সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

বাংলার নারী প্রগতির পথিকৃৎ দ্বারকানাথ ও কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্য্যয় – পূরবী বসু

September 20th, 2016 7:56 am
বাংলার নারী প্রগতির পথিকৃৎ দ্বারকানাথ  ও কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্য্যয় – পূরবী বসু

প্রবন্ধ

বাংলার নারী প্রগতির পথিকৃৎ দ্বারকানাথ

ও কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্য্যয়

পূরবী বসু

 

দুর্গামোহন দাশ (১৮৪১-১৮৯৭) যখন বিভিন্ন সমাজ-সংস্কারমূলক প্রকল্পে, বিশেষ করে স্ত্রী শিক্ষা ও নারী প্রগতির বিভিন্ন কার্যক্রমে পুরোপুরি নিবেদিত, যখন বিধবাবিবাহ চালু করার লক্ষ্যে এবং বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও কুলীনপ্রথা বিলুপ্তির চেষ্টা করে জনমনে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছিলেন তিনি, তখন অন্য যে দুজন সমমনা বিপ্লবী সুহৃদ নিঃশর্তভাবে দুর্গামোহনের এই আদর্শবাদী ও সাহসী কাজের সার্বক্ষণিক সহযাত্রী-সহযোদ্ধা ছিলেন, তাঁদের একজন দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৪৪-১৮৯৮) ও আরেকজন সরোজিনী নাইডু-জনক অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় (১৮৫০-১৯১৫)। বলাবাহুল্য, এই তিন বিখ্যাত নেতাই বিক্রমপুরের কৃতী সন্তান।

দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় ২০ এপ্রিল ১৮৪৪ সালে বিক্রমপুরের মাগুরখণ্ড গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম কৃষ্ণপ্রাণ গঙ্গোপাধ্যায়।  দ্বারকানাথ প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে না পেরে নিজ গ্রাম ছেড়ে ফরিদপুরে গিয়ে শিক্ষকতা করতে আরম্ভ করেন। যে দ্বারকানাথ নিজে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি, তিনিই বাংলার নারী-শিক্ষার জন্যে বিশেষ করে তাদের উচ্চশিক্ষা এবং জ্ঞানার্জনে নারী-পুরুষের সমাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।  তার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও অমোঘ যুক্তির কাছে হার মানতে হয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান্ধাতার আমলের রীতিনীতি ও নিয়মমমূহ যা নারীকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছিল। তার-ই প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও দৃঢ়অবস্থানের জন্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষা দেবার ও প্রথম ডাক্তার হবার সুযোগ মেলে রেকর্ড গড়া বাঙালি নারী কাদম্বিনী বসুর। অন্য নারীদের-ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয় তখনই। কাদম্বিনী ডাক্তারি পড়তে শুরু করার সময়েই বিপতœীক দ্বারকানাথ ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে কাদম্বিনীকে বিয়ে করেন। দ্বারকানাথ ছিলেন কাদম্বিনীর থেকে বয়সে ১৭/১৮ বছরের বড় এবং কাদম্বিনীর স্কুলের প্রত্যক্ষ শিক্ষক। সেই সময় বিয়ের পরে মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতেন না। তার অনেক নিকটজন এমন কি আধুনিকমনস্ক প্রচুর ব্রাহ্ম নেতাও এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। প্রেমের বিয়ে হলেও কাদম্বিনীর হিতাকাক্সক্ষীরা মনে করেছিলেন কাদম্বিনীর মতো অসাধারণ মেধাবী ও দৃঢ়চেতা নারীর পড়াশোনা এখানেই শেষ হবে যেমন হয়েছিল দুর্গামোহনের দুই কন্যা, সরলা ও অবলা দাশের। রাগ করে এই বিয়েতে তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু শিবনাথ শাস্ত্রী পর্যন্ত আসেননি। অথচ ইতিহাস সাক্ষী দেবে, কাদম্বিনীর এই যে  সংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠালাভ, যেভাবে পদে পদে যুদ্ধ করে  তিনি ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ২ জন নারী জাতকের একজন এবং ইউরোপিয় চিকিৎসা শাস্ত্রে দক্ষিণ এশিয়ার কোন মেডিকেল কলেজ থেকে প্রথম মহিলা চিকিৎসক হতে পেরেছিলেন, তা তাঁর নিজস্ব যোগ্যতা, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, মেধা ও তাঁর নিজস্ব ক্ষমতার গুণেই সম্ভব হয়েছিল সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর পড়াশোনা ও জীবিকার সাফল্যের জন্যে সর্বতোভাবে স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন সর্বক্ষণ।

উনিশ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ ছিল বাংলার বৌদ্ধিক নবজাগরণ এবং আধুনিক বাংলার সূচনার সময়। নারীশিক্ষায় উৎসাহী ব্রজকিশোর বাবু নারী শিক্ষায় নিবেদিত আরেক প্রাণ কলকাতার ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারবাদী নেতা দ্বারকানাথ গাঙ্গুলির অনুপ্রেরণায় কাদম্বিনীকে পাঠান বালিগঞ্জের হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। এই হিন্দু মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় অবদান যিনি রেখেছেন তিনি দ্বারকানাথ ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী, দুর্গামোহন দাশ, আনন্দমোহন বসু, ভগবান চন্দ্র বসু ও মনমোহন ঘোষ। স্কুলটি পরে বঙ্গ মহিলাবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। পরে বেথুন স্কুলের আর্থিক দুর্দিনে এই স্কুলটি ১৮৭৮সালে বেথুন স্কুলের সঙ্গে মিশে যায়। এশিয়ার প্রথম সরকার-স্বীকৃত বালিকা বিদ্যালয় এই বেথুন স্কুল। এই স্কুল থেকে কাদম্বিনী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন (১৮৭৮)।

তিনি ছাত্র অবস্থা থেকেই সমাজসংস্কারমূলক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবলাবান্ধব নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তিনি সমাজের কুনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সমাজসংস্কারের চেষ্টা করেন। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রাহ্ম সংস্কারকদের আমন্ত্রণে কলকাতায় আসেন। এবং মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার এবং অসহায় মহিলাদের রক্ষাকার্যে আত্মনিয়োগ করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মহিলা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তিনি এই বিদ্যালয় স্থাপন এবং ছাত্রীনিবাস প্রতিষ্ঠায় প্রধান উদ্যোগী ছিলেন। তিনি এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ছিলেন। এই বিদ্যালয়টি আড়াই বছর পরে উঠে গেলে ১ জুন ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়ের সূত্রেই তিনি ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং ও মহিলাদের মেডিকেল কলেজে প্রবেশাধিকার বিষয়ের আন্দোলনে প্রধানভূমিকা গ্রহণ করেন। ১ আগস্ট ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় বেথুন স্কুলের সাথে মিশে যায়। তাঁর এই সমস্ত কাজে সহযোগী ছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী, দুর্গামোহন দাস, আনন্দমোহন বসু, অন্নদাচরণ খাস্তগীর প্রমুখ নেতারা। দ্বারকানাথ ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়কে অনেক অর্থ সাহায্য করেছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি কলকাতায় ব্রাহ্ম নেতা কেশবচন্দ্র সেনের দলে ছিলেন। কিন্তু যখন কেশবচন্দ্র সেন নিজের মেয়ে সুনীতির তাঁদের ধর্মের নিয়ম না মেনে কুচবিহার রাজবাড়িতে বাল্য বয়সে বিবাহ দেন তখন দ্বারকানাথ সমালোচক পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার ফলে কিছু ব্রাহ্মনেতা আলাদা হয়ে গিয়ে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজগঠন করেছিলেন। দ্বারকানাথ ছিলেন সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার একজন অগ্রণী ব্যক্তি। তিনি মেয়েদের উন্নতির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন বলে তাঁকে অবলাবান্ধব বলা হতো।

উচশিক্ষাক্ষেত্রে যেমন, পেশা জীবনেও বহু ব্যাপারে বাংলার প্রথম নারী হিসেবে রেকর্ড করা কাদম্বিনীকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তখনকার বঙ্গবাসী নামে সাময়িক পত্রিকার ডাকসাঁইটে সম্পাদক মহেশচন্দ্র পাল একটি কার্টুন ছেপে ডা. কাদম্বিনীকে ‘স্বৈরিণী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কাদম্বিনী নাকি মোটেই ঘরোয়া নন। ঘর-সংসারের দিকে, ছেলেমেয়ের দিকে তাঁর নাকি মন নেই, নিষ্ঠাও নেই। এতগুলি সন্তানের মা হওয়া সত্ত্বেও তিনি নাকি মাতৃধর্ম পালন করছেন না। এর ওপর আবার সমাজসেবা, স্বদেশী করে বেড়াচ্ছেন, সভাসমিতি করছেন বাইরে। সুতরাং বঙ্গবাসী পত্রিকায় একটা কার্টুন এঁকে দেখানো হলো, বারবণিতা ডা. কাদম্বিনী স্বামী দ্বারকানাথের নাকে দড়ি দিয়ে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ছেড়ে দেবার পাত্রী নন কাদম্বিনী কিংবা তাঁর স্বামী। মামলা হলো। বঙ্গবাসী পত্রিকার সম্পাদক মহেশচন্দ্র পালের ১০০ টাকা জরিমানা আর ৬ মাসের জেল হলো। সেই সময় এই ধরনের মামলা করা, বিশেষ করে একশক্তিশালী পুরুষ কাগজের সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো নারীর মানহানির মামলা করাটা মোটেই সহজ ছিল না।

Printএত সব হুলুস্থুল করেও কিন্তু লোকের মন থেকে তার ডাক্তারির ব্যাপারে ভুল ধারণাটা ভাঙা যাচ্ছিল না। কাদম্বিনী বুঝতে পারেন, বিলিতিডিগ্রি নাহলে এই বাধাটা দূর করা যাবে না। দ্বারকানাথের উৎসাহে এক বছর বয়সের কনিষ্ঠ পুত্রসহপাঁচটি ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে স্বামী এবং সৎ কন্যা বিধুমুখীর তত্ত্বাবধানে কলকাতায় রেখে ১৮৯২ সালে বিলেতে যান কাদম্বিনী। সেখান থেকে একটি নয়, তিন তিনটা ডিগ্রি যথাক্রমে এল আর সিসি (এডিনবরা), এলআরসিএস (গ্লাসগো) ওজিএফসিএস (ডাবলিন) নিয়ে স্বদেশে ফিরলেন। এবার তিনি হলেন বিলিতি ডিগ্রিধারী প্রথম ভারতীয় মহিলা ডাক্তার যিনি ভারতে ফিরে এসে ডাক্তারি শুরু করেন। দ্বারকানাথ রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ছাত্রসমাজ, ভারত-সভা এবংভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কংগ্রেসে তিনি নারীদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন। এর ফলে কাদম্বিনীর নেতৃত্বে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ৬ জন নারী কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের অগ্রজা স্বর্ণকুমারী দেবী ও তাঁর কন্যা সরলা দেবী চৌধুরাণী ছিলেন। দ্বারকানাথের স্ত্রী কাদম্বিনী-ই কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম কোনো নারী বক্তা। মাতৃভাষার মতো স্বচ্ছন্দে ও নিখুঁত উচ্চারণে প্রদত্ত তার বক্তব্য সকলের মনে দাগ কেটেছিল। রাজনীতি ও নারী আন্দোলনের নেত্রী আনিবেসান্তের মতে, ‘The first woman who spoke from the Congress  platform, is a symbol that India’s freedom would uplift India’s womanhood.’ দ্বারকানাথ আসামেরচা- বাগানের শ্রমিকদের অবস্থা নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করেন  এবং তাঁর  উৎসাহে কাদম্বিনী নিজে গিয়েও তা দেখেন। ভারতের বিভিন্নস্থানের খনিতে কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের হুমকির ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে এই বিষয়ে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করার জন্যে পরামর্শ দেন এই দম্পতি।  ইউরোপিয় মালিকদের অত্যাচারের খবর দ্বারকানাথের প্রতিষ্ঠিত এবং সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা সঞ্জীবনীতে প্রকাশ করেন। এবং এর ফলে গণসচেতনতার মাধ্যমে এক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়ির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে গান শেখাতে আসতেন। তাঁর গান শুনে শুনে গলায় গানের সুর তুলে নিতেন বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা। তবে অল্প বয়সী তরুণরাই বেশি আসতো। গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে থাকতেন নরেন্দ্র দত্ত। বেহালা হাতে এসে বসতেন সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর। সেই সময়ের দুই বিখ্যাত পরিবারের, রায় পরিবার ও গাঙ্গুলি পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু কালের সখ্য আরও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন রচনা করে। ধীরে ধীরে বাংলার দুই নামকরা বাড়ির মধ্যে সাংস্কৃতিক বাঁধনের সঙ্গে জীবনের গাঁটছড়াতেও বন্ধন রচিত হয়। বাঁধা পড়েন উপেন্দ্রকিশোর দ্বারকানাথের কন্যা বিধুমুখীর সঙ্গে। বিধুমুখী দ্বারকানাথের প্রথমা স্ত্রীর (মৃত) ঘরের মেয়ে। ওদিকে রবীন্দ্রনাথের ভাগ্নী সরলা দেবীর সঙ্গে কাদম্বিনীর যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বহু দিনের। কংগ্রেসের ও নারীকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায়-ই দেখাশোনা হয় দুজনের।

প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ও কাদম্বিনী বসু জাতীয় কংগ্রেসের সর্বপ্রথম দুই নারী সদস্যা। তাঁরাই আবার কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম নারী সদস্যা হিসেবে যোগদান করেন। অতএব দেখা যাচ্ছে ঊনিশ শতকের দ্বিতীয় অর্ধাংশ থেকে শুরু করে বিশ শতকের প্রথম তিন দশকে বাংলার সকল উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি পরস্পরের কাছে এসে অবশেষে কয়েকটি পুঞ্জিবদ্ধ নক্ষত্রমালা তৈরি করেছিলেন। বাংলার রেনেসাঁসে উজ্জীবিত সাহিত্য-সংস্কৃতি এই নক্ষত্রদের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আরো ঋদ্ধ হয়েছে।