প্রচ্ছদ রচনা

mostofa-tarikul-ahsan-1

প্রচ্ছদ রচনা

বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে নারীর স্বর : নখ

মোস্তফা তারিকুল আহসান

 

পঞ্চাশের দশকে যখন আমাদের কথাসাহিত্য দাঁড়াতে শুরু করে দৃশ্যত সেখানে নারীর কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়া যেত না। নারী গল্পোপন্যাসের চরিত্র হিসেবে এসেছে পুরুষের  দৃষ্টিকোণ থেকে তবে নারীর চোখে নারী বা পুরুষ কিংবা বাকি বিশ্বের চেহারাটা কেমন সেটা অন্তত  বাংলাদেশের পাঠক জানতে পারেনি। কিছু ব্যতিক্রম আমরা বাদ দিচ্ছি; রাজিয়া খান, রিজিয়া রহমান বা রাবেয়া খাতুনের কথা আমরা মনে রাখছি প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে। তবে স্বাধীনতার পর মূলত আমাদের কথাসাহিত্যে নারীর পরিসর বেড়েছে এবং সেটা সার্বিকভাবে। নারীর কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে, তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর বেড়ে ওঠা খুব বেগবান ও বলিষ্ঠ হয়নি। তবু ভাবতে ভালো লাগে যে, আমাদের দেশে নারী লেখকেরা (লেখককে নারী পুরুষ হিসেবে ভাগ করতে চাইছি না, শুধু বোঝানোর জন্য) অনেক দূর এগিয়েছেন। আর এর সাথে আমাদের নারীসমাজের দীর্ঘদিনের জমানো কথামালা বা অত্যাচারিতের যন্ত্রণা কষ্ট বের হয়ে এসেছে তাঁদের রচনায়। আমাদের প্রধান কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অনেকে নারী এবং তাঁরা নারীর নানাসমস্যা নিয়ে লিখছেন। দিলারা হাশেম আমার একজন প্রিয় লেখক। অনেকদিন তাঁর নতুন লেখা পড়ি না। সেলিনা হোসেন, শাহীন আখতার, নাসরিন জাহান বা অন্যরা যেভাবে এগিয়েছেন তা এদেশের জন্য গর্ব করার মতো বিষয়।

নারীর জীবনালেখ্য নিয়ে একটি বিশেষ সংযোজন হলো  আনোয়ারা সৈয়দ হকের উপন্যাস নখ। বাংলাদেশের এসিড সন্ত্রাস নিয়ে বিশেষ করে নারীর ওপর যে এসিড নিক্ষেপিত হয়েছে এদেশে তা নিয়ে তিনি অনেকটা গবেষণাধর্মী উপন্যাস লিখেছেন। যারা মেয়েদের ওপর এসিড ছুঁড়ে মেরে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে এবং যারা এর শিকার হয়েছে তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। লেখক সত্যিকার অর্থে সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কী না সেটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয় তবে তিনি এটা করেছেন ধরে নিয়েই আমাদের এগোতে হয়। উপন্যাস আজ আর আগের জায়গায় নেই। আমরা সবাই শাহেরজাদের মতো গল্প শুনতে চাই সত্য তবে এখন বিচিত্রভাবে উপন্যাস সব কিছুকে গ্রাস করে ফেলছে। সধশরহম ড়ভ হড়াবষ এখন বিবিধ প্রপঞ্চের নাম। কেউ আবার আপত্তি করে বলতে পারেন আধুনিককালেও উপন্যাস খুব বেশি এগোয়নি। কারণ সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে রচিত মিগুয়েল দ্য সারভেন্টিসের দন কিহোতে উপন্যাস এখনও নতুন কাঠামোর উপন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এটা ঠিক যে মানুষের সার্বিক জীবনযাপন, বোধ, সংস্কৃতি ও সমাজের পরিবর্তন ঘটেছে  আর সেই বিবিধ পরিবর্তনধারাকে উপন্যাসের পেটিকায় ভরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে সফলতার সাথে সেটি হচ্ছে বলা যাবে না। কারণ উপন্যাস শেষপর্যন্ত এক চূড়ান্ত শিল্প যা সহজে তৈরি করা সম্ভব নয়।

আনোয়ারা সৈয়দ হকের নখ-এর পরিকল্পনা ও অবয়ব  দেখলে আমরা একে ডকু-নভেল বলতে পারি। আবার বর্তমান সামাজিক সমস্যাকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ যদি উপন্যাস লেখেন তবে তিনি উপন্যাসের ন্যায়ধর্ম মানছেন না এমন অভিযোগ করা যায়। অর্থাৎ এটা সবাই মানেন যে উদ্দেশ্যমূলক তা সাহিত্যের জন্য বিশেষত নন্দনতাত্ত্বিক দিকের বিবেচনায় ক্ষতিকর। চরিত্রগুলো কী বলতে চায় বা করতে চায় তা যদি পাঠক আগেই বুঝতে পারে বা অনুমান করতে পারে তাহলে তো সেটা উপন্যাস হয়ে ওঠে না। যাহোক, আনোয়ারা সৈয়দ এটা জানেন বলে আমরা ধরে নিচ্ছি। অবশ্য তার কিছু প্রমাণও তিনি রেখেছেন উপন্যাসে। যেমন এসিড নিয়ে নারীর মানবিক বিপর্যয় তিনি সমূলে তুলে আনতে গিয়ে দুই পক্ষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। উপন্যাসটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক হলেও তিনি এর সাথে সমান্তরালে একটি আলাদা গল্প তৈরি করেছেন। মিথিলা ও কামালের দাম্পত্যজীবনের যে গল্প তিনি বলেছেন তা সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়ের সাথে বেমানান নয়। সব মিলিয়ে এটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর বিপর্যয়ের মর্মন্তুদ চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি এখানে। শুধু এসিডে যন্ত্রণাদগ্ধ নারীই নয় প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী কীভাবে পুরুষ দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে তার ছবি  ও উদাহরণ তিনি দিয়েছেন। অনেক সময় তিনি নানা তথ্যরাজি সংযোজন করেছেন। পাপুয়া নিউগিনির পরে নারী নির্যাতনে বাংলাদেশের অবস্থান। অর্থাৎ বাংলাদেশে নারী নির্যাতনে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি,রানার আপ হয়েছে। আবার বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বা বিখ্যাত ব্যক্তির উক্তি তিনি ব্যবহার করেছেন যেসব বক্তব্যে নারীকে ছোট করে দেখানো হয়েছে। এমনকি রবীন্দ্রনাথের কিছু উক্তিও তিনি ব্যবহার করেছেন। এটা ঠিক যে পুরুষের চোখ বা দৃষ্টিভঙ্গি নারীকে খুব ভালোভাবে দেখেনি। ইউরোপের সভ্যতায়ও নারী নিগৃহীত হয়েছে। এই কদিন আগে ইংলান্ডে নারী ভোটের অধিকার পেয়েছে। তার আগে নারীকে ডাইনি বলে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।  আনোয়ার সৈয়দও অনেক উদাহরণ দিয়েছেন মরিয়মের মুখের কথা  দিয়ে।

‘রাখি’ নামের এনজিও ঘিরে সারোয়ার আলি মরিয়ম মিথিলা ও রাজু মূলত নির্যাতিত নারী ও অত্যাচারী পুরুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাদের প্রথমত অ্যাস্যাইনমেন্ট ছিল ঢাকা জেলখানায়। কখনও তারা সেই সব নারীদের কাছে গেছে তাদের সাথে কথা বলার জন্য। প্রথম দিন মরিয়ম মিথিলারা দুজনের কাছ থেকে এসিড নিক্ষেপকারির যে বর্ণনা শোনে তাতে প্রায় হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে আমরা দেখব তারা লক্ষ্মী জয়তুন প্রমুখ মেয়েদের কাছে গেছে। নির্যাতিত মেয়েদের নিয়ে কর্মশালার বর্ণনাও লেখক দিয়েছেন। ধরে নেয়া চলে যে তাঁর অভিজ্ঞতার হাত অনেক লম্বা। তবে এসব একই জাতীয় অনেক ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উপন্যাসের কলেবর বড় করে ফেলেছেন, পুনরুক্তিও ঘটেছে  অনেক সময়। ৪৬ নং অধ্যায়ে এসেও তিনি হাবিব রেজা নামের আরেকজনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন যে তার স্ত্রীর মুখে এসিড মেরেছে। কোনো কোনো সময় ব্যতিক্রমী বিষয় উপস্থাপনের জন্য অনেক উদাহরণ দেওয়া হয়। নতুনত্বহীন প্রসঙ্গ উপস্থাপনের কোন সুযোগ তো ঔপন্যাসিকের নেই। সেটি উপন্যাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এখানে অহেতুক উপন্যাসের কলেবর বৃদ্ধি হয়েছে এবং অনেক সময় তিনি পুনরুক্তি করেছেন যা আগেই বলেছি। যেমন একটি ঘটনা নারী ও পুরুষ উভয়ের মুখে শোনার কারণে বর্ণনা দ্বিতীয়বার দিয়েছেন যার কোন প্রয়োজন ছিল না।

মূল গল্পটি মিথিলাকে নিয়ে সেটা বোঝা যায়; অন্তত তাকে তিনি কেন্দ্রে রেখেছেন। সারোয়ার, রাজুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে কখনও আলোকপাত করেছেন। মরিয়মকে নিয়ে তেমন কিছু তিনি অবতারণা করেন নি। তবে জুলকি তওহিদের প্রেমজনিত গল্প ও তার পরিণাম তিনি সহজেই বাদ দিতে পারতেন। এটা উপঘটনা বা উপকাহিনি হিসেবে বিবেচনায় আনলেও এটাকে মূল ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। উপন্যাস বিস্তৃত জীবন আখ্যান বর্ণনা  করে সত্য তার পরও ঔপন্যানিসকে সাবধান থাকতে হয় যেন অনভিপ্রেত কিছু এসে না পড়ে। অন্তত সাত আটটি কেস স্টাডি তিনি  বেছে নিয়েছেন। একজন নারীর কেস বেছে নেবার সময় তিনি ব্যতিক্রমী উদাহরণ খুঁজেছেন তবে কখনও কখনও তা অহেতুক হয়েছে।

এই উপন্যাসের বড় শক্তি হলো নারীর চোখে নারীকে দেখা। লেখক নিজে মনোবিজ্ঞানী হবার কারণে তাঁর একটা বাড়তি সুবিধে তো ছিলই তাছাড়া লেখক হিসেবে, নারী হিসেবে তাঁর পর্যবেক্ষণ অসাধারণ। তিনি প্রায় প্রতিটি চরিত্রের মনন শনাক্ত করেছেন এবং তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা উপন্যাসে চরিত্রের মানবিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এটি চরিত্রের ক্রিয়াকলাপের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশের উপন্যাসে এটি একটি নতুন মাত্রা তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যাহোক, মিথিলা স্বামীকে পছন্দ করেছিল তার চেহারা ও সুঠাম শরীর দেখে। কোনো জানাশোনা বা প্রেম তাদের মধ্যে ছিলো না। তবে মিথিলা খুব স্বাভাবিক নিয়মে স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসতে পেরেছিলো। জেলখানায় যুবক সহকারী জেলরকে দেখে মিথিলা বেশ পুলকিত হয়। ঔপন্যাসিক বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে: এদিকে ডেপুটি জেলরকে দেখে মনের মধ্যে একটা সুখানুভব হচ্ছিল মিথিলার। বিবাহিত মেয়ে মিথিলা জানে, এ সুখানুভব নিষিদ্ধ, তবু সুখটাকে অস্বীকার করতে পারছিল না! যুবকটির দীর্ঘ সটান শরীর, হাস্যোজ্জ্বল মুখ তাকে আলোড়িত করলো।… মিথিলা মনে মনে মুগ্ধ হচ্ছিল। মিথিলার এই এক দোষ, বিবাহিত হওয়া সত্বেও এবং একবাচ্চার মা হওয়া সত্ত্বেও, এখনও দীপ্ত চেহারার পুরুষ তাকে আকৃষ্ট করে! মিথিলা কি আসলে সেই পৌরাণিক কাহিনির দ্রৌপদী, যে একই সাথে পাঁচ স্বামীকে সামলাতে পারঙ্গম?’ এরকম আরও অনেক নারী মনস্তত্ত্বের উদাহরণ আমরা এখানে পাবো। নারীর আকাক্সক্ষার কথা, যৌনসুখ বা অতৃপ্তির কথা তিনি বেশ খোলামেলাভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি কোনো পুরুষ লেখক হলে বর্ণনা করতে পারতেন না বোধ হয়। কারণ তার সেই ধারণা থাকার কথা নয়।

mostofa-tarikul-ahsan-2উপন্যাসের প্রধান উপাদান ভাষা বলে অনেকে মনে করেন। কারণ ভাষাই এটিকে উপন্যাস হিসেবে নির্মাণ করে। আনোয়ারা সৈয়দ হক ঢাকা যশোর খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক বাক্যবন্ধ ব্যবহার করেছেন। তাঁর ভাষাবোধ ও অভিজ্ঞতা বেশ প্রখর বলতে হবে। গোটা উপন্যাসজুড়ে তিনি মানভাষা ব্যবহার করেছেন। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা উপন্যাসটিকে মানসম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে। তবে আমরা স্বীকার করতে বাধ্য যে, একটি উপন্যাস সৃষ্টির জন্য একজন মহৎ ঔপন্যাসিক যেমন একটি বিশিষ্ট ভাষাভঙ্গি ব্যবহার করেন যা দিয়ে তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করা যায় তা এখানে অনুপস্থিত। অর্থাৎ এই ভাষা যে আনোয়ারা সৈয়দ হকের তা বোঝার  উপায় নেই। খুবই সাদামাটা আটপৌরে এই ভাষা। সৈয়দ শামসুল হক, মাহমুদুল হক বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে  চেনার জন্য আলাদা ব্যাখ্যা দিতে হয় না, তাঁদের নিজস্ব ভাষাভঙ্গিই তাঁদের চিনিয়ে দেয়। সত্যিকার অর্থে এই আলাদা স্বতন্ত্রভাষা অনেকটা কৃত্রিম তবু তা ঐ লেখকের নিজস্ব। এটা এখন বাংলাদেশে আমরা মেনেই নিয়েছি বোধহয় যে গল্পটা কোনোভাবে চালিয়ে যেতে পারলেই উপন্যাস হয়ে যায়। উপন্যাসের নন্দন বা ইতিহাস কিন্তু তা বলে না। হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেন্স ফুলমণি ও করুণার বিবরণ লিখেছিলেন উনবিংশ শতকের পঞ্চাশের দশকে। ধরে নেওয়া হয় সেটি প্রথম বাংলা উপন্যাস। অর্থাৎ নারী নিয়ে উপন্যাস লেখার (নারী লেখকের) ইতিহাস নতুন নয়। এখন ২০১৬ সালে এসে আমরা কি এগিয়ে যাবো না? আর বাংলা উপন্যাস তো এই জায়গায় নেই। সেই সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার কী আনোয়ারা সৈয়দ বহন করবেন না? প্রতি বছর একুশে মেলায় যে অজস্র উপন্যাস বের হয় তার সিকি অংশকেও উপন্যাস বলা চলে না। আমারা অবশ্য আনোয়ারাকে সে পদে ফেলছি না। তবে তার কাছে আমাদের দাবি অনেক বেশি।

উপন্যাসের শেষের দিকে দেখি জুলকি তওহিদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে গেছে। আর মিথিলার স্বামী তাকে হোর বলে গালি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তার আট বছরের দাম্পত্য জীবনের আশা আকাক্সক্ষা ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে বাবুর সামনেই কামাল তাকে মারতে গেছে, কুৎসিত ভাষায় গালি দিয়েছে। কারণ মিথিলা জেনে ফেলেছে যে রু নামের একটি মেয়ের সাথে কামাল অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। যেসব দাম্পত্য জীবনের উদাহরণ এখানে আছে সবটাতে পুরুষ তাদের স্ত্রীর ওপর অমানবিক আচরণ করেছে। নারীর স্বাধীনতা মুক্তি আকাক্সক্ষা এদেশে এখনও পদে পদে পদদলিত হচ্ছে তারই এক ভয়াবহ চিত্র ঔপন্যাসিক আমাদের সামনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। নারীর অর্থনৈতিক সামাজিক ধর্মীয় স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নারী নির্যাতিত হবে পুরুষ দ্বারা কারণ দেশটা পুরুষতান্ত্রিক। আনোয়ারা এই বক্তব্যকে নানাভাবে যুক্তিতর্ক উদাহরণ ও গবেষণার মাধ্যমে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর যুক্তিকে তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। সত্যিকার অর্থে তিনি পরিশ্রমী কাজ করেছেন এদেশের নারীর সার্বিক জীবনাচরণকে সবার সামনে পরিস্ফুট করা জন্য।

একজন নারী বলেই হয়তো তিনি নারীর এই নির্যাতিত যাপিত জীবনের ইতিহাস এভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। সার্বিকভাবে এ উপন্যাসের কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেলেও বিষয় গৌরবে এটি বাংলাদেশের উপন্যাসের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হয়ে থাকবে বলে আমরা আশা করতে পারি। উপন্যাসটির বহুল প্রচার-প্রসার কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares