সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

খরা – ধ্রুব এষ

September 20th, 2016 11:35 pm
খরা –  ধ্রুব এষ

গল্প

খরা

ধ্রুব এষ

 

আমাদের শহরে যখন বৃষ্টিপাত হয়, গোটা শহরটা একসঙ্গে ভিজে বৃষ্টিতে। উকিলপাড়া ভিজে, হাছননগর ভিজে, স্টেশন রোড ভিজে, মড়ার টিলা ভিজে। মড়ার টিলা হলো গোরস্থান। আগে শহরের উপকণ্ঠে ছিল, এখন শহরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। মড়ার টিলা রোড হয়েছে। ঘরদোর উঠিয়ে দিব্যি আছে মানুষজন। মড়ার টিলার দোষী বাতাসের কথা আজকাল আর শোনা যায় না। অথচ আমরা বড় হয়েছি এই দোষী বাতাসের কথা শুনে শুনে। দুপুর কি সন্ধ্যায় এই বাতাস তড়পায়। চক্করে পড়লে বিপদ। কামরুপ-কামাক্ষ্যা ফেরত গুণিন ফকির ছাড়া দোষ কেউ কাটান দিতে পারে না। হাছননগরের ধনাই মিস্তিরির মেয়ে শেফাকে এই বাতাস ধরেছিল একবার। শেফা কাপড়চোপড় গায়ে রাখত না। শুনে আমরা দেখতে গিয়েছিলাম শেফাকে। আমি, ফরিদ, মান্না, নজরুল, তুষার। আমাদের দেখতে দেয়নি।

শেফা পড়ে নর্তকী হয়েছিল। যোগ দিয়েছিল নিউ রতেœশ্বরী অপেরায়। যাত্রার প্যান্ডেলে নাচত। শেফা নামে না অবশ্যই। যাত্রাদলের ম্যানেজার তার একটা নাম ঠিক করে দিয়েছিলেন। ড্যান্সিং কুইন ফাইভ ফিফটি ফাইভ আলেয়া। গত শতকের আশির দশকের ঘটনা। বিরাশি খ্রিস্টাব্দের। মাসব্যাপী মেলা হয়েছিল আমাদের শহরে। বুলচান্দ হাইস্কুলের মাঠে। মানুষজন বলত- এগজিবিশন।’ পুতুলনাচ, সার্কাস, যাত্রা, হাউজি। মাস ধরে বুঁদ হয়ে ছিল শহর। যাত্রাদল, নিউ রতেœশ্বরী অপেরা। ড্যান্সিং কুইন ফাইভ ফিফটি ফাইভ আলেয়া। আমাদের মধ্যে একমাত্র মুস্তফা ফাইভ ফিফটি ফাইভ আলেয়ার নাচ উপভোগ করতে পেরেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী মুস্তফার বর্ণনা ছিল লোভনীয়। − বাঁশ ধরে যে ঝাঁকিটা দেয়রে!

কিন্তু আমাদের এসএসসি পরীক্ষা, আমরা সেই ঝাঁকি কী করে দেখব? মুস্তফার এসএসসি পরীক্ষা না, আমাদের সঙ্গে সে নাইন থেকে টেনে প্রমোশন পায়নি। এছাড়া ওই বয়সেই নানাবিধ জৈবনিক শিক্ষা হয়ে গেছে তার। আমরা কেউ তখনও বিড়ি ধরিনি, সে ধরেছে এবং স্কুলের বাথরুমে কয়েকবার ধরাও পড়েছে।

ড্যান্সিং কুইন ফাইভ ফিফটি ফাইভ আলেয়া, প্যান্ডেলে যে বাঁশ ধরে ঝাঁকাতো, এগজিবিশনের পরে সেই বাঁশ নিলামে ওঠানো হয়েছিল। চার হাজার টাকা দর উঠেছিল নিলামে। কে কিনেছে এ নিয়ে কিছুদিন ব্যাপক কানাঘুষা ছিল শহরে। বাজারের আম্বিয়া কুরেশী, মধ্যপাড়ার বাংগী’ দত্ত এবং লঞ্চঘাটের ছগির কন্ট্রাক্টরের নাম মুখে মুখে ফিরেছিল।

গত বছর মারা গেছেন ছগির কন্ট্রাক্টার। আগের বছর আম্বিয়া কুরেশী। বাংগী দত্ত বেঁচে আছেন এবং ধর্মকর্মে মনোনিবেশ করেছেন। শহরের হিন্দু সমাজের কেউকেটা হয়েছেন।

নস্টালজিক সেই আশির দশকে আমাদের শহরের থ্রি মাস্কেটিয়ার্স ছিল আপ্পাদা, পিনাকীদা এবং শংকরদা। কঙ্কির ইয়ার ছিল তারা। কল্কি টানত হয় নদীর পাড়ে বসে নয় বর্তমান মড়ার টিলা রোডে। এলাকাটা গভীর নির্জন তখনও। শহরের কেউ পারতে একা যায় না। দুই তিন জন যায়, তেমনও না। যাবে কেন? গাছে গাছে জিন-ভূত এলাকার। তারা ঘাড় না মটকাক কি আছর না করুক, মড়ার টিলার দোষী বাতাস তো আছে। এই বাতাস যদি লেগে যায়। আপ্পাদা, পিনাকীদা, শংকরদার কখনো লাগেনি। আপ্পাদা অকালে এক্সপায়ার্ড। শংকরদা, পিনাকীদা ভালো হয়ে গেছে। বউ বাচ্চা নিয়ে ঘরসংসার করছে। তারা কি জানে আমাদের কয়েকজন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। মুস্তফা, বিজন, বাপি, মামুন। কল্কি না, তারা কল্কি টানতে পারে না, বিকল্প হিসাবে সিগারেটে গাঁজা ভরে টানে। কল্কি টানতে পারলে ভালো হত, বলে।

শংকরদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল গতবার। উকিলপাড়ার ময়নার দোকানে বসে, শংকরদা কিছু খুবই মূল্যবান কথা বলেছে। আফসোস করেছে। ডাইলখোর ইয়াবাখোর হেরোইঞ্চিতে ভরে যাচ্ছে দেশ। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গাঁজাখোররা। হারিয়ে যাচ্ছে কল্কি বানানোর আর্ট।

কল্কি বানানোর আর্ট। সে ছেড়ে দিয়েছে কেন?

‘বাল-বাচ্চা হয়ে গেছে না?

বাল-বাচ্চা হয়ে গেলে কেউ আর্টওয়ার্ক করা ছেড়ে দেয়?

নজরুল এই কিছুদিন আগে বলেছে, ‘আবার কল্কি ধরেছে শংকরদা।’

‘গুড নিউজ।’

‘গুড নিউজ মানে? কী বলিস?

‘আরে ব্যাটা, আর্ট, বুঝলি? শংকরদা হলো আর্টিস্ট। বিলুপ্ত প্রায় একটা আর্টের ধারাকে বাঁচানোর প্রজেক্ট নিয়েছে।’

‘কী বলে না বলে! ফিলোসফার মার্কা তোর এইসব কথাবার্তা আমি বুঝি না।’

‘বোঝার দরকার নেই। তুই কোথায়?

‘ঘরে বসে আছি। আর কী করব?

‘বসে আছিস কেন? শুয়ে থাক। মুক্তি চাই দিতে হবে কোথায়?

‘মুক্তি? মুক্তি তো বাপের বাড়িতে। নাইওর গেছে গত বৃহস্পতিবারে। তিনমাস থাকবে।’

‘তিনমাস! বিয়োবে নাকি?

‘উঁ।’

‘মুক্তির পেট কত বড় হয়েছে?’

‘ধুর শালা খবিস!

তারা পঁয়ত্রিশ পার হয়ে গেছে। লজ্জাশীল এবং ইলট্রোভার্ট নজরুল লজ্জাশীল এবং ইন্টোভার্ট আছে এখনও। মাত্রা কমেনি বরং বেড়েছে। এতোটা না হলে মনে হয় আরও কিছুদিন আগে বাপ হয়ে যেত। বিয়ে করেছে চার বছর পার হয়ে গেছে। নেশাভাং করে না। কলেজ লাইফে বিড়ি ধরেছিল। ছেড়ে দিয়েছে। গাঁজার দলে যোগ দিয়েছিল একদিন। এক-দেড়টান দিয়েই যায় যায়। মুস্তফা, বাপি, বিজনদের বারটা বেজে গিয়েছিল।

বিজনের সঙ্গে কথা হয়েছে দুপুরে।

‘কি রে বিজন? কী করিস?

‘আর কী করি বল? শিবের ধ্যান করি।’

‘কেন? মা কালীর ধ্যান কি ছেড়ে দিয়েছিস?

‘আরে না। কী বলিস? আমি যদি মাকে ছাড়িও, মা আমাকে কখনো ছাড়বে না, হ্যাঁ। আমি তার পাগল ছেলে না?

‘তুই পাগল!

‘পাগল না? ওমা! আমার মতো পাগল আর কয়টা আছে বল তো শহরে? তোর ঢাকা শহরে আছে হয়ত। কিন্তু আমাদের শহরে, হ্যাঁ?

‘তা ঠিক। তুই হলি দ্য ওয়ান এন্ড অনলি। শব্দ কিসেররে?

‘শব্দ? ও! ও-ও-ও। বৃষ্টি হচ্ছেরে। বৃষ্টির শব্দ। সকাল থেকে বেজান হচ্ছে। কাল রাতে শিল পড়েছে, হ্যাঁ। আমাদের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। সূর্যকান্ত মিস্ত্রি সকালে পুটিং করে দিয়ে গেছে।’

‘বৃষ্টি কি এখনও হচ্ছে?

‘হচ্ছে না? কী বললাম? কাইতন, হ্যাঁ। কাইতন মনে আছে তোর?

‘মনে থাকবে না?’

‘কাইতন লেগেছে, হ্যাঁ। নদীর পানি এই কয়দিনে অন্তত পোনে দুই হাত বেড়েছে, হ্যাঁ। যে কোনো মুহূর্তে বন্যা হয়ে যাবে। ঢাকার কি অবস্থা বল? বৃষ্টি হচ্ছে?’

‘কোত্থেকে? কবে শেষ বৃষ্টি হয়েছিল চিড়িয়াখানা বাঘ রাজাও ভুলে গেছে। বিভ্রান্ত রাজার ছবি আজ ছাপা হয়েছে পত্রপত্রিকায়। গরমে জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে বেচারি। কাল ছিল একচল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ তাপমাত্রা মনে হয় আরও বেড়েছে।’

‘ও ভাগবান! পানি খাবিরে! বেশি করে পানি খাবি, হ্যাঁ। বাজ পড়ল, শুনলি?’

‘হুঁ।’

‘ত্যাক্ত হয়ে গেছে মানুষজন। বৃষ্টি, বৃষ্টি আর বৃষ্টি। এত বৃষ্টি, বিশ্বাস কর হ্যাঁ, কোনোদিন দেখি নি।’

‘কিছু বৃষ্টি ঢাকায় পাঠিয়ে দে না।’

‘পাঠিয়ে দিতে পারলে সত্যি দিতাম রে। এত বৃষ্টি দিয়ে কী করব বল? হাওরের সব ধান তো গেছে পানিতে। মামনপুর, বুড়িস্থল ডুবে গেছে, হ্যাঁ। মুস্তফার তো জ্বর বুঝেছিস? এই বৃষ্টির মধ্যে সকালে ওটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। নৌকায় পার হতে হয়েছে।’

‘নৌকায়? কোথায়? হাছননগরে কী পানি উঠে গেছে?’

‘হাছননগরে? না তো! কেন?’

‘মুস্তাফার বাসায় গিয়েছিলি বললি।’

‘ওমা! তুই দেখি কিচুই জানিস না! মুস্তফাতো এখন হাছননগরে থাকে না। বুড়িস্থলে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে। অচিনটার যে কী কষ্ট আহারে! ম্যাচের কাঠি হয়ে গেছে শুকিয়ে। আমাদের তো ছেলেমেয়ে হলো না হ্যাঁ, বললাম কী অচিনটাকে আমাদের দিয়ে দে। তাও রাজি হলো না পাষ-! ও একটা পাষ-রে! হ্যাঁ। এরকম যদি করবি, বিয়ে করলি কেন? মাঝখান থেকে কী হলো, স্মৃতি মেয়েটার কপাল পুড়ল।’

‘স্মৃতি তো বাপের বাড়িতে না?’

‘আর কোথায় থাকবে? আরিফ জামালপুরে গিয়েছিল, হ্যাঁ। দেখে এসেছে স্মৃতি আর অন্যকে। যথেষ্ট যথেষ্ট ভালো আছে তারা। এই-এই-এই! শব্দ শুনলি। আবার বাজ পড়ল!

মুস্তফার ‘অধুনালুপ্ত’ বউ স্মৃতি। তাদের দুই ছেলে, অচিন আর অন্য। অচিন থাকে মুস্তফার সঙ্গে। অন্য স্মৃতির সঙ্গে। সাত-আট বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। চমৎকার দুটো বাচ্চা। তাও কী হলো? একসঙ্গে থাকল না তারা! মুস্তফার দোষ। গাঁজা তো টানেই, মদও ধরেছে। সুইপার কলোনির বাংলা টেনে নাট্যাভিনয় করে এখানে সেখানে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে কয়েকবার। হাজতবাস করেছে। শিক্ষা হয়নি। কেন?

এখন সন্ধ্যা।

মাগরিবের আজান মাত্র হয়েছে।

কড়কড়ে ঝরঝরে সন্ধ্যা।

এক ফোটা গরম কমেনি।

আজ নগর ঢাকার তাপমাত্রা ছিল বেয়াল্লিশ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্ক্রল দেখাচ্ছে টেলিভিশনে। স্ক্রলের বাংলা কি ফিতা খবর? পুরান ঢাকার মাসুদ মামা সম্ভবত এই বাংলা আবিষ্কার করেছেন। ফিতা খবর দেখছেন নি, মামা?

ডিজিটাল ফকির মাসুদ মামা। গল্পকার বুলবুল চৌধুরীর মামা মূলতঃ। বুলবুল চৌধুরীর সঙ্গী সাথী তো কম না। ‘মাসুদ মামা’ ডাকে সকলে। ফকির মাসুদ মামার বাণী একটাই, ‘বয়স হইছে ভাটি, কাম করতে অইব খাটি, হায়াতে মোলাকাত।’ বাণীর ব্যাখ্যাও দিয়ে দেন সঙ্গে, ‘বয়স তো কম হইল না, মামা। আকাম-কুকাম আর করন যাইব না। এখনে যা যা করব বুঝছেন, সব অইব আপনের হান্ড্রেড পারসেন্ট খাঁটি। আর হায়াতে মোলাকাত ধরেন, আল্লাহপাক যদি হায়াত দিয়া থাকে, আমারও আপনেরও, দেখা তো অইবই আবার।’

ফিতা খবর এখনও যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা দেখাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজ রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙায়। তেতাল্লিশ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁচা যাবে না!

আবহাওয়াবিদ সুবেদ আলী এখন কথা বলছেন টেলিভিশনে। হাসিমুখ করে বলছেন। বৃষ্টির সম্ভাবনা এই সপ্তাহে নেই। তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে আরও কিছুদিন। মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

হাসিমুখ করে বলার কথা এসব?

ধুর!

সুবেদ আলী না দীপিকা পাড়–কোন?

বেটার অপশন অবশ্যই দীপিকা পাড়–কোন।

হিন্দি গানের চ্যানেল?

এমএম, নাইন এক্স এম…।

নাইন এক্স এমে বিজ্ঞাপন হচ্ছে। কামসূত্র আলট্রাথিন কনডমের বিজ্ঞাপন। এমএম-এ শ্রদ্ধা কাপুড় নাচছে। বৃষ্টি ভিজে নাচছে,

ম্যায় নাচু আজ

ছম ছম ছম…!

তিনটা স্টেপ দিতে পারল না শ্রদ্ধা কাপুর,ইলেকট্রিসিটি ফেইল করল। এখন? হাফ বয়েলড ডিম্ব হতে হবে গরমে। শালা বিজন। কথা বলার পর টেক্সট করেছিল একটা। কিছু বৃষ্টি তোকে পাঠাচ্ছি। শালা ফাউল! কোথায় তোর বৃষ্টিরে?

আমাদের শহরে কি বৃষ্টি হচ্ছে এখনও?

গোটা শহরটা একসঙ্গে ভিজছে বৃষ্টিতে?

বিজন কী করছে?

ফোন করলাম, ধরল না। সুইচড অফ ফোনের।

অমিয় কী করছে?

এই শালাও ধরল না। সুইচড অফ না, নাম্বার ব্যস্ত।

ফরিদ?

ধরল।

‘কি খবর, ভাই?’

‘আর খবর। ঢাকা শহর শুটকি হয়ে যাচ্ছে।’

‘আর আমাদের এখানে বৃষ্টি।’

‘জানি। বিজনকে ফোন করেছিলাম দুপুরে।’

‘কে? বিজন?’

‘হ্যাঁ। বিজনই তো বলল বৃষ্টি।’

‘বিজন বলেছে? বিজন তোর ফোন ধরেছিল?’

‘মানে কী? বিজনের ফোন আর কে ধরবে?’

‘আরে ব্যাটা মাথাপাতলা! বিজনরা তো ইন্ডিয়ায় চলে গেছে আজ।’

‘ইন্ডিয়ায় চলে গেছে!’

‘হ্যাঁ। একটা মানুষকে কিছু বলেনি। তল্পিতল্পা গুটিয়ে ¯্রফে গায়েবরে, ভাই। বাসা নাকি দুই মাস আগেই বিক্রি করে দিয়েছিল। লম্বাহাটির শামীম কন্ট্রাক্টারের কাছে। একটা কাউকে কিছু বলেনি…।’

‘কখন গেছে?’

‘এই তো, সকালেই।’

কী বলছে ফরিদ! দুপুরে না কথা হয়েছে! বিজন তো অস্বাভাবিক আচরণ করেনি একটুও। নাকি এটাই ছিল স্বাভাবিক আচরণ। বাপ দাদার ভিটা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, জন্মশহর, জন্মভূমি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সাবধানতার ব্যাপার ছিল নিশ্চয়ই। কিন্তু আমরা তার ছেলেবেলার বন্ধু। এক সঙ্গে বড় হয়েছি, এক স্কুল, এক কলেজে পড়েছি, আমাদের কাউকেও মিনিমাম বিশ্বাস সে করতে পারেনি!

ফরিদ কি ইয়ার্কি করছে?

না।

কিন্তু সকালে যদি চলে গিয়ে থাকে, দুপুরে কথা বলল কী করে বিজন? তখনও বর্ডার ক্রস করেনি হয়ত। আর বৃষ্টি, আর বাজ পড়ার শব্দ? ইন্ডিয়ার বৃষ্টি, ইন্ডিয়ার বাজ পড়ার শব্দ।

ফরিদ বলল, কী হলোরে?’

কী হবে আর?

কী হবে আর?

আমাদের শহরে কি বৃষ্টি হচ্ছে এখন?

গোটা শহর একসঙ্গে ভিজছে বৃষ্টিতে?

উকিল পাড়া, হাছননগর, স্টেশন রোড, মড়ার টিলা ভিজছে?

৫৭ মড়ার টিলা রোড। বিজন চন্দ্র দাসের ঠিকানা না আর। তাও ভিজছে?

ধুর!

ফরিদ যদি এখন বলে, আমাদের শহরেও এখন বৃষ্টি হচ্ছে না! সব খটখটে হয়ে আছে খরায়!