প্রবন্ধ- সমকালীন কবিতায় হেমন্ত : সায়মন স্বপন

প্রবন্ধ

সমকালীন কবিতায় হেমন্ত

সায়মন স্বপন

 

ষড়ঋতুর ঋতুরাজ বসন্ত হলেও অন্যতম লাজুক ঋতুহেমন্ত। কারণ এই ঋতুঘিরে বাংলাসাহিত্যে রচিত হয় নানাবিধ সাহিত্যকর্ম। গল্প, উপন্যাস, নাটক কিংবা কবিতা। কবিতার কবি আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে এই ঋতুতে। বাংলাসাহিত্য ঋদ্ধ হতে থাকে দিনে দিনে। কবিতা সেজে ওঠে নিজস্ব ঢঙয়ে। কবিতার রূপ-রস-গন্ধ ছড়িয়ে যায় নবান্নের সুরভির মতো। শিউলি, কামিনী, মল্লিকার সুরভিতে সুরভিত হয় চারদিক। অগ্রহায়ণে পায়েশের শুভ্রতায় প্রাণ ফিরে পায় জীর্ণতা। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস নিয়েই হেমন্তের যাত্রা শুরু। প্রচলিত তথ্যমতে, ‘কৃত্তিকা’ ও ‘আর্দ্রা’ নামের দুটি তারার নামে ‘কার্তিক’ ও ‘অগ্রহায়ণ’ নামের উৎপত্তি। এখানে ‘অগ্র’ অর্থ ধান এবং ‘হায়ণ’ অর্থ কাটার মৌসুম। এজন্য অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন স¤্রাট আকবর। নবান্ন উৎসব শুরু হয় এ ঋতুতে। নবান্নকে নিয়ে হরেকরকম সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। বাঙালির সংস্কৃতিতে নবান্ন একটি অন্যতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত যা আমাদেরকে নতুনভাবে শিখতেও সাহায্য করে। নবান্নকে নিয়ে কবিতায় উঠে এসেছে নানাবিধ প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ। কিষাণীর উঠোনের ধুলোর গন্ধ কবিতার শরীরের সাথে মিশে যায় নিপুণভাবে। ফসলি মাঠের মেঘমালা আর শীতের হাওয়া দোল দেয় আমাদের মনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নৈবদ্যে স্তব্ধতা কবিতায় লিখেছেন :

‘আজি হেমন্তের শান্তি ব্যাপ্ত চরাচরে

জনশূণ্য ক্ষেত্র মাঝে দীপ্ত দ্বিপ্রহরে

শব্দহীন গতিহীন স্তব্ধতা উদার

রয়েছে পড়িয়া শ্রান্ত দিগন্ত প্রসার

স্বর্ণশ্যাম ডানা মেলি।’

 

এখানে কবি হেমন্তের বিচিত্র স্তব্ধ রূপ তুলে ধরেছেন। হেমন্তের পথে পথে হেঁটে কবি যে রংরেখা এঁকেছেন তা সত্যিই কল্পনার বাইরে। কেননা, হেমন্তের মিষ্টি রোদ ডানা মেলে উড়ে যায় শীতের সীমান্তে। কিষাণের গোলাভরা ধানে বুক ভরে যায় অন্যরকম এক সুখে। কবি সুফিয়া কামাল হেমন্ত-বন্দনায় লিখেছেন :

‘এই তো হেমন্ত দিন, দিল নব ফসল সম্ভার

অঙ্গনে অঙ্গনে ভরি, এই রূপ আমার বাংলার

রিক্তের অঞ্চল ভরি, হাসি ভরি, ক্ষুধার্তের মুখে

ভবিষ্যৎ সুখের আশা ভরি দিল কৃষকের বুকে

শিশির সিঞ্চনে সিক্ত দ্বারা বুকে তৃণাঞ্চল জাগে

সোনালী ধানের ক্ষেতে ঈষৎ শীতার্ত হাওয়া লাগে।’

কবিতায় হেমন্তকালীন ফসলের রূপ বর্ণনা করা হয়েছে ভিন্ন মাত্রায়। শিশিরভেজা ফসলের রূপ অনবদ্য এক অধ্যায়ের সূচনা তৈরি করেছে তা কবিতায় ফুটে উঠেছে একান্তভাবে। কবি জীবনানন্দ দাশ অবসরের গান কবিতায় বলেছেন :

‘চারিদিকে ন্যুয়ে পড়ে ফলেছে ফসল

তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল।’

 

কবির কবিতায় স্পষ্ট বোঝা যায়, শিশিরভেজা ফসল কখনও কখনও ফলবতী নারীর ভূমিকাও পালন করে। নারী যেমন সুন্দরের আখ্যান, তেমনি হেমন্তের শিশিরভেজা ফসলও ঋতুমতীর আখ্যান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সমকালীন কবিতায় দেখা যায়; কবি, মানুষের মুখের কথাগুলো তুলে ধরেছেন অন্যভাবে। কবিতায় মূলকথা সরাসরি প্রকাশ না করে একটু-আধটু রূপক-উপমার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে কবিতায় যেমনি দর্শনক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সাথে সাথে সহজবোধ্য কিংবা দুর্বোধ্যতার বিষয়টিও উঠে এসেছে পাঠকমহলে। আলোচনা-সমালোচনা কিংবা মতামত প্রকাশের মাধ্যমও তৈরি হয়েছে যথার্থই। মোস্তাক আহমাদ দীন তার অঘ্রাণী কবিতায় উল্লেখ করেছেন এভাবে :

‘অতনু ঘাসের ঘ্রাণ ফেলে রেখে

আমি আজ অঘ্রাণের খোঁজে।

ওই মাঠ কতটা ভিজেছে দেখো

ধানের বৃষ্টিতে।

সোনার খেতের পাশে

কতটা পয়মন্ত হয় দেখি

অঘ্রাণি, তোমার শরীর।’

কবি এখানে অঘ্রাণের যে রসায়ন তৈরি করেছেন তা বোঝা যায় অনায়াসে। প্রাকৃতিক রূপ ফুটে উঠলেও দর্শনের যে ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল তা ততখানি তৈরি হতে পারেনি। সেদিক থেকে হেমন্ত নিয়ে শিহাব সরকার দর্শনের ক্ষেত্রটা তৈরি করতে চেষ্টা করেছেন তার ‘ম্যানহাটানের সোনারোদে’ কবিতায় :

‘জীবনানন্দ বহুদিন থেকে ম্যানহাটানে

জামাইকায় একা-ঘরে শহীদ কাদরী তা জানে

ক্লিন্ট বুথ সিলি শিকাগোর গ্রন্থাগারে স্মৃতিময়:

কখন সব নদী হবে ধানসিঁড়ি, হাডসন রোগা হবে?

বরিশাল ফুটে থাকে বারান্দার টবে।

উত্তর হাওয়ায় তুষারকণারা ভাসে, বৃদ্ধ চমকায়

শহরের পার্কে স্কোয়ারে উইকএন্ড উছলায়

সাদা কালো বাদামি পরিরা রৌদ্রহরষে ওড়ে

যোজন যোজন দূরে ধানকাটা মাঠে নাড়া পোড়ে।’

 

এই কবিতায় দূরবর্তী দৃশ্যকল্পকে নিকটবর্তী করার প্রকাশভঙ্গি খেয়াল করা যায়। কেননা, চিত্রকল্পের সাথে চিত্রকল্পের যে মেলবন্ধন হওয়া উচিত তা এই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। আবার কবিতার রসায়নে কত যে সহজ হয়ে ওঠা যায়, সেটি রাশেদুজ্জামান হেমন্ত কবিতায় এভাবে তুলে ধরেছেন :

‘ঘুমের লেটারবক্সে চাঁদ যে চিঠিগুলো রেখে যায় রোজ,

তাতে কী লেখা?

জ্যোৎ¯œা যখন বনের কিনার ধরে উঠে আসতে থাকে,

হরিণের জিব শুকিয়ে কাঠ হয় কেন? তার ডোরাকাটা রূপে?

ধানের গুচ্ছের ভেতরে ফলে ওঠা শিশুদের গান ও রক্ত

কাকে সন্দেহ করে?

চালতা ও ছাতিম ফুলের মধ্য দিয়ে যেতে পারে যে আলো,

সে কি আমাদের হেমন্তের বর্ণমালাগুলো শেখাতে চাইবে?

মেঠো ইঁদুরের গর্তে জমানো শস্যের গায়ে কার নাম লেখা?

ফসল ডুিবয়ে দিয়ে ভিনদেশি যুবকের শব ভাসিয়ে আনে

কেন নদী? স্বজনেরা কই তার? মা-কি ছিল?

নিরন্তর কুয়াশার উল বুনতে বুনতে চাঁদ কোন হেমন্তের

দিকে ফেরে? সঞ্চয়ের? না-কি সংহারের?’

 

উপমাধর্মী উপরোক্ত দুটো কবিতায় সহজ কথামালার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে হেমন্তকে। কবিতায় ফুটে উঠেছে মনস্তাত্ত্বিক দিক এবং অলংকারের এক নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস। কবিতার রূপ-রস-গন্ধে পাঠককে আন্দোলিত করে ভাবনার উদয় ঘটাতে পারলে কবি তার কবিতায় সার্থক হয়ে ওঠে।

হেমন্তকে কবি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণে দেখেছেন। ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে কবিতায়। কবিতায় উঠে এসেছে শিশির¯œাত ভোরবেলা, মিষ্টি সোনারোদ, ¯িœগ্ধ দুপুর, মেঘমুক্ত বিকেল, কুয়াশায় ভিজে যাওয়া পাতার সংসার নিয়ে সন্ধ্যা আর মুখরিত রাত। সেই সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয় পিঠাপুলির উৎসব। বাংলার এসব প্রথা দিনে দিনে পরিবর্তিত হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণে, পরিবর্তন এসেছে বাংলা সাহিত্যের কবিতায়ও। যেমন নাসির আহমেদ তার ‘এই দৃশ্য শুধু সম্ভাবনা’ কবিতায় উল্লেখ করেছেন :

‘ওই যে সবুজ ছুঁয়ে সন্ধ্যা নামে দেখোÑ আসলে সবুজ নয়

এ হলো কবির কল্পনার বনভূমি এবং সন্ধ্যার মতো

কুয়াশার গাঢ় কিছু চিত্রকল্প, যার প্রান্ত ছুঁয়ে ফুটে আছে

কমলালেবুর মতো লাল সূর্য, চিত্রকল্পে সন্ধ্যা মনে হয়।’

 

পূর্ববর্তী বিভিন্ন দশকের কবিতা এবং সমকালীন কবিতার মাঝে অনেক পরিবর্তন তৈরি হয়েছে। সময়ের দাবি পূরণ করতে জ্ঞান কিংবা দক্ষতার কৌশলও পাল্টে গেছে। উপমাভিত্তিক কবিতার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ তৈরি হচ্ছে পাঠকমহলে। ফলে কবিতা সমালোচনার ক্ষেত্রে যে সকল মতামত উঠে আসছে তা অনেকাংশে কবির দৃষ্টিকোণের সাথে না-ও মিলতে পারে। তার কারণ হলো, কবি উপমা যে অর্থে প্রয়োগ করছেন; সমালোচক, আলোচক কিংবা পাঠক ঐ অর্থ হয়তো-বা ধরতে পারছেন না। তবে এটুকু সত্যি যে, সমালোচক-আলোচক কিংবা পাঠক মূল বিষয়বস্তুর সাথে একমত হয়েও থাকেন আবার একমত পোষণ না-ও করতে পারেন। সুতরাং কখনও কখনও কবিতা হয়ে ওঠে দুর্বোধ্য, সহজতার অভাব দেখা দেয়। তেমনি গ্রামীণ একটি প্রবাদ আছে, ‘ঠেলা যায় হাত্তিকে, ঠেলা যায় না কার্তিককে।’ কারণ এই সময় অধিকাংশ কৃষকের ঘরে ফসলের মজুদ কমে আসে, ফলে শুরু হয় খাদ্যের অভাব। তাই কার্তিক মাসকেই বরাবরই গ্রামের সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে থাকে। অভাবকে মোকাবেলা করে চলতে থাকে নতুন ফসল তোলার প্রস্তুতি, সেক্ষেত্রে হেমন্তের নতুন ফসল উঠলে পেছনের দুঃখময় দিনগুলোর কষ্ট মুছে যায় তাদের অজান্তেই। শুরু হয় নতুন করে খাদ্য মজুদের এক মহা সমারোহ। কবি তার কবিতায় তুলে আনেন এইসব দিনরাত্রির উপাখ্যান। সুজাউদ্দিন কায়সার ‘নিরাপদ উজ্জ্বলতা’ কবিতায় বলেছেন :

‘তোমার বহিরঙ্গে আজ তবু কেন এত অহেতুক

রূঢ়তা? কী রকম বিষমাখা এ রকম প্রতিহিংসা?

স্মৃতি-বিস্মৃতির পরিক্রমা মনে হয়

আরো ভুলে যাবে ভাবনার বিনিময়

অফুরান চিরায়ত এসব বর্ণময় বস্তুময় তুমি

স্বরূপে অবহিত জীবন কেবল সন্ধানে চাও

প্রক্ষালিত হতেÑ

নিকটবর্তী যা জেনেছ তাও জানো অনুচ্চ

প্রকৃত সুস্থতা নিয়ে

নিরাপদ উজ্জ্বলতা জড়াবেÑ অনুভূতি’

এভাবে কবিতার মাধ্যমে ফুটে উঠছে আমাদের সমকালীন সভ্যতার সাদা কালো কষ্ট। আধুনিক কবিতায় বিষয়বস্তু ঋদ্ধ করতে কবি হয়তো-বা রূপকের ব্যবহার করছেন,রূপকের ব্যবহার যথার্থই প্রয়োগ করছেন। তবে সবক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা হচ্ছে কি-না তা ভেবে দেখার বিষয়।

হেমন্তে দেখা মেলে ফসলি মাঠের এক প্রাণবন্ত উজ্জ্বলতা। এই প্রাণবন্ত জীবন-জীবিকা ফুটে উঠেছে কবিতার বিভিন্ন খেরো খাতায়। বলা হয় হেমন্তের ষোল আনা কবি জীবনানন্দ দাশ। তার কবিতায় উঠে এসেছে সৌন্দর্যের কারুকার্য। তবে হেমন্ত-ভাবনায় শামসুর রাহমান ছিলেন জীবনানন্দীয় চিত্রকল্পের বিপরীতে। আবার আল মাহমুদের কবিতায় হেমন্ত ধরা দিয়েছে মানুষের প্রেমে-কামে প্রকৃতির নবলোকে। দেখা যায় পূর্ণাঙ্গরূপ আল মাহমুদের কবিতায় । তিনি অঘ্রাণ কবিতায় লিখেছেন :

‘আজ এই হেমন্তের জলদ বাতাসে

আমার হৃদয় মন মানুষীর গন্ধে ভরে গেছে।

রমণীর প্রেম আর লবণসৌরভে…’

 

অন্যদিকে হেমন্তকে ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরা সম্ভব তা আবিদ আজাদ তার ‘হেমন্ত বিষয়ক কবিতার খসড়া’ কবিতায় প্রমাণ করেছেন :

‘জানালার দুমড়ানো পরদা সরিয়ে কে যেন

নিষ্প্রভ স্বরে ডেকে ওঠে :

Ñ হেমন্ত এসেছে?

Ñ হেমন্ত? কে তিনি? কার কথা বলেছেন সাহেব? কে সে?

ছেলে ছোকড়া কেউ?…

নাকি কোনো নেহাত ছাপোষা ভদ্রলোক?

কার কথা বলছেন সাহেব শুনি?

কোন গলিতে থাকেন তিনি?

 

সমকালীন লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও বেশি প্রখর তা তাদের কবিতায় ধরা পড়ে। তাদের চিন্তা-চেতনার সাথে সাধারণ জীবন-জীবিকা একাকারভাবে মিশে যায়। তেমনি একটি কবিতার কথা তুলে ধরা যায়। জাকির আবু জাফর তার ‘প্রিয় হেমন্ত আমার’ কবিতায় বলেছেন :

‘সুদীর্ঘ আঁধার ভেঙে জেগে ওঠে আমার সুদিন

আমার আশ্চর্য আনন্দের ভোর

কিছুটা শিশির মাখা কিছুটা কুয়াশা হিম

বাকিটা কোমল আর্দ্রতায় অবনত নীলের উঠোনে

কেউ যেনো লিখে গেছেÑহেমন্তের নাম

হেমন্ত আমার হেমন্ত।’

প্রকৃতির সাথে মানুষের অস্তিত্বের সম্পর্ক নিবিড়ভাবে মিশে আছে আদিকাল থেকেই। প্রকৃতি ব্যতীত মানুষ কল্পনা করা অসম্ভব। প্রকৃতির উপর এক বিশ্বস্ত অভিধানের পাতা আগেই মেলে গেছে। প্রকৃতি ও মানবজীবনের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে জীবনানন্দ দাশ তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’-এ নিপুণভাবে হেমন্তের ছবি এঁকেছেন :

‘সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে

ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল

পৃথিবীর সব রং মুছে গেলে পা-ুলিপি করে আয়োজন

তখন গল্পের তরে জোনাকির রং ঝিলিমিল

সব পাখি ঘরে আসে

সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন

থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।’

 

কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ কিংবা লাজুকতার চিত্রকল্প। তাই জীবনানন্দ দাশ ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় সাহসী ভূমিকা দেখিয়েছেন :

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।’

 

সুতরাং সেকাল আর একাল বিবেচনা করলে হেমন্ত-বিষয়ক কবিতা বেশ খোরাক যুগিয়েছে সাহিত্যপ্রেমীদের। ঋতু ছাড়া কোনো কবিই প্রকৃতির সুস্থ বন্দনা করতে পারে না। সমকালীন কবিতায় কবি বেশ সচেতনভাবে তাদের কাব্যশৈলী দেখিয়েছেন নানাবিধ ভূমিকায়। হেমন্ত-বন্দনার জন্য কবিকে হাঁটতে হয়েছে বহুক্রোশ পথ, অপেক্ষা করতে হয়েছে সময়ের পর সময়। চিত্রকল্প কিংবা দৃশ্যকল্পের অবতারণাও হয়েছে হাজারো দৃশ্যায়নের পর। তারপর, লাউয়ের ডগার মতো লিকলিকে শরীরে কবিতা উঠে এসেছে কবির খেরো খাতায়।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares