প্রেম এবং রণে যা কিছু নির্দোষ : মোজাফ্‌ফর হোসেন

রম্যরচনা

প্রেম এবং রণে যা কিছু নির্দোষ

মোজাফ্‌ফর হোসেন

রাত জেগে চাঁদ দেখার মধ্যে এতদিন কোনো স্বাদ খুঁজে পায়নি হিশাম। ওর কাছে ঘুমের রাজ্যে বরাবরই সবকিছু গদ্যময়। তাছাড়া ওর ধারণা ছিল, চাঁদ দেখা ভাবুক বা কবি শ্রেণির কাজ, প্রেমিক হলেও চলে- সেই প্রেক্ষিতে ঘুম না এলেও চাঁদের দিকে তাকানোর কোনো অধিকার তার নেই। অথচ হিশাম এখন রোজই বারান্দায় বসে চাঁদ দেখছে। রাত দুটো। সকাল ৮টায় অফিসের পথ ধরতে হবে। নিশ্চিত আজও দেরি হবে। অফিসের বস চাইলে তৃতীয়বারের মতো ভর্ৎসনাবার্তা পাঠিয়ে দিতে পারেন। সবকিছু জেনেই হিশাম বুঁদ হয়ে আছে চাঁদে। চাঁদ যে ভালো লাগছে তা নয়, ভালো লাগছে তার চাঁদের সামনে বসে আছে এইটা ভাবতে। এ কয়-মাসে তার ভাবনাগুলোর বেশ ডালপালা গছিয়েছে। আরেকটু বেশি ভাবতে গেলেই জটলা পাকিয়ে যাচ্ছে। সেদিন এই উপলব্ধিটা অফিসের এক জুনিয়র কলিগকে দার্শনিকের ভঙ্গিতে বলল, ‘জানেন শফিক সাহেব, ভাবনা হলো হেডফোনের তারের মতো, জটলা পাকাবেই!’

হিশামের এই পরিবর্তন নিয়ে বাড়ির ভেতরেও জোর কানাঘুষা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ভাগনেটা পরিবারের কমন বাথরুমের দেয়ালে বড়বড় করে লিখে রেখেছে- ‘আমার দেখা পৃথিবীর প্রথম আশ্চর্য তাজমহল, দ্বিতীয় মামার রাত জেগে তারা দেখা!’

সামনের ফ্লাটে আসা নতুন পরিবারটি, আরও নির্দিষ্ট করে বললে পরিবারের মেয়েটি, হিশামের এই দুর্দশার কারণ।

মেয়েটি বারান্দায় আসা মাত্রই হিশাম নড়েচড়ে বসে। স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে যথারীতি ব্যর্থ হয় সে। এই সিচুয়েশনে করণীয় নিয়ে কয়েকবার রিহার্সেলও করেছে। মেয়েটি দিব্যি এসে বসে হিশামের দিকে মুখ করে। মুখোমুখি বারান্দায় হিশামের উপস্থিতি যেন তার পাশের পাতাবাহার গাছটির মতোই স্বাভাবিক। হিশাম পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে সেলফি ক্যামেরা অন করে দেখে নেই সে সত্যি সত্যি সেখানে আছে কিনা। আজকাল যে ঘোরের ভেতর আছে সে তাতে অফিসের টেবিলে বসেও সামনে বারান্দাটা হাজির করা তার জন্য অসাধ্য কিছু না। মেয়েটি হিশামের দিকে তাকিয়েই আছে। হিশাম এটাকে একধরনের উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের অংশ হিসেবেও একবার ভেবে দেখে। ও হিসাবটা কোনো না কোনোভাবে মেলাতে চায়। মেয়েটি ওর প্রেমে পড়েছেÑ এই সরল অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছানো ওর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এর পেছনে একটা লম্বা ইতিহাস আছে। হিশামের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে সেই রসকষহীন ইতিহাসটা আমরা এখন জেনে নিতে পারি। জীবনে কৈশোর-তারুণ্য পেরিয়ে এখন সে প্রায় দেশের গড় আয়ুর মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত কোনো মেয়েই তাকে প্রপোজ করেনি। ও যাদের আগবাড়িয়ে ইনিয়েবিনিয়ে বোঝাতে চেয়েছে তারা শেষ পর্যন্ত তার হাতটা ধরে বলেছে, ‘বিয়েতে সাক্ষীটা তোকে হতেই হবে, দোস্ত!’ বিশ্বস্ততার প্রতিদান শেষপর্যন্ত তিক্ত অনুভূতি নিয়ে মিষ্টিমুখ করা। কিন্তু একাধিক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হতে পারত। এমন না যে সে দেখতে খারাপ, কিংবা পড়ালেখায় খুব খারাপ। সবদিক থেকেই চলনসই। পরিবারটাও মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্ত বলেই কিনা আটকে থাকল মাঝখানে।

মেয়েটি উঠে গেছে। হিশামের উঠবার তাড়া নেই। আজ সোম কিংবা মঙ্গলবার। যেদিনই হোক, সরকারি বন্ধের দিন। কেন বন্ধ হিশাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারে না। ওর মনে পড়ে হিরার কথা। বাল্যসঙ্গী। দুজনে একসঙ্গে পুতুলখেলাও খেলেছে অন্ধকার হওয়া অবধি। কিন্তু যেদিন ওদের বাড়িতে ওর মামার ছেলে এল ওখানে থেকে পড়াশুনা করবে বলে, হিরা হিশামকে বলেই দিলো, ‘খেলায় সঙ্গী পেয়ে গেছি, তুই না আসলেও হবে।’ এরপর স্কুলে পেল হাফসাকে। হাফসা এক ক্লাস নিচে। দু’জন একসঙ্গে একপথে যাতায়াত করতে করতে ভাবটাও খারাপ হয়নি। কিন্তু একদিন হাফসা ওর এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলোÑ ‘আমাদের পাড়ার হিশাম আঙ্কেল। আমার একা যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে ভেবে উনি আমাকে স্কুলে নিয়ে আসেন, পৌঁছে দেন।’ এরপর হিশাম ঘুরোপথ ধরে স্কুলে যাতায়াত করেছে। উচ্চমাধ্যমিকের বিলকিসের কথাও মনে পড়ে তার। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুলতানার সাথে অন্তরঙ্গ মেলামেশা তো গুজবই তুলে দিয়েছিল। হিশামও ধরে নিয়েছিল এইবার বোধহয় প্রেমটা ওর হলো। কিন্তু যেদিন ফিন্যান্স বিভাগে মার্ক দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘কঞ্জুস স্যার’ নামে খ্যাত শিক্ষকের রুমে অন্তরঙ্গ হয়ে ধরা পড়ল সুলতানা, সেদিন হিশাম বুঝল এতদিন ও হিশামের নোটগুলো ছাড়া আর কিছুকেই ভালোবাসেনি। বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ওর জীবনে একটাই নারী এসেছিল, প্রথম চাকরিতেই। মেয়েটি ওকে বাসা থেকে রান্না করে এনে দুপুরের লাঞ্চ খাইয়েছে। সমঝদারকে লিয়ে ইশারাই কাফি হেÑ ধরে নিয়ে হিশাম ভেবেছিল এবার আর প্রেমের প্রস্তাব না দিয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাবটা দেবে ও। কিন্তু দিনদশেক লাঞ্চ খাওয়ানোর প্রতিদান হিসেবে মেয়েটি যখন গায়ের ওপর ঢলে গিয়ে বলল, ‘হিশাম ভাইয়া, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে, না-তো একদমই বলতে পারবেন না!’ হিশাম ফ্যালফ্যাল করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের ভবিষ্যৎটা পড়ে নেয়ার চেষ্টা করছিল। মেয়েটি বলল, ‘আমি আমার হ্যাজবেন্ডকে নিয়ে সাতদিনের জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছি। বোঝেনই-তো, এই সময় এত লম্বা ছুটি অফিস দেবে না। আপনি যদি আমার টেবিলটাও একটু সামলে নেন, তাহলে যেতে পারি। বসকে বলেও ফেলেছি আপনার কথা। শুধু আপনি যদি নিজে থেকে বসকে একবার বলেন!’ মেয়েটি হানিমুন থেকে ফিরে কয়েকমাস পরেই লম্বা ছুটি নিয়ে নিল। অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর হিশামের জীবনে আর কোনো নারী আসেনি। ও একরকম ধরেই নিয়েছিল তার এই জীবনে এর বেশি লিখতে ভুলে গেছেন বিধাতা! কিন্তু অবশেষে অসংখ্য ফুলস্টপের পর তার প্রেমভাগ্য-খাতায় কলম চলতে শুরু করেছে। নানা রকম টিপস দিয়ে সহযোগিতা করছে ভাগ্নে হুমায়ুন। হুমায়ুন ওকে বলেছে, ‘মামা, উনি নিশ্চয় আপনাকে পছন্দ করতে শুরু করেছেন। আপনার উচিত হবে উনাকে আরও আরও ইম্প্রেস করা।’

হুমায়ুন নামটা সেকেলে হলেও ছেলে এ-যুগের। ওর পরামর্শেই এগিয়ে যাচ্ছে হিশাম। এই যেমন সেদিন রাতে হুমায়ুন এসে বলল, ‘মামা তোমার রবীন্দ্রসংগীতে আজকাল কিচ্ছু হয় না। তোমাকে শুনতে হবে লেটেস্ট-হিন্দি-ইংলিশ। আর এদিকে বড়জোর তাহসান-অর্ণব।’ এরপর সে নিজ উদ্যোগেই কম্পিউটারে ডাউনলোড করে দিলো জুতসই গানগুলি। ডাউনলোড করতে বসে বলল, ‘মামা, এই ৫০০ টাকার ব্রডব্যান্ড স্পিডে এসব হয় নাকি!’ বলে বারশ’ টাকার প্যাকেজটা নিয়ে নিল। সাথে আবার ওয়াইফাই রাউটার। বলল, ‘মামা, আপনি যখন খুশি বারান্দায় বসে মোবাইল থেকে গান ছেড়ে দিতে পারবেন।’ এজন্য আরও একটা বস্তু হিশামকে দিয়ে কেনাল সে, হোম থিয়েটার সাউন্ড সিস্টেম। ব্লুটুথে দূরে বসে মোবাইল থেকে সং প্লে করা যায়। হিশাম সকাল-সন্ধ্যা অফিসে থাকে। এই সময়টা হাইস্পিড ইন্টারনেট, ওয়াইফাই, হোমথিয়েটারে বারান্দায় বসে সময়টা ভালোই কাটে হুমায়ুনের। হিশাম বোঝে ভাগ্না সুযোগ বুঝে কিছু সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। কিন্তু মেনে নেয় এই ভেবে, সময়ের প্রেম সময়ে না করাতে এই যুগের মেয়ের সাথে প্রেম করতে হলে এটুকু ইনভেস্ট তাকে করতেই হবে। তবে এর ভেতর হিশামকে দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ইনভেস্টটা করিয়ে নিল হুমায়ুন। কয়দিন থেকে একভাবে বলছে, ‘মামা, তুমি যে পুরানো বাইকে অফিসে যাও, তখন মেয়েটি মানে ‘হবু মামি’ বারান্দায় দাঁড়িয়ে কি করুণভাবে তাকিয়ে থাকে, তা যদি দেখতে! মনে হয় তোমাদের প্রথম সাক্ষাৎতেই কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলবে, এইটা অন্তত পরিবর্তন করো!’ পকেটের কথা ভেবে হুমায়ুনের কথা কানে তোলে না হিশাম। কিন্তু কতদিন? প্রেম তাকে এবার করতেই হবে। তাই জমানো টাকাগুলো নিয়ে একদিন ভাগনাকে সঙ্গে করে লেটেস্ট মডেলের একটা বাইক সে কিনে আনল। ছুটির দিনগুলোতে হুমায়ুন সকাল-সন্ধ্যা বেরিয়ে যায়, বাকি দিনগুলো হিশামের। মাঝে মধ্যে হিশামকে অফিসে যেতে হয় সিএনজিতে। সকালে উঠে দেখে বাইক এবং হুমায়ুনÑ দুজনেই লাপাত্তা।

মেয়েটি ফের বারান্দায় এল। হিশামের দিকে মুখ করেই বসেছে। ‘মিনমিন করে গাইছে, দেখ?’ পাশে বসা হুমায়ুনকে বলে হিশাম। ‘মিনমিন নয় মামা, গুন গুন। এই কারণেই তোমার কিচ্ছু হলো না।’

‘এবার হবে তো?’ হিশাম প্রশ্ন করে।

‘না হয়ে উপায় আছে! তোমার ভাগনা রোমিও আছে না সাথে? একটা কিছু হবেই!’ হুমায়ুন উত্তর করে।

এরপর মামা-ভাগ্নে কফি খেতে খেতে শোনে অর্ণবের ‘সে যে বসে আছে একা একা রঙিন স্বপ্ন তার বুনতে…।’ মেয়েটির পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে অল্পবয়সি একটা মেয়ে।

‘ভালো লাগছে না, মামা?’ হুমায়ুন প্রশ্ন করে।

‘স্বর্গ!’ হিশাম উত্তর দেয় চাপাস্বরে।

 

খ.

অফিস থেকে লাঞ্চ-আওয়ারে আজ চলে এসেছে হিশাম। হাতমুখ ধুয়ে রুমে আসে। গরমটাও পড়েছে একেবারে খাপছাড়া। সে আগপিছ না দেখেই শার্টÑ প্যান্ট খুলে ফেলে। এবং তৎক্ষণাৎ ঘটে যায় ‘অ’ প্রত্যয় যুক্ত সাংঘাতিক ‘ঘটনা’। জানালার পর্দা উঠাতেই চোখে চোখ পড়ে যায় মেয়েটির। হিশাম লাল জাঙিয়া পরে দাঁড়িয়ে। জাঙ্গিয়াটাও তেমনি, অনেকদিন পরতে পরতে ঝুলে গেছে, দুয়েক জায়গায় ফুটোও দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কি করতে হবে কিছুই বুঝতে পারে না। মেয়েটিরই উচিত তাড়াতাড়ি চোখ ফিরিয়ে নেওয়া। তা না করে সে আরও মনোযোগ দিয়ে এদিকে তাকিয়ে আছে যেন! দাঁড়িয়েছিল, বসেছে। জানালাটা বন্ধ করতে আরও কিছুটা সময় লেগে যায় হিশামের। এই মুখ নিয়ে আজ আর সে বারান্দায় যাবে না বলে ঠিক করে। একবার ভাবে অফিসে ফিরে যাবে, আবার কি ভেবে থেকে যায় ঘরেই।

 

গ.

এক সপ্তাহ হতে চলল, মেয়েটিকে আর বারান্দায় দেখা যাচ্ছে না। কোনো কিছুই ভালো লাগছে না হিশামের। কারণে-অকারণে বাড়ির সকলের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। বাইকের চাবি চাইতে আসলেই তাড়া খাচ্ছে হুমায়ুন। দু’দিন অফিসে যায়নি, আবার ঘরেও থাকছে না।

অসুখ-বিসুখ হলেও বারান্দায় না আসার কারণ দেখছি না, আবার বাসা যে পরিবর্তন করেনি তাও বোঝা যাচ্ছে। হিশাম আপন মনে ভাবে। হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাবে? হতেও পারেÑ এরকম ভাবনাও ওর মাথায় আসে। সারারাত ঘুম আসে না, চোখের পাতা যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। সহ্য করতে না পেরে একদিন সকালে কাজের বুয়াকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে ইনফরমার হিসেবে পাঠিয়ে দিল ঐ বাড়িতে। স্ক্রিপ্টও সাজিয়ে দিলো- বলল, ‘বলবা কাজ খুঁজছো। এরপর ঐ বাড়িতে কে কে আছে কথাপ্রসঙ্গে সব বৃত্তান্ত জেনে আসবা।’

বুয়া ঘণ্টাখানেক পর ফিরে এল মেজাজ নিয়ে, বলল, ‘দুমাস ধরি দুশো ট্যাকা বাড়তি পালাম না। আজই এই বাড়িত আমার শেষ কাজ। কাল থেকি ঐ বাড়িতে কাজ করবু। ৫০০ টাকা ধরি দ্যাবে।’ বলে চলেই যাচ্ছিল, কি মনে করে যেন ফিরে এসে হিশামকে বলল, ‘বড় আপায় চিন্নাই গিইছে। চোখে অপারেশন হবে। এখন থেকি নাকি দেখতি পাবে!’

হিশামের মাথাটা ফ্যানের সাথে পাল্লা দিয়ে চক্কর দিয়ে ওঠে। বিছানায় গিয়ে শোয়। শোয় মানে পড়ে যায়। সব সম্ভাবনা কি শেষ? মনে মনে ভাবে সে। ফিরে এলে কি সরাসরি প্রস্তাবটা পাঠাবে? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে সে। ঘুমটা ভাঙে ভাগনার ডাকে। চোখ খুলে দেখে একটি মেয়েও আছে সঙ্গে। আরেকটু ভালো করে দেখে বুঝতে পারেÑ পাশের বাসার সেই অল্পবয়সি মেয়েটি। দেখে যেন খুশিই হয় হিশাম। একটা মাধ্যম এতদিনে তৈরি হলো ভেবে।

‘মামা, ওর নাম শিলা।’ হুমায়ুন বলে।

হিশাম ইশারা করে বসতে।

‘ওর বড়আপার চোখের অপারেশন সফল হয়েছে।’ হুমায়ুন থামে কিছুটা। একটা বড় শ্বাস নিয়ে গড়গড় করে মুখস্থ বলার মতো বলে ফেলে, ‘মামা, শিলা আর আমি, আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। ওদের পরিবার জানেও। তুমি যদি মাকে একটু বলে দাও!’

হুমায়ুন বের হয়ে যাওয়ার সময় একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে যায় মামার হাতে। লেখা : ‘মামা, অল ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার!’ ঐতিহাসিক সত্য। আমাদের না মেনে নিয়ে উপায় নেই। এরপর একটু গ্যাপ দিয়ে থার্ড ব্র্যাকেটে লেখা, কাজের বুয়া খোঁজো, আপাতত রান্নাবান্না বন্ধ!

লেখক : গল্পকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
Facebook
Twitter
Pinterest
Instagram