতি ও মুদ্রা। ঢোল, করতাল প্রভৃতি এ গানের বাদ্যযন্ত্র। বাদ্যযন্ত্র ব্যতীত হাততালি দিয়েও এ গান গাওয়া যায়। বাজনার তালে তালে, সুরের তালে তালে ধামাইল গানের গতি বাড়তে থাকে। প্রথমে করা হয় বন্দনা- স্রষ্টার গুণগান। এটি তাল ছাড়া সুরে গাওয়া হয়। ধামাইল গানের গতি যেভাবে এগিয়ে যায় তা হলো-ক. বন্দনা, খ. আহ্বান বা আসরস্তুতি, গ. উদয়, ঘ. বাঁশি, ঙ. জলভরা, চ. শ্যামরূপ, ছ. গৌররূপ, জ. আক্ষেপ, ঝ. বিচ্ছেদ, ঞ. কুঞ্জ, ট. মানভঞ্জন, ঠ. মিলন, ড. সাক্ষাৎ ও ঢ. বিদায়  সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। রাধারমণের  ধামাইল গান সম্প্রীতির আবহ সৃষ্টির গান।

রাধারমণ তাঁর ধামাইল গানে বৃহত্তর শ্রীহট্টের আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন : আউয়া, আনাযানা, আরিপরি, উধান-মাধান প্রভৃতি। তিনি বৃহত্তর সিলেটের  আঞ্চলিক শব্দ তাঁর গানে ব্যবহার করেন। যেমন : ‘ জরে পেড়ে উগরাইয়া সায়রে ভাসাই’। এখানে ‘জরে পেড়ে’ আরও কিছু অর্থ সমূলে, ‘উগরাইয়া’ মানে উঠিয়ে বা উপড়ে ফেলে, ‘সায়রে’ মানে সাগরে। এ রকম আরও কিছু উল্লেখ করা যায় : কইরো (করিও), কাইড়্যা (ছিনিয়ে), চিনন (চেনা), তেজিমু (ত্যাগ করে), থইয়া (রেখে), পাহিবায় (পাবে), ফুকারিয়া (উচ্চস্বরে), বান্দি (বেঁধে), যাইবায় (যাবে), মনুয়া (মন), লামাইতে (নামতে), গইয়া (অতিবাহিত হয়), গিরে (গৃহে), কুনছে (কে), কুদাম (ধমক), খেমা (ক্ষমা), চারখানা (সতরঞ্জি), লাবজানি (কুকা-), হুনিয়া (শুনে), ভাইবে (ভেবে) প্রভৃতি। রাধরমণের গানে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে পরিবর্তন দেখা যায়, তা সহজে বোঝা যায়। যেমন : ‘নিভিয়াছিল> নিবিছিল, আঁখি > আঙ্খি, কোথায় > কুআই > কই, ভাবিয়া >ভাইবা  > ভাইবে প্রভৃতি।

রাধারমণের গানে ছন্দের প্রয়োগ অভিনব। তাঁর শব্দচয়ন যেমনি সুন্দর ও মধুর, তেমনি ছন্দও খুবই সুরেলা ও মাধুর্যে ভরা। একটি সহজাত ছন্দজ্ঞান রাধারমণের গানে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। পয়ার, ত্রিপদী, চৌপদী সব ছন্দেই ছিল তাঁর সহজাত বিচরণ। অলঙ্কার ব্যবহারেও রাধারমণ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। যেমন : ‘ঘরের মাঝে ঘর বেঁধেছে আমার মনোহরা’। তাঁর রচনায় তিনি যে, একজন বাউল কবি এটা স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। আসলে বাউল গানের সুরের কাঠামোটি আমাদের একেবারে আপন মনে হয় যা রাধারমণের ক্ষেত্রে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাউল গান সম্পর্কে খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। সেটি হলো-‘একবার যদি আমাদের বাউলের সুরগুলি আলোচনা করিয়া দেখি, তবে দেখিতে পাইব যে তাহাতে আমাদের সংগীতের মূল আদর্শটাও বজায় আছে, অথচ সেই সুরগুলি স্বাধীন।’

(সূত্র :  মোহাম্মদ আলী খান : মরমি কবি রাধরমণ দত্ত, পৃষ্ঠা-২৬)

রাধারমণের জীবনকালে- ‘সমগ্র বাংলায় চলছিল সামাজিক জাগরণ- পুনর্জাগরণের ঐতিহাসিক পালাবদল, যা কিছু পুরাতন-জীর্ণ সেসব অচলায়তন- আগল ভেঙে নতুনের জয়-জয়কার। তিনিও নিভৃত এক পল্লিতে ঔপনিবেশিক আধুনিকতার স্রোতের বিপরীতে বাংলার তথা ভারতবর্ষের চিরাচরিত প্রথানুযায়ী সাধন-মার্গে ব্যাপৃত ছিলেন। এখানেই তাঁর বিশিষ্টতা, একাগ্রতা আর মাহাত্ম্য নিহিত। কাগজ-কলম হাতে নিয়ে তিনি কখনওই তাঁর গীতসম্ভার রচনা করেননি। ভক্তবৃন্দ পরিবেষ্টিত অবস্থায় তিনি এসব পরিবেশন করতেন। তারপর শিষ্য-প্রশিষ্যগণ এসব মুখে মুখে শিখে নিতেন। এভাবেই সুদূরাতীতকাল থেকে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় যে জীবন-দর্শনচর্চার রীতি-পদ্ধতি বিকশিত হয়, এই বাংলায় সেই ঐতিহ্য অবলম্বিত, প্রতিফলিত হয় তাঁর জীবনে- গুরু আমায় উপায় বলো না, জন্মবধি কর্মপোড়া আমি একজনা/ (আমার) দুঃখে দুঃখে জনম গেল, সুখ বুঝি আর দিলায় না।’

(সূত্র : ড. মুকিদ চৌধুরী : রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ ও উত্তরাধুনিকতা, ঘুংঘুর, পৃষ্ঠা-৪৫)

রাধারমণের দর্শনের বিশেষ দিক হলো নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণে সাধনার কোনো বিকল্প নেই। সাধনার দ্বারা সিদ্ধিলাভ করা যায়। তাঁর গীতসম্ভারে উচ্চারিত হয়েছে-‘গুরু বিনে নাই রে আর’।  রাধারমণের গীতি-কবিতায় বারবার ধ্বনিত হয়েছে ষড়রিপু (কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য) বর্জন করে নিজেকে মায়াজাল থেকে মুক্ত করা। তাঁর কাছে গুরু পরমেশ্বর, শুধু গুরু আজ্ঞা পালন করে সহজিয়া সাধনার স্তর অতিক্রম সম্ভব। সহজিয়া-বৈষ্ণব দর্শনের আদি প্রবর্তকদের মতবাদের ধারাবাহিক উত্তরাধিকারী তিনি। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, বিষ্ণুদাস, জ্ঞানদাস, সিদ্ধ মুকুন্দদেব, গোবিন্দ অধিকারী, রাধাকৃষ্ণ চক্রবর্ত্তী, গোপাল ক্ষত্রিয়, কৃষ্ণদাস গোস্বামী, রঘুনাথ গোস্বামী, রায় রামানন্দ, স্বরূপ দামোদর ও শ্রীচৈতন্যদেবের সার্থক উত্তরাধিকারী হলেন রাধারমণ।

রাধারমণের লোকগীতিতে প্রেম ও আধ্যাত্মিকতা চমৎকার রূপে ধরা দেয়। তাঁর অন্তর্নিহিত প্রকাশই আমাদের বলে দেয়। সুদূরাতীতকাল থেকে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় যে জীবনদর্শন চর্”ার রীতি ও পদ্ধতি বিকশিত হয়, এ বাংলায় সে ঐতিহ্যের লালন ও প্রতিফলন হয় তাঁর জীবনে। যেমন : ‘গুরুর নামে ছাড়ো নৌকা কোন ভয় নাই/ওপারে কাণ্ডারী নিতাই, নিতাই বিনে কেউ নাই ’॥

রাধারমণ সহজিয়া-বৈষ্ণব দর্শন অনুসরণ করতেন। সহজিয়া-বৈষ্ণব দর্শন মতে কয়েকটি স্তর রয়েছে। প্রথম- নরই কৃষ্ণ, দ্বিতীয়Ñনারীই রাধা। যেমন : নররূপে নর, স্বরূপে কৃষ্ণ, তেমনি নারীরূপে নারী, স্বরূপে রাধা। প্রত্যেক নর এবং নারীকে স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সহজ মানুষ হওয়া কঠিন। তবে সামান্য ও বিশেষ মানুষ সর্বত্রই আছে। কিন্তু সহজ মানুষ সহজে দেখা যায় না। রাগানুরাগের ভজনে তাকে তিল তিল করে গড়ে তুলতে হয়। এ ছাড়াও সহজিয়া-বৈষ্ণব দর্শন মতে তৃতীয় স্তর হচ্ছেÑ‘সিদ্ধ’ প্রেম ও রসের আশ্রয়ে ইন্দ্রিয় সংযম করা, আত্মা ও দেহের কলুষ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে কামজয় করে কামকে বশীভূত করা। তাই তো রাধারমণ বিশ্বাস করতেন-‘মাইয়া কৃষ্ণ-ভজনের মূল, মাইয়ার প্রেম পাথারে সাঁতার দিয়ে অনায়াসে মিলবে কূল। রাধারমণ অনুভব করেছেন, মাইয়ার কাছে জগৎ ঘোরে কেহ তারে চিনতে না-  রে/মাইয়া যারে কৃপা করে সে জানে তার মনে কি সুখ। সহজ-রস আনন্দ চিনয় সহজভাবে নারী/প্রেমের উদয় সাধলে সিদ্ধ হয়। সমঞ্জুষা সাধারণী আত্মসুখের চিনয় রয়/যে-মাইয়া নব কৃষ্ণভজে সে-মাইয়া তো মাইয়া নয়। কৃষ্ণসুখে দেহ রেখে আহার নিদ্রা মৈথুন ভয়/শুদ্ধ মাইয়ার পঞ্চশত গুণ আটচল্লিশ লক্ষণা হয়।’

(সূত্র : মুকিদ চৌধুরী : রাধারমণ দত্ত : প্রেম-বিরহ ও আধ্যাত্মিকতা রূপকার, নবপর্যায়ে ৬১ তম সংখ্যা, মাসিক উত্তরাধিকার, পৃষ্ঠা-৩০)।

রাধারমণের লোকগীতিতে ভাটিবাংলার নিপীড়িত, নির্যাতিত এবং মেহনতি মানুষের প্রতি প্রেম ও দর্শন, তাঁর গানের মধ্যে সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তিনি ভাটিবাংলার সাধারণ মানুষের ব্যক্ত কথ্য আঞ্চলিক শব্দাবলিকে প্রাধান্য দেন। তাঁর দর্শনের মর্মবাণী হলো, মনুষ্যজন্ম দুর্লভ। মনুষ্যকুলে জন্মগ্রহণ করে জ্ঞান লাভ না করলে জীবনই বৃথা। তিনি আরও বলেছেন : ‘যদি জ্ঞান না হয় মনে,/ সেই জ্ঞানের ফল কিছু নাই রে’। রাধারমণের কাছে মানুষের হৃদয় হলো ‘তৃতীয় নয়ন’। সাধক কবিরা তৃতীয় নয়ন দিয়ে তিলক সাধনা করেন। তিলক সাধনা হলো সাধনার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ কামনা করা। রাধরমণ প্রেমতত্ত্ব শিক্ষার জন্যে গুরু মুখাপেক্ষী ও গুরুর পদাশ্রয়ী ছিলেন। তাইতো তিনি গেয়েছেন :

‘পিরিতের অভিলাষে আশ্রিত তোমার চরণ,

শিক্ষা দিয়া দীক্ষা দিয়া ভরাও শ্রী রাধারমণ।’

রাধারমণ তাঁর গানে বিদেশি শব্দও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন। যেমন : আইন, আদালত, নালিশ, ইন্সপেক্টর, ম্যানেজার, টেলিগ্রাম, পুলিশ, লালপাগড়ি, ইমান, কাজী, খালাস, গুনাহ, গিলটি, জেলখানা, মাস্তুল প্রভৃতি। বর্তমানে রাধারমণের গান বিদেশি ভাষায় অনূদিত হওয়ার ধারা চালু হয়ে গেছে। এটি সুসংবাদ সকলের জন্যে। দুটো উদহরণের মাধ্যমে দেখা যায়, প্রথমটিÑ‘সুনামগঞ্জ অফিসার্স ক্লাব থেকে যে বর্ণিল গ্রন্থ ‘মরমি গানে সুনামগঞ্জ’ (২০০২) বেরিয়েছে, সেখানে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, গানের ইংরেজি অনুবাদ, স্কেচ, অলংকরণসহ রাধারমণের ৯টি গান উজ্জ্বল হয়ে আছে।

(সূত্র  : মোহাম্মদ আলী খান : মরমি কবি রাধারমণ দত্ত, পৃষ্ঠা-২৮)

দ্বিতীয়টি-‘তাজিকিস্তানের বিখ্যাত শিল্পী নইজা কারুমাতুল্ল ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানটি আমাদের সুরে তাদের ভাষায় গেয়ে বিশ্ব আসর মাতিয়েছেন কিন্তু রাধারমণ ভক্ত বা দেশবাসী অনেকেই তা জানেন না। গানটির প্রথম দুটি চরণ নিম্নরূপ :

খুজই, খুজই, খুজ, বারান্দাই, সিকাআস্তাবলে…

রুই দোস্তয়া কিপরে ফিতা দুমুত মারমুদা ’

(সূত্র : মরতুজা আহমদ, রাধারমণ দত্ত : আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার, লোকোৎসব স্মারকগ্রন্থ ২, জেলা প্রশাসন,  সুনামগঞ্জ, পৃষ্ঠা-২০)

 

দীর্ঘকাল থেকে রাধারমণের গান সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার একটা চেষ্টা বর্তমানকাল পর্যন্ত রয়েছে। এ অভিযাত্রায় যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দুরূহ কাজটি করে চলেছেন তাঁদের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। রাধারমণের গীতি সংগ্রহের নিবেদিতজনেরা হলেন-

# ৪৭টি রাধারমণ গীতি : মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরত্ন, তিনি প্রথম রাধারমণের গান সংগ্রহ করে সম্পাদিত গ্রন্থ প্রকাশ করেন।  (রাধারমণ সংগীত, শ্রীহট্ট, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ)।

# ৫৭টি রাধারমণ গীতি : যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য (বিশ্বনাথ, সুনামগঞ্জ, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দ)।

# ০৬টি রাধারমণ গীতি : হোসেন আলী (বিশ্বনাথ, সুনামগঞ্জ, ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ)।

# ০৫টি রাধারমণ গীতি : সৈয়দ মুরতজা আলী (বাহুবল, হবিগঞ্জ, ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ)।

# ১১টি রাধারমণ গীতি : মুহাম্মদ নুরুল হক (১৩৬৯ বঙ্গাব্দ)।

# ৫৯টি রাধারমণ গীতি : আবদুল গফ্ফার দত্ত চৌধুরী (শ্রীহট্ট, ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দ)।

# ৫৫টি রাধারমণ গীতি : অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন (হারামণি ৭ম খ-, শ্রীহট্ট, ১৯৪৮-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ)।

# ১২টি রাধারমণ গীতি : সুধীরচন্দ্র পাল (শ্রীহট্ট, ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ)।

# ৬৩টি রাধারমণ গীতি : গুরুসদয় দত্ত ও ড. নির্মলেন্দু ভৌমিক (শ্রীহট্টের লোকসংগীত, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ)।

# ১০৬টি রাধারমণ গীতি : মুহম্মদ আবদুল হাই (ভাইবে রাধারমণ বলে, সুনামগঞ্জ, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ)।

# ৩৩২টি রাধারমণ গীতি : চৌধুরী গোলাম আকবর (মদনমোহন কলেজ সাহিত্যপরিষদ, সিলেট, ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ)।

# ৮৯৮টি (মূলত ৮৯৬টি) রাধারমণ গীতি : যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ও বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী (বাউলকবি রাধারমণ গীতিসংগ্রহ, আগরতলা, ভারত ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ)।

# ১১টি রাধারমণ গীতি : জোতিরিন্দ্রনাথ চৌধুরী (শিলং, ভারত, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)।

# ১০১৯টি রাধারমণ গীতি : ড. তপন বাগচী (রাধারমণের গান, ২০০৯ সাল, বর্ণায়ন প্রকাশনী, ঢাকা)।

# ১১৭৭টি রাধারমণ গীতি : নন্দলাল শর্মা (রাধারমণ গীতি, বই মেলা ২০১৪, উৎস প্রকাশন, ঢাকা)।

# ১৩৯টি রাধারমণ গীতি : অমলেন্দু কুমার দাশ (মরমি কবি রাধারমণের গান ও জীবন, সেপ্টেম্বর ২০১৪, অনুপম প্রকাশনী, ঢাকা)।

# ১১টি রাধারমণ গীতি : মুহম্মদ আসাদ্দর আলী (জগন্নাথপুর, শ্রীহট্ট)।

# ৩৭টি রাধারমণ গীতি : আবদুস সামাদ (কুলাউড়া, মৌলভীবাজার)।

# ৩৩২টি রাধারমণ গীতি : চৌধুরী গোলাম আকবর (বাংলা একাডেমি, ঢাকা)।

# আরও অনেক গুণীজন রাধারমণের গান সংগ্রহ করে সম্পাদিত গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা হলেন-পারুল রাণী দে (সুনামগঞ্জ), নরেশচন্দ্র পাল (জগন্নাথপুর, শ্রীহট্ট), যামিনী কান্ত শর্মা (জগন্নাথপুর, শ্রীহট্ট), সতীশ চন্দ্র রায় (জলসুকা, হবিগঞ্জ), অমিতবিজয় চৌধুরী (সিলেট), তারেক আহমেদ চৌধুরী (সুনামগঞ্জ), মোহাম্মদ সুবাসউদ্দীন (সুনামগঞ্জ), মোহাম্মদ আলী খান (সুনামগঞ্জ), সুমন কুমার দাশ (সিলেট), রামকৃষ্ণ সরকার (শ্রীমঙ্গল) প্রমুখ।

বর্তমানে রাধারমণকে নিয়ে অনেক গুণীজন গবেষণা করে চলেছেন। তাঁদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁরা হলেন- ড. তপন বাগচী, অমলেন্দু কুমার দাশ, নন্দলাল শর্মা, মোহাম্মদ সুবাসউদ্দীন, বিশ্বজিৎ রায়, ড.মোহাম্মদ আলী খান, সৈয়দা আঁখি হক, নৃপেন্দ্রলাল দাশ, তারেক আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

যে সমস্ত শিল্পীরা রাধারমণের গানকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা হলেন- বৃহত্তর সিলেটের মিহির দাশ, হিমাংশু বিশ্বাস, লাভলী দেব, পূণম ঘোষ, মাধুরী দাশ, মোহাম্মদ সুবাসউদ্দিন, কাবেরী দাশ প্রমুখ। জাতীয়ভাবে চন্দনা মজুমদার, আবুবকর সিদ্দিক, অণিমা মুক্তি গোমেজ, বিশ্বজিৎ রায়, বাউল অনু সরকার, শাহনাজ বেলী, শরীফ উদ্দিন, সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা, সাইদা তনিয়া, বন্যা তালুকদার, কিরণ চন্দ্র রায়, সুবীর নন্দী, সেলিম চৌধুরী, আকরামুল ইসলাম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, আশিক প্রমুখ। কলকাতার বিশিষ্ট সঙ্গীতদল ‘দোহার ’ প্রতিনিয়ত রাধারমণের গান গেয়ে চলেছে।

রাধারমণ তাঁর সহজিয়া-বৈষ্ণব মতে কিছুজনকে শিষ্য করে গেছেন। তাঁরা হলেন- প্রধান শিষ্য ছিলেন লোকনাথ দাস, পরমানন্দ, ব্রহ্মানন্দ, উদ্ভবচন্দ্র দাস,/উৎসব রাম দাস, গিরিশচন্দ্র দত্ত, সার/সারদা কুমার দত্ত, কণ্ঠাই মালাকার, জনক/জগন মালাকার, সোহাগ মালাকার, হরমণি মালাকার, ইন্দ্ররাণী দাস, চন্দ্রাবলী চন্দ প্রমুখ। রাধারমণের অনেক শিষ্য গান লেখেন। গানই তাঁদের প্রার্থনার মাধ্যম বটে। মোটামুটিভাবে রাধারমণের প্রায় শিষ্যই ছিলেন সমাজের তলীর সরলপ্রাণ মানুষ।

রাধারমণ ভক্তি-প্রবাহের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফল্গুধারার মিষ্টভাষী সুজন ছিলেন। সংসার ও বিত্ত-বেসাতের দিকে তাঁর তেমন মনযোগ ছিল না। তিনি যোগ সাধনাও (দেহবাদী) করেছেন। জগন্নাথপুরে আজও সহজিয়া ধর্মমত নিঃশব্দে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। তাঁদের কাছে রাধারমণ হলেন-‘পরম বৈষ্ণব’। ভক্তরা মনে করেন যে, তিনি অনেক লীলা করেন। বহু কিংবদন্তি আজও ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সে কথার মধ্যে পাওয়া যায় সহজিয়াদের অনন্ত জিজ্ঞাসা এ মিলনের চিরদিনের আকাক্সক্ষার নির্যাস ও দাস্যপ্রেমের ভজনসহ ভক্তিবাদের ইতিহাস দর্শন। সহজিয়া-বৈষ্ণব পন্থায় রাধারমণ পরিপূর্ণভাবে সংসার ত্যাগ করে সাধিকাসহ অন্ত্যজ শ্রেণি ও অস্পৃশ্যদের নিয়ে এক কাতারে খাওয়া-দাওয়া ও মন্ত্র দেয়া শুরু করেন। ফলে রাধারমণের ওপর মানসিক- শারীরিক নির্যাতন নেমে এসেছিল। পাশাপাশি শিক্ষিত সমাজ সহজিয়া বৈষ্ণবদের সুনজরে দেখেনি। কিন্তু সহজিয়া মতে তিনি ছিলেন ‘সহজ মানুষ’। গভীর তত্ত্বকথায় বলা যেতে পারে ‘মানুষ-ই-আসল সত্য’ এখানেই তো রয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মূলাধার। রাধারমণ তাঁর কায়স্থ পরিবার থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে রায়ত-প্রজাদের সাথে অভিন্ন চিন্তায় চলাফেরা করায় সে-সময় এলিট সমাজ মেনে নিতে পারেনি। তাঁর শেষ জীবনে বাড়ির উত্তর দিকে ছনের একটি ঘরে ‘সাধু সঙ্গ’ করতেন। সেখানে সারাদিন উপচেপড়া ভিড় তাঁর স্বজনরা মেনে নিতে পারেননি। রাধারমণের মৃত্যুর পর সহজিয়া-বৈষ্ণবের সে স্মৃতি মুছে ফেলে দিয়ে সাধিকাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে আখড়াটি আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি অর্থাৎ রূপান্তরিত হয়ে যায়।

রাধারমণ যেদিন দেহ রক্ষা করেন তার আগেই তিনি দুএকজন শিষ্যকে ইঙ্গিত নাকি দিয়েছিলেন। তিনি মারা গেলে সে সংবাদ যেন তাঁর শিষ্য পরমানন্দ ও ব্রহ্মানন্দকে দেয়া হয়। ভক্তিবাদে অনেক সময় বিজ্ঞান ও যুক্তি মানে না। ভক্তরা যখন প্রেমাকাক্সক্ষীর নিকট রাধারমণের গানের ভাষায় মিলনের আমর্ম আবেদন জানাচ্ছিলেনÑ‘সে সময় তাঁর প্রাণপাখি অসীমের পথে চলেছিল। চারিদিকে কান্নার রোল, বাতাস ভারী হয়েছে। বার্তাবাহক সে খবর নিয়ে ব্রহ্মানন্দ ও পরমানন্দের নিকটও পৌঁছালেন- প্রিয় গুরুর অন্তর্ধানের খবরে দুজন-ই সাথে-সাথে দেহ রক্ষা করেন। ভক্তরা মনে করেন তাঁরা পুণ্যাত্মা ছিলেন বিধায় গুরু শিষ্যকে সাথে করে নিয়ে যান (গুরুবাদী দর্শনে এটাই মানা হয়)। ২৬ কার্তিক রাধারমণের প্রয়াণ দিবসে তাঁর সমাধিতে প্রতিবছর ভক্তবৃন্দ এখনও মিলিত হন।’

(সূত্র : দীপংকর মোহান্ত : বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত : ভিন্ন আঙ্গিকে কিছু অনুসন্ধান, লোকোৎসব স্মারকগ্রন্থ ২, জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ, পৃষ্ঠা-৩১)

বৈষ্ণব মতে কারও প্রয়াণ হলে সমাধি দিতে হয়। রাধারমণও তাই বলে গেছেন। রাধারমণ পরিবারের যাঁরা সহজিয়া- বৈষ্ণব ধারার সঙ্গে যুক্ত হননি, তাঁরা নিজেদের মনে করেন ‘শ্রেষ্ঠ ও কুলীন’। আবার রাধারমণদের কেউ করেছেন সে-সময়ের সামন্ত রাজাদের সর্বোচ্চ পদে চাকরি-বাকরি, কেউ ছিলেন সেনাপতি, কেউবা জমিদার/মিরাশদার। ফলে বংশধরদের মাঝে সম্ভবত অহংবোধ কাজ করত। ‘রাধারমণ মারা গেলে ভক্তদের মত উপেক্ষা করে তাঁর পরিজনরা নিজেদের দাম্ভিকতায় অন্ধ হয়ে তাঁকে দাহ করেন। কথিত আছে এই পরম সাধকের দেহ নিঃশেষ হয়নি- পরে ভক্তবৃন্দরা মিলে দেহাবশেষ সমাধি করেন।’

(সূত্র : দীপংকর মোহান্ত : বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত : ভিন্ন আঙ্গিকে কিছু অনুসন্ধান, লোকোৎসব স্মারকগ্রন্থ ২, জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ, পৃষ্ঠা-৩২ ও ৩৩)

বিভিন্নভাবে শোনা যায় রাধারমণের অনেক সৃষ্টিকে অনেকে নিজের সৃষ্টি বলে দাবি করেন। তাঁর অনেক গানের সুর বিকৃত করে অনেকে গেয়ে থাকেন। একজন বাঙালি হিসেবে যা ব্যথিত না করে পারে না। মনে করি রাধারমণের এ অসাধারণ সৃষ্টিকে এখনই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন রাধারমণের সৃষ্টিকে সঠিকভাবে জানতে পারে। বলা যেতে পারে রাধারমণ মোহনীয় ছন্দ ও সুরের মাঝে অমর হয়ে আছেন কাল হতে কালান্তরে। নদীর ধারা ও উপধারা সব একসাথে এস মিলে সমুদ্রে। তেমনি সংগীতও একই ধারায় এসে একসাথে মিলে। তাই বলা যেতে পারে, রাধারমণের গান সঠিক বাণী ও সুরের মাধ্যমে ফুটে উঠলে তা হবে আমাদের চিরদিনের অম্লান সম্পদ।

রাধারমণের লোকগীতিতে প্রেম ও আধ্যাত্মিকতা যেমন করে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত স্পর্শ করে, তেমনি করে পর্বতের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যায়। তিনি যেমন ছিলেন উদার ভাবের পথিক তেমন ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। তাঁর সৃষ্টি আমাদের গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে মনের আবেগে অনেকেই গেয়ে চলেন, তেমনি করে সমস্ত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। আজ আমাদের বাংলাদেশ ও বিভিন্ন দেশেও রাধারমণের গান পরিবেশিত হচ্ছে। রাধারমণ এ অনিত্য লোক থেকে নিত্য লোকে চলে গেছেন। তবুও তিনি স্বগুণে অমর হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের চিত্তে।

 

তথ্য-উপাত্ত সূত্র :

১.           মোহাম্মদ আলী খান : মরমি কবি রাধারমণ দত্ত, প্রকাশক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।

২.           মুকিদ চৌধুরী : রাধারমণ দত্ত : প্রেম-বিরহ ও আধ্যাত্মিকতা রূপকার, নবপর্যায়ে ৬১তম সংখ্যা, মাসিক উত্তরাধিকার, মুদ্রণকাল, নভেম্বর ২০১৫,  প্রকাশক, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

৩.          অমলেন্দু কুমার দাশ : সংগ্রহ ও সম্পাদনা, মরমি কবি রাধারমণের গান ও জীবন, প্রথম প্রকাশ, সেপ্টেম্বর ২০১৪, অনুপম  প্রকাশনী, ঢাকা।

৪.            বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান, পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত তৃতীয় সংস্করণ, জুন ২০১১, প্রকাশক, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।

৫.            ড. মুকিদ চেীধুরী : রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ ও উত্তরাধুনিকতা, ঘুংঘুর, চতুর্থ সংখ্যা, লন্ডন বইমেলা অক্টোবর ২০১৫, সম্পাদক, হুমায়ুন কবির, প্রকাশক, ঘুংঘুর, ঢাকা।

৬.           লোকউৎসব স্মারকগ্রন্থ ২,প্রকাশকাল, ৭ এপ্রিল ২০১৬, প্রকাশক,  জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares