সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

পরবর্তী প্রজন্ম বাংলাসাহিত্যের দিগন্তটার পরিধি ও গুণগত মান দু’টো-ই আরও বৃদ্ধি করবে – পূরবী বসু

September 19th, 2016 10:10 pm
পরবর্তী প্রজন্ম বাংলাসাহিত্যের দিগন্তটার পরিধি ও গুণগত মান দু’টো-ই আরও বৃদ্ধি করবে  – পূরবী বসু

প্রচ্ছদ রচনা

আলাপন

 

[পূরবী বসু কথাশিল্পে অবদান রাখার জন্য বাংলা একাডেমি (২০১৩) পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নারী অধিকারের পক্ষে যেমন তিনি কলম ধরেছেন, তেমনি আন্দোলনেও সোচ্চার। তাঁর ৪৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।]

 

পরবর্তী প্রজন্ম বাংলাসাহিত্যের দিগন্তটার পরিধি ও গুণগত মান দু’টো-ই আরও বৃদ্ধি করবে

– পূরবী বসু

 

শব্দঘর : বিশশতকের বাঙলাসাহিত্যের তুলনায় একুশ শতকে পৌঁছে আমরা কতদূর এগোতে পেরেছি বলে আপনি মনে করেন?

পূরবী বসু : বিশ শতকের বাংলাসাহিত্য মানে তো পুরো একশ বছরের সাহিত্য। আর একুশ শতকের সাহিত্য বললে আক্ষরিক অর্থে আমরা বুঝি গত ১৫/১৬ বছরের সাহিত্যকে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে আমরা কেবল একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাস করছি। তার মানে একবিংশ শতকের এক-পঞ্চমাংশ-ও আমরা পার করিনি এখনও। একশ বছরের সাহিত্যকে পনের বছরের সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। বিংশ ও একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনা করতে হলে অন্তত আরও ৮০-৮৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

যেখানে আধুনিক বাংলা ভাষার জন্ম-ই হয়েছে সবে উনবিংশ শতাব্দীতে, আর ঊনবিংশ-বিংশ শতকে বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতিতে যে নবজাগরণ ঘটেছিল, সেই রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথের সময় পর্যন্ত, সেই নবজোয়ারের সাথে যুক্ত হয়েছিল স্বাদেশিক চেতনা-স্বাধীনতা আন্দোলন, নারী-শিক্ষা ও প্রগতি আন্দোলন, নতুন ভাবাদর্শ কমিউনিজমের আবির্ভাব, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা ছাপাখানার উদ্ভব, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সমাজ-সংস্কারে ব্রাহ্মধর্মের উন্মেষ ও বিকাশ ইত্যাদি বহুমাত্রিক অগ্রগতি এবং উদ্ভাবন বাংলা সাহিত্যের বড় উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীকালে বিয়াল্লিশের মন্বন্তর, সাতচল্লিশের স্বাধীনতা- দেশভাগ, শরণার্থী সমস্যা, দারিদ্র্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও সংগ্রাম সাহিত্যের বড় উপকরণ হয়ে দেখা দেয়। এছাড়া উনবিংশ শতকের শেষার্ধ থেকে নারীর প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার শুরু, রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব ও তাঁর বিশাল উপস্থিতি, নারী-রচিত সাহিত্যের বিকাশ, বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়/বেথুন স্কুল (পরে বেথুন কলেজ) প্রতিষ্ঠা, তিরিশের কবিদের আগমন, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলা-ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম, সবমিলিয়ে গত শতকে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও কলরব-মুখর।

তবে গত কিছুকাল ধরে যেরকম ধারা ও প্রবণতা লক্ষ্য করছি, তাতে এটা বুঝতে পারছি গত শতকের সাহিত্যের উপকরণ যদি প্রধানত দারিদ্র্য আর দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং দেশভাগ হয়ে থাকে, এই শতাব্দীর মূল উপকরণ হবে নারীর সমাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার জয়গানের ব্যাপারটি। বিবাহ একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই  শতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে আমার ধারণা। কেননা সন্তান এবং সম্পদ- যে দুটো জিনিস বিবাহের ভিত্তি, নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হবার সঙ্গে সঙ্গে সে দুটোর জন্যে পুরুষের ওপর তার নির্ভরশীলতা কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি না একুশ শতকের এই দ্বিতীয় দশকে মাত্র ১৫/১৬ বছরের মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ নতুন এক ধারার সৃষ্টি হয়েছে বা তাকে চিহ্নিত করার মতো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের বাংলা সাহিত্য রচিত হয়েছে। এটি এখনও বিংশ শতকের ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। আসলে সাহিত্য তো কালের বিচারে খাস জমির মতো পরিষ্কারভাবে খণ্ডে খণ্ডে বিভাজিত নয়! সাহিত্য নদীর জল বা স্রোতের মতো- একটানা আবহমান বয়ে চলে। একে এক একটা বিশেষ সময়ে টুকরো করে ভেঙে নিয়ে তার ঠিক আগের বা পরের টুকরো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির সাহিত্য বলে শনাক্ত করা বা আবিষ্কার করা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। সাহিত্য একটানা নিরবধি এক যাত্রা, যেখানে সময়ের ভিন্নতার ছাপ পড়তে প্রচুর সময় লাগে। আগেই বলেছি, আরও কয়েক দশক গেলে বোঝা যাবে একুশ শতকের সাহিত্যের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বা ভিন্নতা কিছু আছে কিনা, থাকলে তা কেমন করে বা কোথায় বিশ শতকের সাহিত্য থেকে আলাদা। তবে আমার মনে হয় দুতিনটি ব্যাপার ঘটবে এই শতকে। ১) নারীরচিত সাহিত্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এই শতকে, এবং নারী-রচিত সাহিত্য বলে যে অবহেলার দৃষ্টিকোণ থেকে মেয়েদের লেখার মূল্যায়ন করা হয়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে বাধ্য হবে পুরুষ সমাজ, ২) কলকাতা থেকে ঢাকায় বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির মূলকেন্দ্র পরিপূর্ণভাবে স্থানান্তরিত হওয়া স¤পন্ন হবে। কলকাতা ভারতের প্রাদেশিক এক সংস্কৃতমনা শহর হিসেবে, আর হিন্দি ও ইংরেজির চাপে কোণঠাসা হয়ে বাংলা সেই দেশের অন্যতম এক রাজ্য-ভাষা হিসেবে পশ্চিম বাংলায় টিকে থাকবে। বাংলা ভাষা-ভিত্তিক দেশ বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির নবজোয়ার আসবে। সেটা হবে একবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁস। ৩) বাংলার মৌখিক ভাষা ও লিখিত ভাষা নিয়ে বহুদিনের বিতর্কের একটা অবসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ-শতকে। বাংলাদেশে জেলাভিত্তিক প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক ভাষার উপস্থিতির কারণে সাহিত্যে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ বাড়বে বাংলাদেশে। বাংলাভাষার গায়ে নতুন নতুন অনেক শব্দ অলংকারের মতো গাঁথতে থাকবে। মুসলমান সমাজে প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত কিছু আরবি-ফারসি শব্দ কেবল মুখের কথায় নয়, সাহিত্যের লিখিত ভাষায় ব্যবহৃত হবে। কিছু তৎসম শব্দ সময় যাবার সঙ্গে সঙ্গে প্রাত্যহিক ব্যবহারের ভাষা থেকে তিরোহিত হবে। আরও অনেক বিদেশি শব্দের, বিশেষ করে ইংরেজি শব্দের বাংলা পরিভাষা রচিত হবে। পরিশেষে, একুশ শতকের সাহিত্য এখন পর্যন্ত  বিংশশতকের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখে চলেছে। তুলনা করে অতিরিক্ত বৈপরীত্য তেমন খুঁজে পাওয়া যাবে না এখনও। তবে নারী অধিকারের ব্যাপারটা, নারী সাহিত্যিকদের স¤পৃক্ত হবার ব্যাপারটা যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে এবং নারী-রচিত উন্নতমানের লেখার মাধ্যমে একবিংশ শতকে নারীরা বাংলা সাহিত্যকে আরও উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ করে তুলবে বলে আমার ধারণা। আর স্বভাবত-ই ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটভিত্তিক ম্যাগাজিন, সাময়িকপত্র ও বইয়ের প্রচলন বাড়বে। প্রকাশনা শিল্প আরও সহজতর, কম শ্রম ও ব্যয়সাপেক্ষ হবে। ব্যক্তিচাহিদা মতো সরবরাহের ব্যবস্থা হবে।

শব্দঘর : বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে বাঙলাসাহিত্য কতখানি গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন? এ প্রসঙ্গে আপনার পরামর্শ :

পূরবী বসু : রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা সাহিত্যের বিশেষ কোনো শাখার কথা অথবা বাংলা সাহিত্যের কোনো বিশেষ লেখকের কথা শুনিনি, জানি না, যে বা যারা আন্তর্জাতিকমহলে ভীষণ সাড়া জাগিয়েছেন। তবে প্রচুর বাঙালি বা বাঙালির ঘরে জন্ম নেওয়া লেখক বর্তমানে ইংরেজিতে লিখে আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে ঝুম্পা লাহিড়ী, অমিতাভ ঘোষ, মনিকা আলী, কিরণ দেশাই, অনিতা দেশাই, অরুন্ধতী রায়, প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণীয় করে তোলার জন্যে সবচাইতে জরুরি দরকার হচ্ছে আমাদের লিখিত উন্নতমানের রচনার মানস¤পন্ন অনুবাদ। আর একটা বিকল্প পন্থা হলো বাংলা ছাড়াও অন্য ভাষায় বাঙালি লেখকদের সাহিত্য রচনা করার চেষ্টা করা, যদি সেই ভাষায় সাহিত্য নির্মাণের মতো ক্ষমতা ও দক্ষতা থেকে থাকে।

শব্দঘর : তরুণ কথাশিল্পীদের নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী- উত্তরণের পথে করণীয় কী?

পূরবী বসু : তরুণ কথাশিল্পীদের নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। কয়েকজন অতি তরুণ কথাশিল্পীর লেখা পড়ে আমি লক্ষ্য করেছি, নতুন ধারায়, সুসাহিত্য গড়তে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। অবিরাম পরিশ্রম করছেন। সবচেয়ে বড় কথা তাঁদের অনেকেই রীতিমতো এবং নিয়মিত সাহিত্য পাঠ করেন। নিজেদের দেশের সুসাহিত্য- বিদেশের সাহিত্য দুটো-ই। আমি লক্ষ্য করেছি আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে খুব ভালো লিখতেন তেমন কিছু কথাসাহিত্যিকের লেখা যা হয়তো তাঁদের সমকালে যথার্থভাবে মূল্যায়ন হয়নি, সেই সকল কথাসাহিত্যিকের এই প্রজন্মের লেখকরা নতুন করে আবিষ্কার করছেন এবং সেই লেখকদের এবং তাঁদের অমূল্য রচনাদি ধুলা ঝেড়ে তুলে এনে সর্বসম্মুখে উন্মোচিত করছেন। এটি একটি আশাব্যঞ্জক ও শুভ উদ্যোগ।

book-1

তবে এই তরুণ লেখকদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, রাতারাতি খ্যাতির মোহে অথবা পুরস্কার জিতে নেবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাড়াহুড়া করে বইয়ের পর বই প্রকাশ করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আগে ভালো লেখার চেষ্টা যেন করেন তারা। সেই সঙ্গে যেন আরও পড়েন। নিজের লেখার ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির বদলে মাঝে মাঝে আত্মসমালোচনাও করা দরকার। অন্যদের গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে নিজের লেখার মানোন্নয়নের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

শব্দঘর : আমাদের প্রবীণ কথা- সাহিত্যিকদের প্রতি আপনার মূল্যায়ন এবং আমাদের উত্তরণ বিষয়ে আত্মসমালোচনা কি আছে?

পূরবী বসু : আমাদের অগ্রজ কথাশিল্পীদের অনেকেই অতি গুণী লেখক। বিশেষ করে আমাদের দেশে ষাটের দশকের বেশ কয়েকজন কথাশিল্পী নতুন ধারা নির্মাণ করেছেন। এদের মধ্যে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আমার প্রিয়। ওদিকে পশ্চিম বাংলার কবিতা সিংহ, সমরেশ বসু, মানিক বন্দ্যোপাধায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, অমিয়ভূষণ মজুমদার, কমলকুমার মজুমদার, জগদীশ গুপ্ত আমার প্রিয়। আরও আগের রবীন্দ্র, নজরুল, বিভূতি, মাইকেল, ওয়ালিউল্লাহ্, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, জীবনানন্দ তো রয়েছেন-ই। আমি মনে করি, তাঁরা তাদের কাজ করেছেন। এখন পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরীদের চিহ্নিত করা পথ ধরে অথবা নতুন পথের সন্ধানে বেরিয়ে বাংলা সাহিত্যের দিগন্তটার পরিধি ও গুণগত মান দু’টো-ই আরও বৃদ্ধি করবে।

শব্দঘর : আপনার নিজস্ব পরিচিন্তা কি?

পূরবী বসু : ক) আমাদের বাংলা সাহিত্যের লেখকদের আরেকটু বেশি উদার হয়ে শুধু ‘নিজের লেখা পড়া’ আর বাদ বাকি ‘সকলের লেখা দেখা’র সংস্কৃতি ত্যাগ করতে হবে। নিজের ঢোল নিজে না পিটিয়ে একটি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যতœ সহকারে অন্যদের লেখা পাঠ ও তা নিয়ে সুষ্ঠু, মননশীল আলোচনা করা দরকার। পর¯পরের লেখা পড়লে নিজের লেখার জন্যেও চিন্তার খোরাক বাড়বেÑ অন্য লেখকটিসহ পাঠক মাত্র-ই  উপকৃত হবেন। খ) লেখকদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর সেটা কেবল সৃজনশীল লেখা লিখেই পালন করা যায় না। যেহেতু সমাজে তাঁদের একটা বিশেষ স্থান রয়েছে, পরিচিতি রয়েছে, সমাজের শেকড়ে যেসব মৌলিক সমস্যা সমাজটিকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, তাদের উৎপাটন করা লেখকের সামর্থ বা কর্তব্য না হতে পারে; কিন্তু সেই সব জরুরি বিষয় স¤পর্কে মতামত ব্যক্ত করে সচেতনতা বাড়াতে, নৈতিক বোধ জাগ্রত করতে সাহায্য করা যেতে পারে। যেকোনো অবস্থায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে আছেন সৃজনশীল লেখকরা, এই নিশ্চিয়তা তাদের মনোবল বাড়াবে।।

শব্দঘর : আপনার প্রিয় উপন্যাস ও ছোটগল্প বিষয়ে বলুন ।

পূরবী বসু : আমার প্রিয় উপন্যাস পুতুল নাচের ইতিকথা, পদ্মানদীর মাঝি, পথের পাঁচালী, উত্তরঙ্গ, গঙ্গা, জগদ্দল, বিবর, সংশপ্তক……। ছোটগল্প অনেক। নাম করা কঠিন। শুধু এটা নিয়েই ভিন্ন সাক্ষাৎকার হতে পারে। তবে আমার ধারণা রবীন্দ্র রচনাবলির অন্যতম সার্থক সৃষ্টি তাঁর ছোটগল্প। একটু পক্ষপাতিত্ব করেই নাহয় বলি, জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের প্রথম দিকের একটা গল্প, যা আজ থেকে ষাট বছর আগে লেখা, ‘কেষ্টযাত্রা’, পড়ার পরের সে অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে পারি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পোস্টমাস্টার’ ও হাসান আজিজুল হকের ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ সেইরকম আরও দু’টি ছোটগল্প।

শব্দঘর : আপনার পাঠকদের প্রতি কিছু বলুন?

পূরবী বসু : পাঠকদের আরেকটু মুখর হতে অনুরোধ করি। ভালোমন্দ যাই লিখি তাঁদের প্রতিক্রিয়া শুনতে চাই। এই নীরবতার সংস্কৃতি আরও বেশি লিখতে উৎসাহী করে না লেখককে। পাঠক ও লেখকের মাঝখানে একটা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও মত আদানপ্রদানের ব্যবস্থা থাকা দরকার।