প্রচ্ছদ রচনা

ahmed-munir-1

প্রচ্ছদ রচনা

আধুনিক হওয়ার দায়

আহমেদ মুনির

 

১ জুলাই ঢাকার গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পর রাত জেগে টেলিভিশনের খবর দেখছিলাম। আন্তর্জাতিক এক সংবাদ চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছিল প্রতি মুহূর্তের খবর। আলোচনা চলছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে। খবরের ফাঁকে ফাঁকে প্রচারিত হচ্ছিল বিশ্লেষকদের মতামত। তাঁদের মধ্যেই একজনের কথা কানে এসে যেন ঝাপটা মারল। কথার মাঝে তিনি বলে উঠেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে…’

বাংলাদেশ তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ! মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো বিশ্লেষকের এই ভুল আমার সামনে চট করে নতুন এক সত্য হাজির করল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা আধুনিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশকে নতুন পরিচয় দিয়ে দেগে দেওয়া হচ্ছে না তো!

মনে পড়ে গেল প্রায় এক দশক আগে পড়া মার্কিন সমাজ বিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি হানটিংটনের দ্যা ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন অ্যান্ড রিমেকিং দা ওয়ার্ল্ড অর্ডার বইটির কথা। সেখানে সভ্যতার নানা বিভাজনের ভেতরে মুসলিম সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত আরব দেশগুলোর সঙ্গে এককাতারে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের নাম। তবে কী পাশ্চাত্য সমাজ বাংলাদেশকে এভাবেই চিনতে শুরু করেছে? বা এভাবেই চিনতে চায়! নানা বাঁধাবিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশের উঠে আসা নিয়ে অনেক রাষ্ট্রেরই অস্বস্তি রয়েছে হয়তো। সে কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে এখনও নেতিবাচক প্রচারণাটাই দেখা যায় বেশি। তবে পরিচয় সংকটের এই দায় কী আমাদের ওপরও বর্তায় না?

ahmed-munir-2কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন বাঙালির আধুনিকতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ বইতে এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। ১৫টি প্রবন্ধের এই সংকলনের প্রথম লেখাটির শিরোনাম, ‘বাঙালির আধুনিকতা: একটি সাধারণ ভূমিকা’। আধুনিক জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কেন মাথা তুলে দাঁড়াতে গিয়ে বারবারই হোঁচট খেয়ে পিছিয়ে গেছে সে প্রশ্নের খোঁজও করেছেন তিনি।

ইংরেজদের হাত ধরেই এ দেশে ফরাসি বিপ্লব ও শিল্প বিপ্লবের পাশ্চাত্য হাওয়া ঢোকে। কিন্তু এর আগেই এ দেশের সমাজের ভেতরেও উন্নত সমাজের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছিল। প্রাক ঔপনিবেশিক আমলে ‘গ্রাম্য জীবনের ক্ষুদ্র পরিধির মধ্যে’ বাঙালি বৈচিত্র্যহীন জীবন কাটালেও তার সমাজে স্বকীয় আধুনিক বৈশিষ্ট্যও ছিল। ঔপনিবেশিক শাসনশোষণের ধারাবাহিকতায় যে আধুনিকতা এসেছে তা প্রধানত আরোপিত ও ধার করে পাওয়া। হয়তো ইউরোপিয়রা না এলে এই সমাজ নিজের নিয়মেই সেই পথ ধরে এগিয়ে যেত। আবুল মোমেনের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাক :

‘পশ্চিমের আধুনিকতার সঙ্গে বাঙালির টানাপোড়েনের সম্পর্কটি খতিয়ে দেখা আগেই বাংলার স্বকীয় আধুনিক বৈশিষ্ট্যের কথা একবার তোলা যায়। বাঙালির আধুনিকতার প্রশ্নে দুটি বৈশিষ্ট্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। প্রথমত, বাংলা চিরকাল শাস্ত্রবিরোধী দেশ। ইতিহাসে পাই প্রাচীনকালে শাস্ত্রপন্থীরা বাংলার মানুষকে অবজ্ঞার সঙ্গে ডেকেছে বয়াংসি বা পাখির জাত। ঐতয়ের আরণ্যকের সাথে পাল্লা দিয়ে যেন বোধয়নসূত্রে বলা হয়েছে এখানকার মানুষ ‘সংকীর্ণযোনি’, অতএব মধ্যদেশবাসীর জন্য বর্জনীয়। আর্যাবর্তের বাইরে এ পুণ্যভূমি নয়, বেদে অধিকার কী করে থাকে তাঁর?’

তাই নগর সভ্যতার শৈশবেই ‘মানবপন্থী’ বাঙালির সঙ্গে শাস্ত্রপন্থীদের সঙ্গে বিরোধেরও সূচনা হয়েছিল। সহজিয়া ইসলাম, সুফি ও বাউল দর্শনের প্রবল উত্থানের মধ্য দিয়ে এই ধারা বাংলাদেশের সমাজে বারবারই নতুন রক্ত প্রবাহের সঞ্চার ঘটিয়েছে। সংস্কারের বিপরীতে নতুন চেতনা হিসেবে মানুষকে পথ দেখিয়েছে।

তবু কোথাও একটা সংকটে এ দেশের সম্মুখযাত্রা মসৃণ হচ্ছে না। সহিষ্ণু সমাজ গঠন দূরের কথা বরং দিন দিনই বাড়ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ। ১৯৪১ সালে মোট জনসংখ্যার ৩১ ভাগ ছিল হিন্দুসম্প্রদায়ের। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর কমে ২০ভাগে নেমে এসেছিল সেটা। কিন্তু বর্তমানে মোট জনসংখ্যার সাত থেকে আট ভাগ মাত্র হিন্দু।

দেশের অভ্যন্তরে ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক উসকানি দেশের হিন্দুসম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তাবোধ কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়ানো বাংলাদেশের এই হাল কেন? আবুল মোমেন লিখেছেন :

‘স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ বিদেশি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে পরাধীনতার গ্লানি মোচন করলেও সমাজমানসে রূপান্তর ঘটানো বা নবায়নের জন্য জাগরণমূলক কোনো সমাজবিপ্লব বা চিন্তাবিপ্লব ঘটাতে পারেনি। তার অন্তরের জড়তার কারণে সমাজমানস তামাদি হয়ে পড়েছে এবং তাই কেবল বাহ্য ঘটনার চাপে তাৎক্ষণিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ায় ইতিহাসের কাছে আত্মসমর্পণ করে আছে। বোঝা যায় আজ বহুকাল বাঙালি-সমাজের ইচ্ছাশক্তি দুর্বল এবং  ঐক্যের অভাবে অক্রিয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশঅবস্থান ভেদাভেদ  ভুলে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা মূলত ভাবাবাগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল। ফলে তার প্রকাশ তীব্র হলেও গঠন ছিল দুর্বল, তাতে তাৎক্ষণিক ফল মিললেও তা ছিল ভঙ্গুর, স্থায়িত্বের ও উত্তরণের কিছুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না।’

তাই পথ হারানো বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে চিত্রিত করার চেষ্টা একভাবে সফলও হচ্ছে। এই চেষ্টা রুখে দিতে হলে আত্মপরিচয়ের সংকট দূর করতে হবে এ দেশের মানুষজনকেই। একটা বড় পরিবর্তন ছাড়া ইতিহাসের দায় যে মেটানো সম্ভব নয় আবুল মোমেন সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন আরও একবার। তবে আধুনিকতাবাদের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এই লেখায় দেখা যায় না। আধুনিক রাষ্ট্র আরও ভালো করে বললে আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের ধারায় চলছে এমন রাষ্ট্রকেই আদর্শ ভেবে নিয়েছেন লেখক। রাষ্ট্রের ভেতরে ক্ষমতাহীন ও ক্ষমতাবানদের চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কোনো চিত্র নেই এখানে। তাই পাশ্চাত্যের সবকিছুই ভালো এমন ধারণা নিয়েই পড়তে হয় এই প্রবন্ধ।

বাঙালির আধুনিকতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ বইটিতে সংকলিত হয়েছে ১৫টি প্রবন্ধ।  বাঙালির ভাবনার জগৎ, দেশের আদিবাসী সমাজ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, শিক্ষা ও রাজনীতি  লেখার বিষয় হয়ে এসেছে।

গণতন্ত্র, সুশাসন, উদারনৈতিকতা ও আধুনিকতার সঙ্গে যে শব্দটি জড়িয়ে আছে তার নাম সেক্যুলারিজম। এই বইয়ের দ্বিতীয় প্রবন্ধের শিরোনাম ‘সেক্যুলারিজম : বাংলাদেশের বাস্তবতা ও কিছু ভাবনা।’ সেক্যুলারিজমের বাংলা প্রতিশব্দ নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়ে গেছে অনেকের মনে। ইহজাগতিকতা না ধর্মনিরপেক্ষতা কোনটি সঠিক বা মূলের নিকটবর্তী তা নিয়ে সংশয়ের কথা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেন লেখক :

‘একটি ধারণাকে একটিমাত্র শব্দে অনুবাদ করা কঠিন, কারণ ধারণার পেছনে থাকে ভাবনার ঐতিহ্য এবং সংশ্লিষ্ট নানান অনুষঙ্গ। ইহজাগতিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা এ দুয়ের কোনটিই এ দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্বতন্ত্র দার্শনিক প্রত্যয় ও ধারণা হিসেবে চর্চা হয়নি। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা বলে প্রচার চালিয়ে নিন্দুকেরা সাধারণজনকে ভালোভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছিল। এদিকে ইহজাগতিকতা বোধ এবং এর নানান অনুষঙ্গ ছাড়া কোনো মানবসমাজ তো বিকশিত হয়নি, বাঙালি সমাজও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু তাতেও বেশ বড় ফাঁড়া কাটানোর দায় এসে পড়ে এক. ইহজাগতিকতা মানুষ বস্তুতান্ত্রিকতা, এমনকি সুখবাদিতা বা ভোগবাদিতার সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে; দুই : ইহজগৎ শব্দের যেহেতু একটি পাল্টা বিপরীত শব্দ আছে পরজগৎ তাই মানুষ ধরে নিতে পারে যে এ-ধারণা পোষণ করার অর্থ পরজগৎ এবং সেই সূত্রে ধর্মকে অস্বীকার করা।’

আসলে সেক্যুলারিজম শব্দের ভেতরে যেসব ধারণা লুকিয়ে আছে তা এক কথায় বলা যায় না।  রাষ্ট্রকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখা এই ভাবনার একেবারে গোড়ার কথা। নাগরিকদের জন্য আইন প্রণয়ন বা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ধর্মীয় কোনো বিধান সামনে রাখবে না মোদ্দা কথাটা এটাই।

ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে আসায় বাংলাদেশ নিয়ে শিক্ষিত নাগরিকদের উচ্চাশা ছিল। তাঁরা আশা করেছিলেন ধর্ম থেকে এবার রাষ্ট্র বিযুক্ত হয়ে সত্যিকার অর্থেই প্রজাতন্ত্র হয়ে উঠবে। কিন্তু সে পথ থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই সরে এসেছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাসের পথেই হেঁটেছে। আবুল মোমেন লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একটা জোয়ার ঠিকই উঠেছিল। তাকে আমরা সেক্যুলার বলেও ভেবেছিলাম এবং সেই সূত্রেই রাষ্ট্রের চার মূলনীতির অন্যতম ঘোষিত হয় সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু ক্রমেই আমরা টের পাচ্ছি কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজকে সেক্যুলার করা যায় না। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনীতি পাক শাসকবিরোধী ছিল বলেই উর্দুভাষী ও পাঞ্জাবি আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেদিন বাঙালি হিসেবে একটা অবস্থান নিয়েছিল সবাই। ধর্ম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও সংস্কৃতি সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়নি।’

১৭০ পৃষ্ঠার বইটিতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কাজী মোতাহার হোসেন ও বেগম সুফিয়া কামালের মতো বাঙালির চিন্তাজগতে আলোড়ন তোলা মনীষীদের নিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভিন্ন ধরনের লেখাও।

‘বর্ণপরিচয়ের সার্ধশতবছর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ প্রবন্ধটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই লেখায় আবুল মোমেন স্মরণ করিয়ে দেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলাভাষার, বিশেষত বাংলা গদ্যের, বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান পুরুষ ও অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তিনিই প্রথম বাংলাভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ লিখেছেন, যা মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রসারণ হলেও আজ অবধি বাংলাভাষার ব্যাকরণ এই আদলের মধ্যেই রয়েছে।

সমাজ সংস্কার কেবল নয়, বরং ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজের মেধাও কাজে লাগিয়েছেন বিদ্যাসাগর। সতীদাহ প্রথা বন্ধের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বর্ণপরিচয় রচনা। বাঙালিকে যথার্থই পথ দেখিয়েছেন তিনি।

বাঙালির বর্ণপরিচয়টা আগে কীভাবে হতো! আবুল মোমেন তাঁর লেখায় সুখপাঠ্য বিবরণ তুলে ধরেন। ‘বর্ণপরিচয়ের সার্ধশতবছর ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ লেখা থেকে উদ্ধৃত করা যাক :

‘মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলকাব্যে বর্ণিত শ্রীমন্তের শিক্ষারম্ভ থেকে আমরা অন্তত ষোড়শ শতকের বাংলায় শিশুশিক্ষার সূচনাপর্বের একটা চিত্র পেয়ে যাই। পাঁচ বছরের শিশুকে গুরুর পাঠশালায় হাতেখড়ি দেওয়া হতো এবং সেখানে এই শিশু শিক্ষার্থী গুরুর কাছে মুখে মুখে এবং হাতে লেখা পুঁথি থেকে ভাষা, নীতি এবং জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত হিসেবনিকেশ, বাক্য, শ্লোক ইত্যাদি পড়ত এবং মুখস্থ করত।’

ইউরোপের মুদ্রণযন্ত্র ভারতবর্ষে প্রবেশের পর অনেকে বাঙালি দ্বিধা নিয়ে ভেবেছিলেন মুদ্রিত গ্রন্থপাঠে জাত যাবে কিনা। এমন কুসংস্কার দূরে রেখে শিক্ষা ও বর্ণমালাবিষয়ক অনেক বই তখন প্রকাশিত হয়েছিল। বিদ্যাসাগরের আগে বর্ণমালা নিয়ে বই লিখেছিলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কারসহ  আরও অনেকেই।  কিন্তু বিদ্যাসাগরের মতো কেউই বাংলা বর্ণমালাকে একটা যৌক্তিক শৃঙ্খলায় হাজির করেননি। তিনি প্রথম স্বরবর্ণের সংখ্যা কমিয়ে ১৬টি থেকে ১২টি নামিয়ে এনেছিলেন। অনেক স্বরবর্ণের ব্যবহার ও উচ্চারণ এখন আর নেই বলে সেসব রাখেননি তিনি। বিদ্যাসাগরের মৌলিক সংস্কারের ১২৫ বছর পর আর একটিমাত্র সংস্কার হয়েছে। তা হলো বর্ণমালা থেকে ৯(লি) বাদ দেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, তাঁর আগে প্রচলিত ৩৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে আরও ছয়টি যোগ করে ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা নির্ধারণ করেছিলেন ৪০টি। বর্তমানে অন্তস্থ ব কেবল সেই তালিকা থেকে বাদ গেছে। বর্ণ পরিচয়ে বিদ্যাসাগর সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্তবাক্য দিয়ে পাঠ রচনা করেছেন।  আর এভাবে সহজ সাবলীল আধুনিক বাংলা গদ্যের পথও প্রশস্ত হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares