প্রচ্ছদ রচনা

santonu-kaisar-1

প্রচ্ছদ রচনা

রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য আবিষ্কার

শান্তনু কায়সার

বাংলা একাডেমির মূল ভবন বর্ধমান হাউস যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো তখন কাজী মোতাহার হোসেনের বন্ধু হিসেবে নজরুলের সেখানে অবস্থানের কথা মোটামুটি সবারই জানা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথও যে এই ভবনে ছিলেন সেটা এতদিন প্রায় অজানাই ছিল। রবীন্দ্রনাথের এই ভবনে অবস্থান সম্পর্কেও সম্প্রতি আলোকপাত করেছেন শামসুজ্জামান খান। এটিও অন্যান্য প্রবন্ধ নিয়ে ২০১৬’র একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হ’য়েছে তাঁর বই বর্ধমান হাউসে রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য প্রবন্ধ। রবীন্দ্রনাথের বর্ধমান হাউসে অবস্থানের বিষয়টিকে যদি আবিষ্কার বলি তাহলে অন্যান্য প্রবন্ধের বিষয়গুলোকেও কমবেশি আবিষ্কার বলা যায়।

রবীন্দ্রনাথ ছাড়া অন্যান্য প্রবন্ধের বেশ কটির সাধারণ বিষয় বই পাঠ ও তার পর্যালোচনা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় লেখক যাদের ভূমিকন্যা বলতে চেয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ হাসিনা ও নূরজাহান মুরশিদ তাঁদের শেষোক্ত দুজনের আলোচনার ভিত্তি তাঁদের লেখা গ্রন্থ। এছাড়া সৈয়দ শামসুল হকের বিশাল বাংলা, আবদুল মওদুদের সিন্ধুর অষ্টাদশ শতকের মরমি ও সাধক এবং লোককবি নিয়ে তাঁর বই শাহ আবদুল লতিফ ভিটাই, হুমায়ুন আজাদের আমার নতুন জন্ম, মুনতাসীর মামুনের স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরী’ বইগুলো সম্পর্কে লেখক তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন। এগুলো ঠিক সমালোচনা নয়, বইগুলো সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য অথবা প্রতিক্রিয়া। দু-একটি ক্ষেত্রে বইটি প্রকাশে তাঁর ভূমিকার কথাও বলেছেন। যেমন স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরী প্রসঙ্গে তাঁর কথা। বইটিকে একটি ‘ছোটখাটো এনসাইক্লোপেডিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর দিল্লি, মস্কো ও লন্ডন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি যে ধরনের বইয়ের পরিচয় পেয়েছেন তাতে তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশেও এই ধরনের বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। মুনতাসীর মামুনকে এক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যক্তি ভেবে তিনি তাঁকে অনুরোধ করেন এবং শেষপর্যন্ত বইটি প্রকাশিত হয়। তাঁর অনুরোধ ও তা বাস্তবায়নের জন্য মুনতাসীরকে কৃতজ্ঞতা জানানোই ছিল এ লেখার উদ্দেশ্য।

সেজন্য এই বইয়ের প্রায় সবগুলো লেখাই স্কেচধর্মী। প্রসঙ্গগুলোকে তিনি ছুঁয়ে গেছেন, খুব বেশি ব্যাখ্যার মধ্যে যাননি। যেমন ‘বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী।’ ষাট বছরের কর্মকাণ্ডের সাধারণ বিবরণ এতে পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু হীরকজয়ন্তীতে তার যেখানে পৌঁছুনোর কথা সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হলো কিনা কিংবা সেক্ষেত্রে তাঁর প্রস্তুতি কেমন- মর্মের সেই সংবাদ আমরা এখানে কতটা পাচ্ছি?

প্রবন্ধটির শেষ বাক্য ‘কলকাতার রবীন্দ্র সদন এবং ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ- দুই বাংলার সাংস্কৃতিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে প্রায় প্রতিদিন প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।’ কিন্তু প্রশ্ন, এভাবে বাংলা একাডেমিকে কতটা ‘বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির উৎকর্ষের প্রতীক’ বলে মনে করা যাবে? একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানের ‘প্রাণচঞ্চল’ হয়ে ওঠার সীমা ও মাত্রা থাকা প্রয়োজন। হীরকজয়ন্তীর পরিণত একাডেমির এখন বোধহয় তা ভেবে দেখার সময় হয়েছে।

‘বাঙালি সমাজ সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রচিন্তা’ প্রবন্ধের শুরুতে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান ডিভিশনে ধান উৎপাদন সাধারণ ঘটনা হলে দুই জায়গায় দুই ধর্মের প্রাধান্যের বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। ‘উৎপাদন ব্যবস্থা’ দুই কী ভিন্নতা সৃষ্টি করেছিল যে তা দুই ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন ধর্মের প্রাধান্যের সৃৃষ্টি করে।

এই প্রবন্ধেই তাঁর ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর দুই কবি, যথাক্রমে সৈয়দ সুলতান ও আবদুল হাকিমকে পরপর দুই শতকে মাতৃভাষার বিষয়ে এত কঠোর গুরুত্ব আরোপের বিষয়টির সমাজতাত্ত্বিক কারণ তেমন স্পষ্ট হয়নি। আবার তাঁর উল্লিখিত ‘বাঙালি’ ও ‘মুসলমান’ হিসেবে শরৎচন্দ্রের উল্লেখও কিন্তু অকারণ নয়। সৈয়দ সুলতানের যেমন আশরাফদের সঙ্গে বিরোধ ঘটেছিল তেমনি উচ্চবিত্ত বা উচ্চ সাংস্কৃতিক বৃত্তের মুসলমানদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সংশ্রব থেকে তিনি তাদের ‘মুসলমান’ হিসেবেই ভাবতে শিখেছেন। বাঙালি হিসেবে নয়; কারণ তারা বাংলা জবানে কথা বলতেন না। তাঁর ভুল হয়েছিল একারণে যে, তারা সাধারণ বাঙালি মুসলমান সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি ছিলেন না।

ফলে এ জটিলতা নানা বিচিত্ররূপে বাংলাদেশ-উত্তরকালেও সক্রিয়। ২০১৬ সালের রমজান মাসের শবে কদরের আগের রাতে নর্থ-সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুলশানে হত্যাকাণ্ড চালানো অথবা ঈদের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহে হত্যাকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা, না পেরে পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হত্যা ঐ জটিলতার বহু বিলম্বিত প্রকাশ, কিন্তু মূর্খ ও প্রতিক্রিয়াশীল অপচেষ্টা প্রমাণ করে, আমরা এখনও আমাদের জাতিসত্তাকে শনাক্ত করতে পারিনি, তাতে স্থিত হওয়া তো দূরের কথা।

এই বইয়ে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে লেখকের শেকড়ের টান। ‘স্মৃতিময় সেই সব দিন’-এ তারই স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘তখনকার মানিকগঞ্জ মহকুমার নিচু অঞ্চল সিংগাইর থানার চারিগ্রামের বাসিন্দা আমরা। ঢাকা শহর থেকে মাত্র ১৭-১৮ মাইল পশ্চিম-উত্তরে এই গ্রাম। গ্রামটি বর্ধিষ্ণু, কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ১৯৬০ পর্যন্ত দুর্গম, দেড় মাইল হেঁটে বা নৌকাযোগে লঞ্চঘাটে এসে অনেক বাঁক ঘুরে লঞ্চে ঢাকা যাওয়া যেত। কিন্তু তাতে সময় লাগত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা। আর সোজা পথে নৌকায় যেতে হলে সকালে বেরুলে সন্ধ্যায় পৌঁছা যেত। গয়নার নৌকায়ও যাতায়াতের রেওয়াজ ছিল। তবে সে-পথে সাড়া রাত ধরে জলের ওপর থাকা।’ ‘এই গ্রামেই লেখকের জন্ম ও আকৈশোর বেড়ে ওঠা। প্রাথমিক ও হাইস্কুলে পড়াশোনাও ওই গ্রামেই।’ কিন্তু প্রতিকূল বাস্তবতা তাকে অনুকূল সুযোগ দিয়েছে। শিক্ষকরা ছিলেন কড়া ও দক্ষ। ‘বাংলার শিক্ষক আনিস স্যার ছিলেন জীবনানন্দ-প্রেমিক।’ ‘১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি গোটা থানায় মিটিং মিছিল করে। আমাদের পাশের গ্রামের রফিকউদ্দীন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।’ ‘আমি ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হয়েই রাজনীতি সচেতন হই। সাপ্তাহিক ইত্তেফাক এবং পাকিস্তান অবজার্ভার পড়তে শিখি শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায়।’ এভাবে ‘বর্ষকালে চার পাঁচ মাস পানিতে ঘেরাও হয়ে থাকলেও’ তাঁর দিনগুলো ভালোই কাটছিল ফুটবল খেলে ও গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষকদের সহায়তায় বের করেন হাতে লেখা দেয়াল-পত্রিকা পূর্বাভাস।

আরেকটা লেখা ‘বুকে রাইফেলের নল’-এ পাই তার প্রথম কর্মজীবনে মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষাৎ। কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ে অধ্যাপনাকালে ২২ মার্চ পর্যন্ত ময়মনসিংহ ছিল মুক্তাঞ্চল। তারপর গ্রামে আশ্রয় গ্রহণ- সেখানে ঘটে পাশের হিন্দুবাড়ি আক্রমণ ও লুটপাট। মুসলিম লীগের ঘাটি নান্দাইলে তা অস্বভাবিক ছিল না।

santonu-kaisar-2প্রবন্ধের উপসংহার থেকে জানা যায়, কীটতত্ত্ব বিভাগের লেবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট হাসান আলী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা। ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ছিল তার গোপন যোগাযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ সেক্টরের সদর দফতর। সোহরাওয়ার্দী এবং ফজলুল হক ছাত্রাবাস দুটো ছিল ক্যান্টনমেন্ট। পাকিস্তান সেনাদের মানচিত্র সরবরাহের ভার পড়েছিল তার ওপর। কিন্তু তিনি ধরা পড়েন। চরম নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা এবং তার মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদীতে। এর মধ্যেই নিখোঁজ হন অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম, অপসারিত হন উপাচার্য কাজী ফজলুর রশিদ।

এখন রবীন্দ্রনাথের বর্ধমান হাউসে অবস্থানের কথা বলা যাক। দ্বিতীয়বার, ১৯২৬-এ ঢাকা এসে কবি এখানে অবস্থান করেন। কবি ঠিক করেছিলেন, তিনি ঢাকায় তার সম্পর্কীয় এক নাতনির ওখানে অবস্থান করবেন। উপাচার্য ল্যাংলি রমেশচন্দ্র মজুমদারকে ডেকে বলেন, উচিত হচ্ছে অতিথিকে তার ভবনে রাখা। কিন্তু তারা ইউরোপিয়ান, কবি বোধহয় হিন্দু পরিবার ও পারিবারিক পরিবশে ভালো থাকবেন, শেষে তাই হয়। রমেশচন্দ্র তার স্মৃতিদীপ বইয়ে লিখেছেন, দোতলার যে ঘরে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার ঠিক সামনে একটি আমগাছ ছিল। শামসুজ্জামান খান জানাচ্ছেন, ‘আমগাছটি এখনও আছে।’

এই বইয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিখ্যাতদের সঙ্গে তিনি অখ্যাত অথবা একেবারে কর্মী মানুষের কথা বলেছেন। যেমন ‘এমএ ওয়াদুদ : প্রকৃত কর্মী পুরুষ’ ও ‘আলী আহমদ : এক অসাধরণ মানুষের প্রতিকৃতি।’ ওয়াদুদ ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর জেনারেল ম্যানেজার ও ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। বিশিষ্টজনদের সহযোগিতায় তিনি কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠাতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ‘দাদাভাই ও মুতীভাইয়ের পাশাপাশি ওয়াদুদ ভাইও দেশের প্রথম শিশু সংগঠনটি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক অবদান রেখেছেন, তিনি শুরু থেকেই মেলার উপদেষ্টা ছিলেন।’ তিনি ছিলেন নেপথ্যের কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ও কর্মী। বাঙালি মুসলমান সম্পর্কে তিনি যে বলেছেন তাদের শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সংযোগ ঘটেনি তা আজও সত্যি এবং সেক্ষেত্রে উপযুক্ত ভূমিকা পালনের সুযোগ এখনও রয়েছে।

আলী আহমদ ছিলেন যথার্থই ‘সাধারণ’। কিন্তু তা হয়েও তিনি ছিলেন, শামসুজ্জামান খান যেমন বলেছেন, ‘অসাধারণ।’ তাঁর ‘অসাধারণত্বে’র উপাদানগুলো ছিল ‘সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনযাত্রায় নির্লোভ আদর্শনিষ্ঠ মানসিকতা, সততা ও মানবিক গুণাবলী।’ ঢাকার ছোটখাট ব্যবসায়ী হয়েও চারিত্রগুণে তিনি ছিলেন ‘অসাধারণ।’ ব্যবসার কাজে কলকাতা গিয়ে তিনি শামসুজ্জামান খানের সঙ্গে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ হন।

বইয়ের আরও দুই চরিত্র-দুই হুমায়ুন (একজন অবশ্য হুমায়ূন), একজন আজাদ, অন্যজন আহমেদ। আহমেদের কথাসাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিতে গিয়ে শামসুজ্জামান খান বলেছেন ‘যা অন্য কেউ বললে বিপদগ্রস্ত হতেন’ হুমায়ূন তা ‘অবলীলায় বলেছেন’ সেটিই ছিল তাঁর মূল বৈশিষ্ট্য ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ভিত্তি। আর আজাদ যা বলেছেন তার মূল কথাটি হচ্ছে ‘তারা সংশোধন করে দিচ্ছে বাংলাদেশকেই’। এই বাণী এখনও সক্রিয় রয়েছে।

হুমায়ুন আজাদের প্রকৃত নাম ছিল হুমায়ুন কবির। কিন্তু একই নামের হুমায়ুনের পরিচয় নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা ভেবে তিনি নিজের নাম বদলে করেন হুমায়ুন আজাদ। দুইজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক হন এবং হুমায়ুন কবির আততায়ীর গুলিতে অকালে প্রয়াত হন। তার কবিতার বইয়ের নাম ‘কুসুমিত ইস্পাত।’ শামসুজ্জামান খান তাঁর এই বইয়ের একটি প্রবন্ধের নাম নিয়েছেন ‘কুসুমিত ইস্পাত : বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।’

এই বইতে ‘সেকুলার’ ও ‘সেকুলরিজমে’র বাংলা কথা হয়েছে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। কিন্তু তার প্রকৃত বাংলা হওয়া উচিত ‘ইহলৌকিক’ ও ‘ইহলৌকিকতা।’ শুধু বাংলাদেশের কথা নয়, রাষ্ট্র সকল সময় ও সকল ক্ষেত্রেই ইহলৌকিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে একে ‘পারলৌকিক প্রতিষ্ঠান বানানো যায় না। রাষ্ট্রকে ইহলৌকিক নীতি ও পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হয়। রাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে ও তাদের কল্যাণেই তার যাবতীয় কর্মকা-। কিন্তু নানা কারণ ও স্বার্থে আমরা এমন বিষবৃক্ষ তৈরি করেছি যে তা আর এখন আমাদের রেহাই দিচ্ছে না। শেখ হাসিনা ‘রাষ্ট্রীয় ধর্ম কার স্বার্থে’ প্রবন্ধ লিখেছেন বটে কিন্তু তা অনুসরণ বা সেই মতো চলেননি। এক্ষেত্রে যত ‘যুক্তি’ দেখানো ও বাস্তবতার দোহাই দেওয়া হোক, শুধু প্রতিক্রিয়াশীলরাই নয়, অন্যরাও এতে কম অবদান যোগায়নি।

এ বই শামসুজ্জামান খানের প্রধান, এমনকি প্রবন্ধেরও মূল বই নয়। তবে এখানকার ঘরোয়া ও বৈঠকী মেজাজের শামসুজ্জামান খানও কম গুরুত্বপূর্ণ নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares