বিশ্বসাহিত্য- জন্ম : মুল্ক্ রাজ আনন্দ্ – অনুবাদ: সম্পদ বড়ুয়া

 

বিশ্বসাহিত্য

জন্ম

মুল্ক্ রাজ আনন্দ্

অনুবাদ: সম্পদ বড়ুয়া

 

পাহাড়ের খাদে বস্তি থেকে পার্বতী যখন সজোরে বেরিয়ে আসে সারা পৃথিবী তখন গভীর আর্তনাদ করে ওঠে। নিশ্বাসহীন অন্ধকারে তার গলা যেন ধরে আসছে। রাস্তায় কিকার গাছের সারি চোখের সামনে অপদেবতার মতো অস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে। পেটের ভেতর মৃদু কম্পন তাকে নিস্তেজ বেদনায় আচ্ছন্ন করে রাখে, যা অনেকটা নাইট-কুইন ফুলের সুগন্ধের মতো মিষ্টতা ছড়ায়। পার্বতীর শ্বশুর একটা সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রেখে আগে আগে হাঁটছে। তাকে খুব একটা দেখা না গেলেও তার ক্ষীণ কণ্ঠে রুষ্ট গলা মাঝে মধ্যে তাকে তাড়াতাড়ি পা চালাতে তাগিদ দিচ্ছে। বুড়ো শ্বশুরকে অনেকটা আশ্বস্ত করতে আর একই সাথে এই ভীতিজনক গাছপালার ভেতরে নিজের মধ্যে সাহস সঞ্চারের জন্য সে যে তাকে অনুসরণ করছে সেটা জানাতে দেরি করে না। কিন্তু এ ভোর বেলায় পার্বতীর পা দুটো ক্রমশ যেন ভারি হয়ে উঠছে; মাথায় লটবহর বাঁধা থাকা সত্ত্বেও তার শরীরের মধ্যাংশ রাজকীয় জাহাজের অগ্রভাগের মতো সামনে ঝুঁকে আছে।

কেরোল বাগ-এর বস্তিপল্লী থেকে খুব ভোরে এ মহিলা রিজ রোডের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। তার স্বামী আগেই সেখানে কাজে বের হয়েছে। রাস্তা সংস্কারের কাজ। মহিলা হাঁটতে হাঁটতে পেটে সন্তানের নড়াচড়া অনুভব করে। ওটা সারারাত যা করেছে মনে হচ্ছে আরেকটা আরামদায়ক অবস্থান গ্রহণের জন্য পার্শ্ব পরিবর্তন করছে। মহিলা পেটের ওপর হাতটা খুব আলতোভাবে রাখল যেন বাচ্চাটাকে সান্ত¡না দিচ্ছে। এ-ধরনের কথা স্বামী রামুকে বললে সে গভীর রাতে এবং গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি মাসগুলোতে যে আচরণ করত তা ভেবে পার্বতীর মুখের কোনায় হাসির ঝিলিক লেগে থাকে। স্বামী নিজের কান দুটো তার পেটে রেখে শুনতে চেষ্টা করে; আঙুল দিয়ে আনন্দের সাথে টোকা মারে, সুর করে খেপা কৌতুকপূর্ণ গানের লাইন পাঠ করতে থাকে :

ধৈর্য ধরো, বাছা ধৈর্য ধরো,

তুমি অবশ্যই শিখে নেবে ধৈর্য ধরা,

তুমি অবশ্যই জানবে কিভাবে কর্ষণ করতে হয়

তোমার পূর্বপুরুষদের দীর্ঘ হৃদয়ের মর্মমূল।

এবার পেটের ভেতর আরেকবার নড়াচড়া অনুভব করল পার্বতী। কুসংস্কারে ভর করে সে ভাবল এটা রামুর সেই চাতুর্যপূর্ণ কাজ যার জন্য পেটের ভেতর গোলমাল হচ্ছে। একবার ট্রেনে আমবালা থেকে ফেরার সময় সারা পথে তার স্বামী দুষ্টামি করে শুধু যে জ্বালাতন করেছে তা নয়, একমাস আগে যখন তার শ্বশুর কুঁড়েঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, স্বামী তখন তাকে উন্মত্ত কামনার প্রবল ধারায় উৎসারিত করেছিল।

একটু ক্ষণের জন্য থামল পার্বতী। বাম হাতে মাথায় খাবারের পুটলিটা ভারসাম্য রক্ষা করে বসাল, আর ডান হাতে পেটের উপর মৃদু টোকা মারল। শরীরের ভেতর বাড়ন্ত জীবনটা এপাশ থেকে ওপাশে ঘূর্ণায়মান। আর তাই তার মর্মদেশ ভয়ে প্রচ-ভাবে ধড়ফড় করছে, দুর্বলতায় ঝিম ঝিম করছে মাথা। মূর্চ্ছা যাবার অবস্থা এড়ানোর জন্য দাঁত কড়মড় করল, হাত দুটো দৃঢ় মুষ্টিতে আঁকড়িয়ে ধরল। সৌভাগ্যক্রমে সেই আঁকড়িয়ে ধরা ব্যথা ধীরে ধীরে অপ¯্রয়িমাণ হচ্ছে। এবার দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে সামনে পা বাড়াল।

শ্বশুরের গলার ক্ষীণ কণ্ঠের প্রতিধ্বনি তার কানে এসে পড়লÑ‘ওহে, তাড়াতাড়ি করো।’

গলা উঁচিয়ে সে প্রত্যুত্তর দিলÑ‘আসছি বাবা, আমি পিছে পিছে আসছি।’

ক্ষণস্থায়ী এ ব্যথা কেঁপে কেঁপে অতিক্রান্ত হবার সময় পার্বতী বুড়ো শ্বশুর লোকটার জন্য চিন্তায় পড়ে যায়, নিজেকে বোঝা ভাবতে থাকে। বেচারা তার দায়িত্বভার গ্রহণ করে সত্যিই ভেঙে পড়েছে, বিশেষ করে যখন জমি বন্ধক দিয়ে দিল্লি যাবার ভাড়া কাটতে হয়েছে। তাছাড়া আগাগোড়াই তার দেখভালের জন্য বুড়ো উৎকণ্ঠায় রয়েছে যা তার মনকে স্পর্শ করেছে। এটা ঠিক যে ছেলের বউয়ের চেয়ে তার প্রধান চিন্তা ছেলের ছেলের জন্য। এত বছর অমঙ্গলের প্রেতাত্মার মতো দুর্ভাগ্য তাকে তাড়া করে ফিরলেও সে সত্যিই উষ্ণ হৃদয়ের অধিকারী, তার চিন্তার মধ্যে রয়েছে শিশুসুলভ কাতরতা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়Ñপাঁচ বছর আগে যখন রামু-র বিয়ে করা স্ত্রী পার্বতী এ পরিবারে আসে তখন তার শাশুড়ি অসুস্থতা নিয়ে মৃত্যুশয্যায়। এ বৃদ্ধ মহিলা বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে পুরো পরিবারের পতনের ইঙ্গিত দিয়েছিল যা শ্বশুড় বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি জানায়। স্ত্রীকে সে তো বিশ্বাস করেনি বরং উপহাস করেছে যখন স্ত্রীর মন অবসাদে আচ্ছন্ন ছিল। দীর্ঘ সময় মন খারাপ করে থাকার কারণে ক্যান্সারজনিত মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। তখন থেকেই পার্বতী অনুভব করল তাকে এ বৃদ্ধ লোকটির বিশ্বাসকে সত্য বলে প্রমাণ করতে একটা নাতি উপহার দেয়াই সমীচীন হবে, যা তার স্ত্রীর মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বলে গণ্য হবে; কিংবা একমাত্র আনন্দের বিষয় হয়ে উঠবে যা ঋণ আর শুষ্কতার ভেতর দিয়ে তার পতনের ধীর যন্ত্রণাকে পুষিয়ে দেবে।

আবার একটা যন্ত্রণার কম্পন, মুখে অসুস্থ খিটখিটে মেজাজ…।

এবার দাঁতে দাঁত কড়মড় করল পার্বতী। এটুকু বুঝেছে তাকে অন্তত বাহ্যিক দৃষ্টিগোচরের জন্য হলেও সহ্য করতে হবে। কারণ বুড়ো লোকটির পার্থিব আর স্বাভাবিক বয়স বিবেচনা করলে পার্বতী কাজে যাবার সময় পথে সন্তান প্রসব করে ফেললে সে অবশ্যই বিব্রতকর অবস্থায় পড়বে। স্বামীর কাছাকাছি অবস্থানে আসা পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে যাতে পাথর ভাঙা মহিলাদের কাউকে প্রসব করানোর জন্য ডেকে আনতে পারে।

সে দ্রুত পা বাড়ায়। প্রলম্বিত রাত্রির ছায়া থেকে আলোর স্তরের নীচে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া উৎকণ্ঠা তীব্রতর হচ্ছে। তার নাকে আর কপালে ঘামের বিন্দু; মনে হচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাসের অভাবে নিশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। কিন্তু নিজের ওপর তার কর্তৃত্ব এতটুকু শিথিল করেনি, ড্রামবাদক যেভাবে ড্রাম সামনে তুলে ধরে তেমনি পেটটাকে সামনে তুলে ধরে সে রাজকীয় ভঙ্গিতে পা দুটোর ফাঁক বজায় রেখে সামনে এগিয়ে চলে।

কিছুক্ষণের জন্য সে নিজেকে দেখতে পায় একাকী হেঁটে যাচ্ছে যেন নিজের কাজের একজন নীরব দর্শক। সম্ভবত এ বোধ এসেছে আশ্চর্য এক বেদনাবোধহীনতার সংযোগস্থল থেকে যেখানে একজন গর্ভবতী মহিলা মনের অলিন্দে ঢুকে পড়ে যে নিজের মধ্যে ধীরে ধীরে মেয়েলি কোমল অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করে; ময়ূরীর মতো গর্বে বুক ভরে যায়, শরীরে আবেগের আতিশয্যে নিজেকে নিঃশেষ করে নীরবতার গান গায় যা অনেকটা মৃত্যুর মতো, যেখান থেকে প্রাণের সূচনা। তার শিরায় শিরায় কেমন যেন নিষ্ক্রিয়তা যা থেকে বেরিয়ে আসে ব্যথার অনুরণন, তার অনাগত সন্তানের নড়াচড়া, বেঁচে থাকার সংগ্রামÑ এর ধুপধাপ অস্পষ্ট শব্দ যা জন্মকালীন দৈহিক অসুস্থতায় গোপনে থাকা শরীরের জলীয় কোষের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসছে। মহিলার পেটের ভেতর মৌলিক উপাদানগুলোর নিজেদের মধ্যে চেপে থাকা অনুভূতির দ্রুত ছোটাছুটির কারণে তার চোখের নিস্তেজ সাদা দৃষ্টি কালো বিন্দুতে মিশে ভয়ানক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এজন্যেই রাস্তার পাশে গাছের প্রতিটি শাখাকে মনে হচ্ছে সাপের জটিল কু-লী, যা থেকে গাধার খুলি, পুরুষ হরিণ, সিংহ, হাতি, বানর আর এদের পাশাপাশি নরকের বাগানে অভিশপ্ত মানুষের শরীরগুলো ঝুলে পড়ছে।

মাথার পেছনে হালকা শো শো ভয়ের শব্দ সে শুনতে পাচ্ছে, যা অনেক আগে নরকের গাছের অস্তিত্বের কাহিনি তার চোখের কনিকায় ঝিল্লির পিছন পিছন চুপিসারে লতিয়ে ওঠে। সাদা রং করা কবরখানার দৃশ্য আর তার চূড়ায় সবুজ পতাকা ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিল। সে একটু কেঁপে ওঠে। এতে তার পেটে গুড় গুড় শব্দ হয়। তার মনের নরম জায়গায় ব্যথা ছড়িয়ে দিল, যা তিরের মতো বিদ্ধ করেছে; মায়ের কথাগুলো মনে পড়ছে যেখানে ভয়ের স্মৃতিগুলো আলোড়ন তোলে। বিভ্রান্তি আর ভয়ের মধ্যে পড়ে সে দৌড়াতে শুরু করে, চেষ্টা করল মাথাটাকে সোজা তুলে রাখতে আর হাত-পা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ নির্জীব করে রাখতে। মনে হচ্ছে গাছের ছায়াদল আর তার দিকে ধেয়ে আসা চারদিকের ভয়াবহ লোকসমাগমের বিরুদ্ধে সে তার চলনভঙ্গির সৌন্দর্য এবং অনাগত সন্তানকে রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্মুুখে তাড়াহুড়ো করে ছুটে চলার পথে তার চমকিত চোখের ঝিল্লি আরও গাঢ় হলো, নাক দুটো শয়তানের তাড়া খাওয়া পিঙ্গলবর্ণের কচি অশ্বার নাকের মতো যেন বড় হয়ে গেছে। শ্বশুরকে ডাকার জন্য পার্বতী মুখ খোলে, কিন্তু ঠোঁট দুটো ফাঁক হলেও কোনো শব্দ বের হলো না।

এখন পার্বতী নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলো। বহির্মুখী ইচ্ছের কারণে যে ছায়া সারাক্ষণ সাথে সাথে থেকে ভয় দেখাচ্ছে তাঁকে তাড়াতে উঠে-পড়ে লাগল। কিছুক্ষণের জন্য সে থামল, তার বুক ওঠানামা করছে, নিশ্বাস দ্রুত পড়ছে, সারা শরীর ঘামে ভিজে উঠেছে। তবে এখন দুর্বলতার একটা সর্পিল ঢেউ মাথায় এসে পড়েছে, মাথা তাই ঝিম ঝিম করছে।

তার আধা বোজা চোখ দিয়ে রিজ রোডের বিড়লা মন্দিরের বিশাল গোলাকার শিলাখ-ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা শ্বশুরকে বালির কণার মতো দেখাচ্ছে। এ রাস্তার শেষে রয়েছে সেই উঁচু স্থানটি যেখানে তাকে পাথর ভাঙার কাজে যেতে হয়। এ-মুহূর্তে মূর্ছা যাবার অবস্থা থেকে যদি টিকে থাকতে পারে তাহলে সে এসব কবরখানা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তার অসাড় শরীরে এখন অবসাদ আর আবেগের চেতনাহীন অনুভূতি। তথাপি যখন আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দুটো হাতে আঁকড়িয়ে ধরা তলপেটে তীব্র ব্যথাটা রাস্তা বানানোর ইঞ্জিনের বিরক্তিকর শব্দের মতো গর্জন-ধ্বনিতে রূপ নিল তখন সে পিছিয়ে এসে নরকের দূতের হাতে ধরা দিল।

সে মাটিতে পা মাড়িয়ে দিল যেন তাকে ইশারায় ডাকছে। সীতাও তাই করেছিল, মাটিকে দুভাগ হবার জন্য বলেছিল আর বিপদের সময়গুলো সেখানে গ্রাস করার জন্য বলেছিল। মাটি দুভাগ হয়নি। কিন্তু সে অবিচল ছিল। পেটের ভেতর ব্যথাটা বুনো ঢেউয়ে ঘূর্ণায়মান ছিল, ঘুরে ঘুরে উপরে আর নীচে নামছিল; পেটের বড় কড়াইতে যেন আউশ ধান নড়ছে, শো শো শব্দ করছে আর সিদ্ধ হয়ে উপচিয়ে পড়ছে। পার্বতী তার ভেতরে-বাইরে সকল অপদেবতাকে মাথা ঝাঁকিয়ে অগ্রাহ্য করল। বাম হাতে পেট চেপে রাখল। শক্তভাবে লেগে থাকা মুখের কোণাগুলো প্রবল উন্মাদনায় মরিয়া হয়ে ওঠে, মুখে কুঞ্চনের রেখা, সে সর্তক প্রশান্তি নিয়ে অগভীর খাদের দিকে পা বাড়াল, যা রাস্তার কারণে প্রশস্ত হয়েছে। মাথা থেকে ঝুড়িটা নামিয়ে ধুপ করে সে খাদের কুঁজের উপর রাখল। সৌভাগ্যক্রমে সে তার কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি এসে পড়েছে।

কিছুক্ষণের জন্য পার্বতী সটান হয়ে শুয়ে পড়ে, একটু বিশ্রাম নেবার চেষ্টা করল যাতে ব্যথার প্রকোপ ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে যখনই চোখ বন্ধ করে সে অনুভব করল তার দুই কটির মাঝখানে ভিজে গেছে, বুঝতে পারল তার সন্তান যাত্রা শুরু করেছে।

নিজের কাক্সিক্ষত মানুষের জন্য সজোরে বেরিয়ে আসার বাসনার সাথে আউস ধানের অপূর্ব গন্ধ মিশ্রিত হবার কারণে সে অনুভব করল এক ধরনের ক্লান্তিকর অসাড়তা যা তাকে জড়িয়ে ধরেছে। মানসিক অবসাদে তার শরীরের ¯œায়ুগুলো যেন বিশ্রাম চাইছে। তার ভ্রুগুলো সংকুচিত হয়ে ভ্রুকুটি করছে, ঠোঁটের প্রান্ত দুটো আরও শক্ত হয়ে এসেছে, চোখে কুঞ্চনের আভা। নাকে ঘামের ছোট ছোট বিন্দু, মুখে ফুটে উঠেছে অশুভ চাহনি। মহিলা ভয় পেয়ে গেছে তার সবকিছু শূন্যতায় উবে যায় কিনা। পেটের ভেতর সন্তানের চাপে একদলা মাংস যেন নেমে এসে গলে যাচ্ছে।

পার্বতী এবার নিজের মনকে শক্ত করতে চেষ্টা করল যাতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু মনটা শরীরের মতোই আর শরীর মনেরই বহিঃপ্রকাশ। তাই নিজের সত্তার ওপর ইচ্ছাশক্তি তার শরীরকে অনমনীয় করে ফেলল, অত্যন্ত পীড়িত শিথিল ভঙ্গিতে সে শুয়ে থাকে।

অল্পক্ষণের মধ্যেই আবারও ব্যথার ঢেউয়ের কারণে তার আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল। এখন সে হা করে শ্বাস নিচ্ছে যেন এক অসহায় ধূসর পাখি পেট থেকে উঠে আসা আচ্ছন্ন এক শক্তি হয়ে তাকে গলা টিপে ধরেছে। অনেকগুলো অনিচ্ছাকৃত তীক্ষè চীৎকারের মাধ্যমে ফোলানো নাড়িভুড়ির শক্তিশালী সংগীত তার সকল প্রতিরোধকে ধীরে ধীরে লুপ্ত করে দিচ্ছে।

‘হায় ভগবান!’, পার্বতী চীৎকার করে ওঠে। তার মস্তিষ্কের সমাচ্ছন্ন অসারতার মধ্যে দেবীর আবাহন তাকে স্বর্গীয়ভাবে স্পর্শ করলে সেখানে চোখে পড়ে এলোমেলো কাল্পনিক চিত্রের ক্ষীণ আলো, নীল আকাশের ওপর মেঘের কণিকার তৈরি নক্শা। চোখের আবছায়া অস্পষ্ট উন্মত্ততার বাইরে সটান শুয়ে থাকা এক স্থূল নারীর ছবি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। তার মনে হয় মেঘের ভেতর এ নরীও প্রসবযন্ত্রণায় কাতর।

মানুষ যখন বিপদে পড়ে স্বর্গীয় শক্তিরা তাকে সাহায্য করার জন্য প্রায়শই এগিয়ে আসেÑ এই অন্ধবিশ্বাস আর গভীর অনুসন্ধিৎসু কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে নিজের ভেতর যন্ত্রণা চেপে রেখে সে এক জবুথবু রূপ নিয়ে কঠিনভাবে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় ছবিটির পরিবর্তন ঘটছে এবং তার চোখের সামনে প্রতিভাত হচ্ছে স্বয়ং দেবী কালীর মূর্তি, যিনি পরোপকারের ইচ্ছা নিয়ে গুটিসুটি মেরে থাকা দেবতা শিবের পাশে অর্ধশয়ান ভঙ্গিতে উপস্থিত। তার ভেতর হঠাৎ ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হলো এই ভেবে যে স্বামী এসময় তার পাশে নেই, তাকে সাহায্য করছে না। স্বামী জানত সময় ঘনিয়ে এসেছে। সত্যি কথা বলতে কি, আজ সকালেই সে ভালোভাবে জেনেছে যেহেতু সারারাত সে বিছানায় অস্থিরভাবে এপাশ ওপাশ করছিল। তারপরও সকল যন্ত্রণা স্ত্রী একা বয়ে বেড়াক এই ভেবে তাকে ফেলে তাড়াহুড়ো করে আগেই কাজে বেরিয়ে গেল। ইস… যদি সে স্পর্শ করতে পারতো সহানুভূতির হাত বা অন্য কোন অঙ্গ কিংবা যে কোন কিছু। তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা যখন তার অন্ত্রের মধ্যে তোলপাড় শুরু করেছে আর নিতম্ব থেকে নিতম্বে পাক খেয়ে খেয়ে মুচড়িয়ে উঠছে তখন সাহায্যের আশায় সে একমুঠো খড়ও আঁকড়ে ধরতে চায়…..।

কিন্তু আকাশে মেঘদলের কাছ থেকে সে তার মুখ ফিরিয়ে নিল, স্বামী সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করায় নিজেকেই দোষারোপ করল। স্বামী তার প্রভু, কর্তা। তার কাছে মা-বাবা বিয়ে দিয়েছে, তাদের ধারণা মেয়ে স্বামীর পুজো করবে। এবার সে স্মরণ করতে চাইল সেই আনন্দঘন মুহূর্তের কথা যেদিন স্বামী তার কাছে এল আর তাকে পাওয়ার পাশাপাশি সন্তান তার পেটে এল।

দিনের কাজের ফলে শারীরিক অবসাদ থেকে উঠে আসা অনুভূতি দামি মধুর সুগন্ধীর মতো তার শরীরকে ঘুম পাড়ানি বোধ থেকে ধীরে ধীরে উত্তেজিত করে তোলে। তার শক্ত সামর্থ নিতম্বে স্বামীর শরীরের চাপের স্মৃতি জীবনকে প্রাণপূর্ণ করে তোলে। বুক এবং পেটের নীচে প্র¯্রবণে তরঙ্গায়িত উচ্ছ্বাস মুখে মুখে গলে যায় যা তার শরীরের ভেতর এখন উত্তাপ সঞ্চার করছে। মাথায় এক ধরনের নিদ্রা উদ্রেককারী নিস্তেজ ভাব এসে ভর করে। অবশ্য সেটা বর্তমানে সন্তান জন্মদানের সময় মাথা ঝিন ঝিন করার মতো নয়। শ্বাস পড়ছে, চোখ দুটো আধা বোঁজা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্ত হয়ে আছে, স্বামীর পাগলের মতো হাত বুলিয়ে দেয়া…নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে…।

বর্তমান আনন্দ বেদনার বাঁকা রেখার ওপর একটা অদ্ভুত স্পষ্টতা নিয়ে পার্বতী তার সে সময়ের অনুভূতিগুলো মনে করতে থাকে। আবেগের প্রসার বা সংকোচন সে কোমরের নিচের অংশে অনুভব করে। শুধুমাত্র ব্যথা তাকে ধীরে ধীরে কোমল পি-ে পরিণত করছে যতক্ষণ না তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসে। সে তীব্র চীৎকার করে ওঠে… ‘ও মা, মাগো।’ জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে ঝুলে থাকার মতো অবস্থায় সে হাঁফাতে থাকে। কিছুক্ষণের জন্য চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে, এত ক্লান্ত সে, আর পারে না। দাঁতে কামড় দিয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভীতি না ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সে তার মাথা উপরে তুলল এবং গুটিসুটি অবস্থায় পড়ে থাকল।

তিরের মতো বিদ্ধ হয়ে ব্যথা প্রায় দুপাশে এমনভাবে নেমে এসেছে যেন মনে হয় প্রতিটি ¯œায়ু ইস্পাতের মতো ধারাল হয়ে উঠেছে। শত বছরের যন্ত্রণার ভার চূর্ণ হয়ে যেন তার পেটে এসে চাপ দিচ্ছে। সমুদ্রের মন্থনকাজে সীমাহীন বিচূর্ণ প্রক্রিয়া তার ভেতর খেলা করছে। তার মাথায় সারা পৃথিবী ভেঙে পড়ছে। শরীরের এলোমোলো অপরিহার্য অংশগুলোর লড়াই চলছে। পেটের ভেতর যে শক্তির উৎস থাকে তা থেকে প্রতিটি তিরের মতো ব্যথা বেরিয়ে আসতে থাকে; এ যেন একটা ঝড় যা বাইরের জগৎকে তীব্র ঝাঁকুনি দিচ্ছে। এখন তার মুখ বেয়ে ঘাম নেমে আসছে আর তার শরীরে মাংসের ভেতর বিভিন্ন উপাদানের চাপের ফলে উত্তাপের সূক্ষ্ম অবস্থানে খোঁচার সাথে এ ব্যথা মিশে যেতে থাকে।

‘হে সন্তান আমার, এসো, এসো’ অনেকটা যাদুমন্ত্র উচ্চারণের মতো চিৎকার করে মহিলা অঝোরে কেঁদে ওঠে। ‘এসো বাছা আমার’ সে ফিসফিস করে বলে যেন যেদিন রাতে বীজ বপন হয়েছে সে রাতের ভালোবাসার কথাগুলো বুকের ভেতর টেনে নিয়েছে।

এবার পার্বতী তার শরীরকে শক্ত করে রাখল আর এতে নিজের ভেতরের কোমলতা বেরিয়ে এল। হাত দুটো দিয়ে নিতম্বে জোরে কশাঘাত করতে থাকে; কোমরের দুই পাশে আঘাত করে নিজেকে এদিকে ওদিকে আন্দোলিত করতে থাকে, উরুর মাংসল অংশ ভারে বা চাপে নেমে যাওয়া কিংবা হাড়গুলো মোচড়ানোর অনুভূতি টের না পাওয়া পর্যন্ত সে দাঁত কড়মড় করতে থাকে। সে দেখতে পাচ্ছে প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ তার শরীরকে টেনে আনছে যা ইতোমধ্যে এসে পড়েছে এবং পুরোপুরি তার উপর কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছে। শূন্যগর্ভ থেকে উৎসারিত বিপরীত কঠিন টানাপড়েনে পৃথিবীর আদিম শক্তিগুলো অদ্ভুত আর ভারি ছন্দের মতো দুলছে।

মুখে একটা হাসি নিয়েÑ ভয়ানক সে হাসিÑ সে মাথাটা হাতের ওপর ধরে রাখে আর প্রথম যখন পড়ে গিয়েছিল সেভাবে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে। তার ইচ্ছার সকল ঐশ্বর্যকে ইশারায় ডাকতে থাকে। তার দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা মুঠোতে ¯œায়ুর সকল উত্তেজনা, চাপ একত্রিত হয়। অত্যধিক খাটুনিতে সে পীড়িত বোধ করে। ধারাবাহিকভাবে শরীরের অঙ্গ প্রসারিত ও সংকুচিত হবার পর সে স্ফীত হতে থাকে। যখন সে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে ওঠে তখন অনিচ্ছাকৃত চোখের জল তার গ- বেয়ে নীচে নেমে আসে। অস্বাভাবিক তন্দ্রালু ভাবের একটি দুর্বহ ঘ্রাণ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কোমরের আবর্তন আর ঘূর্ণি তার শরীরকে প্রবলভাবে মোচড়াতে মোচড়াতে একটি অদ্ভুত আকারশূন্য রূপে পরিণত করে। তার মথিত পেটের স্ফীতির ওপরে হৃৎস্পন্দন আগের মাসগুলোতে তীব্র যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। অবশেষে রক্তের ভেতর ভিজে যন্ত্রণার মধ্যে শুয়ে থাকার প্রায় এক ঘণ্টা পর সে অনুভব করে একটা বাঁধনহারা উত্থাল তরঙ্গায়িত ভাব তাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। এরপর নীরব বিজয়ে মিলিয়ে যাওয়া হঠাৎ আতঙ্কজনিত কম্পনের ঝাঁকি মেরে একটা ক্ষীণ মৃদু কান্নার ভেতর দিয়ে শিশুটি বেরিয়ে এল। একটা নরম কুঞ্চিত কালো মাংসের পি-। একটা ছেলে শিশু আস্তে আস্তে নিশ^াস নিচ্ছে আর উষ্ণ জীবনে বারবার শিহরিত হচ্ছে।

বাচ্চাকে নিপুণ হাতে আঁকড়ে ধরে সে নিজেই শান্ত নিশ্চিত স্পর্শ দিয়ে দাই-এর দায়িত্ব পালন করলো যা কেবল বৃদ্ধা দাই কেসারি তার নিজ গ্রামে একাজে দক্ষতার জন্য সবার কাছে পরিচিত ছিল। তবে তার কাছে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে সন্তানকে তার সাথে যুক্ত করার যে নাড়ির সুতো তা সে গলায় বেষ্টিত রূপার হাসুলি-র অমসৃণ অংশ দিয়ে কাটল। যে ঝুড়িতে খাবার বহন করছিল সেটাকে খালি করল, রুটিগুলো পাখিদের মধ্যে উপহার হিসেবে বিলিয়ে দিল। খালি ঝুড়িতে নবজাত বাচ্চাকে নিয়ে রিজ এর দিকে পাথর ভাঙার জন্য পা দুটো একটু ফাঁক করে এগিয়ে গেল।

ঊষার অন্ধকার ধীরে ধীরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে আর ভোরের সূর্য আকাশকে উজ্জ্ব¦ল করে তুলেছে। পার্বতী যেখানে কাজ করতো সেখানে যাবার জন্য অগ্রসর হলে অন্যান্য পাথর ভাঙা কর্মীরা তাকে চিনতে পারেনি। সাধারণত মাথার পরিবর্তে হাতে ঝুড়িটা বহন করে নিয়ে যাওয়ার কারণে তাকে আজ অন্য রকম লাগছে। তথাপি পার্বতী এসে ক্রন্দনরত শিশুকে তাদের পায়ে শুইয়ে দিল। অবাক বিস্ময়ে তাদের নিশ^াস বন্ধ হয়ে আসে। ‘পার্বতী একটা ডাইনি’, এক বৃদ্ধা মহিলা মন্তব্য করে। একজন লোক বলে, ‘আরও নিশ্চিতভাবে বলা যায় একজন পিশাচ।’

‘নিশ্চিত তো হতেই হবে’, পার্বতীর স্বামী রামু বাচ্চাটাকে দেখার জন্য ঝুড়িটার দিকে আসতে আসতে মন্তব্য করে।

‘প্রসব যন্ত্রণার সময় দেবী আমাকে সাহায্য করেছে’, পার্বতী ফিস ফিস করে বলে, ‘মেঘের ভেতর আমি তাকে দেখেছি।’

অন্য মহিলারা তাদের কাজ ফেলে পার্বতীর কাছে দৌড়ে আসে। কারও মুখ খোলা, কারও ঠোঁটের ভেতর প্রার্থনা আর যাদুমন্ত্রের স্বর। ‘ওহে মেয়েরা, এসব প্যান প্যানানি বন্ধ কর’, রাস্তায় যেখানে আলকাতরা মাখানোর কাজ হচ্ছে সেখান থেকে বাচ্চাকে দেখার জন্য বেরিয়ে আসতে আসতে মহিলার শ^শুর চীৎকার করে বলতে থাকে। ‘সরে যাও’, অনেকটা রূঢ়স্বরে সে কথাটা বলে। ‘এতে অবাক হবার কিছু নেই যে এ ছোট্ট বাচ্চাটাকে পার্বতী নিজের চেষ্টাতেই পেয়েছে। সে একজন কৃষক নারী যার শক্ত কটি রয়েছে। আমাদের এলাকায় এ রকম আরও অনেক মহিলা আছে যারা নিজেদের চেষ্টাতেই সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে, আর এভাবেই আমাদের জাতকুল স্থায়ীভাবে বেঁচে আছে; আমাদের জমিগুলো শস্যের জন্য চাষ হয়ে থাকে…।’ এই বলে সে প্রশিক্ষিত হাতের মতো ঝুুড়ি থেকে ওঁয়া ওঁয়া করে ক্রন্দনরত শিশুটিকে কাঁধের উপর বসিয়ে দিল। রূঢ় কোমল কণ্ঠে শিশুকে সান্ত¡না দেয় ‘এসো, এসো আমার ক্ষুদ্র সিংহ, অদম্য মানব সন্তান। কেঁদো না… এসো, তেমন খারাপ লাগবে না, এসো বাছা। হয়তো তোমার আগমনে আমাদের ভাগ্য ফিরতে পারে…।’

মুল্ক্ রাজ আনন্দ্ : ভারতীয় লেখক মুল্ক্ রাজ আনন্দ্ ১২ ডিসেম্বর ১৯০৫ সালে পেশোয়ার-এ জন্মগ্রহণ করেন। যে কয়জন ভারতীয় ইংরেজিতে লেখালেখি করেন তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ভারতের নি¤œশ্রেণীর লোকদের জীবন, তাদের বঞ্চনা, বৈষম্য আর দারিদ্র নিয়ে তিনি সারাজীবন লেখালেখি করেছেন। উপন্যাস ও গল্পের জন্য তিনি সমধিক জনপ্রিয়। প্রথম উপন্যাস Untouchable  (১৯৩৫) এবং অপর উপন্যাস Coolie (১৯৩৬) জাতভেদ এবং নি¤œশ্রেণীর মানুষের জীবন নিয়ে রচনা যা তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে এনে দেয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস The village  (১৯৩৯),Across the Black Waters  (১৯৩৯) , The Sound and the Sickle (১৯৪২), আত্মজীবনীমূলক রচনা Private Life of an Indian Prince  (১৯৫৩)। গল্প লিখেছেন প্রচুর। সাহিত্য পত্রিকা Marg এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। কেমব্রিজ বিশ^বিদ্যালয়ে দর্শনের উপর পিএইচডি করেছেন, বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন পদ্মভূষণ সম্মাননা। ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ সালে ৯৮ বছর বয়সে ভারতের পুনায় মারা যান এই গুণী লেখক। ‘জন্ম’ গল্পটি মুল্ক্ রাজ আনন্দ্-এর The Greatest Short Stories  (২০১৩) বইয়ে অন্তর্ভুক্ত  The Birth  গল্পের বাংলা অনুবাদ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares