কবিতা

 

k-1

মাকিদ হায়দার

সে যেন আজ সুখেই থাকে

[কবি শিবলি মোকতাদির স্নেহাস্পদ]

 

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বারদুই

পরাজিত হইবার পর,

এইবার সেই নৌকা বাইচে ফাস্ট হইছিলাম বলিয়া

একটি সোনার মেডেল, একটি থ্রি ব্যান্ড মারফি রেডিও,

সেই দিন বিকাল বেলায় আমার হাতে তুলিয়া

দিয়েছিলেন গোপীনাথপুরের

টিএনও সাহেব

 

মুহূর্তেই গ্রামগঞ্জে ছড়াইয়া পড়েছিল আমার নাম।

 

হঠাৎ শুনিতে পাইলাম কাহারা যেন চিৎকার করিয়া বলিতেছে

তোমার ভাই, আমার ভাই,

আরমান ভাই, আরমান ভাই

জিতিয়াছে, জিতিয়াছে।

 

নিজের নাম স্বকানে শুনিবামাত্র আহ্লাদে আটখানা হইয়া

ভাবিলাম,

আমার নৌকা বাইচে ফাস্ট হইবার কাহিনি পৃথিবীর

সকলেই যেন জানিতে পারেন

তাহাদের আরমান ভাই

জিতিয়াছে নৌকা বাইচে।

 

তখনি মনেপ্রাণে একগুচ্ছ আনন্দ লইয়া

বাড়ি ফিরিবার পথে,

পাড়ার বজলু কাজীর সহিত দেখা,

পথিমধ্যেই তাহাকে জিজ্ঞাস করিলাম,

শুনিয়াছো নাকি

আমি এই বছর নৌকা বাইচে

ফাস্ট হইয়াছি?

বজলু ভাই তাহার দুই ঠোঁট বাঁকাইয়া বলিলেন,

শুনেছি একটু আগে,

তবে, তিন বছর আগে হাটে বাজারে যেভাবে তোমার নাম ফেটেছিল

এইবার ফাটে নাই সেই পরিমাণে।

 

তখনি জানতে চাইছিলাম

কেন, ফাটিবে না নাম

এখুনি বলিতে হইবে আমাকে!

 

তিনি দুই ঠোঁটে মিষ্টি মিষ্টি হাসি লইয়া

কহিলেন,

 

যে রাত্রে জায়গীর মাস্টারের সাথে তোমার বউ

পালিয়েছিল, সেদিন দোহার পাড়ায়

সকলের মুখে, মুখে, ছিল

সেই মুখরোচক খবর

এমনকি রেডিও টেলিভিশনে বলেছিল

পাঁচ সাত বার তোমার এবং বউয়ের নাম।

 

বলেছিল পাড়ার সকলেÑযদিও ভাবীর বয়স আটাশÑতবু

চারদিকে এত লোক থাকতে তাÑনয়, বাড়ির…

ছিঃ ছিঃ

 

কাজী শালার পরের কথাটুকু আমি না শুনিয়া

তক্ষুণি স্থির করিয়াছিলাম,

যদি আর কোনোদিন ওই হারামির সহিত আমার দেখা হয়

কোনো কথা বলিব না, এমন কি

আজি হইতে আড়ি, আড়ি এবং আড়ি।

 

গতরাতে দ্যাশে আসিয়া জানিতে পারিলাম তাহারা দুইজন

উঠিয়াছে শামীমার খালার বাড়ি, তাহা হইতে পারে

মধ্যবাড্ডা, অথবা উত্তর ধানমন্ডি।

 

যদি কোনোদিন তাহাদের দেখা পাই,

তাহাদিগকে আশীর্বাদ করিয়া বলিব

সুখি হও।

 

এবং সময় সুযোগ পাইলেই তোমরা দুইজন একদিন

অবশ্যই আসিবে আমার ছিয়াত্তরতম জন্মদিনে।

 

 

k-2

হোসেনউদ্দীন হোসেন

নাম

 

বটের পাতায় লিখে রাখো আমার নাম

থাকবে তাতে দু’এক কথা সম্ভাষণ-

আমার কোনো ঠিকানা নেই তুমিও জানো

নিজেই আমি নিজেকে রাখি খুব গোপন।

 

জানাজানির মানেই তো হলো কানাকানি

বাতাসে ভেসে করবে দারুণ টানাটানি

জানে কেবল আমার কথা তোমার কথা

বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষলতা।

 

বটের পাতায় লিখে রাখো আমার নাম

থাকবে তাতে দু’এক কথা সম্ভাষণ-

‘তোমায় আমি ভালোবাসি’-আর কিছু নয়।

 

চোখের ভাষা বুকের মধ্যে রাখি গোপন।

 

 

k-3

মাহবুব বারী

ধোঁয়া

(কবি মাহমুদ কামাল)

 

ধোঁয়ার নিকটে গিয়েছিলাম-

আমি তো তোমাকে বলেছি আমি তো নিশ্চিত

ওখানে আগুন আছে। আগুনের স্ফুলিঙ্গ।

যখন-তখন কুণ্ডলী পাকিয়ে পাকিয়ে

মধ্যআকাশের বাতাসে দাউ-দাউ করে জ¦লে উঠতে পারে।

 

ধোঁয়া উড়ছে, দৈত্যের মতো লম্বা হতে হতে

নিজেকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যেন কোনো কিছুই

অনতিক্রম্য নয়, অবলীলায় আকাশের নীলিমা,

মেঘের সাদা-কালো পুঞ্জের ভেতর ঢুকে

অন্ধকার করে দিতে পারে সবকিছু।

 

ধোঁয়ার নিকটে গিয়েছিলাম-

আমি তো তোমাকে বলেছি আমি তো নিশ্চিত

ওখানে জল আছে।

 

 

 

k-4

কামরুল হাসান

শূন্য ও একের কাহিনি

 

শূন্যের ভিতর এক ভরে ভরে আমাদের জীবন কাটলো,

একটি একটি করে শিশু চলে এল জগৎ শূন্যতায়।

 

দোয়াতের শূন্যতায় এক কলম ডুবিয়ে এই লেখা,

শূন্যতার পাখা কী বিচিত্রে ভরে তোলে কবির খাতা।

 

ইন্টারনেটে ভাসা চিত্র, ধ্বনি, অক্ষর শূন্য ও একের

জড়াজড়ি করে থাকা, সম্ভাব্য সকল বিন্যাসে কাছে আসা।

 

শূন্য বলটিকে একের ব্যাটে তুলে কতবার সীমানায়,

শূন্যের ভেতরে কত কীর্তিমান আজ একাকী কফিনে।

 

এক আর একযোগে প্রেমের মঞ্চজুড়ে বিরহ শূন্যতা,

তুমি চলে গেছ অচেনা শূন্যতায়, আমি আজ একা।

 

মহাবিশ্বের একক স্পেসে নক্ষত্রগুলো শূন্যের মতো গোল

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় বহুকাল ধরে একাকী ঈশ্বর!

 

 

 

k-5

ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়

খবরের শিরোনাম নেই

 

অন্ধকার জড়িয়ে ধরে গাছের গুড়ি

অন্ধকার জড়িয়ে ধরে জলের শরীর

সামুদ্রিক জীবেদের অস্ফুট গুঞ্জন সকরুণ,

 

একনদী ছিল পুণ্যতোয়া

এক পাহাড় ছিল মগ্নসাধন

কেউ জানে না নদী আর পাহাড়ের সম্পর্ক কেমন,

 

ভিন গাঁয়ে ছিল বন্ধুর ঘর

ভিন নদী মায়াঈশানী

বন্ধুত্ব কি মানতে পারে সম্পর্কের বন্ধনী,

 

অন্য আকাশে ছিল নক্ষত্রকুয়াশা

অন্য সময় পায়ে পায়ে হাঁটে

সময় কি চেনাতে পারে সম্পর্কের সান্ধ্যভাষা।

 

 

 

k-6

অরূপ পান্তী

যন্ত্রণা

 

একটি সমৃদ্ধ স্তবক লিখতে গিয়ে

আজও ঘুরে বেড়াই মানুষের ভিতর

মানুষ গোলাপ ফোটায় আবার রক্তাক্ত করে।

 

কোথা থেকে আসে এই ঘুণপোকা?

নাকি জন্ম থেকে এরা বাস করে

পাঁজরের হাড়ে খুঁটি বানিয়ে কুরুক্ষেত্র

কি ভয়ঙ্কর! নাগাসাকি হিরোসিমা

যন্ত্রণার কোন রং নেই, ঝলসানো।

 

একটি সমৃদ্ধ স্তবক লিখতে গিয়ে

অশ্রু বিন্দুতে ঝাপসা হয়ে যায় চোখ

নিজের ভিতর বিষণ্ণ পড়ে থাকা

বাঁশি ও অসি পড়ে থাকে পাশাপাশি

মসি নিয়ে বসে আছি যেন নিঃশব্দ প্রদীপ ॥

 

 

k-7

খালেদ হামিদী

ভাসা

 

প্রাণ কি বুদ্বুদ তবে, তেপান্তর থেকে একা ভূমি ও হাওয়ায়

গড়িয়ে এসেছে আজ এত দূর? নাকি সাতসমুদ্রের জলে

আর তেরো নদীকূলে ভেসে উড়ে হেঁটে দৌড়ে সূর্যাস্ত পেরিয়ে

রমণীয় দিবালোকে রামধনুর রঙে জ্বলে আশ্চর্য ঝিলিকে?

শ্মশ্রুতে জোছনা ঠিকরে পড়লেই কে বলে কাছে বিয়োগের কাল?

দুই হাত তুলে বাহুমূলের অরণ্যে তীব্র দেখালে যৌবন

লজ্জা কি ঘৃণায় কারা এখনো তফাত রচে জানার আগেই

পুনরায় ভেসে উঠি, নিবিড় জরায়ুবাসী, মাতৃগর্ভজলে।

এই স্বপ্নিল ঘটনা শেষে পদক্ষেপ শুরু বর্ণিল ভুবনে।

মুগ্ধতায় কম্পমান মিলনযুদ্ধে পারঙ্গম আমি কার নই

বলতে না পারায়, দেখো, দেহাবসানেরও পরে কালের সাগরে

কিভাবে আরেক স্বপ্নে ভাসি আমি সদর্থক ও প্রেমী সকলে।

 

রাত, ০৮ মার্চ ২০১৬

 

 

 

k-8

রাবিউল হক

বন্ধুতা

 

কি নিখাদ বন্ধুত্ব হতে পারে

তোমার কাছ থেকেই শিক্ষণীয়

তুমি অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয়

সবার জন্য। বন্ধুতার কখনও ভাঁটা পড়েনি

কী মন্ত্র ছিল তোমার।

কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হলেও কিন্তু

তোমার মৃত্যুর পর সকলেই

গুণকীর্তন করেছে সমস্বরে।

নিয়েছে অঙ্গীকার

নিঃস্বার্থ বন্ধুতা-র।

 

 

 

k-9

ইউসুফ মুহম্মদ

ক্ষমতা

 

ওপরে তাকালে মন বড় হয়ে যায়- মহাকাশ, চাঁদ-তারা, সূর্য-সূর্য আরো সূর্য।

ছড়ানো ছিটানো রং কী আশ্চর্য ধূমকেতু, আলো-মেঘ-ধোঁয়া-ধুলোবালি পরস্পর সিঁড়ি।

 

তোমাদের দিক মুখ ফেরালেই দেখি রক্তচক্ষু, চকচকে ধারালো ছুরি, বোমা।

পান করছো পরিত্যক্ত থুতু, লউয়ের নহর, আগুন-আগুন খেলা। ক্ষমতার জন্য মাতাল ভিখিরি।

 

ওপরে আকাশ রংধনু, কুয়াশার ঝোলা, রেণু, প্রলয়ঙ্করী ভেঁপু বাজিয়ে উড়ে, উড়ে, উড়ে,

উড়ে উড়ে আসে ভিনদেশি পাখি, পাখির আত্মীয়-স¦জন পাখায় মাখিয়া পরজীবী রং

 

তোমাদের চোখের ভেতর রক্তচক্ষু। মনের ভেতর খেলা করে দুঃখ নয়, পেট্রোলদগ্ধ শিশুর জন্য

অনুশোচনা নয় পাঁজরের হাড়ে আগুন জ্বালিয়া সুবর্ণ মসনদ, ক্ষমতার সুরম্য আড়ং।

 

স্বপ্নভুক ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলো শান্ত ও সুবোধ, কর্মজীবী মানুষের চোখ-মুখ-ঘাড়ে

ছায়াঘন অরণ্যের ভূত-পেত্নী ও নাগিনীর মতো শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট রাখে।

 

অন্ধকার রাতে ঘুম-ছুট চোখের জ্বালায় স্বস্তি খুঁজি চাঁদতারা সকলে ঘুমায়

সূর্যরশ্মি পান করে যত ন্সিগ্ধ বায়ু। এতটুকু শান্তি, শান্তি কে দেবে আমাকে।

 

মানুষের বিস্মৃতি দেখে তারা ভয়ার্ত দরজা খুলে নগ্ন-পায়ে খুঁচিয়ে বানায় ক্ষত।

বাংলাদেশের ক্ষমতার-কেন্দ্র কিন্তু একটা বিয়োগচিহ্নের কাছে অসহায়ত্ব, নত।

 

 

k-1

সুজন হাজারী

কাঁটাতারের ওপার

 

উড়তে উড়তে নোসিন ভিলার ছাদে

বিনোদন বিকেলে পায়রার ঝাঁক ওড়ে

 

সুতো কাটা ঘুড়ি

দিনাজপুর আকাশের নীল নীলিমা ছুঁয়ে

কাঁটাতারের ওপার

 

বালিকা নোসিনের জলডুবি শৈশব

শিশির ধোয়া ভোরে

বন পাখিদের কাকলিতে জীবনযাপন

 

লাটাইয়ের গোত্তা খেয়ে লাটবেলাট

ঘুড়ির সুতো ধরে টানে বিজন রাখাল

 

রেলিঙে কাকেরা বসে পালকে ঠোঁট

রেখে ভেজা ডানা মোছে

নোসিনের কৌশলি গোত্তায়

ঘুড়ির লেজ খসে পড়ে

 

পাসপোর্ট কর্মীরা এপারে

ভিসা কার্ডে মানচিত্র আঁকে।

 

 

k-2

মনসুর হেলাল

খরা ও জলের সন্ধি

 

বহুদিন বৃষ্টি নেই তোমার উঠোনে

প্রাক্কলিত গাত্রজুড়ে খরার আঁচড়।

ধুলার চাদরে ঢাকা রোদের বসতি

উৎকীর্ণ লাভার মতো নিভাঁজ প্রহর।

 

চর্চিত ভূমির ফাঁকে ক্ষয়িষ্ণু স্মারক

অঙ্কুরিত বাহুলতা, দীর্ণ তৃণমূল;

প্রবল তৃষায় কাঁপে সমূহপ্রকৃতি

প্রান্তিকের ক্ষতে দগ্ধ দ্রোহের বকুল।

 

অথচ আমার ঘরে রাশি রাশি মেঘ

নিশঙ্ক ঘুঘুর মতো পালক ছড়ায়

দোল দেয় কুসুমিত সমিল উত্থানে

উষড় ভূমিতে নীল ঝরনাধারায়।

 

ব্যবচ্ছেদ শুধু এই অলীক দ্বৈরথে

দিয়েছি বিপুল পাড়ি বিনম্র স্বপথে।

 

 

k-2

সঞ্জীব পুরোহিত

কিচেন নাইফ

 

চাকু মানে বাটের ডগায় আঁটা একটুকরা ইস্পাত নয়

 

নিরীহ ছুরিও আসলে জোড়াপাতের মিহি মিলন।

 

রক্ত ধুয়ে ফেললেও এর ফাঁকে লুকানো থাকে

 

দানাদার হিমকষ্টকণা

 

 

 

এই যে ধুলেন মাত্র সিঙ্কে, নিরীহ বাসনের সাথে

 

তবু চামচ, প্যান পেরিয়ে

 

মাছিটা ঠিকই এসে বেছে বেছে বসলো ওটার ওপর

 

 

মাছির ঘাড়ে শনির বলয়। তাতে সাঁটা অজস্র চোখ।

 

আমাদের তো অতশত নেই

 

তবু মাছিরে জিঞ্জাসিলে সে জানাবে নিশ্চয়

 

কত স্তরের পেঁয়াজ ক্রন্দন আর আমিষের লাল ছটফট

 

 

লুকানো আছে এর অন্দরে

 

 

k-4

অভিজিৎ বিশ্বাস

জাগানিয়া

 

ভালোবাসা র্আশি বুঝি কত জন্মের ছা

অমল অপাপ মান-অভিমান প্রেমের কবিতা!

 

উজ্জীবনের স্বপ্ন-দেখা আমরা দু’জন সাথী

যাত্রাপথের আনন্দগান ক্যান্ভাসেতে আঁকি।

 

নিরভিমান উজান স্রোতে একসাথে দাঁড় বাওয়া

অলি-গলি সপ্তপদী অন্তরে থাক ছোঁওয়া।

 

বর্ষাযাপন মেঘলা জীবন বিশ্বাসেরই ভূমি

সম্মোহিত উজলধারায় করতলটি চুমি।

 

পরিণীতার মনদরিয়ায় ইচ্ছে নিমন্ত্রণ

মর্মরিত বুকের গভীর ক্ষরণ প্রতিক্ষণ।

 

দুঃখ দহন ভালোবাসা নদী কূলপ্লাবী

তোর কোমরে বন্দি আছে দুঃখজয়ের চাবি।

 

আমিও তো দিতে পারি প্রতীক্ষা উন্মুখ

এক জনমের মধ্যে বাঁচি সাতজনমের সুখ।

 

দুঃখমোচন শুচিস্মিতা নিয়ত পাশাপাশি

দুখজাগানিয়া সুখজাগানিয়া তোকেই ভালোবাসি।

 

 

k-5

বর্ণশ্রী বকসী

ভরা বর্ষা

 

নদীতে জল ভরা বর্ষণ শেষে

ঢেউ ভাঙে জেলে নারী

কোমরের পৈছায় বাঁধা সংসার,

দুরন্ত গতির বিন্দু মিলিয়ে যায়

আঁধারি রাইত কান্দে বিরহী!

সুমেরু হয়ে ক্রমশ এগিয়ে যায়

অচেনা অভিযাত্রীর পিঠে

ঝুলে থাকে বিপদ সংকেত!

দক্ষিণ বাতাস আসে

ধুয়ে নেয় সব হতাশার ছায়া

আবার বৃষ্টি নামে বঞ্জর জমিনে।

 

 

k-6

মিতুল দত্ত

রাজার চিঠি

 

অমল মৃত্যুর মতো কে যে তার পথ চেয়ে আছে

ফাঁকা, নীল ডাকবাক্সে ছেয়ে গেছে পাড়া…

 

বন্ধ জানালার পারে রোদ্দুর যুগের ফেরিওলা,

একাঙ্ক নাটকে যার সামান্য ভূমিকা,

নদীর ওপারে দেশ, মেয়েদের লাবণ্যপরিখা…

 

অসুখ বান্ধব তার, হাতে যার দ্রুত উপশিরা

পাহাড়ে পাহাড়ে মেঘ…মেঘে মেঘে সোনালি গম্ভীরা…

 

হাওয়ার ভাষায় কারা কথা বলে, গানের ভাষায়?

অমল মৃত্যুর মতো কে যে…

 

স্বপ্নে যার চিঠি আসে…স্বপ্নে সে-ও চিঠি হয়ে যায়…

 

 

 

k-8

আঁখি সিদ্দীকা

গেরস্থালি ভূগোল

 

চারটে দেয়াল দুটো জানালা

কয়েকটা বাসন,হাড়িকুড়ি

কফি মগের ভাঙা ডাট

কুকার বেয়ে ওঠা ভাত ভাপ

ফেলে দেয়া পুরোনো রুটির কোনা

অফিস ফেরত পলিশ নখে

হলদে দাগ;

না দেখা বাবার জন্য কেমন করা মন

মেঘলা মায়ের দুষ্প্রাপ্য অবহেলা

প্যারিস স্বপ্ন

বাতাস ভরা এক একটি তোমার আমার

ঘুম-অঘুমের রাত্রি

আলোকভুক অভ্যেসের

উপকথার উড়াল নাম টিকে থাকা

না কী

শহুরে এক ডানাভাঙা পাখির

গেরস্থালি ভূগোল…!

 

 

k-9

গোবিন্দলাল হালদার

পোস্টমর্টেমের সময় তুমি যদি উৎসুক থাকো

 

কষ্টরঙ তুলিতে আর কতদিন; বেহিসাবে ভেতরের দেয়ালে মুদ্রিত হবে চাররঙা বির্মূত  জলছাপ। স্মৃতিক্লিষ্ট মাঠে ধূপছায়া, মরচেপড়া লাঙ্গল চাষ করে এখনও দেখতে ইচ্ছে করে স্তূপীকৃত কষ্টগুলোর গাঢ় বাদামি রং। দেখা যায় না। তোমাকে দেখব কী পিনপতনকালে!

 

পোস্টমর্টেমের সময়, তুমি যদি উৎসুক থাকো, দেখতে চাও। লাশকাটা ঘরের রৈরব দৃশ্য-দৃশ্যান্তর তবে পাথরগুরুর অশ্রুনিবারণ মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যেও। হার্ট অ্যাটাক্ট ইদানীং মামুলি রোগ।

 

আমি তোমার সম্মোহন আলিঙ্গন রক্ষা করতে পারিনি।…এবং এখন আর পৃথিবীর অনুরোধ কী করে পারে; অসম্ভব। আর ফিরতে পারবে না জানি। ঈশাণ কোণের বাদ্যযন্ত্রের সারগাম।

 

 

k-1

কুশল ইশতিয়াক

ভোর্টেক্স

 

পতন ঠিক ততক্ষণ, যতক্ষণ অক্ষত

থাকে অতল

এবং অতলও যদি ছিঁড়ে যায়,

একটি পতন ভাসে

ও ডোবে-

 

একটি বস্তু খুব উঁচু থেকে

পড়ছে

পড়ছে

 

পতনের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নাই

 

পৃথিবীর ছাদ, কাগজের মতো ছিঁড়ে গেল

পৃথিবীর ছাদ, পত্রের মতো টুকরো টুকরো

ঘাসে শুয়ে দেখি- উঁচু থেকে দেয়াল পতিত

ছন্দেরও পতন ঘটে, ঘটে উল্কার

আর মানুষের পতন, শুরু তার ছায়ার দিকে

যেভাবে ধাতব খণ্ড পতিত হয়

-অন্ধকূপে

 

এবং যেতে যেতে মানুষ, খনিজ,

মানুষ, কাঠ কয়লা

মানুষ দেয়াল

মানুষও ছায়া

গ্রহের অভ্যন্তরে

 

(২য়)

কতক মানুষ ছিটকে যায়

কতক মানুষ চলে সুড়ঙ্গে

কতক মানুষের পতন, অন্য গ্রহে

বিস্তীর্ণ খামারের রাত, বিরাটকায় চাঁদ

আর মৃত প্রজাপতির ওপর

 

(চাঁদের নাম জানা নাই)

 

চুল উড়ছে

চারিদিকে হলদে খেত, গাঢ় বাতাস

চারিদিকে হলদে খেত, গাঢ় বাতাস

 

ভেসে এল স্মৃতিতে; আবছা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares