প্রচ্ছদ রচনা : মুক্তিযুদ্ধের কবিতা : রক্তের অক্ষরে লেখা পঙ্ক্তিমালা

 

প্রচ্ছদ রচনা

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা :

রক্তের অক্ষরে লেখা পঙ্ক্তিমালা

পরিতোষ হালদার

কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?

গণসমুদ্রের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি;

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

সেই থেকে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি আমাদের।

(নির্মলেন্দু গুণ- স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল)

 

সংগ্রামের বিস্তীর্ণ পথ পরিক্রম করে ৭ই মার্চে এসে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের হয়েছে। তারপর ২৫শে মার্চের রাত থেকেই মূলত বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। নয় মাসের যুদ্ধের পরে আসে বিজয়। বিজয়ের পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্মৃতিকে ধারণ করে আরও কত সংগ্রাম, কত চড়াই-উৎরাই পথচলা। মুক্তিসংগ্রাম, তার প্রস্তুতিকাল এবং সংগ্রাম পরবর্তী সময়ের কবিতা ধারণ করেছে বাঙালি সত্তাকে। এত রক্তক্ষরণ, এত অগ্নিসংযোগ, ইজ্জতের বলি ইতিহাসে বিরল। পৃথিবীর কোনো ভাষায় তার মুক্তিসংগ্রামকে নিয়ে এত কবিতা, গান, চলচ্চিত্র, নাটক, গল্প, উপন্যাস রচিত হয়েছে কিনা সন্দেহ। বাঙালি এক আশ্চর্য জাতি; এ জাতি তার মহিমা-বীরত্ব যেমন ছড়িয়ে দিতে পারে তার জীবনে, সংগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধে তেমনি এদেশের কবিরা তার কবিতার পাতায় পাতায় সৃষ্টি করে যেতে পারে বীরত্বগাথা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কবিতা রক্তের অক্ষরে লেখা অমর পঙ্ক্তিমালা।

 

প্রস্তুতিপবর্ :

বাঙালির মুক্তির নেশা হাজার বছরের ইতিহাসের পরম্পরা। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত এ মাটির জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিক বিবর্তনের ভেতর থেকে বাঙালি হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে বাংলাভাষার বাঙালি। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে এ ভাষার কবিতা-গানের ভাববাদী ও বস্তুবাদী এ দুই ধারার প্রবাহ লক্ষ করা যায়। বিরাজমান ভাববাদী বলয়ের ভেতর থেকেও লালন-মাইকেল-নজরুল-সুকান্তর লেখায় বস্তুবাদীধারার বিকাশ ঘটে। রবীন্দ্রনাথ আবহমান ঐতিহ্যের ধারায় সব থেকে বড় কবি, তাঁর কবিতা-গানে বিস্তৃত হয় বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি, দেশপ্রেম। ক্রমশ এই দুইধারা মিলেমিশে বাংলা কবিতার জগতে বেরিয়ে আসে কিছু সংগ্রামী কবিতা। ১৯৪৭-এর ভারত বিভক্তির পর বাঙালির ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন পেরিয়ে আসে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। প্রস্তুতির এই পর্বে করিরাও নেমে এলেন রাস্তায়; তাঁদের কলমও তখন হাতিয়ার। গণসমুদ্রে সে কি জোয়ার- তাঁরা মন্ত্রের মতো উচ্চারণ করে যাচ্ছেন তাঁদের কবিতা :

আমার হাতে নিলাম আমার

নির্ভরতার চাবি

তুমি আমার আকাশ থেকে সরাও তোমার ছায়া

তুমি বাংলা ছাড়ো।

(সিকান্দার আবু জাফর- বাংলা ছাড়ো)

 

বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামের মিলিত আহ্বান এসে জড় হয়েছে ৭১-এ; এক মহেন্দ্রক্ষণে উপনীত বাঙালি। কবির দীপ্ত বিশ্বাস :

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ¦লন্ত

ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে

নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক

এই বাংলায়

তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।

(শামসুর রাহমান- তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা)

 

‘আমার দুখিনী বাংলা কবিতায় প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অগ্রসেনানী মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলা মায়ের চিত্র এঁকেছেন :

আমার দুখিনী বাংলা

মা, তুই আমার জননী

তোর ওই আকাশে চাঁদ

আর দিনে হাসে দিনমণি।

তবু তোর চোখে কেন অশ্রুভরা জল

মা তুই অহল্যা হলি

কার শাপে বল্?

(আমার দুখিনী বাংলা- আবদুল গাফফার চৌধুরী)

 

যুদ্ধপর্ব :

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের ভেতর থেকে শুরু হয়ে যায় এদেশের মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালি তার সব সত্তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে হানাদারদের বিরুদ্ধে। সংগ্রামে-যুদ্ধে-গানে-কবিতায় ফুটে ওঠে মুক্তির চেতনা। ইতিহাসের এই শিহরনকে ধরে রাখে এদেশের কবিরা। তারাও হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধা।

ঐন্দ্রজালিকের মতো যত

এবং অসতর্ক হাতে কারফিউ শুরু হওয়ার আগেই

প্রায় অন্যমনস্কভাবে তৈরি করল কয়েকটা অক্ষর

‘স্বা-ধী-ন-তা’।

(শহীদ কাদরী- নিষিদ্ধ জার্নাল থেকে)

 

জনতা জেগে ওঠে দীপ্ত শপথে-

এ সোনার দেশে, যতদিন রবে একটিও খানসেনা

ততদিন তব মোদের যাত্রা মুহূর্তে থামিবে না।

(মুক্তিযোদ্ধা – জসীম উদ্দীন)

 

শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। সাত কোটি মানুষের অংশগ্রহণে যে যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় জনযুদ্ধে। একটা অবরুদ্ধ বাংলাদেশ যেন অমিতশক্তি নিয়ে  জেগে ওঠে মুক্তির নেশায় :

নারকেল সবুজ পাতার বালির-ফাকা চাঁদের সোনালি কামান

নিঃশব্দে ওঙ্কারে গর্জে উঠে তুমুল জ্যোৎস্না ছুড়ে মারে

এই চলে সারারাত

জ্যোৎস্নায় ভাসায় বাদানুবাদ

ভোরের দিকে

গৃহযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়ে যায়।

(আবদুল মান্নান সৈয়দ- মুক্তিযুদ্ধ)

 

যুদ্ধে মানুষ তখন একাকার। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে যুদ্ধে। ঝাঁকে ঝাঁকে মরছে তবুও দৌড়- ঐ তো সামনে সময়, সামনেই স্বাধীনতা :

তোমার আগমনে প্রাণ পায় মরা বৃক্ষ পোড়া প্রজাপতি

তোমার পায়ের শব্দে বাংলাদেশে ঘনায় ফাল্গুন আর

৫৪ হাজার বর্গমাইলের এই বিধ্বস্ত বাগানে

একসুরে গান গেয়ে ওঠে সাত কোটি বিপন্ন কোকিল।

(হুমায়ুন আজাদ- মুক্তি বাহিনীর জন্য।)

 

তখন সবার চেতনায় যুদ্ধ, প্রতিশোধের তীব্র নেশা :

এবার নববর্ষের দেয়া তোর বৈশাখী জামা

ওদের রক্তে ভিজিয়ে তোর পায়ে এনে

দেব মা-রে

বৈশাখের রুদ্র জামা আমাকে পরিয়ে দে মা।

(মুস্তাফা আনোয়ার- বৈশাখের রুদ্র জামা)

 

মুক্তিযুদ্ধ সে তো এক চেতনার নাম। ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার ভেতর থেকে রক্তপাত ও মৃত্যুকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার এই একটি রাস্তা, যার নাম স্বাধীনতা। সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রক্তপাত ডাক দেয় সুন্দর আগামীকে :

আমি সেই রক্তবিন্দু থেকে সম্মুখের ইতিহাস অবধি

নিজের রক্তবিন্দুকে প্রবাহিত করে দিতে চাই

আমি একটি রক্তপাতহীন পৃথিবীর জন্য

এই মুহূর্তে পৃথিবীর

মর্মঘাতী রক্তপাত করে যেতে চাই।

(অসীম সাহা- পৃথিবীর মর্মঘাতী রক্তপাত)

 

তখন সবাই কবি, সবাই মুক্তিযোদ্ধা।

 

যুদ্ধক্ষেত্রে কোন কবির প্রয়োজন নেই

যুদ্ধক্ষেত্রে কবিও সৈনিক-

কলম নয়, কবির হাতে নিশপিশ করে সর্বাধুনিক মারণাস্ত্র।

(মাশুক চৌধুরী- মুক্তিযুদ্ধের কবিতা)

 

উত্তরপবর্ :

যুদ্ধ-উত্তরপর্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষ দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রিয় স্বদেশ তার অস্তিত্বে অপার মহিমা ছড়ায়। স্বজন হারানো বেদনায় সিক্ত মানুষের সামনে তখন আগামী আর স্মৃতিতে একাত্তর :

কেবল পতাকা দেখি

কেবল পতাকা দেখি

স্বাধীনতা দেখি!

তবে কি আমার ভাই আজ ওই স্বাধীন পতাকা?

তবে কি আমার বোন, তিমির বেদিতে উৎসব?

(আবুল হাসান- উচ্চারণগুলি শোকের)

 

কবির চেতনায় প্রিয় পতাকা, প্রিয় স্বদেশ :

যুদ্ধের আগুনে পুড়িয়ে বহু কষ্ট সময়।

প্রদীপে এনেছি তুলে প্রিয় স্বাধীনতা

চিরদিন তাই এ মাটি ও মানুষ

আমার অস্তিত্বের শ্বেত উঠোনে আঁকা প্রিয় বটপাতা

আর ঐ গাঢ় পতাকা- আমার মনুষ্যত্বের লাল-সবুজ মলাট।

(অজয় রায়- মলাট)

 

দেশের ভেতর আস্তে আস্তে চেতনার অবক্ষয় ঘটতে থাকে। দেশি-বিদেশি ষড়যস্ত্রের কবলে পরে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিকতাকে পাশ কাটিয়ে চলতে থাকে রাষ্ট্র। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন ও তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, গণতন্ত্রের নামে স্বেচ্চাচারিতা জনমনের আশাভঙ্গ হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানুষের অবদমিত ইচ্ছা মিলেমিশে দেশে বিরাজ করতে থাকে অস্থির পরিবেশ। দীর্ঘসংগ্রামের স্মৃতি, যুদ্ধ এবং অন্যদিকে তার অবক্ষয়ের প্রতিফলন কবিতায় উঠে আসে।

 

দশ লক্ষ মৃতদেহ থেকে

দুর্গন্ধের দুর্বোধ্য জবান লিখে রিপোর্ট লিখছি- পড়, পাঠ কর।

কুড়ি লক্ষ আহতের আর্তনাদ থেকে

ঘৃণায় জেনেছি- পড়, পাঠ কর।

চল্লিশ হাজার ধর্ষিতা নারীর কাছে

জুলুমের সবক নিয়েছি- পড়, পাঠ কর।

(আসাদ চৌধুরী- রিপোর্ট- ১৯৭১)

 

যে-দৃপ্ত প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সে প্রত্যয়ের ম্লানরূপ প্রত্যক্ষ করে মানুষ। সশন্ত্র লড়াইয়ের স্মুতি, হাহাকার, মৃত্যুর যন্ত্রণা তাকে দগ্ধ করে। যে বিজয়ের স্বাদ সে পেয়েছিল, পেতে পেয়েছিল নতুন চলার প্রেরণা তা ক্রমশ নির্বাপিত হয়ে আসে। কবির কলমে তারই শব্দ ধ্বনিত হয় :

তোমাদের হাড়গুলো জোসনারাতে উড়ে যাওয়া সবুজ কবুতর,

সুদূর ঝরনার জলে স্বপ্ন-ছাওয়া ঘাসের সবুজ;

তোমাদের হাড়গুলো অন্তহীন স্রোতস্বিনী, সুরের নির্ঝর

একতারা হাতে এক বাউলের মনোজ গম্বুজ;

তোমাদের হাড়গুলো বাংলার সীমানা-ডিঙানো

ক্রমশ বধিষ্ণু এক হরিৎ বাগান

কারবাইন তাক-করা বেপরোয়া সৈনিকের গান;

(বাঙালির জন্মতিথি- মুহম্মদ নূরুল হুদা)

 

সেই মুখখানি স্বাধীনতা ছিল

সেই মুখখানি মিছিলে মানব হতো

উত্থিত হাতে স্লোগানে চলায় মিলে

সেই মুখখানি অগ্নির সাথী ছিল।

 

আমার স্বদেশে রক্তের ঘোলা জলে

তাঁর হাত দুটো উদ্যত রাইফেল

যুদ্ধে বারুদে শহীদের লাশ ছুঁয়ে

শিবিরে শিবিরে সকল রণাঙ্গনে

সেই মুখ খানি স্বদেশের ছায়া ছিল।

(সেই মুখখানি কবিতার বড় ছিল- কামাল চৌধুরি)

 

কিন্তু আজ?

এ আমি কাকে নিয়ে হাঁটছি

এই কি বিজয়?

(বিজয় আমার স্বাধীনতা- মাহবুব হাসান)

 

চতুর্দিকে শোক, জরা দুর্ভিক্ষের করুণ মিছিল

কেবল মন্বন্তর, মহামারী

সাইক্লোন

উন্মত্ত ধ্বংসের সর্বগ্রাসী থাবা

হায়, এই দেশে জান্তার কালো বুটে মাপা হয়

জমির উর্বরতা;

(বাংলাদেশ- সোহরাব হাসান)

 

কিছু কিছু শব্দ ও তার ইমেজ যেন বাঙালির; কবিরা এই শব্দের উপর লাগিয়ে দিতে চায় তার শ্রম, তার সংগ্রাম :

আমি তোমাকে যৌবন দেব

তুমি ভালোবাসা দাও

আমি তোমাকে রক্ত দেব

তুমি আমাকে মুক্তিযুদ্ধ দাও।

(রবীন্দ্র গোপ – মুক্তিযুদ্ধ)

 

যুদ্ধের পর স্বাধীনতা ও তার বিজয় এবং পরবর্তী সময়কে বহুমাত্রিকভাবে দেখেছেন কবিরা। তাই কবিতায় এসেছে নানান মাত্রা, নানান বিষয় ও আঙ্গিক। কবির চোখে মুক্তিযুদ্ধ হয়ে উঠেছে বাঙালির আশা-আকাঙক্ষা-স্বপ্ন পূরণের প্রেরণা; যে স্বপ্নকে সে লালন করে হৃদয়ে, চেতনায় :

স্বাধীনতাÑ সে আমার স্বজন হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন

স্বাধীনতা- সে আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল

ধর্ষিতা বোনের শাড়ি ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

(বাতাসে লাশের গন্ধ- রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)

 

মুক্তিযুদ্ধে অমিয় তেজকে কবিরা মানুষের আকাক্সক্ষার সাথে মিশিয়ে; বাণীবদ্ধ করে ছড়িয়ে দিয়েছে সমাজে, লোকমানসে। এখানেই এদেশের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মুক্তিযুদ্ধ থেকে অর্জিত চেতনা আর সেই চেতনার আলোকে প্রকৃত মুক্তির পথ খোঁজার যে প্রতীতি তা তো একমাত্র কবিরাই দেখাতে পারে। কবিতা হয়ে ওঠে আলোর দিশারী :

আমি শুধু সামরিক আদেশ অমান্য করে হয়ে গেছি

কোমল বিদ্রোহী- প্রকাশ্যে ফিরেছি ঘরে

অথচ আমার সঙ্গে

হৃদয়ের মতো মারাত্মক একটি আগ্নেয়াস্ত্র

আমি জমা দেইনি।

(আগ্নেয়াস্ত্র- নির্মলেন্দু গুণ)

 

কবির আশাবাদ লক্ষ্যভেদী চেতনা যেন :

যদি কোনোদিন আসে আবার দুর্দিন,

যেদিন ফুরাবে প্রেম অথবা হবে না প্রেম মানুষে মানুষে-

ভেঙে সেই কালো কারাগার

আবার প্রণয় হবে মারণাস্ত্র তোমার আমার।

(অস্ত্র সমর্পণ- হেলাল হাফিজ)

 

কবিতার অমিয় শক্তি একটা দেশ, একটা জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালি কবিরা তার দেশের জন্য তার কলমকে করেছে সক্রিয়। কখনও দেশ ও কবিতার জন্য অপেক্ষা করে, অপেক্ষা করে মুক্তির জন্য- মুক্তিযুদ্ধের জন্য।

 

এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি

তার জন্য আমার সন্তানের জন্মের যন্ত্রণা মুখে নিয়ে

আমার প্রিয়তমা নারীর মতো

অপেক্ষা করছে আমার বাংলাদেশ।

(এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি- আবিদ আজাদ)

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares