সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

সম্পাদকীয় : শব্দঘর সবার পত্রিকা

April 28th, 2018 7:30 pm
সম্পাদকীয় : শব্দঘর সবার পত্রিকা

চতুর্থ বর্ষ    প্রথম সংখ্যা   জানুয়ারি ২০১৭

শব্দঘর সবার পত্রিকা

শব্দঘর কোনও প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকা নয়। ব্যক্তি উদ্যোগে এর কাজ পরিচালিত হলেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগ্রহী পত্রিকাটি। শুরু থেকে এ নীতি মেনে চলার কারণে শব্দঘর বিদ্বৎ-সমাজ থেকে শুরু করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। তার প্রমাণ আমরা পাই শব্দঘরের প্রতি বিশ্বজুড়ে পাঠক-লেখক-সাহিত্যিকদের আগ্রহ দেখে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যায় পাঁচ প্রাবন্ধিক-কবি-কথাশিল্পী ও সাহিত্যের অধ্যাপকের মূল্যায়নধর্মী লেখা ছেপেছি আমরা। একই সঙ্গে প্রকাশিত হলো ছয় লিটলম্যাগ সম্পাদকের চাছাছোলা বিশ্লেষণও। ‘কী চাই, কী চাই না’ শিরোনামের প্রচ্ছদ রচনাগুলো থেকে নানা-ধরনের ইতিবাচক পরামর্শ পেয়েছি। তা গ্রহণ ও পালন করার চেষ্টা করব ভবিষ্যতে। আমাদের ঘাটতি এবং ত্রুটি-বিচ্যুতিও ধরতে পেরেছি। এসব বিষয় মনে রেখে শব্দঘর-এর ভবিষ্যৎ সংখ্যাগুলো পরিমার্জিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমরা। একারণেই বলব পত্রিকাটি সবার, ব্যক্তির নয়। ‘এই সময়ের একটি পত্রিকার কাছে আমি চাইব আমার দেশের আমার ভাষার এবং সেই সঙ্গে সারা পৃথিবীর সেরা সাহিত্যকর্ম এবং সেই সম্পর্কিত সারগর্ভ আলোচনা।’-  খালেদ হোসাইনের এই চাওয়া আমাদের সামনে হিমালয়সম উঁচু মানদ- তুলে ধরলেও আমরা চেষ্টা করে যাব এই চাওয়া পূরণ করতে।

কবীর চৌধুরী কেবল ফেরদৌসী মজুমদারের আপন ভাই নন। তিনি জাতীয় অধ্যাপক, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতিও। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা দিবস পদকপ্রাপ্ত এই গুণীজন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদকও। তাঁর স্ত্রী মেহের কবির ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। ফেরদৌসী মজুমদারের আরেক ভাই মুনীর চৌধুরী। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী, ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান, ইংরেজি বিভাগেরও প্রধান ছিলেন  এবং কলা অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দ-কারণ্য, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য এবং বিখ্যাত কবর নাটকেরও স্র্রষ্টা। ফেরদৌসী মজুমদারের বোন নাদেরা বেগম মহান বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক ও কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনাও করেছেন তিনি। এই বিখ্যাত পরিবারের সন্তান ফেরদৌসী মজুমদারের সহজ-সরল স্মৃতিচারণমূলক বিশেষ রচনায় আমরা সন্ধান পাব বাংলাদেশের এক ঐশ^র্যময় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা বাংলা একাডেমিরও সংরক্ষণ করা উচিত।

সত্তর দশকের কবি কামাল চৌধুরীর কবিতাচর্চার শুরু এদেশের মুক্তিসংগ্রামের শুরুতে। একজন সংবেদনশীল  কবি ও মানুষ হিসেবে তিনি অনুভব করেছেন এ দেশের মানুষের আবেগ ও অনুভূতি। ফলে, তাঁর কবিতায় অনিবার্যভাবে এসেছে মাটি, মানুষ, প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিচিত্র রং ও রেখা। তাঁর ষাটতম জন্মবার্ষিকীতে শব্দঘর আয়োজন করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বেগম আকতার কামালের বিশ্লেষণ, ‘তাঁর বলার কথা ও ভাষা- দুটোই মিথস্ক্রিয়া ঘটায় ওই প্রেক্ষণবিন্দুর চমৎকারিত্বে। তিনি শুধু দেখেন না, অনুভব করেছেন পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে আর সেই অনুভবকে ছবিতে-ছন্দে সাজিয়ে তোলেন, অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্তের লয়ে তাকে দেন সান্দ্রঘন কাব্যদ্যুতি’-  আমাদের আন্দোলিত করে। আর রাবীন্দ্রিক আবহ তুলে ধরে অনু হোসেনের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মধ্যেও আমরা দেখতে পাই অনন্য এক কবি কামাল চৌধুরীকে। এছাড়াও কাবেদুল ইসলাম, সরকার আমিন, স্বপন নাথ ও আলতাফ শাহনেওয়াজের ব্যবচ্ছেদেও দেখার সুযোগ ঘটবে বাংলাসাহিত্যে যুগোত্তীর্ণ আসন পেতে পারেন এমন এক শক্তিমান কবিকে।

ইমদাদুল হক মিলনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস গোড়খোদক-এর প্রথম কিস্তি শুরু হলো এ-সংখ্যা থেকে। আমরা বিশ্বাস করি মুক্তিযুদ্ধের ওপর এক সময় এটিই হবে বৃহত্তর ক্যানভাসের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। চতুর্থ বর্ষশুরু সংখ্যায় হরিশংকর জলদাস উপন্যাস দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন শব্দঘরকে। তাঁকেসহ এ-সংখ্যার সকল লেখক-সাহিত্যিক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও ভালোবাসা।