গল্প : কৈতরি : আলী ইদরিস

আলী ইদরিস ।।

কৈতরি মুড়ি ভাজা হলো! তাড়াতাড়ি নিয়ে আয়। জুলিয়া ম্যাডাম কণ্ঠ উঁচু করে হাঁক দিলেন। দশ বছরের মেয়ে কৈতরি কখনও মুড়ি ভাজেনি, তৎসঙ্গে পিঁয়াজ, কাঁচামরিচ, সরিষার তেল, ধনেপাতা মিশিয়ে আনতে বেশ সময় নিল। গৃহকর্ত্রী আবার হাঁক দিলেন। কী করছিস ছেমড়ি, তোর কানে আওয়াজ পৌঁছায় না। কৈতরি এবার মুড়ি ভাজা এনে টেবিলে রাখল। ম্যাডাম এক মুঠ মুখে দিয়ে ক্রোধে জ্বলে উঠলেন।

Ñহারামজাদি, কাম শিখস নাই, শুধু খাইতে পারস। বলেই কৈতরির চুলের গোছা ধরে ডান হাতে কিল আর থাপ্পড় মারতে লাগলেন। মেয়েটা ব্যথায় কাঁদতে লাগল। এত ঝাল দিয়েছিস কেন, এত ঝাল মানুষ খেতে পারে? বলেই আর এক দফা কিল-ঘুষি চালালেন। কৈতরি কিছুই বলার সুযোগ পেল না। শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদল। এবার হাঁক দিলো বড় মেয়ে মলি, কৈতরি আমার চা নিয়ে আয়। কৈতরি চা বানিয়ে এনে দিল। মলি চায়ে চুমুক দিয়েই থু শব্দে মুখের চা কৈতরির মুখে ¯েপ্র করে দিল। পরক্ষণে কাপটি উল্টিয়ে গরম চা কৈতরির মাথায় ঢেলে দিল। ছেমড়ি, শুধু খেতে পারে, কোনো কাজ যদি তারে দিয়ে হয়। বলতে বলতে মলি নিজ কামরায় ফিরে গেল। কৈতরির মুখে গরম চায়ের স্প্রে তেমন জখম করেনি; কিন্তু মাথায় গরম চা পুরোটাই ঢেলে দিয়েছিল বলে তার তালু জ্বালা করতে লাগল। সমঝদার মেয়ে হলে পোড়া স্থানে বরফের ছ্যাঁক দিতো কিন্তু নাবালিকা কৈতরির সে জ্ঞানটুকু তখনও জন্মায়নি। সে মাথার তালুর যন্ত্রণা নিয়েই রান্নাঘরে কাজ করতে লাগল।

ছুটির দিনে বড়লোকেরা  সচরাচর বিলম্বে বিছানা ছাড়ে। কে কত দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে তা আবার বন্ধু মহলে ফলাও করে বলা হয়। দেরিতে বিছানা ত্যাগে কি কোনো আভিজাত্য আছে? না থাকলেও চাকলাদার পরিবারটির ধারণা- আভিজাত্য আছে। আভিজাত্যের নামে তারা আরও কিছু আচার-আচরণ পালন করে থাকে। যেমন মধ্যাহ্নে বাসায় অতিথি এলে তাদের ভোজনে আপ্যায়ন করা। সেদিন জুলি ম্যাডাম সকাল ১২টায় ঘুম থেকে উঠলেন। উঠেই নিজের বোন ডলির পরিবারের মুখ দেখলেন। স্বামীসহ ডলির দুই বাচ্চার পরিবার। ওরা বেড়াতে এসেছে, দিনটা হয়তো এ বাসাতেই কাটাবে। জুলি ম্যাডাম কৈতরিকে ডেকে বললেন- কৈতরি পলিকে নিয়ে যা, কোলে নিয়ে ঘোরাফেরা কর। কিন্তু বাচ্চা ব্যথা পেলে তোকে আস্ত রাখব না। কৈতরি ভয়ে ভয়ে সাবধানে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাড়ির ভেতরে-বাইরে ঘোরাঘুরি করতে লাগল। ইতিমধ্যে দু’বোন চা-নাশতা খেয়ে খোশগল্প করছিল। গল্পের বিষয় হলো কে কী শাড়ি-গয়না কিনল, কোথায় কোথায় বেড়াতে গেল, পড়শি ও বান্ধবীদের কী কী বদনাম কতটুকু ছড়াল ইত্যাদি।

এদিকে কৈতরির কোলে বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়লে মেয়েটা ঘুমন্ত বাচ্চাকে কোলে রেখে বারান্দায় বসে ছিল। অনেকক্ষণ বাচ্চাকে কোলে নিয়ে হাঁটছিল বলে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাই বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে জুলি ম্যাডাম গল্পের আসর ছেড়ে উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখলেন কৈতরি বাচ্চাকে নিয়ে বসে আছে। ম্যাডাম ক্রোধে আবার ফেটে পড়লেনÑ ওই ছেমড়ি তোকে বলেছি না বাচ্চা কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করবি, তুই বসলি কেন? বলেই মেয়েটির চুলের ঝুঁটি ধরে গায়ে কিল-থাপ্পড় মারতে লাগলেন। ম্যাডামের শরীরের কসরতে ও মুখের শব্দে বাচ্চা কেঁদে উঠল। এবার বোন ডলি বের হয়ে এলেন। বাচ্চার কান্না দেখে তিনি চিৎকার করে উঠলেনÑ মারো, আরও মারো  হারামজাদিকে। এত বড় সাহস, আমার বাচ্চাকে কাঁদাচ্ছে। আরও এক ধাপ এগিয়ে ডলি কৈতরির কোল থেকে বাচ্চা ছোঁ মেরে নিয়ে মেয়েটাকে লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দিলেন। কৈতরি হাতে-পায়ে ব্যথা পেল, অল্পের জন্য মাথাটা বেঁচে গিয়েছিল। বোনের উদ্দেশে ডলি ম্যাডাম আরও বললেন- ছিঃ, এ রকম বেয়ারা মেয়ে তুই রাখিস কী করে। আমি হলে সারা শরীর গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিতাম। কথাটা জুলি ম্যাডামের মনে ধরল। তিনি স্থির করলেন পরের বার বেয়াড়াপনা করলে কৈতরির গায়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেবেন।

সেদিনের মতো কৈতরি বেঁচে গেলেও কয়েকদিন পর তার ওপর নরকের শাস্তি নেমে এলো। মলি রাতে এক পার্টিতে যাবে বলে কৈতরিকে তার জামা ইস্ত্রি করতে দিয়েছিল। ইস্ত্রির কন্ট্রোল বাটন নির্ধারণ করে দিলেও অনভিজ্ঞ মেয়ে ইস্ত্রি করতে গিয়ে জামাটা একটু পুড়িয়ে ফেলল। আর যায় কোথায়। মলি চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলে কৈতরিকে মারতে লাগল। কৈতরি ভয়ে খাটের নিচে ঢুকে গেল। মেয়ের চালাকি দেখে জুলি ম্যাডামের রক্ত মাথায় চড়ে গেল। তাকে কঠিন শান্তি দেওয়ার কথা ভাবতে লাগলেন। কৈতরি বেরিয়ে আয় বলছি নইলে ঠ্যাং ভেঙে দেবো, তোর এত বড় সাহস হলো কী করে। ওই বুয়া, গরম পানি নিয়ে আসো তো, ছেমড়ির গায়ে আজ গরম পানি ঢালব। বুয়ার সাহস নেই জুলি ম্যাডামের আদেশ অমান্য করার। অবুঝ মেয়ে কৈতরির ওপর যতই মমতা থাকুক বুয়া গরম পানি নিয়ে এলো। জুলি ম্যাডাম আদেশ দিলেন খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা কৈতরির গায়ে গরম পানি ঢালতে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বুয়াকে কাজটি করতে হলো। এরপরই শুরু হলো কৈতরির চিৎকার। যন্ত্রণায় মেয়েটি চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এলে আর এক দফা জুলি ম্যাডাম নিজে ওর গায়ে গরম পানি ঢাললেন। মেয়েটি এবার আর্তচিৎকারে বাতাস ভারী করে তুলল। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে এক সময় মেঝেতে সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে গেল। কিন্তু এ বাড়ির লোকেরা নির্দয়, হৃদয়হীন। জুলি ম্যাডাম, মলি কেউ ভুলেও মেয়েটিকে হাসপাতালে নেওয়ার চিন্তা করল না। বুয়া এক সময় লুকিয়ে এসে কৈতরির চোখে-মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনল এবং দেখল- মেয়েটির সারা শরীরে ফোসকা পড়ে গেছে। বুয়া কৈতরিকে রান্নাঘরে নিয়ে মাদুর পেতে শুইয়ে দিল।

অসহ্য যন্ত্রণায় দু’সপ্তাহ ভোগার পর মেয়েটি উঠে দাঁড়াতে পেরেছিল। বুয়া ছিল বলে কৈতরির এ যাত্রা জীবন বেঁচে গেল। বুয়া মায়ের মতো আদর করে লুকিয়ে ওষুধ খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল। গৃহকর্ত্রী বুয়াকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল যে, যতদিন কৈতরি ভালো না হবে ততদিন তাকে শুধু পান্তাভাত ও মরিচপোড়া সরবরাহ করা হবে। তা সত্ত্বেও বুয়া লুকিয়ে কৈতরিকে ভালো খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করত। ধনবতী গৃহিণীর হৃদয় কৈতরির জন্য বিমুখ হলেও বিত্তহীন খেটে খাওয়া বুয়ার মন মেয়েটির প্রতি করুণায় ভরা ছিল।

জুলি ম্যাডামের মেদ-মাংসল শরীর। হাঁটাচলার কোনো রেওয়াজ নেই। যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও চালক দ্বারে দাঁড়িয়ে থাকে। তাই ম্যাডামের হাত-পা ও শরীরে মালিশ নেওয়ার অভ্যাস আছে। এ জন্য মাঝে মাঝে কৈতরিকে এ কাজে লাগানো হয়। সেদিনও কৈতরি জুলি ম্যাডামের হাত-পা-শরীর টিপে দিচ্ছিল। কিন্তু বেচারি পোড়া শরীর নিয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় খাওয়া- দাওয়া না পাওয়াতে শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেছে। তাই টিপতে শক্তি পাচ্ছিল না। একশ’ কেজি ওজনের মেদ-মাংসল শরীরে বিশ কেজি ওজনের কৈতরি যেন হাতড়ে কূল-কিনারা পাচ্ছিল না। তাই জুলি ম্যাডামের মগজ আবার গরম হয়ে গেল।

-হারামজাদি, কামচোর, খাওয়া কি কম দেই, গা লাগাচ্ছিস না কেন? ভালো করে টিপে দে। কিন্তু দুর্বল শরীরে শক্তি থাকলে তো শক্তি প্রয়োগ করবে। কৈতরি হাঁপিয়ে উঠল। এক সময় সে নেতিয়ে পড়ল। অমনি ম্যাডাম গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে মেয়েটিকে লাথি মারলেন, কৈতরি খাট থেকে মেঝেতে পড়ল। এরপর মেয়েকে ডেকে কৈতরিকে আরও শাস্তি দিতে বললেন। দুষ্টবুদ্ধির মেয়ে কৈতরিকে ডেকে নিয়ে বাথটাবে ঠান্ডা পানিতে চুবালো। অসুস্থ দুর্বল কৈতরি প্রচণ্ড শীতে ঠান্ডা পানির ধকল সইতে পারল না। সে কাঁপতে কাঁপতে সংজ্ঞা হারাল। এরপর মলি সংজ্ঞাহারা কৈতরির শরীরটা টেনে রান্নাঘরে ফেলে এলো। মনে হলো কৈতরি মরে গেলেও তাদের কোনো গরজ নেই।

প্রায় এক বছরের  বেশি হলো কৈতরি তার বাবাকে দেখেনি, বোন তিনটিকেও দেখেনি। মৃত মায়ের ম্লান মুখচ্ছবি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত ফ্যাকাসে চেহারা আর হাড় জিরজিরে শরীর নিয়ে বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে কৈতরির মা আঁতুড় ঘরেই মারা গিয়েছিল। নয়নী ধাই আঁতুড় ঘর থেকে বের হয়ে খবরটি দিতেই বড় দু’মেয়ে চিৎকার করে কান্না শুরু করে আর ছোট দুটি ফ্যালফ্যাল করে বাপের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। চার মেয়ের পর বউ একটি ছেলে জন্ম  দেবে এ আশায় বুক বেঁধে ছিল বাবা জমিরদ্দি। দিনমজুর জমিরদ্দির সম্পত্তি বলতে ভিটাটুকুই আছে। বসবাসের ঘরটিও জরাজীর্ণ। একার আয় দিয়ে সংসার চলত না। কৈতরির মা বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা পেত স্বামীর আয়ের সাথে মিশিয়ে কোনো রকমে অনাহারে-অর্ধাহারে সংসার চলত। মায়ের মৃত্যুর পর অনাহার ওদের নিত্যকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু বিধাতা ক্ষুধাও দেন, আহারও জোগাড় করেন। পড়শি জরিনা ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করত। গৃহকর্ত্রী তার বোনের বাসার জন্য একটি মেয়ে চেয়েছিলেন। জরিনা কৈতরিকে এনে ম্যাডামের বোনের বাসায় কাজে লাগাল। সেই থেকে কৈতরি এ বাসায় কাজ করছে।

আজ কৈতরির মনটা বাবা ও বোনদের দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠল। সে জুলি ম্যাডামকে মনের কথা বলল। আর যায় কোথায়। গিন্নি ওকে গুদামঘরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখতে বললেন। মাত্র সেদিন কাজ করতে এসেছে, এখনই বাবাকে দেখতে যাবে, কত্ত বড় সাহস। সাহস বের করব। ওকে সারা দিন চোখে চোখে রাখবে আর রাতে গুদামঘরে তালাবদ্ধ করে শুতে দিবি। বুয়ার উদ্দেশে আদেশ জারি করে জুলি ম্যাডাম ক্রোধে গজ গজ করতে লাগলেন। জুলি ম্যাডামের আদেশ শিরোধার্য হলেও কৈতরির জন্য বুয়ার মায়া ছিল। মাঝরাতে ঘুম থেকে জেগে বুয়া কৈতরিকে গুদামঘর থেকে বের করে নিজের বিছানায় এনে কম্বলে জড়াতো, প্রাকৃতিক কাজ সারতে দিত। নিজের অংশের খাবার থেকে ওকে খাওয়াত। এক বছর পেটে-ভাতে কাজ করলেও জুলি ম্যাডাম কৈতরিকে একটি জামাও কিনে দেননি। রংচটা একটি জামা রাত-দিন ওর পরনে দেখা যায়। শীতে কষ্ট করলেও কোনো গরম কাপড় কিনে দেননি। পাশের বাসায় গিন্নির কাছ থেকে বুয়া কৈতরির জন্য একটি স্যুয়েটার চেয়ে এনে ছিল বলে তাকে গালি শুনতে হয়েছিল।

ডিসেম্বরে বাচ্চাদের স্কুল ছুটি হলে জুলি ম্যাডাম তার ভাইবোন ও তাদের বাচ্চাদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করেন। পিকআপ ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে সবাই হৈচৈ করে শহর থেকে দূরে কোথাও যান। এবারও একই আয়োজন করা হলো। একটি পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হলো। পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে চড়ে বসলেন। পিকআপের ছাদওয়ালা সিটে বসল বাবুর্চি ও বেয়ারা। কিন্তু কৈতরিকে জায়গা দেওয়া হলো পিকআপের উন্মুক্ত মেঝেতে।

নোংরা ছেমড়িকে মাইক্রোবাসে নেওয়া যাবে না, পিকআপের পেছনে তাকে বসিয়ে দাও, জুলি ম্যাডামের কণ্ঠে আদেশ উচ্চারিত হলো। এ আদেশ কেউ অমান্য করার সাহস রাখে না। পিকআপের খোলা জায়গায় ডেক ডেকচি, চেয়ার-টেবিল, বাসন-কোসন, চাদর, লাকড়ি এমনভাবে বোঝাই করা হয়েছে যে, মেঝেতে তিল ধারণের স্থান নেই। জুলি ম্যাডাম গাড়ি থেকে নেমে এলেন। তিনি পিকআপের খালি জায়গায় চোখ বুলিয়ে দেখলেন টেবিলের ওপর রাখা চেয়ার দুটি খালি আছে। একটিতে কৈতরিকে বসিয়ে দিলেন।

পিকআপ চলতে শুরু করলে শীতকালের কনকনে বাতাসে কৈতরির দুর্বল শরীর জমে যাওয়ার উপক্রম হলো। একসময় তার সংজ্ঞা হারানোর ভাব হলে সে জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। কিন্তু মৃত্যুমুখী বালিকার আর্তচিৎকার গাড়ির ভেতরের যাত্রীরা শুনতে পেল না। কারণ গাড়ির জানালার কাঁচ স¤পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে যাতে শীতল বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। না, কৈতরি চেতনা আর ধরে রাখতে পারল না। তার অচেতন দেহটি টেবিলের ওপর গড়িয়ে পড়ল। একটু পরেই পিকআপটি রাস্তার বাঁকে কাত হয়ে চলার সময় কৈতরির দেহটি গড়িয়ে রাস্তার ওপর পড়লে পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে গেল। কৈতরি ইহধাম থেকে বিদায় নিল। গন্তব্যে পৌঁছে জুলি ম্যাডাম দেখলেন কৈতরি নেই। তিনি হুঙ্কার ছাড়লেনÑ ছেমড়ির সাহস দেখছ, কনকনে শীতের মধ্যে পালিয়ে গেছে। কৈতরির অনুপস্থিতিতে সারাদিন বাচ্চাদের সামলাতে গিয়ে বেগম সাহেব হাঁপিয়ে উঠলেন এবং কৈতরির চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করলেন।

বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় পুলিশের ভ্যান কৈতরির লাশ নিয়ে পিকনিকে হাজির। পুলিশ ও কৈতরির লাশ দেখে ধনাঢ্য, নিষ্ঠুর নারীর বিবেক একটুখানি নড়ে উঠল।

আলী ইদ্রিস : কথাশিল্পী

#

সচিত্রকরণ : রাজিব দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares