বিশেষ রচনা

লোকসংস্কৃতি

বাংলাদেশে ফোকলোরচর্চার

দিকদিগন্ত

মাহবুবুল হক

 

বাংলাদেশের সংস্কৃতির  শেকড় নিহিত রয়েছে এ দেশের হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতির মধ্যে। এই  লোকজসংস্কৃতি বা ফোকলোরের রয়েছে বহু বিচিত্র ধারা। তা গড়ে উঠেছে হাজার বছরের বাঙালির সৃজনশীল শ্রম ও মানসগঠনের মধ্য দিয়ে এবং প্রধানত অসাম্প্রদায়িক, মানবিক মূল্যবোধকে লালন করে। এদিক থেকে আমাদের জাতিসত্তার পরিচয় এ দেশের লোকায়ত সংস্কৃতি বা ফোকলোরের মধ্যেই নিহিত।

আবহমানকাল ধরে গ্রাম-প্রধান বাংলাদেশের মানুষ লোকজসংস্কৃতি বা ফোকলোরের অজস্র  উপাদান সৃষ্টি, ধারণ ও লালন করে চলেছে। এই উপাদানগুলি একদিকে মৌখিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক, অন্যদিকে সেগুলি জীবন-আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত বস্তুগত ও মানসগত সৃষ্টি। কালের বিবর্তনে এগুলি বিকশিত হয়, রূপ বদলায় এবং হারিয়ে যায়। কালের গর্ভে লোকসংস্কৃতির উপাদান যেন চিরতরে বিলীন হয়ে না যায় এ জন্যে বিশ শতকে বিশ্বব্যাপী ফোকলোর সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বপরিসরে ফোকলোরচর্চা গুরুত্ব পেতে থাকলে অবিভক্ত বাংলায়ও ফোকলোর বা লোকসংস্কৃতিচর্চা ক্রমেই গুরুত্ব পেতে থাকে।

বাংলাদেশে ফোকলোরচর্চা খুব বেশি দিনের নয়। এর প্রথমপর্ব সংগ্রহ ও সংকলনমূলক। তার সূচনা উনিশ শতকের শেষ দিকে। সেই সঙ্গে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সূচনা বিশ শতকের গোড়ার দিকে।

বাংলা লোককাহিনি সংগ্রহের ইতিহাসের পুরোধা বাঙালি ব্যক্তিত্ব ধর্মযাজক রেভারেন্ড লালবিহারী দে। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি সর্বপ্রথম বাংলা লোককাহিনি সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন। সেই সংগ্রহ ফোক টেলস অব বেঙ্গল নামে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে। সম্প্রতি বাংলার উপকথা নামে এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে লীলা মজুমদারের অনুবাদে।

বিশ শতকের গোড়ায় লোককথা সংগ্রহ ও সংকলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার । তাঁর সংগৃহীত লোককথাগুলি সংকলিত হয়েছে ঠাকুর মা’র ঝুলি, ঠাকুর দা’র ঝুলি, ঠা’নদিদির থলে, দাদামশা’য়ের থলে গ্রন্থে।

অবিভক্ত বাংলায় লোকসংস্কৃতি সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলি বিশ্লেষণে প্রথম এগিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এ ক্ষেত্রে তিনি কেবল শিল্পরসবোধ দ্বারা চালিত হননি, ইতিহাস-সমাজ- নৃতত্ত্ব- ভাষাতত্ত্ব-জাতিতত্ত্ব ইত্যাদির গুরুত্বও তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল। নিজের সাহিত্যকর্মে লোক-উপাদানের বিচিত্র ব্যবহারে তিনি কেবল দক্ষতা দেখাননি, বাউল দর্শনের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিলেন।

এরপর বাংলার লোকসাহিত্যচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন দীনেশচন্দ্র সেন। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহে তিনি উদ্যোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। চন্দ্রকুমার দে, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন প্রমুখ সংগ্রাহক তাঁর নেতৃত্বে ও প্রণোদনায় লোকসাহিত্যের অনেক দুর্লভ রতœ সংগ্রহ করেন। একান্ত নিষ্ঠা ও অসাধারণ পাণ্ডিত্য সহকারে সেগুলি সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকসাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পরিচিত করেন দীনেশচন্দ্র। তাঁর সম্পাদনায় ৪ খণ্ডে বাংলাদেশের লোকগীতিকার সংগ্রহ ইস্টার্ন বেঙ্গল ব্যালাডস (প্রথম খণ্ড মৈমনসিংহ গীতিকা) প্রকাশিত হলে তা রমাঁ রোলা, সিলভাঁ লেভি, দুশান জাভিতেল প্রমুখ বিশ্ববিশ্রুত মনীষীর প্রশংসা-ধন্য হয়।

বাংলাদেশের লোকসাহিত্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে লোকগীতিকা সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর সংগৃহীত ২৫টি গীতিকা দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকায় প্রকাশিত হয়।

চন্দ্রকুমারের সমসাময়িককালে লোকসাহিত্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছেন আশুতোষ চৌধুরী। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে তিনি ৭৬টি লোকগীতিকা সংগ্রহ করেছিলেন বলে শোনা যায়। তাঁর সংগৃহীত নয়টি গীতিকা দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত পূর্ববঙ্গ গীতিকায় সংকলিত হয়েছে।

লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ ও সংকলনের  ধারায় পরবর্তীকালে বাংলাদেশে অনন্যভূমিকা পালন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফোকলোরবিদ মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন। লোকগীতি সংগ্রাহক ও লোকসাহিত্যবিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চায় তাঁর আসন একজন পথিকৃতের। তিনি বাউলগান, লালনগীতির বিপুল সংগ্রহ ছাড়াও কবিগান, মেয়েলি গীত, মুর্শিদি, মারফতি ও মরমি গান সংগ্রহ করেছেন। ফোকলোর সংগ্রহে তাঁর অক্ষয় কীর্তি ১৩ খণ্ডে প্রকাশিত হারামণি।  এর প্রতিটি খ-ই সংগ্রহ ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ। ফোকলোর সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের জন্য হারামণি অসামান্য কাজ হিসেবে নন্দিত। তা এ দেশের ফোকলোর চর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

লোকসাহিত্যচর্চায় পুথিসংগ্রাহক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের নামও প্রসঙ্গত স্মরণীয়। আঞ্চলিক লোকসাহিত্যসহ বাংলার লোকসাহিত্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল অপরিসীম। এর প্রমাণ রয়েছে বিশ শতকের প্রথম দিকে লেখা তাঁর লোকসাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধে। এসব প্রবন্ধে ফোকলোর চর্চায় তাঁর আগ্রহ ও নিষ্ঠার পরিচয় মেলে।

বরেণ্য পণ্ডিত ও ভাষাবিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ফোকলোরচর্চার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তুলনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ রচনা করে তিনি বাঙালিকে লোকসংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করায় প্রয়াসী হয়েছেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিগীতি সংগ্রাহক জসীমউদ্দীন প্রধানত অবদান রেখেছেন ফোকলোরের উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে। বাঙালির হাসির গান, জারিগান, মুর্শিদি গান সংগ্রহে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। মুর্শিদি গান সম্পর্কে তিনি মূল্যবান আলোচনা করেছেন।

এদেশে পাশ্চাত্য রীতি-পদ্ধতি অনুসৃত বিদ্যায়তনিক ফোকলোরচর্চা ও গবেষণার পুরোধা হলেন মযহারুল ইসলাম ও আশরাফ সিদ্দিকী। ১৯৫০-এর দশকে এঁরা দুজনেই আমেরিকার ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোকলোর বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ফোকলোর সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুজনেই সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মযহারুল ইসলাম অনেক বেশি উদ্যোগী ও তৎপর ছিলেন।

এঁদের পর ফোকলোরচর্চায় বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় এগিয়ে আসেন আবদুল হাফিজ, ওয়াকিল আহমদ ও শামসুজ্জামান খান। আবদুল হাফিজ লোককথা বিশ্লেষণের আধুনিক পদ্ধতিকে এ দেশের ফোকলোরচর্চায় উপস্থাপন করেছেন। ওয়াকিল আহমদ ফোকলোরের নানাউপাদান নিয়ে নিরন্তর গবেষণা ও লেখালেখি করে চলেছেন। সেগুলি একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। শামসুজ্জামান খান বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চাকে সর্বাধুনিক তত্ত্ব-পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত করায় ব্রতী হন। জাতীয় পর্যায়ের তিনটি ও আঞ্চলিক পর্যায়ের দুটি ফোকলোর কর্মশালা আয়োজন করে, আধুনিক মাঠ-সমীক্ষা পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে এবং নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষিত ফোকলোর গবেষক তৈরিতে সচেষ্ট থেকে তিনি বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার আধুনিক মডেল তৈরিতে কার্যকর অবদান রেখেছেন।

বাংলা লোকসাহিত্য নিয়ে বিদেশে গবেষণামূলক কাজ করেছেন জহুরুল হক ও সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। দুজনের কাজই গুরুত্বপূর্ণ। তবে জাপানি ছড়ার সঙ্গে বাংলা ছড়ার তুলনামূলক অলোচনায় শাহেদ যে দক্ষতা ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন তা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।

বাংলাদেশে গত অর্ধ শতকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোকসাংস্কৃতিক সম্পদ সংগৃহীত হয়েছে। এই সংগ্রহের সিংহভাগ হচ্ছে লোকসাহিত্য। এগুলি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান কৃতিত্ব নিবেদিতপ্রাণ সংগ্রাহকদের। এ সব উপাদান সংগ্রহে যাঁরা কম-বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন : রওশন ইজদানী, মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী, আশরাফ সিদ্দিকী, মযহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ পাঠান, আ ন ম বজলুর রশীদ, আতোয়ার রহমান, চৌধুরী গোলাম আকবর, আবদুর রহমান ঠাকুর, আবদুস সাত্তার চৌধুরী, মোহাম্মদ সাইদুর, আলমগীর জলিল, আনোয়ারুল করীম, সামিয়ূল ইসলাম, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, নূরুল হক মোল্লা, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস, মোহাম্মদ মোর্তজা আলী, রফিক উল ইসলাম প্রমুখ।

 

বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ফোকলোরচর্চার সূচনা ১৯৪০-এর দশকে। বরেণ্য পণ্ডিত ও ভাষাবিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর উদ্যোগে ১৯৩৯-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ‘লোক সাহিত্য সংগ্রহ সমিতি’ গঠিত হয়। তখন পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য, সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী, জসীমউদ্দীন, আশুতোষ ভট্টাচার্য, মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন প্রমুখের সহায়তায় অপ্রকাশিত কয়েকটি পালাগান সহ বেশ কিছু লোকগীতি সংগৃহীত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশ বিভাগের অস্থির পরিবেশে সে উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে পড়ে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৫৫-৫৬ শিক্ষাবর্ষে ইউনেস্কোর সহায়তায় পূর্ববাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উপাদান সম্পর্কে প্রদেশব্যাপী সমীক্ষাকর্ম চালানো হয়। ঐ প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেন বাংলা বিভাগের তৎকালীন সভাপতি মুহম্মদ অবদুল হাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লোকসাহিত্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১৯৫৭ সালে একাডেমি মৌখিক সাহিত্য সংগ্রহের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। তা বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৫৮-য়। ১৪ জন নিয়োজিত ও ১১২ জন অনিয়োজিত লোকসাহিত্য সংগ্রাহকের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি পুরো দশটি বছর ধরে (১৯৫৮-১৯৬৭) লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহের কাজ চালায়। এই পদক্ষেপের ফলে ১৮০০০ লোকসংগীত, ৪১০০ ছড়া, ৩৩০০ ধাঁধা, ৫৯০০ প্রবাদ-প্রবচন, ২২০০ লোককথা, ১৮০টি গীতিকা, ৮০০টি অন্যান্য উপাদান সংগৃহীত হয়। সেগুলি বাংলা একাডেমীর ফোকলোর শাখায় সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়। এসব উপাদানের অধিকাংশই বাংলা একাডেমি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছে ৭০টিরও বেশি খণ্ডে। প্রথম ৪৮টি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে লোকসাহিত্য সংকলন শিরোনামে। পরবর্তীগুলি প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন নামে। তবে সংগ্রহ বা প্রকাশকালে এসব উপকরণের পাঠানুষঙ্গিক তথ্য (কনটেক্সচুয়াল ইনফরমেশন) লিপিবদ্ধ করা হয় নি। আধুনিক ফোকলোর গবেষকরা সংগৃহীত উপাদানগুলির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় দুর্বলতা বলে গণ্য করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরবর্তীকালের ফোকলোর গবেষণায় এসব উপাদান আকর উপাদান হিসেবে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা একাডেমির ফোকলোর উপবিভাগ আলাদা বিভাগের মর্যাদা পায়। জার্মান এথনো-মিউজিকোলজিবিদ ড. উনিয়াসের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চলে সংগ্রহ কাজের মাধ্যমে লোকসংগীত সংগ্রহের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে বাংলা একাডেমির ফোকলোর কর্মীদের পরিচয় ঘটে। এভাবে বাংলা একাডেমিতে ফোকলোরের আধুনিক তথ্যায়ন ও রেকর্ডিংয়ের সূচনা হয়।

১৯৮০-র দশকে বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের পরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চার আধুনিকায়নে অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থানুকূল্যে এবং বিশ্বের প্রথম সারির ফোকলোরবিদদের সহায়তায় নতুন ফোকলোর গবেষক তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৮০-র দশকের মধ্যভাগে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের তিনটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ সব কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালান ডান্ডেস, হেনরি গ্লাসি, ড. মার্গারেট অ্যান মিলস, ফ্রাংক জে কোরাম, ফিনল্যান্ডের লরি হংকো ও ড. হরবিলাতি, জার্মানির রবাট গুয়েনথার, ভারতের জহরলাল হান্ডু, ড. তুষার চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কর সেনগুপ্ত ও টোম্বা সিং এবং পাকিস্তানের আকসি মুফতি। এ সব কর্মশালার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম সারির ও বিশিষ্ট ফোকলোরবিদদের সহায়তায় বাংলাদশের নতুন ফোকলোর গবেষকরা ফোকলোরের সর্বাধুনিক তত্ত্ব ও পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি বাংলা একাডেমিতে ফোকলোরের একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংগৃহীত ফোকলোর উপাদান দিয়ে দৃশ্য-শ্রাব্য (অডিও-ভিজুয়াল) শাখা ও আর্কাইভস গড়ে তোলা হয়। তবে সেগুলি সংরক্ষণে পরবর্তীকালে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি।

বাংলাদেশে বিগত অর্ধশতকে লোকসংস্কৃতি বিশেষ করে লোকসাহিত্যে নানা উপাদান সংকলিত করে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন প্রয়াস ছাড়া এ কাজের পুরো কৃতিত্ব বাংলা একাডেমির।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোকলোর বিভাগ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশে ফোকলোরচর্চার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ফোকলোর বিভাগ চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফোকলোরচর্চা, পঠনপাঠন ও গবেষণার নতুন ধারার সূচনা হয়। প্রতিষ্ঠার পরের বছরেই ফোকলোর বিভাগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালে ফোকলোর বিভাগ মযহারুল ইসলাম ফোকলোর ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে জাতীয় ফোকলোর সম্মেলনের আয়োজন করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ প্রথম থেকেই ক্ষেত্র-সমীক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ফোকলোর বিভাগ পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ক্ষেত্র-সমীক্ষা করেছে। এর ফলে ফোকলোরের প্রচুর নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে। এই ফোকলোর বিভাগ গবেষণা কার্যক্রমেও পিছিয়ে নেই। ইতিমধ্যে এই বিভাগ থেকে ফোকলোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষক পিএইচ ডি ও এম ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশে ফোকলোরচর্চায় প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক অন্যান্য আরও কিছু উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এগুলির মধ্যে রয়েছে : চৌধুরী গোলাম আকবর প্রতিষ্ঠিত সিলেটের ‘জালালাবাদ লোকসাহিত্য পরিষদ’, অধ্যাপক আনোয়ারুল করীমের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়ার ‘ফোকলোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট’, কবি জসীমউদ্দীন ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ড. মযহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে গঠিত ঢাকার ‘বাংলাদেশ ফোকলোর পরিষদ’, ড. মযহারুল ইসলামের একক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটি’, ড. আবদুল জলিলের উদ্যোগে গঠিত ‘লোকসংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র’, মাহবুবুল হক ও শামসুল হোসাইনের উদ্যোগে চট্টগ্রামে গঠিত ‘লোকসংস্কৃতি পরিষদ’ প্রভৃতি। এসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মতৎপরতা নেই বললেই চলে। তবে এগুলির মধ্যে বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটি তুলনামূলকভাবে কর্মতৎপর। ১৯৯০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে এই সোসাইটি ঢাকা ও রাজশাহীতে মোট ছয়টি আন্তর্জাতিকমানের ফোকলোর সম্মেলনের ব্যবস্থা করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন’ লোকশিল্পচর্চায় নিরন্তর অবদান রাখবে বলে আশা করা গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের লোকশিল্প  নামে একটি সংকলন প্রকাশ ও মাঝে মাঝে লোক উৎসব আয়োজনের মধ্যেই এর কার্যক্রম সীমিত।

 

বাংলাদেশে ফোকলোর গবেষণার ক্ষেত্রেও লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোধা প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগ থেকে ‘বাংলার লোকসাহিত্য’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন পরবর্তীকালের খ্যাতনামা লোকসাহিত্য বিশারদ আশুতোষ ভট্টাচার্য। তাঁর গবেষণা-অভিসন্দর্ভটি ছিল পরবর্তীকালে ৬ খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর লেখা বাংলার লোকসাহিত্য গ্রন্থের মূল ভিত্তি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা ফোকলোর নিয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন : ওয়াকিল আহমদ (‘বাংলার লোকসাহিত্যে লোকসংস্কৃতির উপাদান’), এস. এম. লুৎফর রহমান (‘বাউল সাধনা ও লালন শাহ’), সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ (‘বাংলা ছড়ায় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন’),  আলি নওয়াজ (‘খনার বচন ও বাঙালী সংস্কৃতি’), মোমেন চৌধুরী (‘বাংলাদেশের লৌকিক আচার অনুষ্ঠান : জন্ম ও বিবাহ’), খোন্দকার রিয়াজুল হক (‘মরমী কবি পাঞ্জু শাহ : জীবন ও কাব্য’), খালেদ মাসুকে রসুল (‘বাংলাদেশের লৌকিক উৎসব’), শেখ গাউস মিয়া  (‘খুলনার লোকসাহিত্যে সমাজ-সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উপাদান’), মোহাম্মদ শহীদুর রহমান (‘মৈমনসিংহ গীতিকার নারী চরিত্রের স্বরূপ’), মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন (‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্যে সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উপাদান’), মো. আনোয়ার হোসেন ভূঞা (‘বাংলাদেশের কবিতায় লোকসংস্কৃতি’), মো. নূরুল ইসলাম খান (‘বাংলাদেশের কবিতায় লোকজ উপাদান ব্যবহার’) প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কয়েকজন ফোকলোর বিষয়ে গবেষণা করে এম ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন : সৈয়দ আজিজুল হক (‘ময়মনসিংহ গীতিকা : জীবনধর্ম ও কাব্যমূল্য’), মো. ফয়েজ আলম, (‘বাংলা লোককাহিনীতে বাঙালি সংস্কৃতি’), সৈয়দা মমতাজ বেগম (‘বৃহত্তর ফরিদপুরর লোকসাহিত্য’), আলিম আল রাজী, (‘বাংলা লোকনাট্য পালাগান : প্রকৃতি ও প্রয়োগ’),  রাশনা শারমীন, (‘বাংলা রূপকথা-উপকথায় মিথ-এর প্রভাব’), মো. শাহনেওয়াজ রিপন (‘বাংলা লোকগীতিকায় প্রতীক ও চিত্রকল্পের ব্যবহার’) প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও লোকসংস্কৃতি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ কিছু গবেষক এম ফিল ও পিএইচ ডি ডিগ্রি পেয়েছেন। এম ফিল ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন : মযহারুল ইসলাম তরু (‘চাঁপাই নবাবগঞ্জের লোকসংস্কৃতির গতিপ্রকৃতি’), মোসাম্মাৎ মনোয়ারা খাতুন (‘বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে সমাজ’), মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন (‘বাংলা গাথা সাহিত্যে বিধৃত সমাজ ও সংস্কৃতি সমীক্ষণ : রংপুর ও সিলেট গীতিকা’), শফিউল ইসলাম ভূঁইয়া (‘রংপুর অঞ্চলের লোকসংগীত ভাওয়াইয়া : সমাজ ও সংস্কৃতি’), মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী (‘উনিশ শতকের বাংলা নাটকে লোক উপাদান’), মোসাম্মৎ রওনক জাহান (‘ছড়ায় বাংলার সমাজ ও ইতিহাস’), মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (‘চলনবিল অঞ্চলের লোকসাহিত্য ও লোকজীবন’), ফাহমিদা হক (‘বাংলার লোক উৎসব বেড়া ভাসান : আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ’), মোহাম্মদ আবদুল ওহাব (‘রাজশাহীর লোককবি ও তাঁদের সাহিত্যকর্ম’), প্রণব কুমার রায় (‘সুন্দরবনাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি : ঐতিহ্য ও বিবর্তন’), মোহাম্মদ মাসাদুজ্জামান (বৃহত্তর রাজশাহী জেলার লোক সংস্কৃতিতে সমাজ ভাবনা’),  এস এম মাসউদ মোস্তফা (‘ময়মনসিংহ অঞ্চলের কোচ আদিবাসী : জীবন ও সংস্কৃতি’), এস এম আশরাফুল হোসেন (‘বাংলাদেশের লৌকিক ছড়া : পাবনা অঞ্চল’), মোছাম্মৎ নাসিমা আক্তার  (‘বাংলা উপন্যাসে লোকউপাদান’), মোহাম্মদ মানিকুল ইসলাম (‘বাংলাদেশের উপন্যাসে লৌকিক চেতনার রূপায়ণ’), মোহাম্মদ আবদুর রহমান (‘রাজশাহী অঞ্চলের লোক চিকিৎসা’), মোহাম্মদ আবদুর রশিদ (‘তানোর থানার উপজাতীয় জীবন সমাজ সংস্কৃতি’), মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (‘জেলার মেয়েলী গীত : সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ’),  মির্জা আবু মোহাম্মদ হাসিবুল ইসলাম (‘পাবনা অঞ্চলের লোকসম্প্রদায় : জীবন ও ধর্ম দর্শন’), মঈন উদ্দীন আহমেদ (‘মাছুয়াদের সমাজ ও সংস্কৃতি : রাজশাহী অঞ্চল’), মোহাম্মদ সোলায়মান আলী (‘পঞ্চগড় জেলার লোকসংস্কৃতির স্বরূপ অšে¦ষা’), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (‘বগুড়ার লোক ছড়ায় সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ’), ভাস্কর রঞ্জন সরকার (‘লোকসঙ্গীত বারাসিয়া : একটি সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’) প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকসংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা করে যাঁরা পিএইচডি ডিগ্রি  পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুহম্মদ আবদুল খালেক (‘মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে লোক-উপাদান’), মাহবুব আলম বেগ (‘বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে নিম্নবিত্ত সমাজ’), আবুল হাসান চৌধুরী (‘বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতে প্রেমচেতনা’), মাসুমা খানম (‘বাংলা লোকগীতিকার শিল্পরূপ’), মযহারুল ইসলাম তরু (‘বরেন্দ্র অঞ্চলের লোকসংগীত : আলকাপ’), মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান শেখ (‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্য ও প্রহসনে লোক-উপাদান’),  এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম (‘আধুনিক বাংলা কবিতায় লোকসংস্কৃতির সন্ধান’), মোহাম্মদ শিহাবুদ্দীন (‘বাংলা প্রবাদ-প্রবচন : সমাজ সমীক্ষা ও শিল্পরূপ’), সৈয়দ মো. মোজাহারুল ইসলাম, (‘বরেন্দ্র অঞ্চলের লোক সংগীত : আলকাপ’), মোহাম্মদ শিহাবুদ্দীন (‘বাংলা প্রবাদ প্রবচন : সমাজ সমীক্ষা ও শিল্পরূপ’), মোহাম্মদ ইসমত হোসেন (‘রাজশাহী অঞ্চলের লোকসাহিত্য : কাহিনী কিংবদন্তী’), সুমন কুমার পাণ্ডে (‘লোককবি ময়েজ সা : জীবন, চেতনা ও সঙ্গীত সাধনা’), মোহাম্মদ শামসুল আলম (‘বাংলাদেশের তিনজন কথাসাহিত্যিক : পরিপ্রেক্ষিত লৌকিক জীবন’), মোহাম্মদ শহীদ সারওয়ার (চাঁপাই নবাবগঞ্জের লোকসঙ্গীতে জীবন ও সমাজ’), ফরিদা পারভীন কেয়া (‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকায় প্রতিফলিত লোকজীবন’), মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (‘রাজশাহীর লোকসংস্কৃতি : পরিচিতি ও স্বরূপ অণ্বেষা’), মাফরুহা হোসেন (‘কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গীতে লোক উপাদান’), অনুপম হীরা ম-ল (‘বাংলাদেশের লোকধর্ম : নিম্নবর্গের ধর্মদর্শন ও সমাজতত্ত্ব’), মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, (‘বাংলাদেশের লোকভাষা : রংপুর অঞ্চল’), প্রণব কুমার রায় (‘সুন্দরবনের পেশাজীবী সম্প্রদায় : সমাজ ও সংস্কৃতি’), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন (‘বাংলাদেশের লোকনাট্য : ঐতিহ্য ও আধুনিকতা’), মোহাম্মদ রওশন জাহিদ (‘বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চায় পদ্ধতিবিদ্যা’), জিন্নাত রেহানা (‘রঙপুর গীতিকা : লোকজীবন ও লোকভাষা’), আবু শিবলী মো. ফতেহ আলী চৌধুরী (`Gender discrimination in the Folk songs of Rangpur District: A feminist approach’) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (‘রাজশাহী অঞ্চলের লোকউৎসব : সমাজ ও সংস্কৃতি রূপ’), রতন কুমার (‘নওঁগা জেলার  আদিবাসী সংস্কৃতি : ঐতিহ্য ও বিবর্তন’), শর্মিষ্ঠা হোসেন (‘বাংলা লোককথা ও গাথায় ঐতিহাসিক চরিত্র’), মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (‘চলন বিল অঞ্চলের লোকমেলা : আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা’), এস এম আশরাফুল হোসেন (‘বাংলাদেশের প্রবাদ : একটি সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’), মো. মোহাম্মদ  জাহাঙ্গীর আলম (‘উত্তবঙ্গের লোকসাহিত্য : সমাজ ও সংস্কৃতি’), মোহাম্মদ আব্দুর রহমান (‘বরেন্দ্র অঞ্চলের পীর-সংস্কৃতি’), মোছাম্মৎ ফাতেমা জোহরা (‘বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের লোকনাট্যের নারী জীবন ও সমকালীন সমাজ’), তাহসিনা রওনক চৌধুরী (‘বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে দর্শনের উপাদান’), মোহাম্মদ মাসাদুজ্জামান (‘বৃহত্তর রাজশাহী জেলার লোকশিল্প : একটি আর্থ-সামাজিক সমীক্ষা’), ওয়াহিদা নাজনীন (‘যশোর জেলার লোকজ বস্তু সংস্কৃতি : ঐতিহ্য ও সামাজিক প্রেক্ষিত’), মোহাম্মদ আবদুস ছালাম (‘বৃহত্তর বগুড়া জেলার লোকনাটকের প্রকৃতি ও উপাদান প্রসঙ্গ’) প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে গবেষণা করে বেশ কয়েকজন গবেষক পিএইচডি উপাধি অর্জন করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন : মাসুদ রেজা, (‘ফরিদপুরের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির রূপলেখা’), এ কে এম জাহারাবী (‘মধ্যযুগের পাঁচালি নাট্যে বাংলার কৃষি প্রসঙ্গ’), মো. হারুনর রশীদ খান (‘বাংলাদেশের পুতুলনাট্য : বিষয় ও আঙ্গিক’), শরদিন্দু ভট্টাচার্য, (‘সিলেটের লোকগীতি ও লোকনাট্যের ভাষা, বিষয় ও আঙ্গিকগত বৈচিত্র্য এবং পরিবেশনারীতি’), শামীমা সুলতানা (‘মঙ্গলকাব্যে লোকসংস্কৃতি’) প্রমুখ। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁরা লোকসংস্কৃতি বিষয়ে এম ফিল করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন : শরদিন্দু ভট্টাচার্য, (‘সিলেটের লোকগীতি ও লোকনাট্যে লোকজীবন’), মো ছানোয়ার হোসেন, (‘বাংলার লোকনাট্যধারায় গাজীর গান : আঙ্গিক ও অভিনয়রীতি’), মঞ্জুলিকা জামালী (‘বাংলাদেশের লোকনাট্যে নারী’),  মো জামিউল আহসান (‘উন্নয়ন যোগাযোগে বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্রে লোকসংস্কৃতি’), মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী (‘ময়মনসিংহের ভাটি অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি : লোকভাষাগত বিশ্লেষণ’), মাসুমা খান, (‘মানিকগঞ্জ জেলার বাউল সঙ্গীত : প্রসঙ্গ ও প্রকরণ’) প্রমুখ।

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে ২০০৩ সালে উত্তর বঙ্গের কাহিনী-কিংবদন্তী : ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করে এম ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে টাঙ্গাইল অঞ্চলের বাউলদের গান : দর্শন ও সাধন পদ্ধতি বিষয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করে এম ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন মোহাম্মদ আবদুল করিম মিঞা।

ফোকলোর বিষয়ক কিছু পত্র-পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগও লক্ষণীয়। কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আনোয়ারুল করীম সম্পাদিত লোকঐতিহ্য ও আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত লোকসাহিত্য পত্রিকা, বাংলাদেশ ফোকলোর পরিষদের মুখপত্র আবদুল হাফিজ সম্পাদিত লৌকিক বাংলা পত্রিকা ছাড়াও মরমী বাংলা, মুনশী আবদুল মান্নান সম্পাদিত লালন পরিষদ পত্রিকা, মুহম্মদ আবদুল জলিল সম্পাদিত লোকসংস্কৃতি, মোস্তফা তারিকুল আহসান সম্পাদিত ব্রাত্য ইত্যাদি অনিয়মিত, লুপ্তপ্রায় বা অধুনালুপ্ত পত্রিকার কথা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ থেকে প্রকাশিত ফোকলোর জার্নাল এবং বাংলাদেশ ফোকলোর সোসাইটির উদ্যোগে প্রকাশিত মযহারুল ইসলাম সম্পাদিত  ফোকলোর পত্রিকা ফোকলোরচর্চায় ইতিবাচক অবদান রেখেছে। এছাড়া বাংলা একাডেমি পত্রিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাহিত্য পত্রিকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাহিত্যিকী ইত্যাদি প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকাতেও ফোকলোর বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

 

গত অর্ধ শতক ধরে এ দেশে ফোকলোর বিষয়ে সাধারণভাবে ও সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। সার্বিকভাবে ফোকলোর বিষয়ে লেখা গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে : মযহারুল ইসলামের ফোকলোর পরিচিতি ও লোকসাহিত্যের পঠন-পাঠন ও আঙ্গিকতার আলোকে ফোকলোর, ওয়াকিল আহমদের বাংলার লোকসংস্কৃতি, লোককলা তত্ত্ব ও মতবাদ ও লোককলা প্রবন্ধাবলি, মুহম্মদ আবদুল জলিলের লোকসংস্কৃতির নানাপ্রসঙ্গ, আতোয়ার রহমানের লোককৃতি কথাগুচ্ছ ও লোককৃতি বিচিত্রা, আবুল আহসান চৌধুরীর লোকসংস্কৃতি বিবেচনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, শামসুজ্জামান খানের আধুনিক ফোকলোর চিন্তা, ও ফোকলোরচর্চা, আবদুল খালেকের বাঙলাদেশে ফোকলোরচর্চার গতি-প্রকৃতি, মাহবুবুল হকের সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতি ইত্যাদি। সাইমন জাকারিয়ার ৪ খণ্ডে রচিত প্রণমহি বঙ্গমাতা গ্রন্থমালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ফোকলোরের মাঠকর্মভিত্তিক পরিচয় বিধৃত হয়েছে। ফোকলোর বিষয়ে লেখা অন্যান্য গ্রন্থ হচ্ছে : নন্দলাল শর্মার ফোকলোর চর্চায় সিলেট, মযহারুল ইসলাম তরুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোকসংস্কৃতি পরিচিতি, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের বাংলাদেশের ফোকলোর সাধক, শাহিদা খাতুন সম্পাদিত একুশের প্রবন্ধ : ফোকলোর, মুহম্মদ আবদুল জলিলের বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার ইতিহাস ইত্যাদি। কয়েকজন প্রাবন্ধিক-গবেষক লোকঐতিহ্য নিয়েও কাজ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য : আবদুল হাফিজের বাংলাদেশের লৌকিক এতিহ্য, শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও তোফায়েল আহমদের  লোকঐতিহ্যের দশদিগন্ত।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ফোকলোরচর্চায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন আবদুস সাত্তার। এ ক্ষেত্রে উল্লেকযোর্গ তাঁর আরণ্য জনপদে, আরণ্য সংস্কৃতি, আদিবাসী সংস্কৃতি ও সাহিত্য। এই ধারায় আরও উল্লেখযোগ্য জাফার আহমাদ হানাফীর উপজাতীয় নন্দনতত্ত্ব গ্রন্থটি।

বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে লোকসাহিত্য। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ কম নয়। সার্বিকভাবে লোকসাহিত্য নিয়ে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত গ্রন্থগুলি হচ্ছে : আশরাফ সিদ্দিকীর লোকসাহিত্য এবং বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও লোকঐতিহ্য, আতোয়ার রহমানের লোকসাহিত্যের কথা, আবদুল কাদিরের বাংলার লোকায়ত সাহিত্য, মুহম্মদ আবদুল জলিলের লোকসাহিত্যের নানাদিক, মনিরুজ্জামানের লোকসাহিত্যের ভিতর বাহির, মনোয়ারা খাতুনের বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে সমাজ, মাহবুবুল হকের বাংলার লোকসাহিত্য : সমাজ ও সংস্কৃতি।

লোকসাহিত্য চর্চায় আঞ্চলিক সাহিত্য-চর্চাও গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে : ওহীদুল আলমের চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য, নূরল ইসলাম চৌধুরীর চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি, রওশন ইজদানি সম্পাদিত মোমেনসাহীর লোকসাহিত্য, খোদেজা খাতুনের বগুড়ার লোকসাহিত্য, সামিয়ূল ইসলামের উত্তর বাংলার লোকসাহিত্য, মাসুদ রেজার লোকসাহিত্যে ফরিদপুর, সরদার মোহাম্মদ আবদুল হামিদের চলনবিলের লোকসাহিত্য, তিতাস চৌধুরীর কুমিল্লা জেলার লোকসাহিত্য, সৈকত আসগরের মানিকগঞ্জ জেলার লোকসাহিত্য, বরিশাল জেলার লোকসাহিত্য (যুগ্মভাবে) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার লোকসাহিত্য (যুগ্মভাবে), মফিদুল ইসলামের টাঙ্গাইল জেলার লোকসাহিত্য, খালেদ মাসুকে রসুলের নোয়াখালীর লোকসাহিত্যে লোকজীবনের পরিচয়, মুস্তফা মাসুদ রচিত যশোরের লোকসাহিত্য : ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, প্রবচন, নাজমুল হকের উত্তরবঙ্গের লোকসাহিত্যের নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক সমীক্ষা ইত্যাদি।

বাংলাদেশে লোককাহিনির ভাণ্ডার যথেষ্ট সমৃদ্ধ। বাংলাদেশে লোককাহিনির প্রথম সংগ্রহ দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় আশরাফ সিদ্দিকীর সম্পাদনায় কিশোরগঞ্জের লোককাহিনী শিরোনামে। রাজশাহীর লোককাহিনি সংকলিত হয়েছে গোলাম সাকলায়েন সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩১তম খণ্ডে। লোককাহিনির অন্যান্য সংকলনগুলি হচ্ছে : মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সম্পাদিত ঢাকার লোককাহিনী ও  যশোরের লোককাহিনী, শাহিদা খাতুন ও মোহাম্মদ ইসহাক আলী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন (৭১তম খণ্ড), প্রভাংশু ত্রিপুরার ত্রিপুরার লোককাহিনী ।

স্বভাবতই বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চায় লোককথা বা লোককাহিনি অলোচনা যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। লোককথার নানা শাখায় উল্লেখযোগ্য কাজ এর প্রমাণ। লোককাহিনির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে আধুনিক পাশ্চাত্য ফোকলোর তত্ত্বের প্রসঙ্গ টেনে ফোকলোর চর্চার বৈজ্ঞানিক ধারা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন আবদুল হাফিজ। এ ক্ষেত্রে স্মরণীয় তাঁর লোককাহিনীর দিকদিগন্ত গ্রন্থটি। লোককাহিনি নিয়ে পরিচিতিমূলক গ্রন্থ হচ্ছে মফিজুল ইসলামের লোককাহিনী।

কিংবদন্তির উল্লেখযোগ্য সংকলন হচ্ছে :  বাংলা একাডেমি-সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন (১০ম খ-)  ও মুহম্মদ আশরাফ আলী সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৪তম খণ্ড। কিংবদন্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে : হোসেন উদ্দীন হোসেনের যশোর জেলার কিংবদন্তী, আশরাফ সিদ্দিকীর কিংবদন্তীর বাংলা, মুহম্মদ ফরিদ-উদ-দীনের কাহিনী কিংবদন্তী ইত্যাদি।

আবহমান কাল ধরে বাংলার লোকজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে আছে ছড়া। বাংলাদেশের লোকসাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হচ্ছে ছড়া। বাংলাদেশের ছড়ার উল্লেখযোগ্য সংকলনগুলি হচ্ছে :  আলমগীর জলীল সম্পাদিত রাজশাহীর ছড়া, বাংলা একাডেমি-সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন (৩য় খণ্ড), শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী সম্পাদিত যশোর-খুলনার ছড়া, মোহাম্মদ সেকান্দর মোমতাজীর বরিশালের ছড়া, জীবন চৌধুরীর পূর্ব ময়মনসিংহের ছড়া, মোহাম্মদ হানিফ পাঠানের লোকসাহিত্যে নরসিংদীর ছড়া, বদিউজ্জামান সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন (১২শ খণ্ড), মোহাম্মদ ইসহাক আলী সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন (২৮তম খণ্ড), মোমেন চৌধুরী সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন (৪৭তম খণ্ড)। ছড়া নিয়ে গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কাজের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য : মোহাম্মদ সিরাজউদ্দীন কাসিমপুরীর লোকসাহিত্যে ছড়া, আতোয়ার রহমানের বাংলাদেশের ছড়া, জীবন চৌধুরীর পূর্ব ময়মনসিংহের ছড়া, সৈয়দ  মোহাম্মদ শাহেদের ছড়ায় বাঙালী সমাজ ও সংস্কৃতি, ওয়াকিল আহমদের  বাংলা লোকসাহিত্য : ছড়া।

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি লোকগীতিকায় সমৃদ্ধ। লোকগীতিকা বা পালাগানের  সংকলনগুলি সে কথাই প্রমাণ করে। লোকগীতিকার উল্লেখযোগ্য সংকলনগুলির মধ্যে রয়েছে : বাংলা একাডেমি সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২য় খণ্ড, আলমগীর জলিল ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৫তম খণ্ড, বাংলা একাডেমি- সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১ম খণ্ড, সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪৪তম খণ্ড, শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৫০তম খণ্ড। মফিজুল ইসলামের সম্পাদনায়  রংপুরের পালাগান লোকসাহিত্য সংকলন তিনটি খণ্ডে সংকলিত হয়েছে (৪৩তম, ৪৬তম ও ৪৮তম খণ্ডে)। চট্টগ্রাম গীতিকাগুলি মোমেন চৌধুরীর সম্পাদনায়  বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন-এর পাঁচটি খণ্ডে সংকলিত হয়েছে (৫৪তম, ৫৫তম, ৫৬তম, ৫৭তম ও ৬০তম খণ্ড)। লোকগীতিকার অন্যান্য সংকলন হচ্ছে : বদিউজ্জামান সম্পাদিত সিলেট গীতিকা, বদিউজ্জামান সম্পাদিত মোমেনশাহী গীতিকা, বদিউজ্জামান সম্পাদিত রংপুর গীতিকা, জলিল খান সম্পাদিত জামালপুরের পালাগান।

লোকগীতিকা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে : মোহাম্মদ শহীদুর রহমানের ময়মনসিংহ গীতিকায় নারী চরিত্রের স্বরূপ, সৈয়দ আজিজুল হকের ময়মনসিংহের গীতিকা : জীবন-ধর্ম  ও কাব্যমূল্য, শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত মহুয়া : তিনটি পাঠ তুলনামূলক পর্যালোচনা, আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সিলেট গীতিকা : সমাজ ও সংস্কৃতি, মাসুমা খানমের বাংলা লোকগীতিকার শিল্পরীতি, ফরিদা পারভীন কেয়ার পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকায় প্রতিফলিত লোকজীবন ইত্যাদি।

বাংলাদেশের রূপকথার উল্লেখযোগ্য সংকলনগুলির মধ্যে রয়েছে : আনোয়ার হোসেন খান সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন  ৩২তম খণ্ড ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৮তম খণ্ড।

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত পশুকথাগুলি তিনটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। পশু-পাখির কিসসা সংকলিত হয়েছে দুটি খণ্ডে। সেগুলি হল : মাহমুদা খানম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৫তম খণ্ড ও মোহাম্মদ ইসহাক আলী সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪২তম খণ্ড। শিয়ালের কিসসা সংকলিত হয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩০তম খণ্ডে।

কিসসার উল্লেখযোগ্য সংকলনগুলি হচ্ছে : বাংলা একাডেমি সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২য় ও ৩য় খণ্ড। বোকার কিসসা সংকলিত হয়েছে বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৮ম খণ্ডে ও মফিজুল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৯তম খণ্ডে। সদাগরের কিসসা সংকলিত হয়েছে মোমেন চৌধুরী ও জান্নাতুন আরা আহমেদ সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৪তম খণ্ডে। শোলোকি কিসসা সংকলিত হয়েছে মোহাম্মদ আবদুল কাইউম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৬ষ্ঠ খণ্ডে এবং মোমেন চৌধুরী ও জান্নাতুন আরা আহমেদ সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৩তম খণ্ডে।

ভাট কবিতার উল্লেখযোগ্য সংকলন হচ্ছে : আসাদ চৌধুরী ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন  ২১তম খণ্ড।

ধাঁধার উল্লেখযোগ্য সংকলনগুলি হচ্ছে :  বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩য় খণ্ড, কাজী দীন মুহম্মদ সম্পাদিত  লোকসাহিত্যে ধাঁধা ও প্রবাদ, ওয়াকিল আহমদের বাংলা লোকসাহিত্য : ধাঁধা, আলমগীর জলিল ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৬শ খণ্ড, রেহানা বেগমের চট্টগ্রামের ধাঁধায় ছড়া ভাঙো কিসসা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের প্রবাদ-প্রবচন সংগ্রহ, সংকলন ও আলোচনায় পথিকৃতের কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক সুশীলকুমার দে। তাঁর রচিত বাংলা প্রবাদ গ্রন্থে প্রায় ছয় হাজার প্রবাদ সংকলিত হয়েছে। এই গ্রন্থ তিনি বাংলা প্রবাদ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। সে আলোচনায় প্রবাদের শ্রেণিকরণসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। সুশীল কুমারের পর বাংলাদেশের প্রবাদ-প্রবচন সংগ্রহ ও সংকলনে  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও অগ্রণী কাজ করেছেন মোহাম্মদ হানিফ পাঠান। তিনটি খণ্ডে তিনি সংকলন করেছেন বাংলা প্রবাদ পরিচিতি। তাঁর এই গ্রন্থমালা  প্রবাদ সংগ্রহ হিসেবে যথেষ্ট মূল্যবান। প্রবাদ-প্রবচনের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সংকলন গ্রন্থ হলো : মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বচন ও প্রবচন, ওয়াকিল আহমদের বাংলা লোকসাহিত্য : প্রবাদ ও প্রবচন এবং দেওয়ান গোলাম মোর্তজার ছিলটে প্রচলিত পই-প্রবাদ ডাক-ডিহান।

লোকসংগীত সংকলনের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন সম্পাদিত হারামণি (১৩ খণ্ড)। এ প্রসঙ্গে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য সংকলনের মধ্যে রয়েছে : আলমগীর জলিল ও অন্যান্য সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৪শ খণ্ড , ওয়াকিল আহমদের বাংলা লোকসংগীতের ধারা (ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি গান, সারিগান, বাউল গান একত্রে), মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী সম্পাদিত বাংলাদেশের লোকসংগীত পরিচিতি, শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মুর্শিদুদ্দিন আহমদ সম্পাদিত বাংলাদেশের লোকসংগীত।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যময় ও বহু বৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ লোকসংগীত নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে : জসীমউদদীনের জারী গান ও মুর্শীদা গান, মুহাম্মদ আবু তালিবের লালন শাহ ও লালন গীতিকা (১ম ও ২য় খণ্ড), সিরাজউদ্দীন কাসিমপুরীর বাংলা লোকসংগীত পরিচিতি, হাবিবুর রহমানের বাংলাদেশের লোকসংগীত ও ভৌগোলিক পরিবেশ, খোন্দকার নূরুল আলমের লোকসংগীতের স্বরলিপি ও স্টাফ নোটেশন, যতীন সরকারের বাংলাদেশের কবিগান, মৃদুল কান্তি চক্রবর্তীর হাসন রাজা : তাঁর গানের তরী, আবদুল ওয়াহাব সরকারের বাংলাদেশের লোকগীতি, আবুল আহসান চৌধুরীর প্রসঙ্গ : হাসন রাজা ও লালন সাঁই : প্রসঙ্গ ও অনুষঙ্গ, মাহবুব ইলিয়াসের  লোকসাহিত্যে ছড়ানাট্য ও লোকসংগীত,আবদুল ওয়াহাবের বাংলাদেশের লোকগীতি : একটি সমাজতাত্ত্বিক অধ্যয়ন, (১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড), সামীয়ূল ইসলামের বাংলাদেশের লোকসংগীতের শ্রেণীবিন্যাস, আবুল হাসান চৌধুরীর বাংলা লোকসংগীতে নারী, সাইমন জাকারিয়ার বাংলাদেশের লোকসংগীত ইত্যাদি।

আঞ্চলিক গান নিয়ে কয়েকজন কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য : মুহম্মদ মমতাজুর রহমানের নড়াইলের লোকসংগীত,  শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বাংলাদেশের লোকসংগীত : কেন্দুয়া অঞ্চল, শামসুজ্জামান খান ও অন্যান্য সম্পাদিত বাংলাদেশের  লোকসংগীত সমীক্ষা, কল্যাণী ঘোষের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান, মহসিন হোসাইনের বৃহত্তর যশোরের লোককবি ও চারণ কবি, মুহম্মদ আবদুল জলিলের উত্তরবঙ্গের  লোকসংগীত, মোহাম্মদ আবদুল করিম মিঞার টাঙ্গাইলের লোকসংগীত, মযহারুল ইসলাম তরুর বরেন্দ্র অঞ্চলের লোকসংগীত। আলকাপ গান নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে : মাহবুব ইলিয়াসের নবাবগঞ্জের আলকাপ গান, মযহারুল ইসলাম তরুর ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত আলকাপ গান ও বরেন্দ্র অঞ্চলের লোকসংগীত আলকাপ।

সংগৃহীত বিভিন্ন  শ্রেণির গানের সংকলন প্রকাশে বাংলা একাডেমির ভূমিকা প্রশংসনীয়। এ ধরনের সংকলনের মধ্যে রয়েছে : আনুষ্ঠানিক গীতের সংকলন বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৭ম খণ্ড ও মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪৫তম খণ্ড, কবিগানের সংকলন শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬৪তম খণ্ড, গম্ভীরা গানের সংকলন হাবীব-উল-আলম সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬৭তম খণ্ড, গাজির গানের সংকলন খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬৬তম খণ্ড, জারি গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী সম্পাদিত  লোকসাহিত্য সংকলন ১৮শ খণ্ড ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪৪তম খণ্ড, বাংলাদেশের মরমি গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও  খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৯তম  খণ্ড, মাইজভাণ্ডারী গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও  খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৩তম খণ্ড, মারফতি গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও  খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২০শ খণ্ড, ধুয়াগানের সংকলন আরশাদ আজিজ সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৭তম খণ্ড ও মোমেন চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৫২তম খণ্ড, বারমাসি গানের সংকলন বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৫ম খণ্ড, মোমেন চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন  ৫৮তম ও ৫৯তম খণ্ড, নন্দলাল শর্মা সংগৃহীত ও সম্পাদিত সিলেটের বারমাসী গান, বারাসে গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও  খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৫তম খণ্ড, বিচার গানের সংকলন মুর্শিদ আনোয়ার সম্পাদিত বাংলা  ফোকলোর সংকলন ৬৯তম খণ্ড, বিরহ সংগীতের সংকলন বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৯ম খণ্ড, ভাওয়াইয়া গানের সংকলন বদিউজ্জামান সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১১শ খণ্ড, ভাব সংগীতের সংকলন খোন্দকার রিয়াজুল হক সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪০তম খণ্ড, মুর্শিদি গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৯শ খণ্ড, সারি গানের সংকলন মোমেন চৌধুরী ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২২তম খণ্ড, লালনতত্ত্বের সংকলন শফিকুর রহমান চৌধুরী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬২তম খণ্ড,।

মেয়েলি গীতবিষয়ক সংকলন হচ্ছে : হাসান হাফিজুর রহমান ও আলমগীর জলিল সম্পাদিত উত্তরবঙ্গের মেয়েলী গীত, মুহম্মদ আবদুল জলিলের বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের মেয়েলী গীত ও শাহনাজ মুন্নীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়েলী গীত, বাংলা একাডেমি সংকলিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪র্থ খণ্ড, জান্নাতুন আরা আহমেদ সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৩৬তম খণ্ড, শাহিদা খাতুন সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৭০তম খণ্ড।

বাউল গান নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে : বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর সম্পাদিত বাউল গান ও দুদ্দু শাহ, আহমদ শরীফের বাউলতত্ত্ব ও বাউল কবি ফুলবাসউদ্দীন ও নসরুদ্দীনের পদাবলী, গোলাম এরশাদুর রহমানের নেত্রকোনার বাউলগীতি, মোহাম্মদ সোলায়মান আলী সরকারের বাংলার বাউল দর্শন ও লালন শাহের মরমী দর্শন, ওয়াকিল আহমদের বাউল গান, আনোয়ারুল করীমের বাংলাদেশের বাউল : সমাজ, সাহিত্য ও সংগীত।

আঞ্চলিক ও বিভিন্ন শ্রেণির গান নিয়ে লেখা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : মুহম্মদ মমতাজুর রহমানের নড়াইলের লোকসংগীত, এস এম নূর-উল আলমের চট্টগ্রামের কবিয়াল ও কবিগান, তাসাদ্দুক আহমদের নবাবগঞ্জ জেলার লোকসংগীত : গম্ভীরা, ওয়াকিল আহমদের ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি গান ও সারিগান, আফসার আহমদের গাজীর গান : শিল্পরীতি, শামসুজ্জামান খান ও কল্যাণী ঘোষ রচিত গণসঙ্গীত।

লোকনাট্যবিষয়ক সংকলন হচ্ছে : মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ৪১তম খণ্ড, মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬১তম খণ্ড, মোহাম্মদ সাইদুর ও মো ইসহাক আলী সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬৩তম খণ্ড।

লোকনাট্য বিষয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে সৈকত আসগর সম্পাদিত বাংলার লোকঐতিহ্য : লোকনাট্য ও বাংলার লোকঐতিহ্য : যাত্রা শিল্প, তপন বাগচীর বাংলাদেশের যাত্রাগান : জনমত ও পরিপ্রেক্ষিত, সাইমন জাকারিয়ার বাংলাদেশের লোকনাটক : বিষয় ও আঙ্গিকবৈচিত্র্য।

লোকনৃত্য বিষয়ে শিহাব শাহরিয়ারের কাজ হচ্ছে  বাংলাদেশের পুতুল নাচ।

লোকবাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে  সাইমন জাকারিয়া ও নাজনীন মর্তুজা রচিত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র।

লোকক্রীড়া নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে : মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের নরসিংদীর লৌকিক খেলাধুলা ও সামীয়ূল ইসলামের বাংলাদেশের গ্রামীণ খেলাধুলা।

লোকশিল্পবিষয়ক পুরোধা গবেষক হলেন তোফায়েল আহমদ। এ বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু কাজ রয়েছে। সেগুলি হলো : আমাদের প্রাচীন শিল্প, লোকশিল্প,  লোকশিল্পের ভুবনে, লোকশিল্প এ্যালবাম। এ ছাড়া শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাংলাদেশের মৃৎশিল্প, মোহাম্মদ শাহজালালের বাংলাদেশের মৃৎশিল্প, খগেশ কিরণ তালুকদারের বাংলাদেশের লোকায়ত শিল্পকলা, মোহাম্মদ সাইদুরের জামদানী, শিপ্রা সরকারের শঙ্খশিল্প, বিলকিস বেগমের চাঁপাই নবাবগঞ্জের সূচিশিল্প, মুহম্মদ আবদুল জলিলের  রাজশাহী অঞ্চলের মৃৎশিল্প : সখের হাঁড়ি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশের লোকশিল্প বিষয়ক গন্ধের মধ্যে রয়েছে নিয়াজ জামানের দ্য আর্ট অব কাঁথা এমব্রয়ডারি, পারভীন আহমদ সম্পাদিত ক্র্যাফটস্ ফ্রম বাংলাদেশ।

লোকপ্রযুক্তিবিষয়ক কাজ হচ্ছে মুহম্মদ আবদুল জলিলের লোকবিজ্ঞান ও লোকপ্রযুক্তি।

লৌকিক আচার-অনুষ্ঠানবিষয়ক সংকলন হচ্ছে : বাংলা একাডেমি সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১ম খণ্ড। লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান বিষয়ক গ্রন্থ হচ্ছে মোমেন চৌধুরীর বাংলাদেশের লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান (জন্ম ও বিবাহ) ও শাহিদা আখতারের গায়ে হলুদ।

মন্ত্রবিষয়ক সংকলন হচ্ছে : বদিউজ্জামান সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৩শ খণ্ড। মন্ত্র বিষয়ক আলোচনা গ্রন্থ হচ্ছে ওয়াকিল আহমদের বাংলা লোকসাহিত্য : মন্ত্র।

লোকবিশ্বাস ও লোকসংস্কার বিষয়ক সংকলনগুলি হচ্ছে : মফিজুল ইসলাম ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৭তম খণ্ড, মোমেন চৌধুরী ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ২৬তম খণ্ড।  লোকসংস্কার বিষয়ক কাজ হচ্ছে আবদুল হাফিজের লৌকিক সংস্কার ও বাঙালি সমাজ এবং লৌকিক সংস্কার ও মানব সমাজ, মোমেন চৌধুরীর লোকসংস্কার ও বিবিধ প্রসঙ্গ।

বাংলাদেশের উৎসব ও মেলা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে : আতোয়ার রহমানের উৎসব ও মেলা, মুনতাসির মামুনের পুরোনো ঢাকা উৎসব ও ঘরবাড়ি ও বাংলাদেশের উৎসব, স্বরোচিষ সরকার সম্পাদিত বাংলা একাডেমি বৈশাখী লোক উৎসব প্রবন্ধ ১৪০০, হাবীব-উল-আলম সম্পাদিত ঈদ-উৎসব, খোন্দকার রিয়াজুল হকের বাংলাদেশের উৎসব, মাহবুব আলমের নৌকাবাইচ উৎসব, শাহিদা খাতুন সম্পাদিত লোকউৎসবে ঐতিহ্যচেতনা, আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ সম্পাদিত নববর্ষ ও বাংলার লোকসংস্কৃতি,বেড়া ভাসান উৎসব সংকলিত হয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৫১তম খণ্ডে এবং মহররম অনুষ্ঠান সংকলিত হয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৪৯তম খণ্ডে। পঞ্চদশ শতাব্দীর আবাহন উৎসব সংকলিত হয়েছে হাবীব-উল-আলম সম্পাদিত বাংলা একাডেমি ফোকলোর সংকলন ৬৫তম খণ্ডে। এ ক্ষেত্রে আরও উল্লেখযোগ্য, ফাহমিদা হকের বাংলার লোকউৎসব : বেড়া ভাসান।

লোকচিকিৎসাবিষয়ক সংকলন হচ্ছে আলমগীর জলিল ও সামীয়ূল ইসলাম সম্পাদিত লোকসাহিত্য সংকলন ১৭শ খণ্ড। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে এস এম লুৎফুর রহমানের বাংলাদেশী লোক-চিকিৎসা ।

 

বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার ক্ষেত্রে রচনাপঞ্জিসহ তথ্য-উপাত্তগত পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনও গৃহীত হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে রচনাপঞ্জি সংকলনের কিছু কিছু কাজ হয়েছে।  মুহম্মদ আবদুর রাজ্জাক সংকলিত ফোকলোর বিষয়ক রচনার একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত  লোকসাহিত্য সংকলন ৫ম খণ্ডে। আশরাফ সিদ্দিকীর লোকসাহিত্য গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে ফোকলোর বিষয়ক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের একটি তালিকা সংযোজিত হয়েছে। মনিরুজ্জামান-এর বাংলাদেশ লোক সংস্কৃতি সন্ধান : ১৯৪৭-৭১ গ্রন্থে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ফোকলোরবিষয়ক রচনাপঞ্জি সংকলিত। ১০৭১-এর পরবর্তী রচনা এতে আর যোগ করা হয়নি। ১৯৭১-এর পরবর্তী রচনার কোনো আলাদা সংকলনও প্রকাশিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট রচনাপঞ্জির ক্ষেত্রে মোমেন চৌধুরীর লালন বিষয়ক রচনাপঞ্জি ও নন্দলাল শর্মার সিলেটের ফোকলোর রচনাপঞ্জি উল্লেখযোগ্য। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত শামসুজ্জামান খান ও অন্যান্য সম্পাদিত দ্বিভাষিক বাংলাদেশের ফোকলোর রচনাপঞ্জি গ্রন্থে ১৯৪৭-১৯৮৫ কালপর্বের ৩২টি গ্রন্থের উল্লেখ রয়েছে। এ তালিকায় পরবর্তীকালে প্রকাশিত  গ্রন্থের নাম সংযোজিত হয়নি। এ দিক থেকে এসব গ্রন্থে  অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে। তবে এসব তালিকা থেকে ঐ সময় পর্বের ফোকলোরচর্চার সংখ্যাগত ও বিষয়-বৈচিত্র্যগত প্রবণতা ও অগ্রগতি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। ১৯৯০-এর দশকে এ দেশের লোককাহিনির তালিকাসূচি কয়েক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে আবদুল হাফিজ ও শাহিদা খাতুনের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি ফোকলোর আরকাইভস শিরোনামে। এটি রচনাপঞ্জি প্রণয়নে একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।

২০০৭ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি (‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা’)  শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে লোকসংস্কৃতির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও গবেষণাভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করেছে। সাংস্কৃতিক সমীক্ষার ১২টি খণ্ডের মধ্যে ৭ম খণ্ডটির বিষয় শিরোনাম লোকসংস্কৃতি। এতে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সার্বিক পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এটি লিখেছেন ওয়াকিল আহমেদ। ভাষা ও সাহিত্য শীর্ষক ৬ষ্ঠ খণ্ডে লোকসাহিত্য বিষয়ে গবেষণা-নির্ভর আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন মাহবুবুল হক। এ খণ্ডটি সম্পাদনা করেছেন আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ। চারু ও কারুকলা শীর্ষক ৮ম খণ্ডে লোকশিল্পবিষয়ক বহু তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন লালা রুখ সেলিম। প্রবাদ-প্রবচন শীর্ষক ৯ম খণ্ডে দেশব্যাপী জরিপ চালিয়ে প্রবাদ-প্রবচন সংগ্রহ করে সংকলিত করা হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন সিরাজুল ইসলাম। লোকসংগীত শীর্ষক ১০ম খণ্ডে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তব মাঠ জরিপের মাধ্যমে সংগীতিক অভিব্যক্তিসহ দলিলিকরণ ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ও সম্পাদিত লোকসংগীতের নির্বাচিত পাঠ সংকলিত হয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন মুহম্মদ নূরুল হুদা। পরিবেশনা শিল্পকলা শীর্ষক ১২শ খণ্ডে লোকসংগীত, লোকনাট্য ও লোকনৃত্য বিষয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন ইসরাফিল শাহীন। এশিয়াটিক সোসাইটির এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি সম্পদ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাম্প্রতিককালে নতুন করে ফোকলোরের উপাদান সংগ্রহ ও চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির মহাপরিচালক ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান তৃণমূল পর্যায় থেকে মাঠকর্মের মাধ্যমে সমগ্র দেশের লোক সাংস্কৃতিক উপাদান সংগ্রহের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছেন। একাডেমির উদ্যোগে ২০১০-২০১১ অর্থবছর থেকে ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচি’র আওতায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ধারায় লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার কাজে হাত দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বিপুল ও বিচিত্র লোক-উপাদানগুলি মাঠকর্মের মাধ্যমে খুঁজে বের করা, সেগুলি বিজ্ঞানসম্মত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, সংগৃহীত উপাদানগুলি গ্রন্থ আকারে প্রকাশ এবং নতুন প্রজন্মের সামনে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সম্পদকে তুলে ধরাই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য।  দেশের প্রতিটি জেলার সংগ্রাহক ও সংকলক নিয়োজিত করে তাঁদের  প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি নির্দেশনাপত্র অনুসরণ করে তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা/উপজেলা পর্যায় থেকে বাংলাদেশের বিচিত্র লোকজ উপাদানগুলি যথাসম্ভব সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সন্ধান ও সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত উপাদানগুলি নিয়ে প্রণীত সম্পাদনা ও পরিমার্জনা করে গ্রন্থাকারে একে একে প্রকাশ করা হয়েছে ও হচ্ছে।

বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালার সবগুলি খণ্ডের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন বাংলা একাডেমির সচিব মো. আলতাফ হোসেন এবং সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. আমিনুর রহমান সুলতান। তবে প্রতিটি  খণ্ডের আলাদা আলাদা সমন্বয়কারী ও সংগ্রাহক রয়েছেন।

লোকজসংস্কৃতি গ্রন্থমালার প্রতিটি খণ্ডের বিষয়বস্তু হিসেবে প্রথমেই সন্নিবেশিত হয়েছে জেলা পরিচিতি। সেই সঙ্গে সন্নিবেশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিক সহ বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসের নানা উপাদান। জেলা পরিচিতির পরপরই দেওয়া হয়েছে লোকসাহিত্য, বস্তুগত লোকসংস্কৃতি (লোকশিল্প, লোকজ পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার,  লোকবাদ্যযন্ত্র, স্থাপত্য),  লোকসংগীত (কীর্তন, জারিগান, বাউলগান, মেয়েলি গীত ইত্যাদি), গাথা বা গীতিকা,  লোক উৎসব ও মেলা,  লোকাচার বা আচার-অনুষ্ঠান, লোকনাট্য ও  লোকনৃত্য, লোকক্রীড়া, লোকপেশাজীবী, লোক চিকিৎসা ও তন্ত্রমন্ত্র, ধাঁধা, প্রবাদ-প্রবচন, লোকবিশ্বাস ও লোকসংস্কার,  লোকপ্রযুক্তি,  লোকভাষা ইত্যাদির পরিচয়। গ্রন্থগুলির মাঠকর্ম নির্ভর ফোকলোরচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এই গ্রন্থমালা থেকে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির একটি সমকালিক ও ঐতিহ্যিক স্পষ্ট ধারণা যাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ফোকলোর ঐতিহ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিক থেকে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিচর্চার ইতিহাসে এটি একটি বিশাল কাজ। এই কাজ আধুনিককালের ফোকলোরচর্চার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান আকর গ্রন্থ হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তা লোকসংস্কৃতি ছাড়াও, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক গবেষণাসহ নানা বিদ্যাশাখায়ও আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফোর্কলোর কর্মশালা, ফোকলোর সামার স্কুল ইত্যাদির আয়োজন করেও বাংলা একাডেমি ফোকলোর চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপ নিরূপণে, বাঙালির সমাজ মানসের রূপরূপান্তরের রূপরেখা প্রণয়নে ফোকলোরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদেশে নিরবচ্ছিন্ন ফোকলোরচর্চার জন্য ফোকলোর ইনস্টিটিউটের মতো জাতীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে ফোকলোরচর্চার সার্বিক, সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন ধারা এদেশে এখনও গড়ে ওঠেনি। তাই এ ধরনের একটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares