সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা
শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ


প্রকাশক : মাহফুজা আখতার
সম্পাদক : মোহিত কামাল
সাহিত্য সংস্কৃতি মাসিক পত্রিকা শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ

চিত্রকলা ভ্যানগঘের ছবির বিষয়বস্তু : আঁকার পদ্ধতি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আলপ্তগীন তুষার

September 20th, 2016 11:01 pm
চিত্রকলা  ভ্যানগঘের ছবির বিষয়বস্তু :  আঁকার পদ্ধতি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ  আলপ্তগীন তুষার

চিত্রকলা

ভ্যানগঘের ছবির বিষয়বস্তু :

আঁকার পদ্ধতি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

আলপ্তগীন তুষার

 

মহান মানবতাবাদী শিল্পী ভ্যানগঘের শিল্পকর্ম অনুধাবন করতে হলে প্রথমে তার জীবন সম্পর্কে জানতে হবে। তাঁর জন্ম ১৮৫৩ সালে ৩০শে মার্চ দক্ষিণ নেদারল্যান্ডে  এক উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা ডাচ রিফর্মচার্চের মিনিস্টার ছিলেন। ১৮৬০ সালে তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয় কিন্তু এক স্কুলে তিনি বেশিদিন থাকতেন না। কয়েকটি স্কুল পরিবর্তন করে শেষ তিনি ১৮৬৬ সালে ডবষষবস ওও ঈড়ষষবমব -এ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। এখানে ড্র্ইং শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক এক্সপ্রেসিভ এবং ভালো ড্রইং করেন। অজানা কারণে তিনি স্কুল ত্যাগ করেন এবং ১৮৬৮ সালে বাসায় ফিরে আসেন।

তার চাচা ছিলেন আর্ট ডিলার, কোম্পানির নাম Goupi and CO. । সেখানে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় এবং ট্রেনিং শেষে তাকে লন্ডনের অফিসে ট্রান্সফার করা হয়। বিখ্যাত সব পেইন্টিং দেখে তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। কুড়ি বছর বয়সে সেখানে তার সবচেয়ে সুখী সময় অতিবাহিত হয়। কিন্তু তার বাড়ির মালিকের মেয়েকে প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন। এতে তাকে নিঃসঙ্গতায় পেয়ে বসে এবং ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তার পিতা এবং চাচা তাকে ফ্রান্সে পাঠালেন শিল্পকর্মকে কিভাবে পণ্যদ্রব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় তা শেখার জন্য। এটা তার কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর কাজ মনে হলো এবং ১৮৭৬ সালের ১লা এপ্রিল Goupil-এ তার চাকুরি শেষ হয়ে গেল।

তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে আসলেন একটা ছোট বোর্ডিং স্কুলে টিচার সরবরাহের অবৈতনিক চাকুরি নিয়ে। সেখানে কাজে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি চলে এসে একটা বইয়ের দোকান চাকুরি নিলেন। সেখানে আঁকিবুঁকি করতেন আর বাইবেলের বাণী ইংলিশ, ফেঞ্চ এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদ করতেন। ধর্মের প্রতি আগ্রহ দেখে তার পিতা থিওলোজি শিখে পাসটর (Pastor) বানানোর জন্য নেদারল্যান্ডে নিয়ে আসলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বেলজিয়ামের এক কয়লা খনিতে শ্রমিকদের মাঝে বাইবেলের বাণী প্রচারের জন্য প্রিস্টের চাকরি নিয়ে কাজে যোগদান করলেন। সেখানে শ্রমিকদের দুর্দশা দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে শীতার্তকে নিজের কোট খুলে দিয়ে দিতেন। জুতা খুলে গরিব লোকদের দিয়ে নিজে খালি পায়ে থাকতেন। বেতনের টাকা খনি শ্রমিকদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে অর্ধাহারে জীবন অতিবাহিত করতেন, যিশুর বাণীর সঠিক প্রয়োগ করতে গিয়ে তার বিলাসবহুল বাসা ছেড়ে খনি শ্রমিকদের কুটিরে বসবাস শুরু করেন। চার্চ অথরিটিতে তার রিপোর্ট চলে গেল যে প্রিস্টের সঠিক দায়িত্ব পালনে তিনি অপারগ। প্রিস্টদের থাকতে হবে কেতাদুরস্ত ফিটফাট সে স্থানে তিনি  শ্রমিকদের সাথে নিজেকে একাত্ম করে ফেলেছেন। সুতরাং তার চাকরি চলে গেল।

তিনি পঁচাত্তর কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ব্রাসেলসে চলে গেলেন। তার বাবা-মার পিড়াপিড়িতে বাড়ি ফিরলেন কিন্তু বাবার সাথে ঝগড়া করে বাড়ি ত্যাগ করলেন। তার ছোটভাই থিওর পরামর্শে আবার ছবি আঁকা শুরু করলেন। ১৮৮০ সালে আর্টের স্কুলে ভর্তি হন একাডেমিক্যালি এনাটমি, মডেলিং এবং পারসপেকটিভ অনুশীলন শুরু করেন।

ইতোমধ্যে তার ফ্যামিলি Etten গ্রাম এলাকায় চলে আসে। তিনি তার ড্রইং কন্টিনিউ করতে থাকেন। তাদের বাসায় অবস্থানরতা মায়ের বড় বোনের মেয়ে যিনি ভ্যানগঘের থেকে সাত বছরের বড় এবং একটি আট বছরের সন্তান আছে, Kee Vos stricker -এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। কবব তার বাবার বাসায় চলে যায়। ভ্যানগঘ সেখানে গিয়ে ল্যাম্পের শিখার উপর বাম হাত রেখে মেয়েটির বাবাকে বলেন যে যতক্ষণ  সে আগুনের শিখার উপর হাত রাখতে পারবে ততক্ষণের জন্য কবব-র সাথে দেখা করতে চায়। সেখানেও আশা পূরণ হলো না। অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে ধর্মের প্রতি আস্থা হারিয়ে বাবার সাথে ঝগড়া করে হেগে চলে গেলেন। রাতে শীতার্ত গর্ভবর্তী এক যৌনকর্মীকে রাস্তায় দেখে তার মায়া হলো তার একটি মেয়েসহ তাকে বিয়ে করলেন। ভ্যানগঘের আর্থিক অপ্রতুলতার জন্য মেয়েটির মায়ের পরামর্শে মেয়েটি যার নাম ঝরবহ তাকে ত্যাগ করল। সেখানেও তিনি ব্যর্থ হলেন।

1-chair-of-gogainভ্যানগঘ প্যারিসে ভাই থিওর সাথে দেখা করেন। থিও তাকে আর্থিক সহায়তা করতেন এবং তার পেইন্টিং বিক্রির চেষ্টা করতেন। প্যারিসে ইম্প্রেশনিস্ট আর্টিস্ট তুলোজ লোথ্রেক, ক্যামিল পিসারো, জর্জ সুরা, পল গগার সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং তাদের পেইন্টিং-এর রং ভ্যান গগকে দারুণ প্রভাবিত করে। তিনি দু’বছরে দু’শ পেইন্টিং করেন। এরপর দক্ষিণ ফ্রান্সের আর্লেতে বসবাস শুরু করেন এবং তার বিখ্যাত পেইন্টিংগুলো আঁকেন। আর্লেতে তিনি গগাঁকে আমন্ত্রণ জানান এবং একসাথে বসবাস শুরু করেন। দর্শনগত দিক দিয়ে দুজন দু’ধারায় ছবি আঁকেন। এ সময় দু’জন প্রায় ঝগড়া করতেন এবং এক পর্যায়ে ভ্যানগঘ গগাঁকে ক্ষুর নিয়ে তাড়া করেন এবং নিজের বাম কান ক্ষুর দিয়ে কেটে ফেলেন। কানে ব্যান্ডেজ অবস্থায় তিনি আত্মপ্রতিকৃতি করেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে ফ্রান্সের St-Remy হাসপাতালে ভর্তি হন। থিওর এসময় সন্তান জন্ম লাভ করে। ভ্যানগঘ ভীষণ নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকেন এবং জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে গম ক্ষেতে কাক পেইন্টিংটি করার সময় নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ভাই থিও খবর পেয়ে দেখা করতে এলে ভ্যানগঘ বলেন, আত্মহত্যাতেও তিনি ব্যর্থ হলেন। দুদিন পর ১৮৯০ সালের ২৯ শে জুলাই তিনি মারা যান।

এক্সপ্রেশনিজমের জনক মহান শিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যানগঘ তার দশ বছরের শিল্পী জীবনে এগার হাজারেরও বেশি ছবি এঁকে গেছেন। বিষয় হিসাবে সেইগুলোকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন যে সব বিষয়ের সাথে তিনি ইমোশনালি এটাচড। তিনি সুন্দর বা ক্লাসিক্যাল সাবজেক্ট গ্রহণ করেননি। তার মনযোগ ছিল মানুষের অবস্থা (Human condition)-এর উপর এবং তাকে কীভাবে চিত্রায়িত বা ধারণ করা যায় তার উপর। তিনি সচেষ্ট ছিলেন ‘Object Ges condition’-এর উপর এবং তাকে কিভাবে চিত্রায়িত বা ধারণ করা যায় তার উপর। তিনি সচেষ্ট ছিলেন object Ges Observer-এর মধ্যে একটা যথার্থ সমন্বয় তৈরি করার প্রতি। দৈনন্দিন জীবনের compassonate বিষয় যেমন, খনি শ্রমিক, তাঁতি, ভিক্ষুক, ঝাড়–দার, কৃষক ইত্যাদিকে তিনি তার ছবির বিষয়বস্তু করেছেন। ‘স্টিল-লাইফ’ এঁকেছেন খুব সাধারণ বিষয় নিয়ে যেমন, চেয়ার, জুতা, সিগারেটের পাইপ ইত্যাদি। ল্যান্ড স্কেপ এবং পোর্ট্রেটও করেছেন নিজস্ব ঢং-এ এবং মেজাজে।

আমরা তার কাজকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করতে পারি-

প্রথম পর্যায় : এ সময় তিনি প্রচুর পরিমাণে একাডেমিক ড্রইং এবং আউটডোর স্কেচ প্যাকটিস করেন। এই সময়ের কাজগুলো মনোক্রাম্যাটিক।

দ্বিতীয় পর্যায় : এই পর্যায়ে তিনি প্যারিসে ইমপ্রেশনিস্টদের প্রদর্শনী দেখেন। স্বভাবতই তিনি ইম্প্রেশনিস্টদের রং এবং ব্রাশ-স্ট্রোক দেখে প্রভাবিত হন এবং প্রখর উজ্জ্বল রঙ প্রয়োগ শুরু করেন।

তৃতীয় পর্যায় : শেষ দু’বছরে তিনি ছবির বিষয়বস্তু খুব সামান্যই পরিবর্তন করেছেন।

প্রথম ফেইজে তিনি অসংখ্য ড্রইং করেন এবং থিওকে লিখেন ‘The I have reli“ed, Drawing is the back-bone of painting’. এই পর্যায়ে বিষয়বস্তুকে যথাযথভাবে আঁকায় প্রয়াসী হন। যদিও তার দক্ষতা পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়নি। তিনি আরও বলেন- Drawing is in fact a verz defficult form of Expression’. তিনি অবিরাম চেষ্টা করেছেন। তাঁর দক্ষতা উন্নত করেন এবং সে সময় টোনের থেকে লাইনকে বেশি প্রাধান্য দেন।

তিনি অত্যন্ত অনুভূতিপ্রবণ এবং পড়সঢ়ধংংরড়হধঃব ব্যক্তি ছিলেন এবং সেসব বিষয় নিয়ে ছবি এঁকেছেন, যা তাকে আবেগ আপ্লুত করত। সেটা হতে পারে পত্রহীন বৃক্ষ, রাস্তায় কর্মরত ঝাড়–দার, হতে পারে কৃষক, তাঁতি এক কথায়, ‘মেহেনতি মানুষ’। যা কিছু সুন্দর সুশ্রী তা তিনি আঁকেননি। পত্রহীন বৃক্ষ দেখে তিনি নিজেকে তার সাথে রফবহঃরভু করতেন। তিনি একজন ভিক্ষুককে দেখে ক্ষুধার যন্ত্রণাকে অনুধাবন করতেন।2-thepotatoeaters

সবসময় তার ছবির মধ্যে একটা emotional identification থাকত। তিনি ভেনাস কিংবা বিরোচিত কোনো বিষয় নিয়ে ছবি আঁকেননি, অতি সাধারণ মেহনতি মানুষের অবস্থাকে রেকর্ড করে রাখতে চেয়েছেন। সেইসব মেহনতি মানুষের প্রতিকৃতির ব্যক্তি-বৈশিষ্ট্য ধারণ করার চেয়ে তাদের দুর্দশাপূর্ণ অবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভ্যানগঘ খনি শ্রমিক কিংবা কৃষক অথবা তাঁতীদের সাথে থাকার সময় তিনি সম্পূর্ণভাবে তাদের সাথে রহাড়ষাব হয়ে যেতেন।

তিনি থিওকে লিখেছিলেন- ‘Painting is something like farming’ তাকে আরও লিখেছিলেন- ‘I am painting these weavers and I am deliberately not painting the faces, because I am interested in human condition and that human condition revealed through their cloths rather than their faces.’

ভ্যানগঘ সব সময় মেহেনতি মানুষের পরিস্থিতিকে তাদের নোংরা ছেঁড়া পোশাকআশাক এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তাদের এই দুর্দশাতে সহানুভূতিশীল হয়েছেন। তাই তিনি কোন বর্ণাঢ্য রঙ দিয়ে তাদের দুর্দশাকে চিত্রায়িত করেননি। ‘Pottato Eater’ সম্পর্কে থিওকে লিখেছিলেন- I am deliberately painting this Painting in the colour of dirtz pat tato. পুরো ছবিটার মধ্যেই সেই নোংরা রঙ এর আলুর ‘এফেক্ট’ পাওয়া যায়। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন যে, যারা সবার জন্য আহার যোগায়, অথচ তাদের ভাগ্যে জুটেছে কিছু সিদ্ধ আলু, তবুও তা তারা অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে একে অপরের মাঝে শেয়ার করে খাচ্ছে।

এই সময়ে তিনি যেসব শিল্পী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তারা হলেন রেমব্রান্ট, কারাভাজ্জিত এবং রুবেক্স।

দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি ফ্রান্সে ইম্প্রেশনিস্টদের প্রদর্শনী দেখেন এবং প্রভাবিত হয়ে উজ্জ্বল রঙ এর ব্যবহার করেছেন।

তার কাজের বৈশিষ্ট্যে যা লক্ষণীয় তাহলো :

১। বিরামহীন তীব্রতা

(Restless intensitz)

২। টেক্সচারাল এনিমেশন

৩। বলিষ্ঠ ব্রাশস্ট্রোক

৪। পুরু পিগমেস্ট এর প্রয়োগ

তাঁর ব্রাশস্ট্রোক সবসময় দ্রুত, বলিষ্ঠ এবং স্বতস্ফূর্ত। এই বৈশিষ্ট্য গগাঁর কাজে একদম অনুপস্থিত। গগাঁর কাজ অনেক কন্ট্রোলড, অনেক বেশি ‘cool’ এবং ‘Relax’. ভ্যান গঘের কাজে একটি স্বতস্ফূর্ত এনার্জি পাওয়া যায় যা অনেক বেশি ‘instinctive’. তিনি লিখেছিলেন- ‘Nither a choice of subject nor exact truth but art is a mood of feeling it is the result of emotion rather than observed nature’.

3-starry-nightতাঁর পেইন্টিং-এ ‘Depth’ খুবই সাজেসটিভ। তিনি তাঁর কাজের ভিতরে পারসপেকটিভকে উপেক্ষা করেননি, যদিও তাঁর কাজে বৈজ্ঞানিক পারসপেকটিভ পাওয়া যায় না। একটা ইমোশনাল এবং ইম্প্রেসিভ গুরুত্ব বহনকারী হিসেবে পারসপেকটিভ ব্যবহার করেছেন। তাঁর পেইন্টিং এ সবসময় সারফেস এবং ডেপথ এর একটা দ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে সেখানে একটা টেনশন তৈরি হয়। পারসপেকটিভটা তাঁর কাজে একটা ‘emotional depth’ হিসেবে কাজ করে। এগ্রোসিভ কালার এবং ‘receding ground’-এর উপস্থাপনায় ছবির ভিতর ‘space’-এর উপস্থিতি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাঁর অধিকাংশ কাজের ভিতর ‘Clastoporbic space’ লক্ষ্য করা যায়। পেইন্টিং-এর কোনো কাণ্ড স্থির বা অবসরের কোনো পরিসর পাওয়া যায় না। তার নিজের ভিতরের Restlessness সরাসরি ক্যানভাসে Transfer করেছেন। তিনি ইমপ্রেশনিস্টদের মতো প্রকৃতিকে অনুকরণ করেননি বরং তাকে আরও intensifz করেছেন। Starrz night-এ দেখা যায় তিনি পাওয়ারফুল কার্সিং লাইন প্রয়োগ করেছেন ফলে মনে হয় সমস্ত আকাশ এবং প্রকৃতি ক্যানভাসকে ছাড়িয়ে চারপাশে প্রসারিত হয়েছে, মনে হয় বাস্তবের shallwo picture space-এ যেন একটা অবারিত বিস্তীর্ণ জায়গার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। একই কারণে গগাঁ রেনেসা পারসপেকটিভের Illusion থেকে সরে এস জাপানি আর্টের পন্থায় এক নতুন Pictures space তৈরিতে অগ্রসর হয়েছেন।

5-selfpo25যখন তিনি self portrait  করেছেন সেগুলোর প্রত্যেকটিতে সে সময়কার প্রতিটি ক্ষণের ঝঃধঃব ড়ভ গরহফ কে ধারণ করে রেখেছেন। তিনি যেন প্রত্যেকটি পোট্রিটে নিজেকে আলাদা আলাদাভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কখনও উদ্বিগ্ন কখনও বুনো আবার কখনও বা শান্ত। প্রত্যেকটি পোট্রেটে আলাদা আলাদা Tuuch রয়েছে। বিভিন্ন অনুভূতির প্রেক্ষিতে একেক পোট্রিটে একেক রকম টেকনিক প্রয়োগ করেছেন। যখন তিনি নতুন টেকনিক আবিষ্কার করেছেন তখনই তিনি তা তাঁর পোট্রিটে প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে তিনি যখন চোখ এঁকেছেন। সফট হ্যাট পরিহিত প্রতিকৃতিতে চেহারায় তিনি একধরনের ঘুর্ণায়মান ছন্দের (পরৎপঁষধৎ জুঃযস) অবতারণা করেছেন।5-van-gogh-self-portait

সেই লক্ষ্যে তিনি ছোট ছোট এবং সোজা ব্রাশ স্ট্রোকগুলো কখনও পাশাপাশি কখনওবা সুপার ইমপোজ করে প্রয়োগ করেছেন। প্রত্যেকবার যেন তিনি নিজেকে আরও বেশি করে উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

ভ্যানগঘ তাঁর ক্যানভাসে Thick empasto প্রয়োগ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি emotion release করতে না পারতেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সরাসরি টিউব থেকে পিগমেন্ট স্কুইজ করে ক্যানভাসে কখনও ব্রাশ দিয়ে আবার কখনও হাত দিয়ে রং লাগিয়ছেন। ফলে কোন কোন স্থানে রং এক ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু হয়ে গেছে। তার মতে :

‘Art is a power of communication and colour is a language’.

যা কিছু তিনি কথায় ব্যক্ত করতে পারেননি তাই তিনি রংয়ের ভাষায় বলে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন রংগুলো যেন তাকেই প্রকাশ করে। তাঁর ছবিতে যত টানা বুদ্ধিমত্তা- তাঁর থেকে বেশি ইমোশন প্রাধান্য পেয়েছে। কোনরকম ছলচাতুরী ছাড়াই তিনি তাঁর মানসিক অবস্থাকে ক্যানভাসে ট্রান্সফার করেছেন এক ধরনের স্বতস্ফূর্ততায়।

4-night-cafeভ্যানগঘের কাজে আমরা Symbolic approch লক্ষ্য করি। তিনি দুটি চেয়ার এঁকেছিলেন একটি নিজের অন্যটি গগাঁর। নিজের চেয়ারটিতে রাখা তাঁর ব্যবহৃত পাইপটি খুব অপরিশিলীতভাবে এঁকেছেন নিজের চরিত্রের সাথে identifz করার জন্য। তাঁর সময়ে গগাঁ ছিলেন সব থেকে শিক্ষিত এবং জ্ঞানী, গগাঁর চেয়ারে কিছু বই এবং মোমবাতি রেখে খুব carefully, sophistically  এবং De coratively চিত্রায়িত করেছেন। মোমবাতি এবং বই দিয়ে গগাঁকে জ্ঞানী এবং ইনটেলেকচুয়াল ব্যক্তি হিসেবে symbolize করেছেন। এভাবে চেয়ার দুটি নিজেদের সত্তা হারিয়ে যেন ভ্যানগঘ গগাঁর প্রতিকৃতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এভাবে তিনি নিজের pszchi-কে object-এর ভিতরে Transfar করেছেন।

তাঁর বেডরুম এমনভাবে এঁকেছেন যে দু’জন লোক বসবাস করার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। দু’টি চেয়ার দু’টি বালিশ, দু’টি ছবি, খুব স্নিগ্ধ আলো জানালা দিয়ে প্রবেশ করছে এভাবে তিনি তাঁর আর গগাঁর অবস্থানের কথা প্রকাশ করেছেন।

তিনি ফিগার ড্রইং-এ মাস্টার ছিলেন না। তিনি ক্লাসিকাল রিয়ালিজম বা একাডেমিক রিয়ালিজমও শিখেননি। তার পেইর্ন্টি-এ ‘কালারপ্যাচে’ একধরনের emotive power এবং Communication-এর Power আছে। যে কোনো দর্শক তার কাজ দেখলে রঙের উজ্জ্বলতা এবং বিরামহীন ব্রাশস্ট্রোক দেখে আলোড়িত হবেন। ক্লাসিকাল এবং একাডেমিক কম্পোজিশন, নিখুঁত ড্রইং কিংবা কারিগরি দক্ষতা দেখানোতে তিনি মোটেই সচেষ্ট ছিলেন।
তাঁর রং না সাবজেকটিক না ন্যাচারালিসটিক। ‘সাইপ্রাস ট্রি’তে আমরা দেখতে পাই নীল আকাশ। কিন্তু তা ন্যাচারালিস্টিক নীল না। গাছগুলো সবুজ কিন্তু তা ন্যাচারাল সবুজ না সাইপ্রাস স্বগাছের সবুজের মতো রাতের আঁধারের চেয়ে তারাগুলোকে বেশি প্রমিনেন্ট লাগে। তিনি রাতের আঁধারের মধ্যেও উজ্জ্বলতাকে উপলব্ধি করেছেন। তিনি তাঁর দৃষ্টিগ্রাহ্য অভিজ্ঞতা থেকেই রঙগুলোকে নির্বাচন করেছেন, কিন্তু তিনি সেটাকে তাঁর ‘Mood’ দিয়ে ‘intencifz’ করেছেন। তাঁর রংগুলো purely subjective না আবার objectiveও না। ভ্যানগঘের রং এবং ইমপ্রেশনিস্টদের রংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

jutaইম্প্রেশনিস্টরা রং ব্যবহার করেছেন visual a accuracy-র জন্য। আর ভ্যানগঘ রং ব্যবহার করেছেন দৃষ্টিগ্রাহ্য বস্তুকে emotionalize করার জন্য। তাঁর রং আবেগপূর্ণ। তাঁর মেজাজ, অনুভূতি এবং যোগাযোগের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রকাশ করার জন্য তিনি রং ব্যবহার করেছেন। সাইপ্রাস গাছগুলোকে আঁকাবাঁকা অগ্নির লেলিহান শিখার মতো চিত্রায়িত করেছেন যেন সেগুলোর মধ্যে নিজের অন্তর্দাহকে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেকে যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। এভাবে মহানশিল্পী ভ্যানগঘ এক্সপ্রেশনিজমের জনক হিসেবে শিল্পের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছেন।