eid-porjalochona-1

ঈদসংখ্যা ২০১৬

ঈদসংখ্যাগুলো আমাদের সাহিত্যপাঠের সুযোগ সৃষ্টি করছে- কতখানি?

মুনতাসীর মারুফ

প্রকৃতির অগ্রগামী জীব মানুষ। মানবসভ্যতার যা কিছু অর্জন তার মধ্যে সামাজিক ধ্বনিমালাকে শব্দশিল্পে যোজনাই বুঝি শ্রেষ্ঠতর। ভাষাশব্দশিল্পের বাহন আজ যেমন বৈদ্যুতিন মাধ্যম তেমনই আদি থেকে গুহাগাত্রের চিত্রাঙ্কন, পাথরে-মাটির শ্লেটে লিপিসৃষ্টি বা পরবর্তীকালের তালপত্র বা প্যাপিরাসের বাহনের ঐতিহ্য আজও কাগজের পাতায় পাতায় অম্লান। বোধ করি বৈদ্যুতিন মাধ্যমকে হার মানতে হবে প্রাচীনতর মুদ্রণ মাধ্যমের কাছে। মূলত মানুষের শরীরী-সীমাবদ্ধতাই বৈদ্যুতিন মাধ্যমকে প্রাকৃতিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়াই কারণ। প্রযুক্তি যে-গতিতে ধাবমান হতে পারে সে-গতিকে চোখ ধারণ করতে ব্যর্থ। বুঝিবা কাগজের মুদ্রণ মাধ্যমই এ-যাবৎকালের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য  মাধ্যম সর্বশ্রেণির/বয়সের মানুষের কাছে।

আজ যখন প্রায় সর্বগ্রাসী বৈদ্যুতিন মাধ্যমটির অবাধ জনপ্রিয়তায় ভেসে যাচ্ছে সমাজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির সর্বস্তরের মানুষের মানসপ্রবাহ। আবালবৃদ্ধবনিতা যেখানে পর্দায় চোখ রেখে নতুন কোনো ভাষায় পটু হচ্ছে, শিশুরাও নতুন নতুন ভাষা শিখছে কিন্তু এদের প্রায় অধিকাংশ মানুষই (শিশুসহ) নিরক্ষর। বয়স্ক নিরক্ষর মানুষের কাছে বা নিরক্ষর শিশুর কাছে সেভাষা কোনো কার্যকর অবদান রাখছে না। বিনোদনের মাধ্যমকে তাই ভাষাশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাটাও এক বিচারে অসম্ভব। শুধু বিনোদন নয়, ভাষাশিক্ষার মাধ্যম তো হতেই পারে বৈদুতিন মাধ্যম- কিন্তু তা-ও দূর-অস্ত। আমরা শব্দশিল্পের কাগজের মাধ্যমটির মাধ্যমে আমাদের শ্রেষ্ঠতর সাহিত্যকে আমাদের ধ্যানজ্ঞান করে এসেছি-এখনও সেই ধারাকে অবিকল অব্যাহত রেখে উপভোগ করছি এবং একই সাহিত্য-সংগীত-নাট্যসাহিত্য বৈদ্যুতিন মাধ্যমেও উপভোগ করছি। এখনও আমাদের নান্দনিক শিল্পের প্রায় সকল মাধ্যম প্রায় সবকটি শাখার উৎস আমাদের মুদ্রণ-মাধ্যম। পৃথিবীর সব মুদ্রণ মাধ্যমই এখনও সাহিত্যপ্রেমীদের প্রধান মাধ্যম। আমাদের বাঙলা ভাষা মানবসভ্যতার সর্বাগ্রগণ্য সাহ্যিতসম্ভারের আধিকারী। বহুবিধবিঘ্ন সংকট উৎরিয়ে আজকের বাঙলাভাষা-মুল্লুকের নানান উৎসব ঐতিহ্য উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা (পশ্চিম বঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামসহ) অঞ্চলে সাহিত্যসম্ভারের বিশেষ পসরা নিয়ে প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা, যেমন কিনা শারদীয় ও ঈদসংখ্যা।

বাংলাদেশের লেখক-পাঠকের সম্মুখে পত্রপত্রিকার ঈদসংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত সাহিত্যসম্ভার প্রধান আকর্ষণ সৃষ্টি করে। অধিকসংখ্যক লেখকই এই সংখ্যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্তরতাগিদে পাঠকের কাছে পৌঁছতে  আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে। হয়তবা এমন লেখকও আমাদের রয়েছেন যারা সাহিত্যশিল্প নিয়ে এতটা উৎসবকেন্দ্রিক তাগিদকে এড়িয়ে চলতে চান। তবে ব্যাপক প্রতিনিধিত্বশীল লেখকেরা তাদের সৃষ্টি নিয়ে হাজির হন সংবৎসর। এই ধারাটি প্রবলভাবেই সাহিত্য-অঙ্গনে প্রভাব ফেলেছে বলা যায়। তবে তা বহিরঙ্গে। কোনো লেখা হয়তো এমন  যে তা আর ফিরে দেখার অবকাশ নেই। সেই অবকাশ মিলবে বটে ঈদসংখ্যা প্রকাশের পর। অর্থাৎ সময়ের টানাপড়েনে- বাজারে ঈদসংখ্যা হাজির করার ‘ভীষণ’ তাড়াহুড়ার মধ্যে অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ বা চরিত্রের চিত্রণ থেকে বিচ্ছেদ ঘটে যায় লেখকের তথা অপেক্ষিত পাঠকের। ঈদসংখ্যার পর লেখক তাঁর সৃষ্ট চরিত্রকে মনোমতন চিত্রিত করবেন, অধ্যায়ের পর অধ্যায় সংযোজন করবেন, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করবেন। পুস্তক-প্রকাশকের হাতে দেবার জন্য। কিন্তু ঈদসংখ্যার পাঠকেরা বঞ্চিত রইলেন লেখক-কল্পিত চরিত্রের চরম পরিণতি উপভোগ করা থেকে। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। কোনো কোনো ঈদসংখ্যায় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসও প্রকাশিত হয়েছে।

eid-porjalochona-2

সত্য এই যে : লেখক যা লিখেছেন ঈদসংখ্যার জন্য তা কেবলই কিছু লেখক-সম্মানী পাবার জন্যই নয়, সম্পাদকের চাপও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। সব লেখা ও সব লেখকের বেলায় নিশ্চয় তা প্রযোজ্য নয়। তবে ঈদসংখ্যা এমন একটা উতলা মৌসুম যে, প্রায় সব লেখককেই অনিচ্ছেয় হলেও হাতের কলম দ্রুত চালাতেই হয়। যাই হোক, বিষয়টির বর্তমান দিক পরিবর্তন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির বাণিজ্যসফল যুগের পায়ে-পায়ে ঘটেছে। আগে যা বেগম, সমকাল (ষাট দশক) মাহেনও, সংবাদ, ইত্তেফাক, দৈনিক পাকিস্তান, সচিত্র সন্ধানী নামক সাহিত্য সাময়িকী ও দৈনিক পত্রিকার বেলায় অসম্ভবের পায়ে চলার শামিল ছিল। আজ আমাদের একচেটিয়া পুঁজিসফল বাণিজ্যের দেশে দৈনিক পত্রিকার আবির্ভাব ঘটে চলেছে একের পর এক। সাহিত্য সাময়িকীর প্রায় অনুপস্থিতিতে এই শূন্য স্থানটিও পূরণ করতে ধনী শিল্পপতি উদ্যেক্তারা শুরু করেছেন বর্ধিত কলেবরে সাহিত্যপাতা এবং ঈদোৎসবকে ঘিরে চলছে বৃহৎ কলেবরের ঈদসংখ্যার প্রকাশ। আর একই সময় একই উৎসবের কল্যাণে চলছে লেখা সংগ্রহের অভিযান। লেখকদের জন্য আত্মসমর্পণই মুক্তির পথ বুঝিবা কিংবা লেখা ছাপার প্রায় বেকসুর মওকা। এমন মওকা রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের হাতেও মিলেছে। পণ্যের বিজ্ঞাপনকেন্দ্রিক লেখা লিখে দিয়েছিলেন তারাও। আজকের ধনী ধনী উদ্যেক্তাদের নাকের ডগায় জুটে যায় অজস্র বিজ্ঞাপন। ঈদসংখ্যাগুলির ‘ফোল্ডার কভারে’র অতি-সম্ভবপর জাঁকজমকের ভিতরে অজস্র বিজ্ঞাপনের পাশে পাশে ঠাঁই পায় আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির নান্দনিক সৃষ্টি গল্প-উপন্যাস-কবিতা-অনুবাদ-প্রবন্ধ -স্মৃতিচারণ-আত্মকথন-ভ্রমণ-সাক্ষাৎকার-ফ্যাশন-সিনেমা-নাটক-খেলা-ফটোফিচার-রান্নার রেসিপিসহ আরও অনেক বিষয়। অতিশয় বর্ণবিভ্রাটের সমাহারে পণ্যের প্রচার পায় নিশ্চয়। কিন্তু কাগজে-ছাপানো পত্রিকায় উপস্থাপিত সাহিত্যসমঝদারদের জন্য (শাদা কালো রঙই যাদের কাম্য)  ঈদসংখ্যাগুলি আমাদের সাহিত্যপাঠের সুযোগ সৃষ্টি করছে কতখানি? কিনতে আগ্রহী পাঠকেরা আর্থ-সামাজিক জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত নন। তাহলে হয়তো প্রায় নব্বই ভাগ পাঠকই প্রায় সকল ঈদসংখ্যার মোটামুটি ২০০ টাকা মূল্য ধার্য করাই কিনতে না পারার কারণ বলে অঙ্গুলি নির্দেশ করবেন। বিশেষত অধিকাংশ পত্রিকাই অঢেল অর্থবিত্তের মালিক। তারা মূল্য কমিয়ে ধার্য করতে পারেন। এভাবে প্রায় সারা বছরের পাঠ-সংগ্রহ একান্ত আকর্ষণীয় হতে পারে।

কয়েকটি প্রতিনিধিত্বশীল পত্রিকার এবারের ঈদসংখ্যার ঔপন্যাসিক ও গল্পকারদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আমরা তুলে ধরলাম (ঈদসংখ্যা বর্ণক্রমে সাজানো হয়েছে) :

পাক্ষিক অন্যদিন-এর ঈদ সংখ্যায় উপন্যাস লিখেছেন : হাসনাত আবদুল হাই, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, পূরবী বসু, হরিশংকর জলদাস, আন্দালিব রাশদী এবং মোহিত কামাল। গল্প লিখেছেন : সুব্রত বড়–য়া, সেলিনা হোসেন, নাসরীন জাহান, আনা ইসলাম, আনিসুল হক, জাকির তালুকদার, মাসুদ আহমেদ, শাহনাজ মুন্নী, মোস্তফা কামাল, মাহবুব হক শাকিল, ধ্রুব এষ, সুমন্ত আসলাম, মাহবুব আজিজ, শহিদ হোসেন খোকন, সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম।

পাক্ষিক অনন্যা-এর ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে একটি উপন্যাস, লিখেছেন শাহনাজ নাসরীন। যেসব গল্পকারের গল্প প্রকাশিত হয়েছে তারা হলেন : জাহানারা নওশিন, ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ, আকিমুন রহমান, মিনার মনসুর, পাপড়ি রহমান, ধ্রুব এষ, আফসানা বেগম, রুমা মোদক।

পাক্ষিক আনন্দ আলোতে উপন্যাস লিখেছেন ফরিদুর রেজা সাগর। ঠাঁই পেয়েছেন রাবেয়া খাতুন, হুমায়ূন আহমেদ, ফজলুল আলম, আমজাদ হোসেন, মুনতাসীর মামুন, শাহাবুদ্দীন নাগরী, আলী ইমাম, আমীরুল ইসলাম, মোহিত কামাল, অরুণ চৌধুরী, আলম তালুকদার, হারুন রশীদ, মোশতাক আহমেদ, মোস্তফা কামাল, আনজীর লিটন, পলাশ মাহবুব, মনি হায়দার, আউয়াল চৌধুরী, জামাল রেজা, এহ্সান মাহ্মুদ, হুমায়ূন কবীর ঢালী, সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম-এর গল্প।

দৈনিক আমাদের সময়-এর ঈদসংখ্যা সেজেছে পাঁচটি উপন্যাস আর দশটি গল্পের সম্ভারে। বুলবুল চৌধুরী, মিহির সেনগুপ্ত, আতা সরকার, মনি হায়দার, রাহমান জাহিদ লিখেছেন উপন্যাসগুলো; গল্প লিখেছেন ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ, মোহিত কামাল, মোস্তফা কামাল, সুমন্ত আসলাম, দীলতাজ রহমান, নূর কামরুন নাহার, আলমগীর রেজা চৌধুরী, ইকবাল আজিজ, ইকবাল খন্দকার, মাহবুব রেজা।

দৈনিক ইত্তেফাক– এ উপন্যাস লিখেছেন: মঈনুল আহসান সাবের, আন্দালিব রাশদী, মশিউল আলম, ইমতিয়ার শামীম, ধ্রুব এষ। গল্পকার সেলিনা হোসেন, সালেহা চৌধুরী, আবুল বাশার, ফারুক মঈনউদ্দীন, ইকবাল হাসান, রণজিৎ বিশ্বাস, নাসরীন জাহান, আনিসুল হক, ইরাজ আহমেদ, মনি হায়দার, হামিদ কায়সার, আহমেদ ফারুক, রুমা মোদক।

সাপ্তাহিক এই সময়-এর ঈদসংখ্যার ঔপন্যাসিক অমর মিত্র, হরিপদ দত্ত, মজিদ মাহমুদ, আলমগীর রেজা চৌধুরী, মাহবুব রেজা, হামিম কামরুল হক। গল্প লিখেছেন ইরাজ আহমেদ, আহমাদ মোস্তফা কামাল, মাসউদুল হক, সুমন্ত আসলাম, মণিকা চক্রবর্তী, সাজ্জাদ কবির, সাগুফতা শারমীন তানিয়া, কুলদা রায়, খালেক মল্লিক, রেজাউল করিম খোকন।

সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম-এর ঈদসংখ্যায় কোনো উপন্যাস প্রকাশিত হয়নি। গল্প লিখেছেন : বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, হাসনাত আবদুল হাই, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, বুলবন ওসমান, সেলিনা হোসেন, রেজাউর রহমান, ওয়াসি আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, পূরবী বসু, সুশান্ত মজুমদার, জাকির তালুকদার, হরিশংকর জলদাস, মঈনুল আহসান সাবের, আন্দালিব রাশদী, পারভেজ হোসেন, পাপড়ি রহমান, আহমাদ মোস্তফা কামাল, প্রশান্ত মৃধা, মহীবুল আজীজ, হুমায়ূন মালিক, রফিকুর রশীদ, মনি হায়দার, শাহনাজ মুন্নী, চন্দন আনোয়ার, মালেকা পারভীন, রাশেদ রহমান, মাহবুব রেজা, সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম, ওয়াহিদা নূর আফজা, নাসিমা আনিস, ফারুক মঈনউদ্দীন, মুর্শিদা জামান, মাহবুব আজীজ, সাজ্জাদ মারুফ।

দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর উপন্যাস লিখেছেন : সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, মোস্তফা কামাল, জাকির তালুকদার, সালমা বাণী, মোস্তফা মামুন। গল্প লিখেছেন অমর মিত্র, সৈয়দ ইকবাল, ওয়াসি আহমেদ, আতা সরকার, ইসহাক খান, হাবিব আনিসুর রহমান, নাসরীন জাহান, আন্দালিব রাশদী, ত্রিবিদ কুমার চট্টোপাধ্যায়, আমীরুল ইসলাম, প্রচেত গুপ্ত, কাবেরী রায় চৌধুরী।

দৈনিক জনকণ্ঠ-এর ঈদসংখ্যায় পাঁচটি উপন্যাস লিখেছেন নুরুল করিম নাসিম, কাওসার রহমান, ফারুক আহমেদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রফুল্ল রায়। গল্প লিখেছেন সুশান্ত মজুমদার, স্বদেশ রায়, মোহিত কামাল, সরকার মাসুদ, মুস্তাফিজ শফি, সমুদ্র হক, আলী ইদরিস, হীরেণ চট্টোপাধ্যায়, ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।

দৈনিক প্রথম আলোতে উপন্যাস লিখেছেন ওয়াসি আহমেদ, হরিশংকর জলদাস, শাহীন আখতার, আসিফ নজরুল, আনিসল হক, জাকির তালুকদার। গল্প লিখেছেন রেজাউর রহমান, সেলিনা হোসেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ইমদাদুল হক মিলন, ইমতিয়ার শামীম, সুমন রহমান, রায়হান রাইন, আহমেদ মুনির।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ সমরেশ মজুমদার, মঈনুল আহসান সাবের, ইমদাদুল হক মিলন, শামীম আজাদ -এর উপন্যাস এবং আবদুল গাফফার চৌধুরী, শওকত আলী, হাসনাত আবদুল হাই, বিপ্রদাশ বড়–য়া, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সালেহা চৌধুরী, পূরবী বসু, আনোয়ারা সৈয়দ হক, নাসরীন জাহান, ফরিদুর রেজা সাগর, তসলিমা নাসরিন, সৈয়দ ইকবাল, শাহ্নাজ মুন্নী, সুমন্ত আসলাম, মোস্তফা মামুন-এর গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

দৈনিক যুগান্তর-এ উপন্যাস লিখেছেন ইমদাদুল হক মিলন, তিলোত্তমা মজুমদার, প্রচেত গুপ্ত, মনিরুজ্জমান, আন্দালিব রাশদী, আতা সরকার, মোহাম্মদ কবীর আহমদ, দিলরুবা আহমেদ, নিরমিন শিমেল, মাহবুব আলম কবীর। গল্প লিখেছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সালমা ইসলাম, আবুল মোমেন, ময়ুখ চৌধুরী, ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, নাসরীন জাহান, দিলারা মেজবাহ, মোসাদ্দেক আহমেদ, তাহমিনা কোরাইশী, ইরাজ আহমেদ, আসিফ রশীদ, প্রভাস আমিন, আলফ্্েরড খোকন, শিমুল মাহমুদ, কাজল ঘোষ, মনি হায়দার, তুষার আবদুল্লাহ।

শব্দঘর-এ প্রকাশিত হয়েছে হরিপদ দত্ত এবং মঈন আহমেদ-এর পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, এবং সেলিনা হোসেন, ওয়াসি আহমেদ, হরিশংকর জলদাস, দিলওয়ার হাসান, ওমর কায়সার, জাকির তালুকদার, জুনাইদুল হক, তপন দেবনাথ, ধ্রুব এষ, মনি হায়দার, মাহবুব আজীজ, জুলফিয়া ইসলাম, শাহনাজ মুন্নী, আফসানা বেগম, মহি মুহাম্মদ, পিয়াস মজিদ, শামীম আহমেদ, মাহবুব ময়ূখ রিশাদ, হাসান মাহবুব, এনামুল রেজা-এর গল্প।

দৈনিক সমকাল-এ উপন্যাস লিখেছেন রাহাত খান, হাসনাত আবদুল হাই, সেলিনা হোসেন, বিপ্রদাশ বড়–য়া, হরিশংকর জলদাস, শেখ আবদুল হাকিম, রকিব হাসান, বুলবুল চৌধুরী, মঈনুল আহসান সাবের, ধ্রুব এষ। গল্প লিখেছেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রেজাউর রহমান, ইকবাল হাসান, শিহাব সরকার, রফিকুর রশীদ, নাসরীন জাহান, মোহিত কামাল, ইরাজ আহমেদ, প্রশান্ত মৃধা, আহমাদ মোস্তফা কামাল, মাহবুব আজীজ, সুমন্ত আসলাম, শাহনাজ মুন্নী, জেসমিন মুননী, সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম।

এখানে আমাদের হাতে আসা প্রতিনিধিত্বশীল কয়েকটি পত্রিকার কথাশিল্পীদের তালিকা ও তাদের গল্প-উপন্যাসের লিস্ট তুলে ধরেছি। যা শব্দঘরের সম্মানিত লেখক পাঠকদের বিবেচনার জন্য সংগ্রহ করা সুবিধাজনক হতে পারে। এভাবে আমাদের একাধিক ঈদসংখ্যার লেখার মান বিচার তথা ঔৎকর্ষের বিষয়ে পাঠকরা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। কেবল একজন সমালোচকের অঙ্গুলি হেলনে সব পাঠক আলোকিত নাও হতে পারেন। কেউ একটিমাত্র ঈদসংখ্যার বিচার বিশ্লেষণও করতে পারেন। যা ক্রমগতভাবে আমাদের লেখক-পাঠকের ভিতরের আরাধ্য সেতুবন্ধ তৈরি হতে সহায়তা করতে পারে। পত্রিকাগুলোর লেখকতালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু পত্রিকা নির্ভর করেছে খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় লেখকদের ওপর, নবীনরা সেখানে প্রায় উপেক্ষিত। আবার আবার কয়েকটি ঈদসংখ্যা উঠতি, এমনকি আনকোরা লেখকদের লেখাকেও মূল্যায়ন করেছেÑ দিয়েছে যথাযথ গুরুত্ব, যা বর্তমান বাজারে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে, এভাবেই গড়ে উঠবেন নতুনরা, লেখকÑপরিচিতি পাবেন পাঠককুলে। নামি সকল পত্রিকাই যদি নবীনদের ভালো সৃষ্টিকে মূল্যায়ন করে, তাহলে সামগ্রিকভাবে বাংলাসাহিত্যই সমৃদ্ধতর হবে।  সর্বোপরি বলা যায় ঈদসংখ্যাগুলো আমাদের সাহিত্যপাঠ ও সাহিত্যসৃজনে ভূমিকা রাখছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ।

* সকল মতামত লেখকের

* প্রাপ্ত ঈদসংখ্যার প্রচ্ছদ পত্রিকার নামের বর্ণক্রমে সাজানো হয়েছে

eid-porjalochona-3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares