শব্দঘর জুলাই সংখ্যা ২০১৯ : প্রসঙ্গ ছন্দ : গদ্যকাব্য, পদ্যকাব্য

এবারের প্রচ্ছদ রচনা ‘কবিতা, ছড়া ও গান রচনায় ছন্দ : ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব’। এই শিরোনামটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আমরা লক্ষ করছি, ড. তপন বাগচীর ভাষায়, ‘আমাদের পাঠকসমাজে একটি কথা শোনা যায় যে, রবীন্দ্র-নজরুল-সত্যেন দত্তের পর বাঙলা কবিতায় ছন্দ বিদায় নিয়েছে। ছন্দ বিষয়ে অজ্ঞ নবীন কবিরাও এই বিভ্রান্তিকে সম্বল করে নিজেরা যে-যেমন ইচ্ছে বাক্যের পর বাক্য লিখে এগুলোকে ‘আধুনিক’ কবিতা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। … এবং অধুনার ছন্দশিক্ষিত নবীন কবিদের কেউ আধুনিক কবিতা মানেই গদ্যকবিতা বলে মনে করেন না; মনে করেন তারাই যারা ছন্দ কিংবা তার বিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানেন না। যে কোনো যুগের কবিতায় ছন্দ ছিল কবিতার প্রাণ এবং তা-ই থাকবে অনাগত কাল।… আগে ছন্দ চেনা যেত কবিতার শরীর দেখে, এখন শরীর থেকে ছন্দ ঢুকে গেছে কবিতার অন্তরে, একে খুঁজে পান কেবল তাঁরাই যাঁরা ছন্দ বিষয়ে শিক্ষিত।’ এমন পটভূমিতে আমরা বাংলা কবিতার প্রথম ‘গদ্যকবিতা’ রচয়িতা রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করছি। তাঁর পুনশ্চ কাব্যের ভূমিকায় বলেন : ‘গদ্যকাব্যে অতি নিরূপিত ছন্দের বন্ধন ভাঙাই যথেষ্ট নয়, পদ্যকাব্যে ভাষায় ও প্রকাশরীতিতে যে একটি সলজ্জ সলজ্জ অবগুণ্ঠন প্রথা আছে, তাও দূর করলে তবেই গদ্যের স্বাধীন ক্ষেত্রে তার সঞ্চরণ স্বাভাবিক হতে পারে। সংকুচিত গদ্যরীতিতে কাব্যের আধারকে অনেক দূর বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব… তাতে মিল নেই, পদ্যছন্দ আছে কিন্তু পদ্যের বিশেষ ভাষারীতি ত্যাগ করবার চেষ্টা করেছি।’ লক্ষণীয়, পদ্যের বিশেষ ভাষারীতি ত্যাগ করলেও ছন্দ ত্যাগ করেননি, কবি বলেন : ‘রসাত্মক বাক্য পদ্যে বললে সেটা হবে পদ্যকাব্য আর গদ্যে বললে হবে, গদ্যকাব্য।… একথা বলা বাহুল্য যে, গদ্যকাব্যেও একটা আবাঁধা ছন্দ আছে।’ প্রাসঙ্গিকভাবে আরও সবিস্তার নিবন্ধ লিখেছেন : আবিদ আনোয়ার, মুজিবুল হক কবীর, জাহিদ হায়দার, রাকিবুল রকি এবং সংযোজিত হলো ছন্দের সহজপাঠ গ্রন্থের আলোচনা।
লিখেছেন : পবিত্র সরকার, মালেকা বেগম, মাকিদ হায়দার, দিল মনোয়ারা মনু, নাজিব তারেক, মাহজাবিন জুন, মীম মিজান। রয়েছে নিয়মিত বিভাগ : কবিতা, ভ্রমণ, নাটক, বইকথা, লিটল ম্যাগ এবং ইংরেজি অনুবাদ। প্রচ্ছদ এঁকেছেন : শিল্পী ধ্রুব এষ। আমরা লেখক, কবি, শিল্পী সকলকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares