sabdagor-g5-small

প্রতিশ্রুতিশীল বই

অক্ষরস্রোতের মধ্য থেকে শোকের মাস আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা। কালের গর্ভে কি তিনি হারিয়ে যাবেন? নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে যুগের পর যুগ, কালের পর কাল মহিরুহ হয়ে থাকবেন সাহিত্যের শব্দমালায়? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি আমাদের এ সংখ্যার বিশেষ রচনা ‘বঙ্গবন্ধু : তাঁর ভাষা ও মনোজগৎ’- স্বপন নাথের বিশ্লেষণে শেখ সাদীর বঙ্গবন্ধুর ভাষা ও মনোজগৎ গ্রন্থটির সঙ্গে লেখক শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটিকেও বিশেষ রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ, বিবৃতিতে সবসময় যেসব শব্দ প্রয়োগ করতেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে, তার মধ্য থেকে এ মহান নেতার মনোভাব বোঝাপড়া সহায়ক হতে পারে। আমরা ধারণা করতে পারি এসব শব্দ প্রয়োগে তাঁর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। সাধারণ একটি লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এসব ব্যবহার করতেন। স্পষ্টত, সাদীর বাছাইকৃত ১০১টি শব্দাবলিতে নির্ণয় করা যায় বঙ্গবন্ধুর সমাজ সচেতনতাবোধ, দূরদৃষ্টি এবং তাঁর মনোজগতের বিশালত্ব।

আমাদের সীমাবদ্ধ প্রচেষ্টায় এ-সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ‘নির্বাচিত বই’ শিরোনামে ১৬টি গ্রন্থ উপস্থাপন করেছি আমরা। প্রশ্ন উঠতে পারে- নির্বাচিত এই গ্রন্থগুলো কী সেরা বই? বাছাইকৃত বই? না। সেরা বলার জন্য যে-কৌশলে বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যেভাবে বাছাই করা দরকার ছিল, তা করা সম্ভব হয়নি। তাহলে বইগুলো নিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ রচনা প্রকাশের উদ্দেশ্য কী? প্রয়োজনীয়তাই বা কোথায়? উদ্দেশ্য নেই বলা যাবে না, প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয় ও আঙ্গিকের বিবেচনায় শব্দঘর-এর বিশেষ দৃষ্টিতে এসেছে বইগুলো। আশা করি বোদ্ধা পাঠকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এসব বই। শিল্পমানের আলোকে দশকৌণিক অবস্থান থেকে প্রতিটি বই-ই আমাদের সৃজনশীল ও মননশীল জগতে আলোড়ন তুলবে বলেই বিশ্বাস। এসব বই কি চিরযৌবনপ্রাপ্ত বই? কালের গর্ভে টিকে যাবে এমন বই? না, মোটেও না- সে বিচারের ক্ষমতা নেই আমাদের। কালই বিচার করবে, রায় দেবে শ্রেষ্ঠত্বের, অমরত্বের। কিন্তু কালের বিচার নির্মম। কোন বইটি নির্মমতার ঊর্ধ্বে আসন নেবে, তা বলে দেবে কালই। আমরা দেখেছি বহু বই পুরস্কৃত হয়েও মানের বিচারে টিকে নেই। আবার বহু ভালো বই নিয়ে কোনো আলোচনা-সমালোচনা হয়নি, হয় না। যে-পদ্ধতিতে বইকে বিশ্বজুড়ে ‘সেরা’, ‘শ্রেষ্ঠ’ বা ‘অমরত্ব’র মোড়ক দেওয়া হয়, তাকে কি সঠিক বা ত্রুটিমুক্ত বলা যায়? বোদ্ধারাই এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন। একথা অনস্বীকার্য যেকোনো পুরস্কারই বইকে কালের স্মরণপাতায় গেঁথে রাখে। অজস্র গেঁথে রাখা বই থেকে কোনো কোনো বই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে অমর হয়। তবে জীবনব্যাপী সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত সমকালীন লেখকদের তো বটেই, ভবিষ্যৎ মেধাবী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে পুরস্কার। গুণগত ঔৎকর্ষের কারণে তাঁদের যেকোনো বই টিকে যেতে পারে কালের বিচারে। সব প্রতিশ্রুতিশীল বইয়ের আলোচনা এক সংখ্যায় শেষ হওয়ার কথা নয়। অতীতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরও মানসম্পন্ন সৃষ্টিশীল ও সমৃদ্ধ মননশীল গ্রন্থের আলোচনা পাঠক দেখতে পাবেন শব্দঘরে

ভারত উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা বেগম-এর সম্পাদক নূরজাহান বেগম চলে গেছেন ২৩ মে ২০১৬। এই মহিরুহকে নিয়ে ‘নূরজাহান বেগম : নারী সাংবাদিকতার ইতিহাসে বনস্পতি’ শিরোনামে আলোচনা করেছেন তাঁরই  সাহচর্যধন্য প্রাবন্ধিক মালেকা বেগম।

কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী (১৪ জানুয়ারি ১৯২৬ – ২৮ জুলাই ২০১৬) ছিলেন শব্দঘর-এর প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি শব্দঘরে লিখবেন বলে আশা দিয়েছিলেন। বাংলাসাহিত্যের এ-মহান লেখকের মহাপ্রয়াণে আমরা শোকগ্রস্ত। পরবর্তী সংখ্যায় তাঁকে নিয়ে বিশেষ রচনা লিখবেন বিশ্বজিৎ ঘোষ।

‘২০১৬ ঈদসংখ্যাগুলো আমাদের সাহিত্যপাঠের সুযোগ সৃষ্টি করছে- কতখানি?’ মুনতাসীর মারুফের বিশ্লেষণে পাঠক দেখতে পাবেন বিশেষ আলোকিত দিক।

এ সংখ্যায় ব্যবহৃত একাত্তরের ৭ মার্চে ভাষণদানরত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটির শিল্পী আনিসুল হক এবং নান্দনিক প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। উভয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares