প্রবন্ধ- মুক্তিযুদ্ধের অগ্রন্থিত অধ্যায় চুয়াডাঙ্গার লালব্রিজ গণহত্যা : ইমরান মাহফুজ

প্রবন্ধ

মুক্তিযুদ্ধের অগ্রন্থিত অধ্যায়

চুয়াডাঙ্গার লালব্রিজ গণহত্যা

ইমরান মাহফুজ

 

একাত্তরের নয় মাস  পাকিস্তানি ঘাতকদের এক জল্লাদখানা ও বধ্যভূমি আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে। আলমডাঙ্গা থানার রেলব্রিজের কাছে যুদ্ধকালীন সময় পাক ঘাতকরা সকল ডাউন ট্রেন থামিয়ে স্বাধীনতাকামী প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করে রেলব্রিজের পাশে ওয়াপদা ভবনের বাউন্ডারির মধ্যে ও পার্শ্ববর্তী দুটি বধ্যভূমিতে পুঁতে লাখে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ও বধ্যভূমির স্থান চিহ্নিত করেছেন আলমডাঙ্গা শহরের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলী এবং গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী বধ্যভূমি পার্শ্ববর্তী কামালপুরের ৭০ বছরের কৃষক আবুল হোসেন। আবুল হোসেন লেখককে জানান, তাঁর জমিতেই প্রায় একহাজার নারী-পুরুষকে খানসেনারা হত্যা করে পুঁতে রেখেছে। আলী আজগর ও ছকো আলীসহ অনেকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের পর পাক হানাদারদের নৃশংসতা খুঁজতে গিয়ে ’৭১-এর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রেলব্রিজের কাছের ওই বধ্যভূমি খনন করে ৪শ’ মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় তুলে ছবি তুলে রাখা হয়েছিল। তবে ওখানে আরও প্রায় এক দেড় হাজার দেহাবশেষ রয়েছে। প্রচ- গ্যাসের কারণে  আর না তুলে উত্তোলিত দেহাবশেষ ওখানে পুঁতে রাখা হয়েছে।

পাকিস্তানি হানাদারদের জল্লাদখানা মিরপুরের বধ্যভূমি গেলে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের মাথার খুলি ও হাড়গোড় খুলে  মুক্তিযদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে আলমডাঙ্গায় পাক হানাদারদের  জল্লাদখানা এবং তার পাশের বধ্যভূমি খনন করলে স্বাধীনতাকামী প্রায় দু’হাজার শহীদের কঙ্কাল উদ্ধার হবে। এতে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক ঐতিহাসিক গণকবরের সন্ধান মিলবে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বর্বরতার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, যুদ্ধকালীন সময়ে আলমডাঙ্গা রেলব্রিজের পাশের মাছ হাটের কাছে পাক হানাদাররা ডাউন ট্রেন থামিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষকে ট্রেন থেকে নামিয়ে পাশেই ওয়াপদার শেডের মধ্যে আটক রেখে সুন্দরী নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত। পরে তাদের হত্যা করে বধ্যভূমিতে পুঁতে রাখত। পুরুষদের দিয়ে বধ্যভূমির গর্ত খনন শেষে হত্যা করে তার  মধ্যে ফেলে দিত।

এই গণহত্যার প্রধান হোতা ছিল মেজর রানা, মেজর আজম খান, ক্যাপ্টেন নকভি এবং হাবিলদার এনায়েত খান। আবুল হোসেন (কৃষক) জানান, বাঁশের আগা সূচালো করে মানুষেকে খুঁচিয়ে হত্যা করত হাবিলদার এনায়েত। আবুল হোসেনের সামনেই প্রায় ২০জনকে হত্যা করেছে। এই ব্রিজের উত্তর পাশের একটি বাগানেও রয়েছে আরও একটি বধ্যভূমি, যেখানে আরও কয়েকশ মানুষকে হত্যা করে পুঁতে রাখা হয়েছে। বধ্যভূমির খনন কাজ শুরু করলে আলমডাঙ্গাতে পাক হানাদারদের বর্বরতার আরেকটি প্রমাণ পাওয়া যাবে। তাছাড়া ১২ নভেম্বর এই অঞ্চল মুক্ত হয়।

 

ঐতিহাসিক আলমডাঙ্গা

আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার সর্ব-উত্তরের উপজেলা। কুমার নদীবিধৌত, মরমি কবি খোদা বক্স শাহর স্মৃতি-বিজড়িত আলমডাঙ্গা। বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার বাদল রশিদের জন্মভূমি। গ্রিক ঐতিহাসিকদের মতে এ এলাকাতেই বিখ্যাত গঙ্গারিডাই রাজ্য অবস্থিত ছিল। গাঙ্গেয় নামক একটি শহরও এ এলাকায় ছিল বলে শোনা যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে এ এলাকাটি বেশ কিছু আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ফরায়েজি আন্দোলন (১৮৩৮-৪৭), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০), খেলাফত আন্দোলন (১৯২০), স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৬), অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), সত্যাগ্রহ আন্দোলন (১৯২০-৪০) ইত্যাদি আন্দোলনে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে এই অঞ্চল। নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন সূচনা হয় কুমার নদীর দুই তীর থেকে।

যুদ্ধকালীন গণহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে নাটুদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে তিনটি গণকবর, জীবননগরে সীমান্তবর্তী ধোপাখালি গ্রামে এবং আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ খালের সেচ প্রকল্পের তীরবর্তী স্থানে। যুদ্ধের স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ।

বধ্যভূমির অবস্থান চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভায়। এটি উপজেলা শহরের পার্শ্বে আলমডাঙ্গা রেলব্রিজ, যা আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশ

সে সময়ে রাজশাহী, নাটোর, রংপুর, কুষ্টিয়ার লোকজন যাতায়াত করতো চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা হয়ে। আলমডাঙ্গার স্টিল ব্রিজটি ছিল বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। স্টিল ব্রিজসংলগ্ন এলাকাটিই বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। সে-সময় স্টিল ব্রিজসংলগ্ন বধ্যভূমির জায়গাটি ছিল সরকারের দখলে। সেচ প্রকল্পের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসাররা রাতযাপন করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনী আলমডাঙ্গা দখলের পর এ জায়গাটিসহ আশপাশের স্থানকে বেছে নেয় বধ্যভূমি হিসেবে। স্থানটির পূর্বে এবং পশ্চিমে কামালপুর মাঠ, উত্তরে গঙ্গা-কপোতাক্ষ খাল ও দক্ষিণে ঐতিহাসিক লালব্রিজ। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সেচ প্রকল্পের ক্যানেল। জনসাধারণ চলাচল কম ছিল। রাস্তার দুইধারে চাষের জমিন। আশপাশে বাড়িঘর খুব একটা ছিল না। বিরাট সবুজ মাঠের পরেই আলমডাঙ্গা বাজার।

গণহত্যাÑ নির্যাতনের পটভূমি

বাংলাদেশে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে মানুষ একটা রেফারেন্ডামের মতো মনে করছিল। সাধারণ মানুষ এটাকে নিয়েছে গণভোট হিসেবে। আর গণভোটটা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছয় দফার ওপরে। কারণ ওটাতেই ছিল বাঙালির বাঁচা-মরার প্রশ্ন। তাই এই গণভোটের রায়টা জনসাধারণ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগকে দেয়। প্রার্থী সেখানে বিবেচনা ছিল না। সারাদেশের মতো আলমডাঙ্গাতেও বিপুল ভোটে জয়ী হন তৎকালীন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার বাদল রশিদ (বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য), তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শাফায়েত উল ইসলাম।

নির্বাচন হলেও সুস্থভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো না। অন্যদিকে পাকিস্তানের হেডকোয়ার্টার ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের পিন্ডিতে। ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে। সেটা ছিল ঢাকায়। ভুট্টো ঢাকায় এলেন না। ইয়াহিয়া খান তারিখ পিছিয়ে দেয়। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয় জনগণ। মার্চের দিকে এগিয়ে আসে সময়।

১ মার্চ বেতার ভাষণে ইয়াহিয়া খান পূর্বঘোষিত ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে চুয়াডাঙ্গায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই সাথে আলমডাঙ্গাসহ সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। ঐদিন বড়বাজারে কন্ট্রোলরুম চালু করা হয়। সেখান থেকে দিনরাত ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবর মাইকযোগে প্রচার করা হতো। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ৩ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। পাকিস্তানি সামরিক চক্রের সকল চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে জনতা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখে। ৫ মার্চ টাউন ফুটবল মাঠে জনসভার শুরুতে ছাত্রকর্মী আবদুল আজিম জোয়ারদার শান্তি, দাউদ হোসেন জোয়ারদার পিপু, মতিয়ার রহমান মালিক ফিট্টু, এ,ডি মালিক রবি, মাহমুদ হোসেন জোয়ারদার মুক্তা প্রমুখ পাকিস্তানের পতাকা ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভস্মীভূত করেন। ভস্মীভূত পতাকার অংশবিশেষ পার্শ্ববর্তী টেলিফোনের পোল-এ টাঙিয়ে রাখা হয়।

৬ মার্চ সন্ধায় চুয়াডাঙ্গার ই.পি.আর. ৪নং উইং-এর অধিনায়ক মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে অ্যাডভোকেট ইউনুস আলীর গোপন বৈঠক হয়। এছাড়াও মার্চ মাসেই চুয়াডাঙ্গার ই.পি.আর বাহিনীর বাঙালি সৈনিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে রেখেছিলেন, তিনি অন্য কোনো মতকে পাত্তা দেবেন না। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। রেডিওতে সে ভাষণ শুনতে না পেয়ে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরদিন রেডিওতে সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে চুয়াডাঙ্গার ছাত্র-জনতা আরও সংগ্রামী হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কথাবার্তায়, আচার-আচরণে সংঘাতের পূর্বাভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার সর্বত্র সংগ্রামী ছাত্র-জনতা ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রতিরোধ প্রস্তুতি শুরু হয়। আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা, দর্শনার রাজনৈতিক নেতা, সংগ্রামী ছাত্র-জনতা প্রতিরোধের প্রস্তুতি শুরু করেন।

এই খবর দৈনিক পূর্বদেশের ২৩ মার্চ ১৯৭১ ছাপা হয় এভাবেÑশেখ মুজিবের আহ্বানে ৮ মার্চ থেকে চুয়াডাঙ্গায় শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ আন্দোলন চলছে। শহরের অফিস-আদালত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সংগ্রাম কমিটি কন্ট্রোল রুম খুলছে। আন্দোলন বিষয়ে খবরাখবরের জন্য ৫৬ নং টেলিফোনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আলমডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমে যায়। চলে কঠোর মনোভাবে দমন করার চেষ্টা। অন্যদিকে পাকিস্তান বাহিনী ছিল কুষ্টিয়াকে কাবু করার পর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীকে হাতে নেওয়ার কূটকৌশলে সদাব্যস্ত। সেই কৌশলে আলমডাঙ্গা ওয়াপদা ডিভিশনের বাংলোকে পাকিস্তান সেনা অফিসাররা ক্যাম্প হিসেবে দখল করে নেয়। একে একে শুরু করে তা-বলীলা। অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয় এ জনপদের মানুষসহ অন্য এলাকা থেকে এ-এলাকা দিয়ে যাতায়াতের সময় ধরা পড়ে যায় পশুদের হাতে। অন্যদিকে এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া পাকিস্তান বাহিনী দখলদারিত্বের মনোভাব সম্পূর্ণ করতে পারছিল না। এ জেলাকে বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ঘোষণা করে সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করলে এ অঞ্চলটি পাকিস্তানি বাহিনীর টার্গেট পয়েন্টে পরিণত হয়।

ফলে এ-অঞ্চলে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুহুর্মুহু প্রতিরোধ ও সম্মুখযুদ্ধ লেগেই থাকত। তাই শুরু থেকেই তারা আলমডাঙ্গা কুমার নদের ওপর নির্মিত লালব্রিজ খ্যাত লোহার ব্রিজের দু’পাশে ক্যাম্প স্থাপন করে। সেই সাথে আলমডাঙ্গায় রাজাকার আলবদর ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিমর্ম অত্যাচার নিদারুণভাবে শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে এখানকার জোয়ানরাও ছিল সচেতন। আলমডাঙ্গার নেতৃস্থানীয় মুুক্তিযোদ্ধা বাদু মাজু’র শাফায়েত উল-ইসলাম, কালিদাসপুরের মঈন উদ্দিন ও সুলতান জোয়ার্দ্দার এবং আলমডাঙ্গা শহরের অ্যাড. আব্দুর রশিদ মোল্লা, আব্দুল হান্নান ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এম সবেদ আলী এখনও উল্লিখিত বর্ণনার জীবন্ত সাক্ষী। প্রতিদিনের কাজই ছিল তাদের পরিকল্পিত। বিষয়টি একটু পিছন থেকে বর্ণনা করা যাকÑ

কুষ্টিয়ার উইং কমান্ডার বাঙালি আবু ওসমান চৌধুরী ২৬ মার্চ অফিসের কাজে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছিলেন। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এদিকে সামরিক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি ইপিআর সৈন্যসহ পুলিশ, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা একতাবদ্ধ হয়ে ওসমান চৌধুরীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌঁছেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, পুলিশ কর্মকর্তা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য দৃঢ়শপথ নেয়া হয়। মেজর ওসমান বেলা দুটার পর সদর দপ্তরে হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ইপিআর বাহিনী সম্পূর্ণ সামরিক কায়দায় পতাকাকে অভিবাদন জানায়। হাজার হাজার মানুষ ঢাল, সড়কি, বল্লম নিয়েই পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নামার জন্য প্রস্তুত ছিল। মেজর ওসমান জনতার এ সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগান। তিনি কুষ্টিয়াকে মুক্ত করার জন্য জনতাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা, যশোর রোড, দামুড়হুদা- চুয়াডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেরিকেডের ব্যবস্থা করেন। যেন যশোর সেনানিবাস, থেকে পাকিস্তানি বাহিনী কুিষ্টয়ায় কোনো সাহায্য করতে না পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ মার্চ ভোর চারটায় তিনদিক থেকে একই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করা হয়। ‘জয় বাংলা’ গগণবিদারী স্লোগানের ফলে পাকিস্তান বাহিনী দিশেহারা হয়ে পুলিশ লাইন ও ওয়ারলেস স্টেশন ছেড়ে পালাতে গিয়ে অনেকেই নিহত হয়। ১ এপ্রিল কুষ্টিয়া মুক্ত হয়। কুষ্টিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্য ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৬ এপ্রিলের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে আকাশ ও স্থলপথে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র আনতে থাকে। পাকিস্তান বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা কুষ্টিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। যতদূর জানা যায়Ñ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কুষ্টিয়া শহর দখল ও ঢাকার গণহত্যার খবর খুব দ্রুত কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা মহকুমা আলমডাঙ্গাসহ গ্রাম পর্যায়েও পৌঁছে যায়।

যশোর সেক্টরের নিয়ন্ত্রণাধীন ৪নং ইপিআর উইং-এর সদর দপ্তর ছিল চুয়াডাঙ্গা। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃস্থানীয় সংগঠকসহ সকলেই ধারণা করেছিলেন যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে। সাধারণ জনগণ যেন হতাশ হয়ে না পড়ে, সেজন্য তাদেরকে উদ্দীপ্ত রাখা, মুক্তিবাহিনীকে শেল্টার তৈরিতে সাহায্য করা, দেশের ভেতরে থেকে যাওয়া; যুব তরুণদের দেশের ভেতরেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মুজিববাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২৬ জুন পাকিস্তানি বাহিনীর অবাধ রেল-যোগাযোগ বন্ধ করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা আলমডাঙ্গা রেলস্টশনের দক্ষিণে ছোট ব্রিজটি বিস্ফোরকের সাহায্যে উড়িয়ে দেন। এতে রেল-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা পুলটি উড়াতে ২৫ পাউন্ড পি.কে.-১ বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করেন। পুল উড়ানোর সময় আলমডাঙ্গা ও  পাশ্ববর্তী এলাকা  বিকট শব্দে কেঁপে উঠে।

এ-সম্পর্কে আবদুল কুদ্দুস স্মৃতিচারণে লিখেছেন : ‘হান্নান আমি টগরসহ ১০-১২ জন বাজিতপুর ব্রিজের পাশে পজিশন নিই। ক্যানেল দিয়ে পাক সেনারা সারিবদ্ধভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছে। আমরা প্রস্তুত হয়ে আছি। টগর ভাই এলএমজি চালাচ্ছে। ব্রাশফায়ারে বেশ কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছিল। ওদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ শুরু করলে হান্নানের নির্দেশে সবাই পিছু হটি। কিন্তু টগর ভাইয়ের এলএমজি জাম করে, সে অস্ত্র গুছিয়ে আনতে যেয়ে পাক সেনাদের আয়ত্তে পড়ে যায়। পাক সেনাদের গুলিতে টগর ভাইয়ের মাথার খুলি উড়ে যায়। তারপর তার দেহ ঝাঁঝরা করে দেয়। আমরা সবাই পালাতে সক্ষম হলাম। পিছনে পড়ে রইল একই সাথে ট্রেনিং নেয়া বড় ভাই শহীদ টগরের লাশ। সে বলে, রাজাকার, আলবদর ও পাক সেনারা শহীদ টগরের লাশ গরুর গাড়ির সাথে বেঁধে আলমডাঙ্গার রাস্তায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। সেদিন ১৪ আগস্ট। ওরা এতেও ক্ষান্ত হয়নি। আলমডাঙ্গা চারতলার মোড়ে একটি টেলিফোনের পোলের সাথে দু’পা উপরে বেঁধে মাথা নিচু করে প্রায় ২ দিন ঐভাবে রেখে দিয়েছিল। আলমডাঙ্গার পিস কমিটির চেয়ারম্যান ইউসুফ মিয়া, মোল্লা পরিবার, ইব্রাহিম কসাই ও বহু রাজাকার ঐ লাশ নিয়ে আনন্দ-মিছিল করেছে বলে শুনেছিলাম। তার এই করুণ কাহিনি সকল মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে তীব্র প্রতিহিংসা জাগিয়ে তোলে। সবাই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এর প্রতিশোধ আমরা নেব।’

 

গণহত্যা-নির্যাতনের বিবরণ

আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বে ব্রিজটির পশ্চিম প্রান্তে ছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ গেইট কিপারশেড ছিল নারী নির্যাতনের স্থান। ব্রিজটির উপর গাড়ি থামিয়ে নিয়মিত নারী, শিশু যুবক যুবতীদের নামিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে শেডের আশপাশে বিরাট গর্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হতো। এভাবে জুন থেকে ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ হত্যা করে এখানে চাপা দেওয়া হয়।

জানা যায়, ওয়াপদা ডিভিশনের বাংলোতে শিক্ষিতা সুন্দরী মহিলাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে ঐ ক্যাম্পে সরবরাহ করা হতো। পাকিস্তান অফিসারদের নির্যাতন চলতো রাতের পর রাত। ২-৩ দিন পর ঐ সব মহিলাদের পুনরায় ফেরৎ পাঠানো হতো রেল ব্রিজের ক্যাম্পে হত্যা ও নির্যাতন সেলে। সাধারণ সৈনিকরা নির্যাতন করে ও পরে তাদের হত্যা করে গর্তে মাটি চাপা দিত। কত চিৎকার কত রোদনÑ তা দেখার বা শোনার কেউ ছিল না। ‘৯ মাসে হানাদার পাকসৈন্য ও তাদের দেশীয় দোসররা একদিকে এলাকার স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার লোকজনদেরকে ধরে এনে স্ব-স্ব বাহিনীর ক্যাম্পে আটকে রেখে অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন এবং যুবতীদের সম্ভ্রমহানি করে হত্যা শেষে রেলওয়ের লাল ব্রিজসংলগ্ন ঐ ওয়াপদা এসও কোয়ার্টার চত্বর ও আশপাশের জায়গায় মৃতদের মাটি চাপা দিয়ে রাখত। অপরদিকে চেকি-তল্লাসি নামে পাকিস্তান হানাদার সৈন্যরা আলমডাঙ্গা লাল ব্রিজে চেকপোষ্ট বসিয়ে উত্তরঙ্গের পার্বতীপুর ও রাজশাহি এবং রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে রাজবাড়ি হয়ে আগত দর্শনা, যশোর ও খুলনাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনসমূহে বিশেষ করে যুবক-যুবতী ও হিন্দুসহ নারী যাত্রীদেরকে জোরপূর্বক নামিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে সম্ভ্রম হানিসহ অনুরূপ অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে হত্যা শেষে একই স্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখত।’

(দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল, ১৪ নভেম্বর ২০১০)

মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী বলেন, এভাবে প্রতিদিন প্রতিটি চলন্ত ট্রেন দাঁড় করানো হতো লালব্রিজের উপর। দু’পাশে অবস্থিত মিলিশিয়া ক্যাম্পের পাক সৈন্য ও রাজাকারেরা দু’পাশ আটকে রেখে ট্রেন তল্লাশি করত ট্রেনের সকল নারী পুরুষকে। সন্দেহ হলে নামিয়ে নেয়া হতো। সুন্দরী মহিলা হলে আর রক্ষা ছিল না। সবাইকে কালেমা পড়তে বলা হতো। বলতো ‘শালা বানচোৎ, হিন্দু, মুক্তি হ্যায়’। প্রতিদিন এই রেলপথের অসংখ্য যাত্রীকে অবর্ণনীয় অত্যাচার করে হত্যার পর লাল ব্রিজের অদূরে সাইড ক্যানেল পারে অবস্থিত ওয়াপদা কোয়ার্টারের আশপাশে ও লালব্রিজের একেবারে পাশে গণকবর দেয়া হতো। মহিলাদের মিলিশিয়া ক্যাম্পে ধরে আটকে রেখে পালাক্রমে করা হতো নির্যাতন। কাউকে আবার মাটি খুঁড়ে চাপায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একদিন পাইকপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজনকে ধরে এনে হত্যা করা হয়। এদের একজনকে দিয়ে কবর খুঁড়িয়ে তার হাত থেকে কোদাল নিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। মৃত ভেবে তাকেও কবরে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। রাতে তার জ্ঞান ফিরলে সে মাটি সরিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে। ওই রাতেই সাঁতরে কুমার নদ পার হয়ে পাইকপাড়া গ্রামে ওঠে। গ্রাম্য ডাক্তার তাকে গোপনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন।

আলমডাঙ্গার বর্বরোচিত গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আলমডাঙ্গার বধ্যভূমির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন বলেন, ‘ওরা (পাকিস্তানি সেনারা) মানুষ না, মানুষ হলি কোনোদিন মানুষরি এইভাবে মারতি পারতো না! জানের মায়ায় যারা পালায় যাচ্ছিল, সেই সব মানুষরি ওরা পাহির (পাখির) মতো গুলি কইরে মারিলো। শত শত মানুষ মাইরে কয়েকজন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এরপর আমারে ডাইহে কয় পানি খাওয়াইতে। নইলে মাইরে ফেলবে। আমি ভয়ে পানি খাওয়াইয়ে জানে বাঁচি। চোহের সামনে দেহিছি সেদিন লাশ ভাসতি, মাটিতে পুইতে দিতে!’

একাত্তরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞও পাশবিক নির্যাতন চলে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আলমডাঙ্গার নেতৃস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ মাটি চাপা দেয়া উপরে বর্ণিত অসংখ্য নারী-পুরুষ এবং যুবক-যুবতীর মৃতদেহ চাক্ষুস দেখেন। মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী বলেন, সেখানে ধানিজমিতে চাষ দিতে গেলে এখনও উঠে আসে মানুষের হাড়গোড়। মাটি খুঁড়লে মেলে মাথার খুলি, শিশুর ছেঁড়া জামা, নারীর শাড়ির খ- অংশ। শুধু হাড়গোড় নয়, সোনার আংটি কিংবা কানের দুলও পাওয়া যায় মাটির নিচে। মৃত মানুষের শেষ চিহ্ন এখনও আলমডাঙ্গার মাটিতে মিশে যায়নি। গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলছে আলমডাঙ্গার মাটি।

ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সমন্বয়ে স্থানটি শনাক্ত করে মাটি খুঁড়ে অগণিত নারী পুরুষের কংকাল পাওয়া যায়। ঐ সময়ে দুর্গন্ধযুক্ত পচা-গলা লাশ সেখানেই আবার মাটিচাপা দেয়া হয়। উক্ত স্থানে নারী-পুরুষ শিশুসহ প্রায় ২০০০ হাজারের অধিক মানুষ হত্যার নির্দশন আছে। এখনও যদি ঐ স্থানটি খনন করা হয় তবে সে সমস্ত লাশের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়।

(এম এ মামুন : চুয়াডাঙ্গায় একাত্তরের গণকবরের সন্ধান, ২ হাজার লোক হত্যা করে পুঁতে রেখেছে হানাদার বাহিনী, দৈনিক জনকণ্ঠ, ১ ডিসেম্বর ১৯৯৯)।

 

নির্যাতিতদের মৌখিকভাষ্য

আবুল হোসেন জানান, কখনও চিৎকার করে কখনওবা আবেগ দমনের ব্যর্থ চেষ্টা করে বর্ণনা করেছেন আবুল হোসেন সেই দিনগুলোর কথা। শত শত মানুষ বধ্যভূমিতে এসেছে তার সামনে। সরল চোখে দেখেছেন, তারা কারা? হিন্দু না মুসলমান?

গুলির শব্দ হওয়ার পর অনেক সময় তিনি নিজের প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছেন। সাক্ষাৎকারে আবুল হোসেন বলেছেন, যখনি গুলির আঘাত মানুষের শরীরে লেগেছে, কত না আর্তনাদ করেছে সবাই, বলে বুঝাতে পারব না। মরে যাবার আগে মানুষ যে কিরূপ ধারণ করে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। সেই সময় মুসলমানরা নবী-রাসূলের দোহাই দিয়েছে শতবার কোনো কাজ হয়নি তাতে। জল্লাদের মন গলেনি নিরীহ মানুষ হত্যা থেকে বিরত থাকতে। বহু রক্তপাত, বহু নারী ধর্ষণ, অগণিত হত্যা নির্যাতন পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ ছিল।

পশুর মতো নির্দয় ছিল পাকিস্তানি কুলাঙ্গাররা। মায়া-দয়ার রেশ ছিল না তাদের মনে। সেই পশুরা আবুল হোসেনকে দিয়ে গর্ত খুড়ার কাজ করিয়েছেন। অনিচ্ছাসত্ত্বেও এ কাজ করে যেতে হয়েছে তাকে। এখানে হত্যার জন্য আনা অনেককে চিনতেন। বন্দি অবস্থায় তাদের নির্যাতন কেন্দ্রেও দেখেছেন।

চোখের পানি ফেলেছেন তাদের দেখে। খুনির রক্তচক্ষু দেখে কখনও সাহস হয়নি কিছু বলতে। বাকিটা আবুল হোসেন থেকে  শোনা যাকÑ

কি বলব সে সময়ের কথা মনে হলে কোনো কথা বের হয় না। কে যেন মুখ ধরে রাখে। গুনু মিয়ার বাপ বলে জানতাম যাকে, সে হয়ে গেল পিস কমিটির চেয়ারম্যান। পাশে আরেক জন হলেন সেক্রেটারি। মুগু, হারেছ কাজ করত, কাজ মানে, পাকিস্তানি ক্যাম্পে ভাত রান্না। আমি সবার ছোট ছিলাম বলে পূর্ণ কাজ সম্ভব হতো না বলে জোগালি (সহযোগিতা করা) দিতাম। বিনিময় প্রতিদিন ২ টাকা আর ভাতের মাড় খেতে পারতাম। এর মধ্যে আমাদের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রতিদিনের সংবাদ তথা কোথায় কি যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় থাকতাম।।

একদিন আমাদের বলে আজ (স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন বধ্যভূমিতে) ওইখানে গর্ত খুঁড়তে হবে। আমরা তো ভয়ে পাথর, কোনো কথা বলতে পারছি না। পিস কমিটির চেয়ারম্যান ইউসুপ মিয়া, অন্যতম সদস্য আহমেদ বুকড়া বাধ্য করে যেতে। সেখানে তাদের এত প্রভাব ছিল কেউ তাদের কথা অমান্য করার সাহস ছিল না। সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের এই কাজ (গর্ত খুড়া) করতে হতো। ৪টার পরে আমাদের কাউকে থাকতে দিতো না। একদিন কাজ করেছি আমার কাছে খুবই কষ্ট হয়েছে বলে শেষ করতে পারব না। আর পার্শ্বে যে দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়েছে তা মনে করলে বেহুশ হয়ে যাই। চারদিকে মানুষের মুখ থেকে শোনা যেতÑ ও আল্লাহ গো, ও আল্লাহ গো, ও মা গো, ও মা গো। এমন আর্তনাদÑআহাজারি আকাশ-বাতাস ভারি করত, অচেনা মানুষের মুখ থেকে। তবে (পিস কমিটির সদস্যরা) তারা সামনে থাকলে কোনো দিকে তাকানোর সাহস নেই, একমাত্র কাজ ছাড়া। কাজ করতাম আর চোখ দিয়ে পানি পড়ত। কিছু বলার সাহস কস্মিনকালেও ছিল না।

দ্বিতীয় দিন যখন আমাকে নেওয়া হয়, সেদিন মনে হয় আমার জীবন যেন এখানে শেষ হয়ে যাবে। প্রথমে গিয়ে ২টি গর্ত খুড়ি। তাদের একজন অস্ত্র হাতে এসে বললÑএই লোকটি ফেলে দে, এখনি ফেলে দে। আমি যেন জল্লাদ, গর্তের মধ্যে ফেলে দিলাম লোকটিকে। তাৎক্ষণিক আমার মাথা ঘুরছিল। একটা মানুষের মৃত্যু আমার হাতে। এটা কী করে সম্ভব! পিছনের দিকে আরও কিছু লোক চিৎকার করছিল। বেঁেচ থাকার একটু মিনতি করছিল কেউ কেউ হাতে পায়ে ধরে। শেষ প্রাণের ভিক্ষা। মেয়ে-ছেলে, নারী, পুরুষ নির্বিচারে মানুষ হত্যায় ওরা মেতে উঠছিল। এভাবে মনে হয় আমি ১৫ কি ১৬ দিন কাজ করেছিলাম। তারপর এমন অসুস্থ হলাম ৩ মাস বিছানা থেকেই উঠতে পারলাম না।

 

মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম ব্যাপারি

আমাকে প্রথমে লালব্রিজের কেনালের ভিতর বুক পরিমাণ পানিতে ডুবিয়ে রাখে। সারা শরীর যেন বরফ। দিনের অর্ধেকটা সময় এই অবস্থায়। বাকি দুজনকে চোখের সামনে কিভাবে মারল তা বলার ভাষা নাই।

এর মাঝে আবার দেখলাম পরপর দুটি ট্রেন থামাল। বাঙালির সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীরা ট্রেন থেকে পছন্দমতো কতেক নারী-পুরুষ নামাল। প্রায় ৩০-৪০ জন করে নামাতো। হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ নেই। সুন্দর মেয়েদের অন্যত্র নিয়ে গেল। অন্যদের নিজ হাতে গর্ত খোঁড়ানো হতো। আর সেখানেই নিজ হাতে করা গর্তে মাটিচাপা দিত। আবার কারও ভাগ্যে অন্যের করা গর্তেও জীবন শেষ করতে দেখা গেছে। কোদাল দিয়ে, সাবল দিয়ে, লোহার আঘাতে গর্তে ফেলা হতো। গর্তগুলো অন্তত চার-পাঁচ হাত পর্যন্ত গভীর হতো। সে গর্তের পাশে দাঁড় করিয়ে নিমর্মভাবে ফেলে দিতো। এরপর আস্তে আস্তে মাটিচাপা দিয়ে দিত। কারও উপরে কখনও কখনও বেয়েনটের চার্জও চলতো। এমন বীভৎস হত্যায় কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠত। কতবার আল্লাহকে ডাকত, তার কোনো হিসেব নেই। তবু জল্লাদদের মনে কোনো রকম মায়া হয়নি। কাঁপেনি হায়নাদের বুকও।

সবশেষে আমার দিকে তাকাতেই আল্লাহর অশেষ রহমত হয়। মনে মনে আমিও তাই চাচ্ছিলাম। ইব্রাহিম কসাই (শান্তি কমিটির সদস্য) আমাকে চিনে একজন রাস্তার শ্রমিক হিসেবে। সেটাই আমার জন্য বিরাট উপকারে দাঁড়াল। আমার দিকে এসে অন্যদের বললোÑ

: ইঁয়া আদমি কো সোর দো, ও কুচ নেহি জানতো।

: ও গরিব আদমি হে।

এদিকে মনের ভেতর আল্লাহ নাম জপতে জপতে ব্যাকুল হয়ে উঠছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মা আমাকে নিতে আসছে। একপাশে দাঁড়িয়ে আছেন মা। সারাদিনের উপোস, রক্তলাল চোখ। কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে। অবশেষে আমাকে তার কথায় অন্যেরা ছেড়ে দিল। আর মায়ের দিকে তাকিয়ে বললÑ

: এ বুড়ি তোমারা লেরকা কো লে যাও।

মৃত্যু মানুষের মিছিল থেকে তথা বধ্যভূমি থেকে মা আমাকে নিয়ে অশ্রুমাখা চোখে বাড়ির দিকে হাঁটতে থাকে। বাড়ি বলতে কোনোরকম একটা আশ্রয়। সেখান থেকে পরের দিন আবার বেরিয়ে পড়ি সঙ্গীদের সাথে।

একাত্তরের হানাদার আর্মি পালিয়ে যাবার পরে বেশ কিছু রাজাকারকে সাধারণ মানুষসহ আমরা সবাই আটক করি, কয়েকজনকে ক্ষমাও করে দেওয়া হয়। আবার কয়েকজন যে কোথায় আছে আজও খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে কেউ দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই।

 

মুক্তিযোদ্ধা মো. মান্নান বলেন

ওইদিন কী বার ছিল তা মনে নেই। বিকাল ৪টার দিকে বেলুচি হরমোন খান ও পাঞ্জাবি আকবর খান পুরো এলাকা থেকে ১০০জন ধরে থানায় নিয়ে যায়। সে-সময় থানার দায়িত্বে হাবিলদার এনায়েত উল্লাহ্। সারারাত সবাইকে থানায় রাখে, এদিকে প্রচ- শীতের মধ্যে লাঠি, রড, রাইপেলের পিছন সাইড দিয়ে বেধড়ক পিঠায়। খুবই খারাপ অবস্থা সবার। হঠাৎ এসলাম মোল্লা নামে একজনকে ছেড়ে দেয়। কারণ হিসেবে জানলামÑ তার ভাই আর্মিদের চুল কাটত নিয়মিত। আর বাকিদের চোখ বেঁধে ভোর ৫টায় বধ্যভূমিতে ফেলে দেওয়ার জন্য নদীর ধারে নিয়ে গেল। সবার তো ভয়ে বুক থরথর করে কাঁপছে। কি যেন কি হয়। মনে মনে দোয়া-কালাম পড়ছে। এর মধ্যে আল্লাহর অশেষ রহমতে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সুপারিশে আমিসহ ৪ জনকে ছেড়ে দেয়। তবে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। বাকি ৩ জন হলোÑসাত্তার (সে আলমডাঙ্গা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়তো, আব্দুল মালেক (কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়তো), আনোয়ার হোসেন (জগন্নাথ কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো)।

খুবই খারাপ লাগছিল যখন আমাদের সামনেই ৯৫ জনের কাউকে গুলি করছে, কাউকে মাথায় আঘাত করে মাটিচাপা দিচ্ছে। গর্তের পাশে রেখে গুলি করছে ওমনি মুরগির মতো পড়ে যাচ্ছে। আহা কি চিৎকার, কি বীভৎসতা অসহ্যকর পরিবেশ। এমন আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি করছে চারপাশ।

 

মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন বলেন

সে-সময় দিনমজুরের কাজ করতাম। কুষ্টিয়া দৌলতপুর থেকে পারাকপুর রোডের। আমাকে দৌলতপুর থানা থেকে হাতিয়ার দেয়। আর সেটা নিয়ে প্রথমে কুষ্টিয়া প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। কিছু সময় যাবার পরে কোনো একটি জরুরি কাজে আলমডাঙ্গায় যাই। বাড়িতে পৌঁছতেই আইন উদ্দিন নামের এক শান্তি কমিটির সদস্য আমাকে ধরিয়ে দেয় মুক্তিবাহিনী বলে। আমার কোনো কথা না শুনে সোজা নিয়ে আসে স্টিল ব্রিজসংলগ্ন জায়গাটিতেÑ বর্তমান বধ্যভূমিটিতে। দেখলাম আরও অনেক এলাকার মানুষকে আমার মতো ধরে এনেছে। কারও মুখের দিকে তাকানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই। ভয়ে আমি প্রায় আধামরা। মুখ কোনো কথাও ঠিক মতো বের হয় না। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে একজনের দিলে দয়া হয়। রাখে আল্লাহ মারে কে অবস্থা। প্রথম দিকে আমি যখন দৌলতপুর রোডে কাজ করতাম, তখন আমাকে দেখছিলেন এক মেজর। নামটি এখন মনে নেই। তিনি অনেকক্ষণ পরে আমার সাথে কথা বলে, আমাকে ছেড়ে দিলেন। সাথে তাদেরকে বললেন, ‘গরিবের ছেলে, কাজ করে ভাত খায়, কিসের যুদ্ধ করবে।’ বধ্যভূমি থেকে কোনোরকম প্রাণ নিয়ে বেঁচে আসলাম। সে কথা এখনও মনে হলে শরীর শিউরে ওঠে।

 

এম সবেদ আলী বলেন

(সাবেক পৌর মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা) পাকিস্তান সেনা ও রাজাকার আল-বদর, পিসকমিটির কথামতো আলমডাঙ্গা লাল ব্রিজের দুপাশে কুমার নদের পারে ২টি ক্যাম্প করেছিল। ঐ সময় সেই ক্যাম্পে রাজাকার ও বিহারিদের ছেলেদের যাতায়াত ছিল অবাধে। প্রতিদিন ট্রেন থামিয়ে তল্লাশি করা হতো সকল নারী-পুরুষকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হতো। মহিলা হলে আর রক্ষা নেই, সে যে পরিবারেরই হোক, লাল ব্রিজের একপাশে কামালপুর, কুমারী, হারদী ও হাটবোয়ালিয়া যাবার রাস্তা অন্যদিকে কালিদাসপুর, মোনাকষা, পারকুলা, পাইকপাড়া, নান্দিয়া, সুতাইল যাবার রাস্তা। ঐ রাস্তায় পাগলা মালিহাদের লোকজনও যাতায়াত করতেন। লোকজন যাতায়াত করতে ভয় পেত। এই বুঝি প্রাণ যায়, যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করতÑ এই বেটা কলেমা জানতা হ্যায়। কেউ বুঝত, কেউ বুঝত না। তাদের কথা কালেমা না পারলে তাকে বলা হতো তুম হিন্দু হ্যায়, মুক্তি হ্যায়, মার শ্যালেকো বলেইÑ বুটের লাথি, তারপর রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে লালব্রিজের পাশে পুঁতে রাখত। পাকসেনাদের সাথে কালো পোশাকধারী মিলিশিয়াও ছিল। প্রতিদিনই রেলপথের যাত্রীদের ধরে হয়রানিসহ অকথ্য নির্যাতন করা হতো। অবর্ণনীয় অত্যাচার করে হত্যার পর লালব্রিজের অদূরে ওয়াপদার একটা হলুদ ঘরের পাশে গণকবর করে সেখানেই বেশিরভাগ লোককে পুঁতে রাখত। লোকমুখে শোনা যায়, তখন অসংখ্য মহিলাকে ধরে নিয়ে এসে মিলিশিয়া ক্যাম্পে নির্যাতন করা হতো। পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করে পুঁতে রেখেছে মহিলাদেরও। কোনো কোনো ব্যক্তিকে ধরে নির্যাতন করার পর তাকে দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়েছে তারপর তাকে আবার অত্যাচার করে হত্যা করার পর ঐ গর্তে পুঁতে রেখেছে। শোনা যায় একদিন পাইকপাড়ার গ্রামের কয়েকজন লোককে ধরে এনে হত্যা করা হয়, এদের একেক জনকে কবর খুঁড়িয়ে তার হাত থেকে কোদাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে পাকিস্তানি সেনারা তাকে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। রাতে জ্ঞান ফিরলে লোকটি কোনোমতে বেরিয়ে সন্তর্পণে কুমার নদী সাঁতরে পার হয়ে নিজ গ্রামে এলে গ্রাম্য ডাক্তার তাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলে।

 

বর্তমান অবস্থা

স্থানীয়দের অবিরাম চেষ্টার ফসল হিসেবে আলমডাঙ্গার বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান সরকার স্মৃতিফলক নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। সেই স্মৃতিসৌধের সামনে ফুল ও ফল গাছের সবুজ বাগান করা হয়েছে। দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসে। বর্তমানে চমৎকার পরিবেশ বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে। বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ হয়েছে, সেই সাথে একটি সংগ্রহশালাও। এখন নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এখানে কী হয়েছিল, কারা ঘটিয়েছিল এই নৃশংসতম গণহত্যা। আর তা জেনে যখন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের মানুষ সম্প্রীতির সমাজ গড়বে, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যাভিসারী চেতনা চির জাগরুক থাকবে।

 

তথ্যউৎস

রাজ কুমার রামেকো, আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিচিতি, ২০০১

মোস্তফা হোসেইন, বধ্যভূমির একাত্তর, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা ২০০১

রাজিব আহমেদ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : চুয়াডাঙ্গা জেলা, ২০০৬

খ. হামিদুল ইসলাম আজম, একাত্তরের স্মৃতিকথা, মুক্তিযুদ্ধে আলমডাঙ্গা  ২০১১

রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব,  কুষ্টিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মম প্রকাশ ২০১৪, ঢাকা।

মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, মঞ্জুমা হক, জোহরা সুলতানা রুনী ও মুহম্মদ হোসাইন

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস,  কবির পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ২০১৪

মো. আবদুল হান্নান, আলমডাঙ্গার সম্মুখযুদ্ধ, সম্মুখযুদ্ধ ১৯৭১ : মুক্তিযোদ্ধাদের কলমে, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা

 

সংবাদ প্রতিবেদন

এম এ মামুন চুয়াডাঙ্গা একাত্তরের গণকবরের সন্ধান ২ হাজার লোক হত্যা করে পুঁতে রেখেছে হানাদার বাহিনী, দৈনিক জনকণ্ঠ, খুলনা : ১ ডিসেম্বর ১৯৯৯

প্রতিবেদন : দৈনিক পূর্বদেশ, ২৩ মার্চ ১৯৭১

সম্পাদকীয় : ৭১’র বধ্যভূমি চিহ্নিত আলমডাঙ্গা ওয়াপদা এসও কোয়ার্টার চত্বর এলাকাটিকে সংরক্ষণসহ স্মৃতিষ্ট্যান্ড নির্মাণ বাঞ্ছনীয়’, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল, ১৪ নভেম্বর ২০১০

‘আলমডাঙ্গায় সেই বধ্যভূমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ‘আজকালের খবর, ৭ অক্টোবর ২০১১

প্রশান্ত বিশ্বাস, ‘আলমডাঙ্গায় ৭১’র বধ্যভূমির জায়গা দখল করে পুকুর কাটার অভিযোগ’, গ্রামের কাগজ, ১১ জুলাই ২০১১

এমপি ছেলুনের আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি পরিদর্শন : নিমার্ণের আশ্বাস : মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে’, দৈনিক মাথাভাঙ্গা, ২৩ অক্টোবর ২০১১

আব্দুস সালাম, দুই সহস্রাধিক শহীদের ঠিকানা আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি, সংবাদ, ১৯৯৯

প্রতিবেদক : ‘আলমডাঙ্গার বধ্যভূমি খননের দাবি জোরদার’ দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯ আগস্ট ২০০০

চুয়াডাঙ্গা নিজস্ব সংবাদদাতা, ‘চুয়াডাঙ্গায় গণকবর দেখতে ভিড়’ দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪০৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ‘বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ’  প্রথম আলো ,১৭ ডিসেম্বর ২০১১

গণহত্যা’৭১ : কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া কিছু ইতিহাস (পর্ব-০৩) : ফাতেমা জোহরা, ইন্টারনেট

আনোয়ার রশিদ সাগর, ‘মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি সংরক্ষণের আবেদন’ দৈনিক ইত্তেফাক, ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৯।

Emran Mahfuz , Alamdangar Boddhobhumi :  The Daily Star : Victory Day Special, 2015

https://bn.wikipedia.org/s/24di

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares