সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

প্রচ্ছদ রচনা : সাহিত্যপিপাসুদের বাতিঘর : আনোয়ার কামাল

June 28th, 2018 6:29 pm
প্রচ্ছদ রচনা : সাহিত্যপিপাসুদের বাতিঘর : আনোয়ার কামাল

প্রচ্ছদ রচনা

সাহিত্যপিপাসুদের বাতিঘর

আনোয়ার কামাল

 

ঘোষণাতেই বলা হয়েছে, ‘শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ’। আসলেই তাই, শুদ্ধ শব্দের নান্দনিকতার এক ভিন্নমাত্রা নিয়ে আমাদের মাসের পর মাস সাহিত্য সংস্কৃতির মাসিক শব্দঘর, তার নান্দনিকতার আবেশে পাঠকের হৃদয়ের গহিন ভেতর আসন গেড়ে নিয়েছে। আমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে অপেক্ষায় থাকি, কখন আসছে পরবর্তী সংখ্যাটি। শব্দঘর নামের মধ্যেই আমি তার সেই নানন্দিক গৃহের সুবাস পেয়ে যাই। প্রতিটি সংখ্যাতেই নজরকাড়া প্রচ্ছদ, উন্নতমানের কাগজে, ঝকঝকে মুদ্রণ আর অনন্য লেখক-তালিকা, তার সাথে পৃষ্ঠাবিন্যাস তো রয়েছেই। রুচিশীল পরিশীলিত আর নানান বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষঙ্গ নিয়ে তার ডালি সাজানো থাকে প্রতিটি সংখ্যাতেই। পাঠক সহজেই তার প্রিয় এ পত্রিকাটি লুফে নেন, এ সবই আমাকে আন্দোলিত করে। যেহেতু নিজে এবং মানুষ নামে একটি ছোটকাগজ বিগত তিন বছর যাবৎ বের করছি, সে কারণেই মানসম্পন্ন সাহিত্য পত্রিকাগুলো আমাকে কাছে টানে। পাঠে উদ্বুদ্ধ করে, সংগ্রহে রাখতে হয়। একটি সাহিত্যবিষয়ক কাগজ বের করা আর তা বাজারজাত করা যে কতখানি কষ্টকর তা কেবলমাত্র ভুক্তভোগীরাই জেনে থাকবেন। পাঠক হিসাবে যখন একটি পত্রিকা হাতে পাই, তখন কিন্তু একটুও ভেবে দেখি না যে এর পেছনে কত মানুষের শ্রম-মেধা আর নিরলস কর্মকা- একত্রিত জোড়া লেগে একটি পত্রিকা আলোর মুখ দেখছে। লেখা সংগ্রহ করা, সম্পাদনা করা, অলংকরণ, ছাপাখানার গুপ্তপথ পেরিয়ে বাঁধাই পর্যন্ত এই যে ধাপে ধাপে কত হাত পেরিয়ে আমাদের হাতে আসে। একটি ছোটকাগজ করতে যেয়ে তা খুব কাছ থেকে দেখার জানার সুযোগ হয়েছে। আর শব্দঘর অনেক বড় এবং তার কাজের যে ব্যাপকতা সেখানে এ পথ পেরিয়ে ঠিকই নিয়মিত বেরুচ্ছে দেখে নিজে সাহসী হতে শিখেছি। ছোটকাগজ আর শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকার মধ্যে যে বিশেষ কিছু ব্যবধান রয়েছে, তা আমরা পত্রিকাগুলো হাতে নিয়ে সূচিবদ্ধ তালিকা দেখলেই বুঝতে পারি।

বিগত তিন বছর যাবত সাহিত্য সংস্কৃতির শব্দঘর নামের এ কাগজটি নিয়মিত বেরুচ্ছে। কী থাকে পত্রিকাটিতে? পাঠক কেন এ পত্রিকাটি পাঠে অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেন? তাদের কী ধরনের অনুভূতি কাজ করে তার কিছুটা আঁচ করা যায়, যখন আমরা তরতাজা সতেজ একটি ঢাউস সাইজের সাহিত্য সংস্কৃতির কাগজ হাতে তুলে নিই। সব সংখ্যাতেই নতুনত্বের স্বাদ পাঠককে আকৃষ্ট করে। পত্রিকাটি যে মেজাজে বেরুচ্ছে, আর এর পেছনে যে ব্যয় করতে হচ্ছে, আমার কাছে মনে হয় না যে পত্রিকাটি এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখতে পেরেছে। তবে আমি আশাবাদী মানুষ। শব্দঘর সম্পাদক মোহিত কামাল একজন করিতকর্মা সম্পাদক, তিনি দেশের স্বনামধন্য একজন চিকিৎসকও বটে। তাঁর সুসম্পাদনায় পত্রিকাটি হয়তো অচিরেই লাভের মুখ দেখবে, আমি সেরকম আশাবাদই পোষণ করি। পত্রিকাটি দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে সাহিত্যানুরাগীদের পিপাসা মেটাবে বলে আমি কায়মনোবাক্যে কামনা করি।

পত্রিকাটি চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এটা আমার মতো একজন নগণ্য সাহিত্যকর্মীর কাছে মহাআনন্দের খবর। কারণ, আমরা যারা সাহিত্যকর্মী বা সাহিত্যবিষয়ক কাগজ নিয়ে কিছু কাগজ বের করার চেষ্টা করি, তাদের কাছে ভালো মানের লেখায় সমৃদ্ধ একটি কাগজ সবসময় হাতে পাওয়ার আকাক্সক্ষা থেকেই যায়। আর যদি পত্রিকাটি নিয়মিত বের হয়, তখন পাঠক হিসেবে তার একটা মূল্যায়ন তো থাকেই। সেসব দিক দিয়ে প্রথম বিচেনায় আমার শব্দঘর পত্রিকাটি নিজের গৃহের মতোই মনে হয়। সম্মানিত সম্পাদক আমার প্রিয়জন মোহিত কামাল আর আমি নিজেও এক কামাল। লেখালেখিতে কামাল নামের স্বনামধন্য অনেক বিজ্ঞজন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আমি অতি এক নগণ্য কামাল। শ্রদ্ধেয় কবি ফরিদ আহমদ দুলাল ভাই তাই কামাল নামের লেখকদের রসিকতা করে বলেন, কামাল পরিবার। বটেই, আমরা তো একটি পরিবারই। লেখকরাই আমাদের আসল পরিবার। আমরা সাহিত্য পত্রিকাগুলোর পরিবারের সদস্যও। সদস্য হিসেবে শব্দঘর-এর প্রতিটি সংখ্যা পাঠককে কাছে টানছে। এ ধরনের একটি পত্রিকার বিক্রি মূল্য নিতান্তই অল্প রাখা হয়েছে যেন সব ধরনের পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। এ সিদ্ধান্তও একটি যুৎসই সিদ্ধান্ত, যা পত্রিকাটির ব্যাপক প্রচার ও প্রসারে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালনে কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে বিরাট অংকের ভুর্তকি দিতে হচ্ছে বলেই মনে হয়। তার পরেও সাহসী সম্পাদক অত্যন্ত সফলতার সাথে পত্রিকাটির জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন, যার জন্য তাঁকে অভিনন্দন না জানালে কার্পণ্য করা হবে।

আজকে পত্রিকাটির তৃতীয় বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বছরে পদার্পণ করল। একটি পত্রিকার বয়স মাত্র তিন বছর। খুবই অল্প সময়। কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, পত্রিকাটি প্রতিটি সংখ্যা তার লেখক তালিকা থেকে শুরু করে চেহারাসুরতে যে নান্দনিক গৃহ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিচ্ছে আমি তার সাথে শতভাগ সহমত পোষণ করছি। শব্দঘর এখন দেশের সীমানা অতিক্রম করে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। এর চাইতে আর আনন্দের, সুখকর খবর কি হতে পারে।

শব্দঘর অন্যান্য সাহিত্য পত্রিকার মতো কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস তো ছেপে থাকেই তার উপর বাড়তি পাওনা হিসেবে আমরা ভ্রমণ, অনুবাদ সাহিত্য, লোকজসংস্কৃতি, বিশ্বসাহিত্য, মুক্তকলম, চিত্রকলা, লিটলম্যাগ, পাঠপ্রতিক্রিয়া, বইকথা এসব আলাদা আমেজে পেয়ে থাকি। যা থেকে সহজেই সাহিত্য-সংস্কৃতিবিষয়ক বাড়তি কিছু পাঠের পিপাসা নিবারণ করা যায়। এখানে যেমন লেখককে মূল্যায়ন করা হয় তার লেখার মান দিয়ে আবার প্রবীণ লেখকদের নবীনদের সাথে যোগসূত্র করে দেয়ার কাজটিও তারা নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। লেখকদের পঠনপাঠন সবইতো শব্দকে নিয়েই, আর সেই শব্দ মজুত করে যে ঘর সেটাই তো শব্দঘর। আর সেই কাজের কাজটিই করছে আমাদের শব্দঘর নামের সাহিত্য-সংস্কৃতির শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ; সাহিত্যপিপাসুদের বাতিঘর হয়ে। শব্দঘর চারবছর-পাঁচবছর নয়, যুগ যুগ বাতিঘর হয়ে আলোকিত করুক সাহিত্যের বর্তমান আঁধার ঘরে আলোকবর্তিকা হয়ে। আমরা তার সহযাত্রী হয়ে থাকতে চাই।

লেখক : সম্পাদক, এবং মানুষ (লিটলম্যাগ)